ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোন কোন বিষয়ে একমত পোষণ করেছে?

Updated: 1 week ago
উত্তরঃ

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা নিরসন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। [যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, ২০২৬] আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে উভয় দেশ যেসকল প্রধান বিষয়ে একমত হয়েছে, তা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

i) যুদ্ধবিরতি ও শত্রুতা সমাপ্তি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের নিজ নিজ মিত্ররা লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধে একমত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় পর শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পাবে।

ii) সার্বভৌমত্ব রক্ষা: উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানাতে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একে অপরের সীমানা এবং রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়াকে অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে। এই সমঝোতার ফলে দীর্ঘদিনের প্রক্সি যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের বৈরী প্রতিযোগিতার অবসান ঘটবে।

iii) হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ: বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান হরমুজ প্রণালী থেকে সামরিক বাধা ও মাইন অপসারণে একমত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিতে শুরু করেছে। ইরান এই জলপথে মোতায়েন করা তাদের নৌবাহিনীর বিশেষ ইউনিট এবং যুদ্ধজাহাজগুলোকে সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিনিময়ে মার্কিন নৌবাহিনী এই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতি ও টহল কমিয়ে আনবে।

iv) পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং স্থায়ী চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে রাজি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা যেন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করতে পারে, সে বিষয়েও ইরান ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

v) অর্থনৈতিক সহায়তা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: চূড়ান্ত চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিলে ইরানের ধসে পড়া অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর এবং বিশ্ববাজারে তেল বিক্রির সুযোগ পাবে।

vi) ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল: যুদ্ধের পর ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে নিয়ে কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি তহবিল গঠনে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে।

vii) মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের কাছাকাছি অঞ্চল থেকে একে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও নৌ-সম্পদ মার্কিন সামরিক সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

viii) আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শকদের প্রত্যাবর্তন: এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশাধিকার দিতে রাজি হয়েছে।

ix) ইউরেনিয়াম নিষ্পত্তি: চূড়ান্ত আলোচনার টেবিলে ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তির বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

x) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন: এই শান্তি চুক্তিটিকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় স্থায়ী রূপ দিতে এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি বাধ্যতামূলক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রেজোলিউশনের মাধ্যমে এটিকে অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

12

Related Question

View All
উত্তরঃ

রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এমন একটি আইনি ও কৌশলগত ব্যবস্থা, যেখানে একটি দেশ অন্য দেশের আরোপিত শুল্ক বা করের হারের সাথে হুবহু সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করে; সহজ কথায় "তুমি আমার পণ্যে যতটুকু শুল্ক বসাবে, আমিও তোমার পণ্যে ঠিক ততটুকু শুল্কই আরোপ করব"-এই 'ইট-পাটকেল বা "যেমন কর্ম, তেমন ফল" (Tit-for-tat) নীতিই হলো রিসিপ্রোকাল বা পাল্টা শুল্ক। এটি মূলত এক পক্ষ কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য পক্ষ থেকে নেওয়া একটি বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা, যার মূল লক্ষ্য কেবল বাড়তি রাজস্ব আদায় করা নয়, বরং এই অর্থনৈতিক চাপকে একটি শক্তিশালী দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ দেশকে অনুচিত বাণিজ্যিক আচরণ (যেমন: মেধা স্বত্ব চুরি বা অবৈধ রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি) সংস্কার করতে এবং মুক্ত বাণিজ্যের টেবিলে বসতে বাধ্য করা।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধে রিসিপ্রোকাল ট্যারিফের ভূমিকা:

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধে এই রিসিপ্রোকাল বা পাল্টা শুল্ক নীতি একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মূল ভূমিকা নিচে দেওয়া হলো:

i) বাণিজ্য ভারসাম্য ও দরকষাকষি: যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এবং অনুচিত বাণিজ্য চর্চাকে তাদের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর মনে করেছে। এই ঘাটতি পূরণে এবং চীনকে তাদের বাণিজ্যের নিয়ম পরিবর্তন করতে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা সমমানের শুল্ক চাপানোর কৌশল গ্রহণ করে। ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য কেবল রাজস্ব আদায় করা ছিল না, বরং এই পাল্টা শুল্কের বিশাল আর্থিক চাপকে একটি কার্যকর দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। এই নীতির মাধ্যমে বেইজিংকে তাদের অভ্যন্তরীণ ভর্তুকি নীতি ও জোরপূর্বক প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সংস্কারের টেবিলে আসতে বাধ্য করা হয়। এটি প্রমাণ করে যে ভূ-অর্থনৈতিক রাজনীতিতে রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ একটি শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে, যা একপাক্ষিক বাণিজ্যিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

ii) শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা: যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিভিন্ন পণ্যের ওপর উচ্চহারে (একপর্যায়ে ১৪৫% পর্যন্ত) শুল্ক আরোপ করলে, চীনও তার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন পণ্যের ওপর সমকক্ষ বা তুলনামূলক শুল্ক (যেমন: ১২৫% বা তার বেশি) আরোপ করে। এই পাল্টা শুল্ক একে অপরের বাজারকে সঙ্কুচিত করে দেয়। উভয় দেশই তাদের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার্থে এই শুল্কের হারকে ক্রমান্বয়ে এক অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন পর্যায়ে নিয়ে যায়। এই অন্ধ প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশোধের চক্র সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্যের গণ্ডি পেরিয়ে একপর্যায়ে উচ্চ-প্রযুক্তি এবং বিরল খনিজ সম্পদের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ সুগম করে।

iii) সংঘাত থেকে আপস-আলোচনা: এই ধরনের আক্রমণাত্মক রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক শেষ পর্যন্ত উভয় দেশকেই বিশাল অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে ফেলে। এর ফলে উভয় পক্ষই পরবর্তীতে শুল্ক হার কমানো বা সাময়িক বিরতির মতো সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য হয়। পাল্টা শুল্কের এই চরম রূপ উভয় পক্ষকে এমন এক অর্থনৈতিক খাদের কিনারায় নিয়ে যায়, যেখানে সংঘাত দীর্ঘায়িত করলে কারোরই জেতার সুযোগ থাকে না। অতিরিক্ত করের ধাক্কায় যখন মার্কিন শেয়ার বাজারে ধস নামে এবং চীনের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি মারাত্মক হ্রাসের সম্মুখীন হয়, তখন উভয় দেশই পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর ফলেই বিভিন্ন সময়ে 'ফেজ-১' চুক্তি বা হোয়াইট হাউস ফ্যাক্ট শিটের মতো দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদে শুল্ক স্থগিত বা হ্রাসের নতুন রূপরেখা তৈরি হয়।

iv) উভয়মুখী অর্থনৈতিক ক্ষতি: রিসিপ্রোকাল ট্যারিফের কারণে মার্কিন বাজারে চীনা পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তা ও উৎপাদনকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। একইসাথে, চীনও যখন পাল্টা শুল্ক বসায়, তখন মার্কিন কৃষিপণ্য ও প্রযুক্তি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমেরিকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন চীনা কাঁচামাল বা যন্ত্রাংশ কেনে, তখন উচ্চ শুল্কের কারণে তাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়, যা দেশটিতে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি বা স্ট্যাগফ্লেশন তৈরি করে। এর বিপরীতে, বেইজিংয়ের পাল্টা শুল্কের কারণে আমেরিকার কৃষিখাত তাদের ইতিহাসের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বাজারটি হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে, যা সামাল দিতে মার্কিন সরকারকে বিলিয়ন ডলারের অভ্যন্তরীণ ভর্তুকি দিতে হয়। অন্যদিকে, আমেরিকার বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ায় চীনের হাজার হাজার উৎপাদনমুখী কারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সংকট দেখা দেয়।

v) বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব: বিশ্বের এই দুই বৃহত্তম অর্থনীতির রিসিপ্রোকাল ট্যারিফের লড়াই বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শ্লথ করে দেয়। বহুজাতিক মধ্যবর্তী পণ্য ও কাঁচামালের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে নতুন বিনিয়োগ থমকে গেছে। উচ্চ শুল্কের এই দেয়াল এড়াতে কোম্পানিগুলো এখন চীন থেকে তাদের উৎপাদন কেন্দ্র ভিয়েতনাম, মেক্সিকো কিংবা বাংলাদেশে সরিয়ে নিচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে 'China+1' কৌশল হিসেবে স্থায়ী রূপ পেয়েছে। সর্বোপরি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা-এর বহুপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা এই দ্বিপাক্ষিক রিসিপ্রোকাল ট্যারিফের আগ্রাসনে অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং বিশ্ববাজার স্থায়ীভাবে দুটি ভিন্ন ব্লকে বিভক্ত হওয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

9
উত্তরঃ

বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ (IMF) হলো ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস কনফারেন্সের মাধ্যমে সৃষ্ট দুটি জমজ প্রতিষ্ঠান। আপাতদৃষ্টিতে এদের কাজ একই মনে হলেও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যপদ্ধতিতে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে। নিচে ছক আকারে এদের প্রধান পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হলো:

পার্থক্যের বিষয়

বিশ্বব্যাংক

আইএমএফ

১. উদ্দেশ্যএটি মূলত সদস্য দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে কাজ করে।এটি মূলত বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণে কাজ করে।
২. ঋণের প্রকৃতিউন্নয়নশীল দেশগুলোকে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প (যেমন: রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মেগা প্রজেক্ট) বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদীঋণ দেয়।কোনো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে জরুরি সংকট বা লেনদেনের ভারসাম্য ঘাটতি মেটাতে স্বল্পমেয়াদী ঋণ দেয়।
৩. সুদের হারএর ঋণের সুদের হার সাধারণত অনেক কম বা নামমাত্র এবং পরিশোধের সময়সীমা দীর্ঘ (১৫-৪০ বছর) হয়।এর ঋণের সুদের হার ও শর্তাবলী তুলনামূলক কঠোর হয় এবং ঋণ পাওয়ার জন্য দেশীয় অর্থনীতিতে সংস্কার আনতে হয়।
৪. লক্ষ্যভুক্ত দেশটি প্রধানত উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নত এবং দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে যেকোনো সদস্য দেশ তীব্র অর্থনৈতিক বা রিজার্ভ সংকটে পড়লে আইএমএফ-এর দ্বারস্থ হতে পারে।
৫. পরামর্শের ধরনসদস্য দেশগুলোকে কাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক খাত ও প্রকল্পভিত্তিক কারিগরি পরামর্শ দিয়ে থাকে।সদস্য দেশগুলোর আর্থিক নীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভব্যবস্থাপনা এবং মুদ্রা নীতি সংস্কারের পরামর্শ দেয়।
উত্তরঃ

বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য SDG অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, বৈষম্য হ্রাস এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরণের SDG চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। ২০৩০ সালের মধ্যে বাকি লক্ষ্যগুলো অর্জনে এই চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করা অত্যন্ত জরুরি।

এসডিজি (SDG) বাস্তবায়নের অগ্রগতি:

  • দারিদ্র্য ও ক্ষুধা হ্রাস: অতিমারী ও বৈশ্বিক সংকটের পরেও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে চরম দারিদ্র্যের হার কমানো সম্ভব হয়েছে। সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও বাজেট প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করেছে।
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিট ভর্তি হার বৃদ্ধি এবং শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং টিকাদান কর্মসূচির অভাবনীয় সাফল্যের কারণে নবজাতক ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসে বাংলাদেশ গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন করেছে
  • জেন্ডার সমতা: নারী শিক্ষার প্রসার ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীর সমতা অর্জনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষাতেও নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রশাসন এবং করপোরেট খাতে নারীর অংশগ্রহণ ও নীতি-নির্ধারণী ভূমিকা সুসংহত হয়েছে ।
  • বিদ্যুতায়ন ও অবকাঠামো: দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। একই সাথে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা অবকাঠামো নির্মাণের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও লজিস্টিকস খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটেছে। এই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং উন্নত অবকাঠামো গ্রামীণ শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে।

এসডিজি (SDG) বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ:

  • অর্থায়ন ঘাটতি ও সম্পদের অপ্রতুলতা: এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য বিশাল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, যা অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও বৈদেশিক সহায়তার মাধ্যমে পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং অর্থের প্রয়োজন, তার বড় ঘাটতি রয়েছে।
  • বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট: কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তীতে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি এবং সাপ্লাই চেইনের ব্যাঘাত অর্থনীতিকে ধীরগতির করেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যশস্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ডলার সংকট তৈরি হয়েছে। এই ডলার সংকটের ফলে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও লজিস্টিকস ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে।
  • জলবায়ু পরিবর্তন: ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে কৃষি ও জীবনযাত্রার টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা টেকসই কৃষির জন্য বড় হুমকি।
  • প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা: দক্ষ জনবলের অভাব এবং দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রধান অন্তরায়। সরকারি দপ্তরগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উপাত্ত বা ডেটা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থাকায় এসডিজি ট্যাকিং ও অগ্রগতি সঠিক সময়ে মূল্যায়ন করা কঠিন হচ্ছে।
  • গুণগত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ: শুধু তালিকাভুক্তি নয়, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য কমানো ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো বাড়লেও গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে দক্ষ চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রাংশের ঘাটতি রয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয়ের সিংহভাগ সাধারণ মানুষকে নিজে বহন করতে হওয়ায় অনেক পরিবার আকস্মিক অসুস্থতার কারণে পুনরায় দারিদ্র্যের সীমার নিচে নেমে যাচ্ছে।
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে শ্রমবাজারে যুক্ত করতে না পারলে বাংলাদেশ তার ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, যা এসডিজির সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রাকে ব্যাহত করবে।

9
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews