উক্ত সমস্যা সমাধানে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার সংস্কার সাধন জরুরি বলে আমি মনে করি। আমলাতন্ত্র সরকার পরিচালনার প্রাণ। এটি মূলত জনগণকে সেবা দেওয়া এবং সুষ্ঠুভাবে দেশকে পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। আমলাতন্ত্রের প্রধান সমস্যা হচ্ছে লালফিতার দৌরাত্ম্য। আর লালফিতার দৌরাত্ম্যের সৃষ্টি হয় মূলত প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে। আইনের ম্যারপ্যাঁচ, প্রশাসনিক সংস্কার, ঊর্ধ্বতন-অধস্তন সম্পর্ক, যোগাযোগের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত ইত্যাদি থেকে এ সমস্যার সূত্রপাত। সনাতনী ধারার পদ্ধতিও এক্ষেত্রে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে থাকে। আমলাদের কাজের চাপ, অদক্ষতা, দুর্নীতি, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি এবং অন্যায় দাবি-দাওয়া পূরণ 'না করার কারণেও এরূপ অবস্থার তৈরি হতে পারে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করাও এর কারণ।
আমলাতন্ত্রকে এ সমস্যা থেকে মুক্ত করতে ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা দেওয়া দরকার। এজন্য প্রথমেই দেখতে হবে কী কী কারণে কোথায় বিলম্ব ঘটছে। এ কারণ অনুসন্ধান করে প্রথমেই তা দূরীকরণের চেষ্টা করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন সাধন করে জনসেবামূলক মানসিকতা তৈরিতে আমলাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল চেষ্টা ও যোগ্যতাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। আমলাদের বেতন কাঠামো যাতে তাদের সামাজিক মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীভূত করতে হবে এবং প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তব্য সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যোগাযোগের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। ই-গভর্নেন্স সিস্টেম চালু করতে হবে।
শোলডার লেওড়ার লেকচার শেকাের লেকচার শেওয়ার পেষতায় দেওচার লেখায় সেনহার দেনচার দেওয়ার দোয়াত ফেরান্ত সেরয়ার সেনহার সাত বেওয়ায়
সরকার উপরিউক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবে। লালফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধে সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সরকার নিতে পারে।
Related Question
View AllBureaucracy' শব্দের প্রতিশব্দ 'আমলাতন্ত্র'।
আমলাতন্ত্রের এক বড় ত্রুটি হলো লালফিতায় দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। পদসোপান ভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়।
আমলাতন্ত্র একটি পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বাহিনী। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তারা এই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের মমতাজ আলীর কার্যক্রমেও এরূপ দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখা যায়। মমতাজ আলী তার কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেন এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন অনুসারে তার কাজ করেন। এটি আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মমতাজ আলী সাহেব তার। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমলাতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিনি তার কর্মকাণ্ডে যে সক্ষমতা প্রদর্শন। করেছেন, তা আমলাতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমলাতন্ত্রের পদের ধারাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে আমলাতন্ত্রের কার্যপ্রণালি এবং প্রক্রিয়া দেখা যায়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাদেরকে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়। উন্নয়মূলক কাজেও মমতাজ আলীদের মতো আমলারা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। অনেক সময় তাদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহকের ন্যায়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে।
আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি অবস্থাগত ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অ-পেশাদারি আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু এটি আমলাতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী। আমলাতন্ত্রে কখনো এরূপ প্রত্যাশা করা হয় না। কিন্তু জনাব আলী সাহেবের মতো দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ আমলারাই দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
অধ্যাপক অগ আমলাতন্ত্রকে পেশাদার দক্ষ বাহিনী বলে অভিহিত করেন।
কোনো সংগঠন পরিচালনার জন্য স্থায়ী বেতনভুক্ত দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আমলা বলা হয়। আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বলতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনীকে বোঝায়। আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর পদের ক্রম অনুযায়ী সংযুক্ত এবং রাজনীতি নিরপেক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!