শিশুমনের কল্পনাশক্তির পরিচয় না থাকায় উদ্দীপকটি 'নতুন দেশ' কবিতার সামগ্রিক ভাবের প্রতিনিধিত্ব করে না।
'নতুন দেশ' কবিতায় এক শিশুর কৌতূহলী মনের স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। এই শিশু অজানাকে জানতে আগ্রহী। অজানার প্রতি অপার কৌতূহল তার মনে নানা জিজ্ঞাসার জন্ম দেয়। তাই কল্পনার আশ্রয়ে সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজে সে।
উদ্দীপকে বিশ্বজগতের প্রতি সীমাহীন কৌতূহল প্রাকাশিত হয়েছে। তাই উদ্দীপকের কবি সীমার বাঁধনে আবদ্ধ থাকতে চাচ্ছেন না। এ লক্ষ্যে তিনি দশ দিকে ছুটে বেড়ানোর প্রত্যয় বক্ত করেছেন। এই বিশ্বভুবনকে হাতের মুঠোয় পুরে তার সকল রহস্য উন্মোচন করতে চান তিনি। তাঁর মনে জেগে ওঠা অজানাকে জানা এবং অদেখাকে দেখার আগ্রহের দিকটি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে।
'নতুন দেশ' কবিতায় অজানাকে জানার সীমাহীন কৌতূহলের পাশাপাশি শিশুমনের স্বভাবসুলভ কল্পনাশক্তির দিকটিও উঠে এসেছে। সেখানে উল্লিখিত শিশুটি নদীর ওপারের নতুন দেশের সন্ধান চায়। তার ধারণা, হয়তো নতুন দেশে কোনো অজানা আনন্দ ও অপার বিস্ময় তার জন্য অপেক্ষা করে আছে। তার এই মনোভাবের সাথে উদ্দীপকের ভাবনার সাদৃশ্য রয়েছে। তবে উদ্দীপকের কবিতাংশে কেবল অজানার প্রতি কৌতূহল এবং তা নিবৃত্ত করার সংকল্পই ব্যক্ত হয়েছে। কবিতাটিতে শিশুটির কল্পনায় উঠে আসা নীল আকাশের বুকে মাথা উঁচু করে থাকা পাহাড়ের সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে কল্পনাশক্তি এবং সৌন্দর্যবোধের যে পরিচয় পাই, তা উদ্দীপকে পুরোপুরি অনুপস্থিত। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allনীল আকাশের মাঝে পাহাড়-চূড়া সাজে।
'থাকি ঘরের কোণে' বলতে অবরুদ্ধ-একঘেয়ে জীবনকে বোঝানো হয়েছে।
জলের ঢেউয়ে নৃত্যরত নৌকা একসময় ভাটার টানে অজানা গন্তব্যে পাড়ি জমায়। 'নতুন দেশ' কবিতার শিশুর মনেও অমনি করে ভেসে যাওয়ার সাধ জাগে। কিন্তু সে সুযোগ তার নেই। ঘরের কোণে বন্দি থেকে হাঁপিয়ে উঠেছে কৌতূহলী এই শিশুর মন। আলোচ্য পঙ্ক্তিটি দ্বারা এ বিষয়টিই প্রকাশিত হয়েছে।
হৃদিতার সেন্টমার্টিনে দেখা দৃশ্যে 'নতুন দেশ' কবিতায় উল্লিখিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'নতুন দেশ' কবিতায় কবি এক শিশুর অপরিসীম কৌতূহল এবং সৌন্দর্য- চেতনার দিক ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। ভাটার টানে ছুটে চলা নৌকার মতো দূরের নগর-বনে পাড়ি জমাতে চায় সে। কল্পনাকে আশ্রয় করে তাই সে চলে যায় নতুন এক দেশে। সেই দেশের প্রকৃতির শোভা তাকে মুগ্ধ করে। সাগরপারের নৌকা সারি সারি নারিকেল গাছের শোভা এবং নীল আকাশের মাঝে পাহাড়-চূড়ার অসাধারণ সৌন্দর্য তাকে বিমুগ্ধ করে।
উদ্দীপকে আমরা হৃদিতার প্রকৃতিমুগ্ধতা লক্ষ করি। সেন্টমার্টিন দ্বীপের সারি সারি নারিকেল গাছ, বড়ো বড়ো নৌকা তাকে পুলকিত করে। সমুদ্রের নীলাভ জলরাশি, পরিষ্কার আকাশ হৃদিতাকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে। এভাবে উদ্দীপকটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি বৃদিতার মুগ্ধতাই প্রকাশিত হয়েছে। 'নতুন দেশ' কবিতায়ও এ বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। সেদিক বিবেচনায় হৃদিতার সেন্টমার্টিনে দেখা দৃশ্যে আলোচ্য কবিতায় প্রকাশিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
'নতুন দেশ' কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে অজানাকে জানার কৌতূহল, কল্পনার অবাধ বিচরণ এবং সৌন্দর্য-মুগ্ধতা যা আমরা উদ্দীপকেও দেখতে পাই
'নতুন দেশ' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক শিশুর সৌন্দর্য-মুগ্ধতা ও কল্পনার অবাধ বিচরণকে ছন্দবদ্ধ করেছেন। কবিতায় দেখা যায়, শিশুটি ঘাটে বাঁধা নৌকার জলের ঢেউয়ে আন্দোলিত হওয়াকে নৃত্য হিসেবে মনে করেছে। ভাটার টানে ছুটে চলা নৌকার মতো সেও অজানা দেশে পাড়ি জমাতে চেয়েছে।
উদ্দীপকেও আমরা হৃদিতার মাঝে এমন মুগ্ধতা লক্ষ করি। সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ তাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায়। কল্পনায় সে বিচরণ করতে চায় সমুদ্রে, পাখির মতো উড়তে চায় আকাশে। প্রকৃতির নানা সৌন্দর্য তার মনে কৌতূহল জাগিয়ে তুলেছে।
'নতুন দেশ' কবিতায় অজানাকে জানার সীমাহীন কৌতূহল এবং প্রকৃতির সব রহস্য উন্মোচনের অপার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। কবিতার শিশুটি নতুনকে আবিষ্কারের নেশায় কল্পনাকে আশ্রয় করে পাড়ি জমিয়েছে নতুন এক দেশে। উদ্দীপকের হৃদিতার মাঝেও প্রকৃতির রহস্য জানার প্রতি আগ্রহ লক্ষণীয়। সেও কল্পনার ভেলায় ভেসে আনন্দ খুঁজে বেড়ায়। এ বিবেচনায় “উদ্দীপকটি 'নতুন দেশ' কবিতার মূলভাবকে ধারণ করেছে।”- মন্তব্যটি যথাযথ।
মাঝ নদীতে নৌকা ভাটার টানে চলে।
'নতুন দেশ' কবিতার শিশুটি ঘরের কোণে থাকে।
ঘর বা আশপাশের সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রেই শিশুটির বিচরণ। তাই তো তার নতুন কোনো জায়গায় যাওয়ার সাধ জাগে। ঘাটে বাঁধা নৌকা মাঝনদী পেরিয়ে নতুন কোথাও গিয়ে পৌছাবে কি না, তা জানতেও তার ব্যাকুলতা জাগে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

