জন্ম হতে পরিণতি লাভ পর্যন্ত সময়কে বয়স ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কতগুলো পর্যায়ে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ধাপের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বিকাশমূলক কাজের প্রকৃতিও বিভিন্ন হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের আবিরের বয়স চার বছর। সে সকলের সাথে সুন্দরভাবে মেলামেশা করে, সকলে তাকে ভালো বলে। অন্যের সাথে তার খেলনা ভাগাভাগি করে খেলে। শিক্ষক ও বন্ধুরা সকলেই তাকে ভালোবাসে খুব পছন্দ করে।
আবিরের এসকল আচরণ ও বয়সের প্রেক্ষিতে সে প্রাথমিক শৈশবকালে অবস্থান করছে বলে ধরা যায়। কারণ এর সময়সীমা হলো ২ থেকে ৫/৬ বছর। যতই এ বয়সের শেষের দিকে শিশুরা যেতে থাকে ততই আত্মকেন্দ্রিকতা বাদ দিয়ে তারা মা-বাবা, বন্ধু, ভাই-বোন সকলের কথা চিন্তা করে, আবেগপ্রবণ হয়। তারা দলে খেলতে পছন্দ করে। এর ভালো-মন্দ বুঝতে শেখে। ভালো কাজ বার বার করে নিজেকে অন্যের কাছে উপস্থাপনের চেষ্টা করে। কথা বলার বিকাশও দ্রুত ঘটতে থাকে। তারা পরিবার ও পরিবারের বাইরে অন্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। খেলার সাথী, পরিবার, স্কুল, সহপাঠী ও শিক্ষকের সাথে সামাজিক আচরণের ভিত তৈরি হয়। সমবয়সীদের সাথে বেশি মিশতে পছন্দ করে। তার মধ্যে ন্যায়-অন্যায় বোধ তৈরি হয়। সে ভালো কাজ করার চেষ্টা করে যাতে সকলে তার প্রসংশা করে।
প্রাথমিক শৈশবকালের এসকল বৈশিষ্ট্য আবিরের মধ্যেও দেখা যায়। অর্থাৎ এসকল বৈশিষ্ট্যের আলোকে বলা যায়, আবিরের বিকাশ ধারা প্রাথমিক শৈশবকালের সাথে সম্পর্কিত।
Related Question
View Allবর্ধন হচ্ছে দৈহিক কাঠামোগত পরিবর্তন, যা দৃশ্যমান এবং পরিমাপ করা যায়।
শিক্ষণ হচ্ছে আচরণের পরিবর্তন। পরিপক্বতা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এলেও এর সুষ্ঠু বিকাশের জন্য দরকার শিক্ষণ। তিনটি পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুরা শিক্ষণ গ্রহণ করে। যথা- অনুকরণ, সনাক্তকরণ ও প্রশিক্ষণ।
বর্ধন বলতে দৈহিক আকার-আয়তনের পরিবর্তনকে বোঝায়। বিকাশ হলো দৈহিক আকার-আয়তনসহ পরিবর্তনশীল আচরণ, দক্ষতা, কার্যক্ষমতার পরিবর্তন। পরিমাণগত পরিবর্তন হলো বর্ধন আর গুণগত পরিবর্তন হলো বিকাশ। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বর্ধন চলে, আর বিকাশ জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান।
বর্ধনের পর্যায় ঊর্ধ্বমুখী। বিকাশ জীবনের এক এক পর্যায়ে এক এক রকমের হয়ে থাকে। বর্ধনের সীমারেখা থাকলেও বিকাশের নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। এ সকল আলোচনা হতে ছাত্ররা বুঝতে পারে যে বিকাশ ও বর্ধন একই ধরনের পরিবর্তন নয়। ক্লাসের শিক্ষকের আলোচনার পূর্বে ছাত্রদের ধারণা ছিল বর্ধন ও বিকাশ দুটি একই বিষয়। কিন্তু শিক্ষকের আলোচনা থেকে তারা বুঝতে পেরেছে দুটি ভিন্ন ধরনের পরিবর্তন।
বিকাশ একটি চলমান প্রক্রিয়া যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান। নবজাতকের বয়স বাড়ার সাথে সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি হলো তার গুণগত পরিবর্তন। বিকাশ একটি জটিল প্রক্রিয়া। পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার ফলে বিকাশজনিত পরিবর্তন হয়।
বর্ধন ও বিকাশ পরস্পর সম্পর্কিত। জন্মের পর শিশু হাত-পা নিয়ে খেলে। পাঁচ বছরে সেই হাত দিয়ে ছবি আঁকে। দশ বছরে দক্ষতার সাথে হাত দিয়ে ক্রিকেট খেলে। এ গুণগত পরিবর্তন শিশুর বয়সের সাথে সাথে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
জীবনের প্রতিটি স্তরে বিকাশের ধারা নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট বয়সে কিছু নির্দিষ্ট বিকাশমূলক কার্যক্রম থাকে। যা কোনো মানুষের আচরণের স্বাভাবিকতা নির্দেশ করে। জীবনের শুরুতে বর্ধনের পাশাপাশি শারীরিক বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ, সামাজিক ও সঞ্চালনমূলক বিকাশ, নৈতিক ও আবেগীয় বিকাশ চলতে থাকে। এই বিকাশগুলো জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের মধ্যে চলমান। যার কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে না। তাই শিক্ষকের উক্তিটি আমি যথার্থ বলে মনে করি।
শিশুদের মধ্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের কারণ বংশগতি ও পরিবেশ।
ব্যাবলিং বলতে অর্থহীন শব্দের পুনরাবৃত্তিকে বোঝায়। ২/৩ মাস বয়সে ব্যাবলিং জাতীয় শব্দের উৎপত্তি হয়। ৭/৮ মাস বয়সে শিশু কলকূজন, উদ্দেশ্যহীনভাবে শব্দ উচ্চারণ করে ও তা পুনরাবৃত্তি করে। যেমন- বা-বা, না-না ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!