উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো, "উত্থান-পতন সভ্যতার নিয়ম। যথানিয়মে এক সময় এ রাজবংশের পতনও অনিবার্য হয়ে পড়ে।" বাক্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। কেননা পৃথিবীতে কোনো রাজবংশই দীর্ঘসময় তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। উত্থান-পতন সভ্যতার নিয়ম। যথানিয়মে এক সময় প্রত্যেক রাজবংশেরই পতন অনিবার্য হয়ে পড়ে। উদ্দীপকে পার্ল রাজবংশের কথা বলা হয়েছে। বরেন্দ্র (গৌড়)-এর সিংহাসনে বসেন। দীর্ঘ ৪০০ বছর পাল শাসকরা তাদের দক্ষতা ও বিচক্ষণতা দিয়ে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। গোপাল একজন যোগ্য শাসক ছিলেন। ধর্মপাল, দেবপালও এ বংশের বিখ্যাত শাসক ছিলেন। পালবংশের দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, স্থাপত্য, চিত্রশিল্প ও শিল্পকলাসহ অন্যান্য অনেক 'ক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জন করে। এতদসত্ত্বেও উত্থান-প্রতনের সভ্যতার এ নিয়মানুযায়ী ৪০০ বছর রাজত্ব করার পর এক সময় পাল রাজবংশের পতনও অনিবার্য হয়ে পড়ে। পাল শাসকদের অনেকেই দক্ষতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে শাসন পরিচালনা করলেও কেউ কেউ তা পারেনি। তাছাড়া রাজ্য বিদ্রোহ, উত্তরাধিকার নিয়ে ভ্রাতৃ কলহ প্রভৃতিতে পালবংশ একটা সময় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অনিবার্য পতন ঘটে। পরিশেষে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত বাক্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allপাল বংশের সম্রাট ধর্মপাল ৫০টি বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেন।
সাধারণ অর্থে টোল বলতে বোঝায় চতুষ্পাঠী, সংস্কৃত ব্যাকরণ ও শাস্ত্রাদি অধ্যয়নের পাঠশালা। প্রাচীন বাংলাদেশে হিন্দুদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বলা হতো টোল। টোলের প্রধান পাঠ্য বিষয় ছিল হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পাঠদান করা।
তথ্য-১ এর মতো প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবময় ক্ষেত্রটি কৃষি।
প্রাচীন যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। এ সময় কৃষিতে উদ্বৃত্ত ছিল। ধান ছিল প্রধান ফসল। প্রচুর আখও উৎপাদন হতো। আখ থেকে উৎপাদিত গুড় ও চিনির খ্যাতি ছিল। এই গুড় ও চিনি বিদেশে রপ্তানি হতো। তুলা, সরিষা ও পান চাষের জন্যও বাংলাদেশের খ্যাতি ছিল। নারিকেল, সুপারি, আম, কাঁঠাল, কলা, ডুমুর প্রভৃতি ফলের কথাও জানা যায়।
উদ্দীপকের তথ্য-১ এ প্রধান ফসল হিসেবে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে এবং রপ্তানিকৃত দ্রব্য হিসেবে চিংড়ি ও ব্যাঙের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের এসব তথ্যে বাংলাদেশের আধুনিক যুগের কৃষি খাতের তথ্য ফুটে উঠেছে; যা প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবময় কৃষি ক্ষেত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ।
তথ্য-২ এ উল্লিখিত বিষয়গুলো প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবের সাথে সাদৃশ্যপূণ- উক্তিটির সাথে আমি একমত।
প্রাচীন বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল সমৃদ্ধ ও গৌরবময়। সে সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। তখন কৃষিতে উদ্বৃত্ত ছিল। আখ থেকে উৎপাদিত চিনি ও গুড়ের বেশ খ্যাতি ছিল এবং এসব দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি হতো। প্রাচীন যুগ থেকেই তাঁতিরা মিহি সুতি ও রেশমি কাপড় বুননে পারদর্শী ছিল। তাঁতিদের উৎপাদিত মসলিন কাপড় পৃথিবী বিখ্যাত ছিল এবং এসব কাপড় বিদেশে রপ্তানি হতো। কৃষিতে উদ্বৃত্ত হওয়ায় এবং শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বিকাশ লাড় করে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন বন্দর ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে যেত তৎকালীন বাংলাদেশের পণ্য।
উদ্দীপকের তথ্য-২ এ আকাশপথে আমেরিকায় তৈরি পোশাক রপ্তানির কথা বলা হয়েছে এবং পাটজাত দ্রব্যের বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত এসব বিষয় প্রাচীন বাংলাদেশের বিভিন্ন দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি ও তখনকার ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নে উল্লিখিত উক্তিটি যথার্থ।
মাৎস্যন্যায় হলো এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যেখানে শক্তিশালী দুর্বলকে শোষণ করে এবং আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে।
সমতট অঞ্চল হলো বাংলাদেশে দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের একটি প্রাচীন জনপদ। এই অঞ্চলটি বর্তমানে কুমিল্লা এবং বিক্রমপুরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। খড়গ, দেব, চন্দ্র এবং বর্ম রাজবংশ এই অঞ্চলে শাসন করতেন। এটি বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এখানে ৩০টির মতো বৌদ্ধবিহারের কথা উল্লেখ করেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!