উদ্দীপকে জাতক বিষয়ে বলা হয়েছে। জাতক পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। জাতকের সমস্ত কথাই উপদেশ। এজন্য জাতকের শ্রোতারা জাতক শুনে আনন্দের সঙ্গে উপদেশ লাভ করে। এছাড়া জাতকে সব জীবনের প্রতি মমতা লক্ষ করা যায়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা প্রত্যেক জীবকে নিজের মতো বিবেচনা করে। যিনি একসময় বুদ্ধ হয়েছেন, অতীত যুগে তিনি হরিণ, মাছ, বানর ইত্যাদি রূপে জন্মেছিলেন। জাতক পড়লে জন্মান্তর বিষয়ে ধারণা হয় এবং কুসংস্কার দূরীভূত হয়। শাস্ত্র বড় তা শেখা যায়। এজন্য জাতক সাধারণ গল্প থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
'জাতকের কাহিনী পাঠের পর মনে গভীর প্রশান্তি নেমে আসে। উপদেশ পাঠের পর মনে হয় এতক্ষণে সত্যিকার অর্থে কাহিনী সমাপ্ত হলো। এবার আমরা স্বস্তি পেলাম। কাহিনী শেষে একটি বা দুটি বাক্যে আমরা সমস্ত কাহিনীকে বাঁধতে পারলাম। সুনখ জাতকের উপদেশ হলো সময় ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করা উচিত। এ উপদেশ থেকে আমরা আবার জাতকটি বলা বা পড়ার প্রেরণা পাই।
Related Question
View Allজাতকের সংখ্যা ৫৫০টি।
একদা হিমালয়ের পাদদেশে অনাবৃষ্টিতে সব জল শুকিয়ে যায়। তৃষ্ণায় পশুপাখি সব কাতর হয়ে পড়লে ভিক্ষুর মায়া হলো। তিনি গাছের ডাল দিয়ে ডোঙ্গা তৈরি করে তা জলপূর্ণ করে দিলেন। বনের পশুপাখিরা সেই ডোঙ্গার জল খেয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। এভাবে তিনি তৃষ্ণার্ত প্রাণীদের জন্য জলপানের ব্যবস্থা করেন।
শশক তার বন্ধুদের 'দান করা উচিত', 'উপোসথ পালন করা উচিত', 'শীল রক্ষা করা উচিত' এরূপ ধর্মোপদেশ দিতেন।
মশকটি বৃদ্ধের মাথায় হুল ফুটিয়ে রক্ত পান করছিল।
জাতক শব্দটি 'জাত' শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। 'জাত' শব্দের 'অর্থ হলো উৎপন্ন, উদ্ভূত, জন্ম ইত্যাদি। সুতরাং জাতক শব্দের অর্থ যিনি উৎপন্ন বা জন্ম লাভ করেনে। বৃদ্ধ যে বিভিন্ন জন্ম অতিক্রান্তে মাধ্যমে বুদ্ধ হয়ে ওঠেন সেই কাহিনিগুলোকে বলা হয় জাতক।
জন্ম-জন্মান্তরে গৌতম বুদ্ধ নানা কূলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মানবকুলে রাজা, মন্ত্রী, ব্রাহ্মণ, বণিক, দেবকুলসহ পশুপাখি হয়ে জন্ম নিয়েছিলেন এবং প্রতিটি জন্মে বোধিসত্ত্ব নামে অভিহিত হন। আর এই বোধিসত্ত্বরূপে গৌতম বুদ্ধের জীবনবৃত্তান্ত ও ঘটনাবলিকে 'জাতক কাহিনি' বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!