উদ্দীপকে বর্ণিত বিহারের বর্ণনার সাথে শালবন বিহারের বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি মিলে যায়। অতএব, উদ্দীপকের উপাসক-উপাসিকারা শালবন বিহার দর্শন করেছে। বিহারটির আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষ থেকে বোঝা যায়, এ বিহারে ১১৫টি কক্ষ ছিল। প্রতিটি কক্ষের আয়তন সমান। সেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বাস করত। এক কক্ষ থেকে অপর কক্ষ ৫ ফুট পুরু দেয়াল দিয়ে পৃথক করা। মূল মন্দিরটি ক্রুশ আকৃতির, যাতে প্রবেশের সিঁড়ি ছিল উত্তর দিকে। মন্দিরটি ইট নির্মিত যার পাত্রের দেয়াল সারি সারি গোড়ামাটির ফলক চিত্রে অলঙ্কৃত ছিল।
বিহার অঙ্গনে আছে আরও অনেক দর্শনীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। এদের মধ্যে একটি হলঘর, আরও কয়েকটি ছোট ছোট মন্দির প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
Related Question
View Allবাংলাদেশের প্রসিদ্ধ ধর্মীয় বিহারগুলো হলো শালবন মহাবিহার, আনন্দ বিহার, সোমপুর বিহার, ভাসুবিহার, রামকোট বিহার, সীতাকোট বিহার, রাজবন বিহার প্রভৃতি।
সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসাশেষ থেকে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। মহাবিহারটি বর্গাকৃতি এবং চারদিক ইটের প্রকান্ড দেয়াল দিয়ে ঘেরা। এতে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য একই মাপের ১৭৭টি কক্ষ ছিল। মহাবিহার অঙ্গনে অসংখ্য নিবেদন স্তূপ, ছোট ছোট মন্দির, পুষ্করণী এবং অন্যান্য স্থাপন ছড়িয়ে আছে। কেন্দ্রস্থলে আছে ক্রুশ আকৃতির সুউচ্চ একটি মন্দির।
শালবন বিহারের তাম্রলিপি হতে জানা যায় যে, শালবন বিহারটি দেব বংশের রাজা আনন্দদেবের পুত্র রাজা ভবদেব নির্মাণ করেছিলেন। অষ্টম শতাব্দীর দিকে দেববংশ এ অঞ্চল শাসন করতেন।
খনন করে আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষ থেকে বোঝা যায়, বিহারটি চারদিক দেয়ালবেষ্টিত বর্গাকৃতির ছিল। এতে সমান আয়তনের ১১৫টি কক্ষ ছিল যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বাস করতেন। আবিষ্কৃত অন্যান্য স্থাপত্য নিদর্শনের মধ্যে বিহার অঙ্গনের হলঘর, দুটি ছোট মন্দির, একটি চার কোণাকার মন্দির এবং অন্যান্য প্রত্নসম্পদ অন্যতম।
রামকোট বিহারের মূল্যবান শিলালিপিটি আবিষ্কৃত হয় বিহারের দক্ষিণ পাশের একটি ছোট পাহাড়ের স্তূপ থেকে। যেটি ডাকাত দল লুণ্ঠন করে নিয়ে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলেছে বলে জানা গেছে। ১৯৩০ সালে জগৎচন্দ্র মহাথের নামক এক ভিক্ষু শ্রীলংকায় একখানি শিলালিপি উদ্ধার করেন। সে শিলালিপির বর্ণনা মতে, খননকার্য চালিয়ে এ বৃহৎ সঙ্ঘারামটির ধ্বংসাবশেষ ও পাথরে নির্মিত সুদৃশ্য অভয়মুদ্রার প্রাচীন বুদ্ধমূর্তিটি রামকোট বিহারে সংরক্ষণ করা হয়। এর কেন্দ্রস্থলটি আনুমানিক ৩০ ফুট উঁচু একটি টিলার উপর অবস্থিত।
রাজবন বিহারে পূর্ণিমা তিথিতে জাঁকজমকপূর্ণভারে বুদ্ধ পূর্ণিমা, কঠিন চীবর দান এবং বন ভন্তের জন্মদিন পালন করা হয়। এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এ বিহারে সন্তানদের অন্নপ্রাসন, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান প্রভৃতি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান করতে আসেন।
বাংলাদেশে অসংখ্য বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান আছে। যার অনেক খননকার্যের মাধ্যমে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পাওয়া গেছে। যেমন- কুমিল্লার ময়নামতিতে শালবন মহাবিহার, পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার, বগুড়ায় মহাস্থানগড়, দিনাজপুরে সীতাকোট বিহার, নরসিংদীতে উয়ারী-বটেশ্বরসহ অনেক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!