জ্ঞানাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারের উপাসক-উপাসিকারা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ স্থান দর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তক্রমে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে একটি বিহার দর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে পৌছে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান। তারা আরও লক্ষ করেন, বিহারটিতে ১১৫টি কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি কক্ষ পুরু দেয়ালে পৃথক রয়েছে। এছাড়া বিহারের গাত্রের দেয়াল সারি সারি পোড়ামাটির চিত্রে অলঙ্কৃত। উক্ত বিহার দর্শন করে সবাই মুগ্ধ হলেন।

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

পাল বংশের রাজা ধর্মপাল সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।

উত্তরঃ

দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের সুফল অনেক। এসব স্থান পরিদর্শন করলে ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, মন উদার হয়, সামাজিক সম্প্রীতি সৃষ্টি হয় এবং ধর্মীয় অনুভূতির বিকাশ ঘটে। দেশপ্রেম জাগ্রত হয়ে দেশের সম্পদ ও ঐতিহ্য রক্ষায় প্রেরণা সৃষ্টি হয়। এসব সুফল ভোগ করার জন্যই দর্শনীয় স্থানসমূহ ভ্রমণ করা উচিত।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত বিহারের বর্ণনার সাথে শালবন বিহারের বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি মিলে যায়। অতএব, উদ্দীপকের উপাসক-উপাসিকারা শালবন বিহার দর্শন করেছে। বিহারটির আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষ থেকে বোঝা যায়, এ বিহারে ১১৫টি কক্ষ ছিল। প্রতিটি কক্ষের আয়তন সমান। সেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বাস করত। এক কক্ষ থেকে অপর কক্ষ ৫ ফুট পুরু দেয়াল দিয়ে পৃথক করা। মূল মন্দিরটি ক্রুশ আকৃতির, যাতে প্রবেশের সিঁড়ি ছিল উত্তর দিকে। মন্দিরটি ইট নির্মিত যার পাত্রের দেয়াল সারি সারি গোড়ামাটির ফলক চিত্রে অলঙ্কৃত ছিল।

বিহার অঙ্গনে আছে আরও অনেক দর্শনীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। এদের মধ্যে একটি হলঘর, আরও কয়েকটি ছোট ছোট মন্দির প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত দর্শনীয় স্থানটিকে বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় স্থানটি শালবন বিহার। এ বিহারটির ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ১১৫টি কক্ষ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মন্দিরের গায়ের দেয়ালের সারি সারি পোড়ামাটির ফলক থেকে বৌদ্ধ মন্দিরের সৌন্দর্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বিহার অঙ্গনের হলঘর এবং অন্যান্য ছোট মন্দিরগুলো বৌদ্ধধর্মের নানা স্থাপত্যকলার নিদর্শন বহন করছে। খননের মাধ্যমে পাওয়া গেছে বহু প্রত্নসম্পদ, যার মধ্যে ৮টি তাম্রলিপি, ব্রোঞ্জের বুদ্ধ, বোধিসত্ত্ব, নানা দেবদেবীর মূর্তি, প্রস্তর মূর্তি প্রভৃতি অনেক জিনিস উল্লেখযোগ্য। মূর্তিগুলো খুবই সুন্দর এবং মূল্যবান। এ বিহার ছিল বৌদ্ধধর্ম চর্চার প্রাণকেন্দ্র, সেখানে দেশি-বিদেশি অনেক পণ্ডিতরা জ্ঞানার্জনের জন্য আসতেন। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এ বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় যে, উদ্দীপকে বর্ণিত দর্শনীয় স্থানটি বৌদ্ধধর্মের অনেক ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে।

44

বাংলাদেশের বৌদ্ধ সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাচীন ইতিহাস এবং ঐতিহ্য অত্যন্ত গৌরবের। কালের পরিক্রমায় এগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খননকার্যের ফলে এসব ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাচীন অনেক মূল্যবান নিদর্শন ও প্রত্নসামগ্রী আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলোর সঙ্গে বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধ রাজন্যবর্গের অনেক কীর্তি জড়িত আছে। বাংলাদেশ সরকার এসব ধ্বংসস্তূপ ও আবিষ্কৃত দ্রব্যাদি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করছে। এছাড়া বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক অপূর্ব সুন্দর বৌদ্ধবিহার, বুদ্ধমূর্তি ও চৈত্য আছে। দেশ-বিদেশ থেকে অনেক লোক এগুলো দেখতে আসে। তাই এগুলো বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে খ্যাত। এগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সভ্যতার ইতিহাস। এসব স্থান বৌদ্ধদের নিকট খুবই পবিত্র এবং প্রিয়। এগুলো দর্শন করলে মনের প্রসারতা বৃদ্ধি পায়। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে পড়ব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের বর্ণনা দিতে পারব;
  • বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ ধর্মীয় বিহারগুলো হলো শালবন মহাবিহার, আনন্দ বিহার, সোমপুর বিহার, ভাসুবিহার, রামকোট বিহার, সীতাকোট বিহার, রাজবন বিহার প্রভৃতি।

141
উত্তরঃ

সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসাশেষ থেকে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। মহাবিহারটি বর্গাকৃতি এবং চারদিক ইটের প্রকান্ড দেয়াল দিয়ে ঘেরা। এতে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য একই মাপের ১৭৭টি কক্ষ ছিল। মহাবিহার অঙ্গনে অসংখ্য নিবেদন স্তূপ, ছোট ছোট মন্দির, পুষ্করণী এবং অন্যান্য স্থাপন ছড়িয়ে আছে। কেন্দ্রস্থলে আছে ক্রুশ আকৃতির সুউচ্চ একটি মন্দির।

165
উত্তরঃ

শালবন বিহারের তাম্রলিপি হতে জানা যায় যে, শালবন বিহারটি দেব বংশের রাজা আনন্দদেবের পুত্র রাজা ভবদেব নির্মাণ করেছিলেন। অষ্টম শতাব্দীর দিকে দেববংশ এ অঞ্চল শাসন করতেন।

খনন করে আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষ থেকে বোঝা যায়, বিহারটি চারদিক দেয়ালবেষ্টিত বর্গাকৃতির ছিল। এতে সমান আয়তনের ১১৫টি কক্ষ ছিল যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বাস করতেন। আবিষ্কৃত অন্যান্য স্থাপত্য নিদর্শনের মধ্যে বিহার অঙ্গনের হলঘর, দুটি ছোট মন্দির, একটি চার কোণাকার মন্দির এবং অন্যান্য প্রত্নসম্পদ অন্যতম।

66
উত্তরঃ

রামকোট বিহারের মূল্যবান শিলালিপিটি আবিষ্কৃত হয় বিহারের দক্ষিণ পাশের একটি ছোট পাহাড়ের স্তূপ থেকে। যেটি ডাকাত দল লুণ্ঠন করে নিয়ে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলেছে বলে জানা গেছে। ১৯৩০ সালে জগৎচন্দ্র মহাথের নামক এক ভিক্ষু শ্রীলংকায় একখানি শিলালিপি উদ্ধার করেন। সে শিলালিপির বর্ণনা মতে, খননকার্য চালিয়ে এ বৃহৎ সঙ্ঘারামটির ধ্বংসাবশেষ ও পাথরে নির্মিত সুদৃশ্য অভয়মুদ্রার প্রাচীন বুদ্ধমূর্তিটি রামকোট বিহারে সংরক্ষণ করা হয়। এর কেন্দ্রস্থলটি আনুমানিক ৩০ ফুট উঁচু একটি টিলার উপর অবস্থিত।

69
উত্তরঃ

রাজবন বিহারে পূর্ণিমা তিথিতে জাঁকজমকপূর্ণভারে বুদ্ধ পূর্ণিমা, কঠিন চীবর দান এবং বন ভন্তের জন্মদিন পালন করা হয়। এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এ বিহারে সন্তানদের অন্নপ্রাসন, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান প্রভৃতি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান করতে আসেন।

81
উত্তরঃ

বাংলাদেশে অসংখ্য বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান আছে। যার অনেক খননকার্যের মাধ্যমে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পাওয়া গেছে। যেমন- কুমিল্লার ময়নামতিতে শালবন মহাবিহার, পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার, বগুড়ায় মহাস্থানগড়, দিনাজপুরে সীতাকোট বিহার, নরসিংদীতে উয়ারী-বটেশ্বরসহ অনেক।

90
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews