উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যাগুলো ছাড়াও উক্ত ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নে আরও সমস্যা রয়েছে"- কথাটি যথার্থ।
উদ্দীপকের রোহানের রাষ্ট্রে সরকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ই-গভর্ন্যান্স চালু করেছে। কিন্তু রোহান মনে করে শিক্ষার অভাব, তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানের অভাব ইত্যাদি সমস্যার কারণে ব্যবস্থাটি পুরাপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। উদ্দীপকে বর্ণিত এ সমস্যাগুলো ছাড়াও উক্ত ব্যবস্থাটি অর্থাৎ ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নে আরও সমস্যা রয়েছে।
শিক্ষার অভাব এবং তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানের অভাব ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নে একটি বিশেষ সমস্যা। তবে ই-গভর্ন্যান্স আরও কতিপয় সমস্যা বিদ্যমান। ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠা করা একটি ব্যয়বহুল পদ্ধতি। তাই উন্নয়নশীল দেশের ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকাংশ মানুষের কম্পিউটার অ্যাকসেস বা ব্যবহারে সুযোগ থাকে না, সেসব দেশে ই-গভর্ন্যান্স অর্থহীন। এটি ই-গভর্ন্যান্সের একটি বড় সমস্যা। তাছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বেশি এবং গতি কম হওয়ার কারণে দেশের সব জনগণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর ই-গভর্ন্যান্সের সুবিধা পাচ্ছে না। এটিও ই-গভর্ন্যান্সের একটি প্রতিবন্ধকতা। তাছাড়া ই-গভর্নেন্সে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা প্রয়োজন। বিদ্যুতের ঘাটতিরকারণে লোডশেডিং এর ফলে নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর ই-গভন্যান্স পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয়। ই-গভন্যান্স বাস্তবায়নের অপর একটি প্রতিবন্ধকতা হলো সাইবার অপরাধ।
অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনগত কাঠামোর অভাবও ই-গভর্ন্যান্সর একটি বিশেষ প্রতিবন্ধকতা। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের জন্য তেমন কোনো আইন নেই এবং ইলেকট্রনিক ক্ষেত্রে বৈধতা নিশ্চিত করার জন্যও কোনো আইন নেই। সুতরাং দেখা যাচ্ছে উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা ছাড়াও আরও বহুবিধ সমস্যা রয়েছে ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে।
Related Question
View All"ই-গভর্ন্যান্স হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার" - সংজ্ঞাটি জাতিসংঘ (২০০৬) প্রদত্ত।
ই-গভর্ন্যান্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণকে তথ্যসেবা দেওয়া। আর এর মাধ্যমে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি কাজের গতিশীলতা আনয়ন, ব্যয় হ্রাস করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ই-গভর্ন্যান্স বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ একটি পদ্ধতি।
সুমনের বাবা অবাক হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মনে হচ্ছে তিনি আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পর্যাপ্ত জানেন না। তিনি হয়তবা বয়োজ্যেষ্ঠ লোক যারা আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তিনি এমন এক ব্যবস্থায় অভ্যস্ত যেখানে সরকারি-বেসরকারি যোগাযোগ সবসময় সাধারণভাবে সম্পন্ন হয়। চিঠি, সরাসরি খবর সরবরাহ কিংবা বড়জোর টেলিফোনের মাধ্যমে তথ্য যোগাযোগে যারা পারদর্শী ছিলেন, তাদের নিকট ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আশ্চর্য হওয়ার মতোই ব্যাপার। আধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জনমত গঠনের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমেই ঘরে বসেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যায়। সুমন এভাবেই সন্ত্রাসীকে ধরে দিতে সহায়তা করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে যার কোনো ধারণা নেই, তিনি এতে আশ্চান্বিত হতেই পারেন। এজন্যই সুমনের বাবা অবাক হয়েছিলেন।
সুমন রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশিক্ষিত ও সচেতন জনগণের কথা উল্লেখ করেছে, যারা বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আধুনিককালে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সরকার ও জনগণের সহঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কিন্তু গণতন্ত্রের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমাজে শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজের সচেতন নাগরিকেরা সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে পত্রপত্রিকা এবং অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নানাবিধ আলোচনা সমালোচনায় অংশ নেয়। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদিকে এখন বলা হয় নাগরিক সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম। এ প্লাটফর্মে জনগণ একত্রিত হয়ে সরকারের প্রশংসা বা সমালোচনা করে সরকারকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়। এরূপ আন্দোলনের দাবি অনেক সময়ই সরকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানতে বাধ্য হয়। আর এ কাজটি করে মূলত দেশের সচেতন ও শিক্ষিত জনসাধারণ। গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ পক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনসাধারণের এ অংশ যত সক্রিয় ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে, গণতন্ত্র তত সংহত হবে। শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতা তত বৃদ্ধি পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত বিচারে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এভাবেই জনসাধারণের সচেতন ও সুশিক্ষিত অংশ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।
ফেসবুক ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং ছবি, তথ্য শেয়ার করা যায়। (www.facebook.com)
ই-গভর্ন্যান্স একটি উত্তম পদ্ধতি হলেও এর নানাবিধ অসুবিধা রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি, আবার এজন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনবলও অপ্রতুল। এছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত হালনাগাদ করার বিদ্যুৎ সমস্যা, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং দুর্নীতিবাজদের প্রভাব এক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। যেখানে' দেশের সিংহভাগ জনগণের ন্যূনতম ICT জ্ঞান এবং ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, সেখানে এটি অপ্রয়োজনীয় অপচয়ও বটে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!