বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে বাংলা ভাষাকে যারা হিংসা করে কবি তাদের জন্মপরিচয় সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
"দেশী ভাষা উপদেশ মনে হিত অতি"- কথাটি দ্বারা নিজ ভাষার মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সঙ্গে পরিচয় লাভ করা সহজ ও হিতকর দিকটিকে বোঝানো হয়েছে।
'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি একদিকে নিজের মাতৃভাষা বাংলার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে যারা মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করে তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। কবি মনে করেন, যে ভাষা সবার বোধগম্য সেই মাতৃভাষাই মানুষের জন্য হিতকর। তাই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যারা মাতৃভাষা চর্চা করে না, তাদেরকে তিনি এদেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাওয়া উচিত বলে মনে করেছেন। কারণ কবি জানেন যে, মাতৃভাষাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা কিছু জানার সর্বোত্তম মাধ্যম। এ ভাষার উপদেশ মানুষের মনের জন্য সবচেয়ে বেশি হিতকর। প্রশ্নোক্ত লাইনে এ কথাই বলা হয়েছে।
উদ্দীপক-১-এ 'বঙ্গবাণী' কবিতার মাতৃভাষায় বই-পুস্তক রচনা করে সাধারণের হিত সাধনের ভাবটি ফুটে উঠেছে।
জগতে পরোপকারী ব্যক্তিরা নিজ স্বার্থ ত্যাগ করে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। প্রত্যেকের উচিত স্বভাষায় জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নিজের দেশের মানুষের হিত সাধন করা।
উদ্দীপক-১-এ দেশের সহজ-সরল মানুষের জন্য মাতৃভাষার উপযোগিতা এবং জ্ঞানী-গুণীরা যাতে তাদের বেদনা অনুভব করতে পারেন সেই দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এই বিষয়টি 'বঙ্গবাণী' কবিতায় নিজ পরিশ্রমে মাতৃভাষা চর্চার মাধ্যমে অন্যসব সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধনের দিকটিকে নির্দেশ করে। যারা জ্ঞানীগুণী তারা যেন সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সাহিত্য রচনা করেন। 'বঙ্গবাণী' কবিতার এ ভাবটি উদ্দীপক-১-এ প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ যে ভাষায় কামার, কুমার, জেলে, চাষা কথা বলে, সে ভাষাতেই তাদের তুষ্ট করা সহজ। আর যে ভাষা সাধারণের বোধগম্য নয় তা যেন জ্ঞানীগুণীরা তাদের ওপর চাপিয়ে না দেন।
"উদ্দীপক-২ যেন 'বঙ্গবাণী' কবিতার কবির মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মাতৃভাষা মানুষের চেতনার সঙ্গে মিশে থাকে। মাতৃভাষার মধ্য দিয়েই মানুষের সংস্কৃতি, চিন্তাচেতনা ও অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটে। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে গেলেও নিজের দেশ ও নিজের ভাষাকে ভুলে থাকা উচিত নয়।
'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি একদিকে নিজের মাতৃভাষা বাংলার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে যারা মাতৃভাষাকে অবহেলা করে তাদের প্রতি ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি মাতৃভাষা অবহেলাকারীদের স্বদেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে বলেছেন। কবির এ ক্ষোভের সঙ্গে উদ্দীপক-২-এর মূলভাব সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকের কবিও বিদেশের নানা ভাষার ছড়াছড়িকে মেনে নিতে কুণ্ঠিত। তিনি বলেছেন, স্বদেশে বিদেশি ভাষার এ ধরনের ব্যবহার এদেশের মানুষ আর কতকাল সহ্য করবে? কবি কিছুতেই স্বদেশের মাটিতে বিজাতীয় ভাষা-সংস্কৃতির চর্চা মেনে নিতে পারেন না। উদ্দীপকের এই মনোভাবের প্রতিফলন 'বঙ্গবাণী' কবিতায়ও লক্ষ করা যায়।
'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি বাংলা ভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বাংলা ভাষাবিদ্বেষীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদেরকে স্বদেশ ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। উভয় ক্ষেত্রেই স্বদেশি ভাষার প্রতি অনুরাগ এবং বিদেশি ভাষার প্রতি বিরাগ প্রকাশ পেয়েছে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!