প্রাক শৈশবে মানসিক বিকাশ দ্রুতগতিতে চলতে থাকে। শিশুদের নিজস্ব ক্ষমতা ও আগ্রহ অনুযায়ী ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য বিকশিত হয় । এ সময়ে শিশুর নিজের দেহের বাইরের এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনাসমূহের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ থাকে বলে খুব অসহায় বোধ করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার ক্রিয়া ও ইন্দ্রিয় ক্ষমতার বিশেষ করে কথা বলার ক্ষমতার বিকাশের ফলে তার সহজাত উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে আসে।
১ম মাসে শিশু শব্দ শুনলে চমকে ওঠে। ২য় মাসে কোনো কিছুর দিকে নির্দিষ্টভাবে তাকিয়ে এক পাশ থেকে অন্য পাশে দৃষ্টি ঘুরাতে পারে। ৩য় মাসে কোনো জিনিস দৃষ্টি থেকে আড়ালে নিতে চাইলেও অনুসরণ করতে চেষ্টা করে। ২য় মাসে মায়ের গলার শব্দে শিশু আনন্দবোধ করে। ৩য় মাসে কারণের ওপর নির্ভর করে চিৎকারের ধরন বদলাতে পারে। ৪র্থ মাসে পরিচিত চেহারা এবং স্বর চিনতে পারে। ৫ম মাসে কে পরিচিত ও কে অপরিচিত তা বুঝতে পারে। ৬ষ্ঠ মাসে কথা বলতে চেষ্ট করে। ৪ মাস থেকে ৮ মাস বয়সে নতুন প্রতিক্রিয়ার বিকাশ ঘটে। এসময় শিশুরা শব্দ অনুকরণ করতে শিখে এবং নিজেকে প্রকাশ করতে চায়। ৮ মাস থেকে ১২ মাস বয়সে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ব্যবহারে শিশুর উপলব্ধি বা বোধশক্তির ক্ষমতা জন্মায়।
প্রথম বছরে শিশুর বিভিন্ন উদ্দীপকের প্রতি সাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে। ১৮ থেকে ২৪ মাসে শিশুর জ্ঞানীয় দক্ষতা বাড়তে থাকে এবং পোশাক পরা, গোসল করা প্রভৃতি কাজে আনন্দ পায়। প্রাক শৈশবে মানসিক বিকাশের সম্পর্ক সূত্রে ভাষার ব্যবহার করতে শুরু করে।
Related Question
View Allবর্ধন হচ্ছে দৈহিক কাঠামোগত পরিবর্তন, যা দৃশ্যমান এবং পরিমাপ করা যায়।
শিক্ষণ হচ্ছে আচরণের পরিবর্তন। পরিপক্বতা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এলেও এর সুষ্ঠু বিকাশের জন্য দরকার শিক্ষণ। তিনটি পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুরা শিক্ষণ গ্রহণ করে। যথা- অনুকরণ, সনাক্তকরণ ও প্রশিক্ষণ।
বর্ধন বলতে দৈহিক আকার-আয়তনের পরিবর্তনকে বোঝায়। বিকাশ হলো দৈহিক আকার-আয়তনসহ পরিবর্তনশীল আচরণ, দক্ষতা, কার্যক্ষমতার পরিবর্তন। পরিমাণগত পরিবর্তন হলো বর্ধন আর গুণগত পরিবর্তন হলো বিকাশ। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বর্ধন চলে, আর বিকাশ জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান।
বর্ধনের পর্যায় ঊর্ধ্বমুখী। বিকাশ জীবনের এক এক পর্যায়ে এক এক রকমের হয়ে থাকে। বর্ধনের সীমারেখা থাকলেও বিকাশের নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। এ সকল আলোচনা হতে ছাত্ররা বুঝতে পারে যে বিকাশ ও বর্ধন একই ধরনের পরিবর্তন নয়। ক্লাসের শিক্ষকের আলোচনার পূর্বে ছাত্রদের ধারণা ছিল বর্ধন ও বিকাশ দুটি একই বিষয়। কিন্তু শিক্ষকের আলোচনা থেকে তারা বুঝতে পেরেছে দুটি ভিন্ন ধরনের পরিবর্তন।
বিকাশ একটি চলমান প্রক্রিয়া যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান। নবজাতকের বয়স বাড়ার সাথে সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি হলো তার গুণগত পরিবর্তন। বিকাশ একটি জটিল প্রক্রিয়া। পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার ফলে বিকাশজনিত পরিবর্তন হয়।
বর্ধন ও বিকাশ পরস্পর সম্পর্কিত। জন্মের পর শিশু হাত-পা নিয়ে খেলে। পাঁচ বছরে সেই হাত দিয়ে ছবি আঁকে। দশ বছরে দক্ষতার সাথে হাত দিয়ে ক্রিকেট খেলে। এ গুণগত পরিবর্তন শিশুর বয়সের সাথে সাথে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
জীবনের প্রতিটি স্তরে বিকাশের ধারা নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট বয়সে কিছু নির্দিষ্ট বিকাশমূলক কার্যক্রম থাকে। যা কোনো মানুষের আচরণের স্বাভাবিকতা নির্দেশ করে। জীবনের শুরুতে বর্ধনের পাশাপাশি শারীরিক বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ, সামাজিক ও সঞ্চালনমূলক বিকাশ, নৈতিক ও আবেগীয় বিকাশ চলতে থাকে। এই বিকাশগুলো জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের মধ্যে চলমান। যার কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে না। তাই শিক্ষকের উক্তিটি আমি যথার্থ বলে মনে করি।
শিশুদের মধ্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের কারণ বংশগতি ও পরিবেশ।
ব্যাবলিং বলতে অর্থহীন শব্দের পুনরাবৃত্তিকে বোঝায়। ২/৩ মাস বয়সে ব্যাবলিং জাতীয় শব্দের উৎপত্তি হয়। ৭/৮ মাস বয়সে শিশু কলকূজন, উদ্দেশ্যহীনভাবে শব্দ উচ্চারণ করে ও তা পুনরাবৃত্তি করে। যেমন- বা-বা, না-না ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!