প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয় ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দুটি প্রধান কারণ হলো-
১. উগ্র জাতীয়তাবাদ : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল
ইউরোপীয় জাতিসমূহের মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদের উন্মেষ। ইতালি ও জার্মানিতে এসময় জাতীয়তাবাদের সাফল্যের ফলে তারা ইউরোপীয় অন্যান্য বর্তমান শক্তিসমূহকে (ফ্রান্স, ইংল্যান্ড প্রভৃতি) চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। তাদের মধ্যে পারস্পরিক তীব্র নৌ ও সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়।
২. উপনিবেশ দখল : পুঁজিবাদের চরম বিকাশের ফলে এসময় বাণিজ্যের প্রসার ও উপনিবেশ দখলের তীব্র প্রতিযোগিতায় নামে ইউরোপীয় নব্য ও পুরাতন শক্তিসমূহ। এসব প্রতিযোগিতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল।
উদ্দীপকের বিষয়টি আমার পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক বুশ বিপ্লবের সাথে সাদৃ্যপূর্ণ।
বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে রাশিয়াতে পরপর দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
এশিয়া-ইউরোপ তথা বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়ার ভূখন্ডে, রাশিয়ার শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল বলে এটিকে রুশ বিপ্লব বলা হয়। আবার বলশেভিক (সংখ্যাগরিষ্ঠ) দলের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছিল বলে একে বলশেভিক বিপ্লবও বলা হয়। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম সংঘটিত একটি সফল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। আর তাই সমাজতান্ত্রিক আদর্শের দরুন। বিপ্লবটিকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবও বলা হয়। এ বিপ্লব মানবসভ্যতার ইতিহাসকে প্রথম সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়, যা সারা পৃথিবীর মুক্তিকামী, শোষিত, বঞ্চিত, অবহেলিত, নিপীড়িত মানুষকে পুরো বিশ শতক ধরে মুক্তির দিকনির্দেশনা দান করেছে।
বিপ্লবটি প্রথম রাশিয়ায় শুরু হলেও পরে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। উদ্দীপকে কারখানার উদাহরণটি টেনে ঐতিহাসিক বুশ সমাজতান্ত্রিক (সাম্যবাদী) বিপ্লবটির প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৯১৭ সালে ইউরোপের দেশ রাশিয়ায় সংঘটিত উক্ত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও তার সাম্যবাদী চেতনা পৃথিবীব্যাপী ব্যাপক বিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল বলে আমি মনে করি।'
কেননা, বিপ্লবের সফলতার পর এ বিপ্লব শুধু রাশিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং রাশিয়ার বৃহত্তম ভূখণ্ড ছাড়িয়ে এ বিপ্লব পূর্ব ইউরোপ, এমনকি ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আধুনিককালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আড়ালে সমাজতন্ত্রের উপস্থিতি ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সচেষ্ট বাসনা লক্ষণীয়। এ বিপ্লবের সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদ বনাম সমাজতন্ত্রের আদর্শিক সংঘাত। এ সংঘাতকে পুঁজি করে প্রায় অর্ধ শতাব্দীব্যাপী ইউরোপে একটি স্নায়ুযুদ্ধও চলমান ছিল। ১৯৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটলেও বিংশ শতাব্দীজুড়ে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়ার উর্বর ভূখন্ডে সমাজতন্ত্রের যে নিপীড়িত জনতার প্রত্যাশার বীজ বপন করা হয়েছিল তা আশ্রয়, ছায়া আর নিপীড়িতের বিপ্লবের জ্বালানি হিসেবে স্বৈরাচারের পতনের বিরুদ্ধে ইন্ধন জুগিয়ে আসছে। একই ঘটনা পুঁজিবাদী বিশ্বকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলেছে। তাই স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পরও ২০২২ সালে এসে ইউক্রেনকে জিম্মি করে নতুনভাবে পুরাতন বিদ্রোহের আগুনে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
সুতরাং আলোচনার আলোকে উল্লিখিত 'সাম্যবাদী চেতনা যে পৃথিবীব্যাপী সুবিস্তৃত ও সুদূরপ্রসারী একটি প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
Related Question
View AllUtopia গ্রন্থের লেখক হলেন টমাস ম্যুর।
রাশিয়ার সমাজ বরাবরই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। অভিজাত শ্রেণি ও ভূমিহীন শ্রেণি। আর এ অভিজাত শ্রেণির প্রধান ছিলেন জার। তিনি অনেকটা স্বৈরাচারী শাসকের বেশে আবির্ভূত হন। দেশের সকল জমিই থাকত জারের অধীন। তিনি সকল ক্ষেত্রে অবস্থান অধিপতি হিসেবে পরিগণিত হন।
উদ্দীপকে যে বিপ্লবের কথা বলা হয়েছে তা ইতিহাসে বলশেভিক বিপ্লবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের আগে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ সম্রাট তথা জার ও অভিজাতদের হাতে শোষণের শিকার হয়ে আসছিল। বিশেষ করে শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণি এবং সাধারণ সৈনিক শ্রেণির মানুষের ন্যূনতম সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার ছিল না। এই অবস্থা থেকে ১৮৯৮ সালে বিপ্লবী দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক এ সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে লেনিন বিপ্লবের জন্য তার দলকে প্রস্তুত করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ও সামরিক দুর্ভোগ রাশিয়ার কৃষক, শ্রমিক ও সৈনিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। এরই ফলশ্রুতিতে লেনিনের নেতৃত্বে শ্রমিক, কৃষক ও সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশ বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে এবং অবশেষে ১৯১৭ সালে বলশেভিক বা বুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে দেখা যায়, শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এ বিপ্লবের পিছনে অনেক মহান নেতার অবদান ছিল। 'ক' রাষ্ট্রের মতো বলশেভিক বিপ্লবেও অনেক মহান নেতা অবদান রেখেছেন। বলশেভিক বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল কার্ল মার্কসের লেখনি। এছাড়া লেনিন ট্রটস্কি, লিও টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
সুতরাং বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের বিপ্লবের সাথে বলশেভিক বিপ্লবের সাদৃশ্য রয়েছে।
হ্যাঁ, উক্ত বিপ্লব তথা বলশেভিক বিপ্লব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভার বিস্তার করেছিল।
সারা পৃথিবীর নির্যাতিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তি সংগ্রামে বলশেভিক বিপ্লব একটি আদর্শ হিসেবে পরিগণিত। 1 বলশেভিক বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উপনিবেশের জনগণ স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই শুরু করে। এ বিপ্লব এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার পরাধীন দেশগুলোতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ক্রমান্বয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম। বিশ শতকের সারা পৃথবীর স্বাধীনতার লড়াই আর জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে বলশেভিক বিপ্লব ছিল অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। মূলত গোটা পৃথিবীর কৃষক ও শ্রমিক সমাজকে শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে উৎসাহিত করে বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের - ধারাবাহিকতায় ১৯৪৯ সালে চীনে সংঘটিত হয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সারা পৃথিবীতে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন একটি প্রধান রাজনৈতিক স্রোতে পরিণত হয়। পৃথিবীব্যাপী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কাছে মডেল হিসেবে বিবেচিত ছিল বলশেভিক বিপ্লব।
সুতরাং বলা যায়, এই বিপ্লব শুরু রাশিয়াতেই নয় সারা পৃথিবীর রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছিল।
Mein Kampf এডলফ হিটলারের রচিত গ্রন্থ।
কার্ল মার্কসকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক বলা হয়। সমাজতন্ত্রকে একটি বিজ্ঞানসম্মত রাজনৈতিক আদর্শে পরিণত করার জন্য তিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, চরম দারিদ্র্য কিছুই তাকে তার সংগ্রাম থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। কার্ল মার্কসের সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Das Kapital. এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তার লেখনীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯১৭ সালে সংঘটিত হয় রুশ বিপ্লব বা বলশেভিক বিপ্লব। পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর এসব কারণেই - কার্ল মার্কস বিশ্ব বিখ্যাত হয়ে আছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!