চার বন্ধু গঙ্গানদীর তীরে বাস করত।
অনৈতিক কাজ করা উচিত নয়। কারণ অনৈতিক কাজ করলে মানুষ নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়। আর নীতি ও আদর্শহীন ব্যক্তি পশুর সমান। সকলেই তাদের ঘৃণা করে। নীতিবান ও আদর্শবান ব্যক্তির কথা মানুষ যেখানে যুগে যুগে মনে রাখে সেখানে নীতিহীন ব্যক্তিদের ইতিহাসের কলঙ্কিত অংশ মনে করে।
মানিক বড়ুয়ার সাথে আম্রজাতক বর্ণিত যে ভিক্ষুটি প্রাণীদের পানির ব্যবস্থা করেছিল তার মিল পাওয়া যায়। আম্রজাতকের বর্ণনানুসারে একদা হিমালয়ের পাদদেশে পানির খুব সংকট দেখা দেয়। তৃষ্ণায় পশুপাখি সব কাতর হয়ে পড়ে। পশুপাখিদের এ যন্ত্রণা দেখে মায়া হয় এক ভিক্ষুর। ভিক্ষু একটি গাছ কাটলেন। সেই গাছের ডাল দিয়ে একটি ডোঙ্গা তৈরি করলেন। ডোঙ্গাটি জলপূর্ণ করে তিনি পশুপাখিদের জলপানের ব্যবস্থা করলেন। বনের সব পশুপাখি এসে সেই ডোঙ্গা থেকে জলপান করতে লাগল। অসংখ্য প্রাণীর জীবন রক্ষা পেল। এভাবে পশুপাখিরা ভিক্ষুর মাধ্যমে উপকৃত হয় যেভাবে নোয়াখালিবাসী উপকৃত হয় মানিক বড়ুয়ার মাধ্যমে।
'কুশলকর্ম সম্পাদনে সকলেরই উদ্যমশীল হওয়া উচিত।'- পরিস্থিতি অনুসারে কোনো কাজে এগিয়ে যেতে হয়। আবার পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝেই কোনো কাজ করা বা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। হিমালয়ের পাদদেশে অনাবৃষ্টি হওয়ায় পানির তীব্র সংকট হয়েছিল। পশুপাখি তৃষ্ণায় কাতর হয়ে গিয়েছিল। তাই ঐসময় শুধুমাত্র ঐ স্থানে বা তার আশপাশে কেবল পানির প্রয়োজন পড়ে, অন্যকোনো খাবারের নয়। ফলে ঐসময় ঐ জায়গায় পানির প্রয়োজনই প্রধান ছিল। আর বৌদ্ধ ভিক্ষুটি যথাসময়ে ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় সঠিক কাজটি করতে পেরেছিল বলে নিজে কৃতকার্য পাশাপাশি অন্য ভিক্ষুগণও উপকার পেয়েছিলেন। নোয়াখালী ও হিমালয়ের পাদদেশে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। তরুও মানিক বড়ুয়া বৌদ্ধ ভিক্ষুর মতো ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় সঠিক কাজটি করেছিল। নোয়াখালীতে অতিবৃষ্টির জন্য নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। তাই মানিক বড়ুয়া বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে। মানিকের এ কুশলকর্মে এলাকাবাসীর দারুণ উপকার হয়। তাই বলতে হয় যে, 'কুশলকর্ম সম্পাদনে সবারই উদ্যমশীল হওয়া উচিত।'- এ উপদেশটির সাথে মানিক বড়ুয়ার কাজটি পুরাপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
Related Question
View Allজাতকের সংখ্যা ৫৫০টি।
একদা হিমালয়ের পাদদেশে অনাবৃষ্টিতে সব জল শুকিয়ে যায়। তৃষ্ণায় পশুপাখি সব কাতর হয়ে পড়লে ভিক্ষুর মায়া হলো। তিনি গাছের ডাল দিয়ে ডোঙ্গা তৈরি করে তা জলপূর্ণ করে দিলেন। বনের পশুপাখিরা সেই ডোঙ্গার জল খেয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। এভাবে তিনি তৃষ্ণার্ত প্রাণীদের জন্য জলপানের ব্যবস্থা করেন।
শশক তার বন্ধুদের 'দান করা উচিত', 'উপোসথ পালন করা উচিত', 'শীল রক্ষা করা উচিত' এরূপ ধর্মোপদেশ দিতেন।
মশকটি বৃদ্ধের মাথায় হুল ফুটিয়ে রক্ত পান করছিল।
জাতক শব্দটি 'জাত' শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। 'জাত' শব্দের 'অর্থ হলো উৎপন্ন, উদ্ভূত, জন্ম ইত্যাদি। সুতরাং জাতক শব্দের অর্থ যিনি উৎপন্ন বা জন্ম লাভ করেনে। বৃদ্ধ যে বিভিন্ন জন্ম অতিক্রান্তে মাধ্যমে বুদ্ধ হয়ে ওঠেন সেই কাহিনিগুলোকে বলা হয় জাতক।
জন্ম-জন্মান্তরে গৌতম বুদ্ধ নানা কূলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মানবকুলে রাজা, মন্ত্রী, ব্রাহ্মণ, বণিক, দেবকুলসহ পশুপাখি হয়ে জন্ম নিয়েছিলেন এবং প্রতিটি জন্মে বোধিসত্ত্ব নামে অভিহিত হন। আর এই বোধিসত্ত্বরূপে গৌতম বুদ্ধের জীবনবৃত্তান্ত ও ঘটনাবলিকে 'জাতক কাহিনি' বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!