যুক্তিবিদ্যা যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সেগুলো যুক্তিবিদ্যার পরিসর/আলোচ্য বিষয়। এ প্রসঙ্গে যুক্তিবিদ জনসন বলেন, "যুক্তিবিদ্যার পরিধি ও বিষয়বস্তু একদিকে বিজ্ঞানের পরিধি এবং অন্যদিকে দর্শনের ব্যাপক পরিধির মধ্যে বিস্তৃত।" সুতরাং, যুক্তিবিদ্যার পরিসর একান্ত ব্যাপক। প্রথমত, জ্ঞানসংক্রান্ত: জ্ঞান প্রধানত 'দু- প্রকার। যথা- (১) প্রত্যক্ষ জ্ঞান ও (২) পরোক্ষ জ্ঞান। যেহেতু যুক্তিবিদ্যা অনুমানলব্ধ বিষয় নিয়ে নিয়োজিত সেহেতু পরোক্ষ জ্ঞানই যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়। এ ব্যাপারে দ্বিমত থাকলেও অধিকাংশ যুক্তিবিদ পরোক্ষ জ্ঞানের পক্ষে মত দিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত, অনুমানসংক্রান্ত: জানা বিষয়ের মাধ্যমে অজানা বিষয়কে জানা হচ্ছে অনুমান। অনুমান জ্ঞানের অন্যতম উৎস। যেমন- দূরে ধোঁয়া দেখে সেখানে আগুন লেগেছে মনে করা হচ্ছে অনুমান। অনুমান দু-প্রকার হতে পারে। যথা- যথার্থ ও অযথার্থ। যথার্থ অনুমানই যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।
তৃতীয়ত, মানসিক প্রক্রিয়াসংক্রান্ত: সব মানসিক প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তিবিদ্যা আলোচনা করে না। কেবল সার্বিক ধারণা গঠন, অবধারণ এবং যুক্তি বা অনুমান ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। যুক্তিবিদ্যায় এ তিনটি বস্তুর প্রক্রিয়াই কেবল চিন্তা হিসাবে আলোচিত।
চতুর্থত, সত্যতাসংক্রান্ত: যুক্তিবিদ্যার অন্যতম লক্ষ্য হলো সত্যের সন্ধান ও সত্য প্রতিষ্ঠা। এ সত্যের আবার দুটি দিক আছে; যথা- আকারগত সত্যতা ও বস্তুগত সত্যতা। পরিপূর্ণ সত্যের জন্য উভয় প্রকার সত্যতার প্রয়োজন আছে। কাজেই যুক্তিবিদ্যা উভয় প্রকার সত্যতা নিয়ে আলোচনা করে।
Related Question
View Allভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে যুক্তিবিদ্যা বলে।
অনুমান হলো জানা বিষয় থেকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অজানা বিষয়কে জানা। সুশৃঙ্খল চিন্তার মাধ্যমে অজানাকে জানা যায়। আর যুক্তিবিদ্যা হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান। সুতরাং যুক্তিবিদ্যা অনুমাননির্ভর।
উদ্দীপকের ১ নং দৃশ্যকল্পে যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান এই কথাটি ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিকটি এখানে লক্ষণীয়। বস্তুগত বা আকারগতভাবে গবেষণাযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধ জ্ঞানার্জন হলো বিজ্ঞান। আর ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান হলো যুক্তিবিদ্যা। বিজ্ঞান যেমন সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে তেমনি যুক্তিবিদ্যা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বিজ্ঞানের মতো বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করতে না পারলেও যুক্তিবিদ্যা আকারগতভাবে বিষয়বস্তুর আলোচনা যথার্থভাবে করে থাকে। সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধভাবে আলোচনা করে নিয়মনীতি পণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের সূত্র প্রবর্তনের মতো। সুতরাং বলা যায় যে আফতাব উন্নতজাতের ধান উৎপাদনের জন্য বিদেশে যান এবং এসম্পর্কীয় পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হন। তেমনি যুক্তিবিদ্যা অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি লাভের জন্য বিভিন্ন নীতি প্রণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের মতোই সুশৃঙ্খল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প ১ ও ২ এর সমন্বয়ে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করতে পারি। দৃশ্যকল্প-১ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যাকে একটি বিজ্ঞান বলা যায়। কারণ চিন্তা সম্পর্কিত কতকগুলো নীতি ও নিয়মের নির্দেশ প্রদান করাই হলো যুক্তিবিদ্যার কাজ। এটাকে তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বলা যায়। অর্থাৎ বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যা নিজস্ব বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করার জন্য কিছু নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে। এই নিয়মনীতি অনুসরণ করে যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞানদান করে। উদ্দীপকে আফতাব উচ্চফলনশীল ধান উৎপাদনের পদ্ধতি জানার জন্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তেমনি যুক্তিবিদগণ অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি পৃথক করার বিভিন্ন নিয়ম প্রণয়ন করেন। আবার দৃশ্যকল্প-২ অনুযায়ী বলতে পারি যে, যুক্তিবিদ্যা কলার সাথে সম্পর্কযুক্ত। কলাবিদ্যা বিভিন্ন পদ্ধতি ও নিয়মকে বাস্তবে প্রয়োগ করার কথা বলে। আক্কাস যেমন তার চিকিৎসা শিক্ষাকে বাস্তবে প্রয়োগ করে সফলভাবে অস্ত্রোপচার করেন, তেমনি যুক্তিবিদ্যা বাস্তবক্ষেত্রে তার নিয়মাবলিকে প্রয়োগ করে সত্যকে অর্জন করে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, দৃশ্যকল্প-১ ও ২ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করা যায়।
চিন্তার ভাষায় প্রকাশিত রূপকে যুক্তি বলে।
আদিকাল থেকেই যুক্তির ধারণাটি বিদ্যমান। ভাষায় প্রকাশিত চিন্তাই হলো যুক্তি। মানুষ সামাজিক জীব হিসাবে আদিকাল থেকেই নিজের মতের পক্ষে যুক্তি দেখায়। যেমন-
সকল মানুষ মরণশীল
সক্রেটিস একজন মানুষ
সুতরাং সক্রেটিস মরণশীল।
এটি একটি যুক্তি। এই যুক্তিটি বৈধ কিনা তা নির্ধারণ করাই মূলত যুক্তিবিদ্যার কাজ। যুক্তি হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!