যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হয় গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলকে।
যুক্তিবিদ্যার সর্বশেষ অবদান হলো 'ডিজিটাল লজিক'। কেননা আঙ্কিক যুক্তিবিদ্যায় জর্জ বুলি যে অবদান রেখেছেন তারই বাস্তব রূপ আজকের বিশ্বজাগরণের মূল কারণ। বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ অবদান কম্পিউটারের 'ডিজিটাল লজিক'। কম্পিউটারের মাধ্যমে গাণিতিক ও যুক্তির অংশ বাস্তবের সাথে এক করে দিয়েছে।
"যুক্তিবিদ যোসেফের মতে, 'যুক্তিবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা চিন্তার সাধারণ নিয়মগুলো সম্পর্কে আলোচনা করে।" অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যা হলো চিন্তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান। সংজ্ঞাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান বলা হয়েছে। প্রকৃতভাবে যুক্তিবিদ্যা শুধু বিজ্ঞান নয়, এটি কলাবিদ্যাও বটে। তা ছাড়া তিনি এ সংজ্ঞায় চিন্তা বলতে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেননি। কারণ চিন্তা বলতে সংবেদন, প্রত্যক্ষণ, স্মৃতি, অনুমান ইত্যাদিকে বোঝায়। কাজেই এ সংজ্ঞাটি সন্তোষজনক নয়।
যুক্তিবিদ জে এস মিলের মতে, "যুক্তিবিদ্যা হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা বিচার বা প্রমাণের মাধ্যমে জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে উপনীত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মনন ক্রিয়া সম্পর্কে এবং এর সহায়ক মানসিক প্রক্রিয়াসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করে।" এই সংজ্ঞাটি সন্তোষজনক। কেননা, যুক্তিবিদ্যার সবগুলো বৈশিষ্ট্য এ সংজ্ঞায় উপস্থিত। যুক্তিবিদ আরভিং এম কপির মতে, "যুক্তিবিদ্যা হলো সঠিক যুক্তি থেকে ভুল যুক্তিকে পৃথক করার জন্য যেসব পদ্ধতি ও নিয়মাবলি ব্যবহার করা হয় সেসব পদ্ধতি ও নিয়মাবলির আলোচনা।" যুক্তিবিদ কপির সংজ্ঞাটি যুক্তিবিদ্যায় ব্যবহারিক দিকের উপর বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যুক্তিবিদ্যার মূল কাজ হলো বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তিকে পৃথক করা।
যে বিষয় সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় বিশেষ কোনো তথ্য বা ঘটনার অন্তর্নিহিত সাধারণ নিয়ম আবিষ্কার করে তাকে বিজ্ঞান বলে। অন্যদিকে, কলাবিদ্যা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমাদের বৈজ্ঞানিক বা মামুলি জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেয়। আমরা জানি, যে বিজ্ঞান কোনো আদর্শ বিবেচনা না করে কেবল বাস্তবক্ষেত্রে কোনো ঘটনা যেমন আছে তেমনভাবেই বর্ণনা করে, তাকে বর্ণনামূলক বিজ্ঞান বলে। যেমন- 'মনোবিজ্ঞান' হলো একটি বর্ণনামূলক বিজ্ঞান। অন্যদিকে যে বিজ্ঞানের একটি আদর্শ আছে তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যা হলো একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। যুক্তিবিদ্যা সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে বৈধ যুক্তিপদ্ধতির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে এবং তাদের মূল্য নিরূপণ করে। আমরা কীভাবে অনুমান করি সেটি নির্ণয় করা যুক্তিবিদ্যার কাজ নয়, বরং কীভাবে অনুমান করলে ভুল পরিহার করা যায় এবং সত্যকে অর্জন করা যায়, তাই হলো যুক্তিবিদ্যার কাজ। সত্যকে আবিষ্কার ও অনুসন্ধান করার জন্য যুক্তিপ্রক্রিয়া বা যুক্তিপদ্ধতি কী রকম হবে, কী ধরনের হবে সেটিই হলো যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়। সেদিক থেকে যুক্তিবিদ্যা হলো আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। কারণ সত্যের আদর্শের ভিত্তিতে যুক্তিবিদ্যা তার নিয়মাবলিকে আবিষ্কার করে বাস্ত্যক্ষেত্রে মানুষের 'সমাজ' ও 'ব্যবহারিক জীবনে' অনুশীলন করার শিক্ষা দেয়।
Related Question
View Allভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে যুক্তিবিদ্যা বলে।
অনুমান হলো জানা বিষয় থেকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অজানা বিষয়কে জানা। সুশৃঙ্খল চিন্তার মাধ্যমে অজানাকে জানা যায়। আর যুক্তিবিদ্যা হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান। সুতরাং যুক্তিবিদ্যা অনুমাননির্ভর।
উদ্দীপকের ১ নং দৃশ্যকল্পে যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান এই কথাটি ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিকটি এখানে লক্ষণীয়। বস্তুগত বা আকারগতভাবে গবেষণাযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধ জ্ঞানার্জন হলো বিজ্ঞান। আর ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান হলো যুক্তিবিদ্যা। বিজ্ঞান যেমন সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে তেমনি যুক্তিবিদ্যা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বিজ্ঞানের মতো বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করতে না পারলেও যুক্তিবিদ্যা আকারগতভাবে বিষয়বস্তুর আলোচনা যথার্থভাবে করে থাকে। সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধভাবে আলোচনা করে নিয়মনীতি পণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের সূত্র প্রবর্তনের মতো। সুতরাং বলা যায় যে আফতাব উন্নতজাতের ধান উৎপাদনের জন্য বিদেশে যান এবং এসম্পর্কীয় পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হন। তেমনি যুক্তিবিদ্যা অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি লাভের জন্য বিভিন্ন নীতি প্রণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের মতোই সুশৃঙ্খল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প ১ ও ২ এর সমন্বয়ে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করতে পারি। দৃশ্যকল্প-১ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যাকে একটি বিজ্ঞান বলা যায়। কারণ চিন্তা সম্পর্কিত কতকগুলো নীতি ও নিয়মের নির্দেশ প্রদান করাই হলো যুক্তিবিদ্যার কাজ। এটাকে তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বলা যায়। অর্থাৎ বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যা নিজস্ব বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করার জন্য কিছু নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে। এই নিয়মনীতি অনুসরণ করে যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞানদান করে। উদ্দীপকে আফতাব উচ্চফলনশীল ধান উৎপাদনের পদ্ধতি জানার জন্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তেমনি যুক্তিবিদগণ অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি পৃথক করার বিভিন্ন নিয়ম প্রণয়ন করেন। আবার দৃশ্যকল্প-২ অনুযায়ী বলতে পারি যে, যুক্তিবিদ্যা কলার সাথে সম্পর্কযুক্ত। কলাবিদ্যা বিভিন্ন পদ্ধতি ও নিয়মকে বাস্তবে প্রয়োগ করার কথা বলে। আক্কাস যেমন তার চিকিৎসা শিক্ষাকে বাস্তবে প্রয়োগ করে সফলভাবে অস্ত্রোপচার করেন, তেমনি যুক্তিবিদ্যা বাস্তবক্ষেত্রে তার নিয়মাবলিকে প্রয়োগ করে সত্যকে অর্জন করে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, দৃশ্যকল্প-১ ও ২ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করা যায়।
চিন্তার ভাষায় প্রকাশিত রূপকে যুক্তি বলে।
আদিকাল থেকেই যুক্তির ধারণাটি বিদ্যমান। ভাষায় প্রকাশিত চিন্তাই হলো যুক্তি। মানুষ সামাজিক জীব হিসাবে আদিকাল থেকেই নিজের মতের পক্ষে যুক্তি দেখায়। যেমন-
সকল মানুষ মরণশীল
সক্রেটিস একজন মানুষ
সুতরাং সক্রেটিস মরণশীল।
এটি একটি যুক্তি। এই যুক্তিটি বৈধ কিনা তা নির্ধারণ করাই মূলত যুক্তিবিদ্যার কাজ। যুক্তি হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!