যা কিছু করা হয় তাই কর্ম। আর যে কর্ম অনুশীলন করা আবশ্যক, তাই হচ্ছে কর্তব্য। অর্থাৎ যা করা উচিত তাই আমাদের কর্তব্য। আমাদের প্রত্যেকেরই পরিবার ও সমাজে নিজ নিজ কর্তব্য রয়েছে।
হিন্দুধর্ম একটি প্রাচীন ধর্ম। এ ধর্মের প্রকৃত নাম সনাতন ধর্ম। দেব-দেবীর পূজা অর্চনা হিন্দুধর্মের একটি বিশেষ দিক। এ ধর্মের মূলে রয়েছেন ভগবান। তাঁর অনুগ্রহ লাভের জন্য মানুষের ধর্মাচরণ করতে হয়। মানুষ ভক্তিভরে ভগবানের নিকট প্রার্থনা করলে ভগবান তাদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন। বাস্তব জীবনে মা-বাবা সন্তানের লালন পালন ও সুখ সমৃদ্ধির ব্যবস্থা করে থাকেন। সন্তানের উচিত দেবতা জ্ঞানে মা-বাবার সেবা-শুশ্রুষা করা। একই সাথে সমাজের অন্যান্য গুরুজনকে শ্রদ্ধা করা। এ অধ্যায়ে সনাতন ও হিন্দুধর্মের সম্পর্ক, হিন্দুধর্মের উৎপত্তির ইতিহাস এবং ধর্ম বিশ্বাসের অঙ্গ হিসেবে গুরুজনে ভক্তি, মাতৃভক্তি, কর্তব্যবোধ ইত্যাদি দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যানসহ আলোচিত হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা -
- সনাতনধর্ম ও হিন্দুধর্ম এ ধারণা দুটি ব্যাখ্যা করতে পারব
- হিন্দুধর্মের উৎপত্তির ইতিহাস সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করতে পারব
- হিন্দুধর্মের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য নিয়ে গর্ববোধ করব
- ধর্মবিশ্বাস ধারণাটি ব্যাখ্যা করতে পারব
- গুরুজনে ভক্তি ধারণাটি ব্যাখ্যা করতে পারব
- কীভাবে গুরুজনকে ভক্তি করতে হয় তা বর্ণনা করতে পারব
- মাতৃভক্তির একটি গল্প বর্ণনা করতে পারব
- ধর্মের আলোকে কর্তব্যবোধের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- মাতা-পিতার প্রতি সন্তানদের কর্তব্য এবং সন্তানের প্রতি মাতা-পিতার দায়িত্ব ও কর্তব্য ব্যাখ্যা করতে পারব
- গুরুজনে ভক্তি ও কর্তব্য পালনে সচেতন হব।
Related Question
View Allপ্রাচীনকালে সনাতন ধর্মের লোক সিন্ধুনদের তীরে বাস করত।
হিন্দু শব্দটি এসেছে সিন্ধু শব্দ থেকে। সিন্ধুনদ প্রাচীনকাল থেকেই প্রবাহিত হয়ে আসছে। এ নদের তীরে প্রাচীনকালে সনাতন ধর্মের লোক বাস করত। তাদের আচার-আচরণ, ধর্ম বিশ্বাসে একটি বিশিষ্ট রূপ ছিল। বিদেশিদের কাছে এদের পরিচয় হয় ঐ সিন্ধুনদের - নামে। এ বিদেশিরাই সিন্ধু শব্দকে হিন্দু বলে-উচ্চারণ করত। আর সেখানকার সনাতন ধর্মের লোকদেরকে তারা বলত হিন্দু। হিন্দুদের সনাতন ধর্মই তাদের ভাষায় হয়ে ওঠে হিন্দুধর্ম।
উদ্দীপকের আলোচনায় ব্রাহ্মণ যজ্ঞের মাধ্যমে দেবতাদের আহ্বান করছেন। সনাতন বা হিন্দুধর্মের প্রাচীনকালে ধর্মানুষ্ঠান ছিল যজ্ঞনির্ভর। তখন বড় বড় যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা প্রচলিত ছিল। সেটি ক্রমে ক্রমে দেব-দেবীর আরাধনায় রূপ নিয়েছে। যজ্ঞকর্মে দেব-দেবীর শক্তি ও রূপের বর্ণনা দিয়ে যজ্ঞকর্ম হতো। পরবর্তীকলে ঐ দেব-দেবীর রূপ কল্পনা করে মূর্তির মাধ্যমে পূজা-অর্চনার ব্যবস্থা হয়। সনাতন ধর্মের যে অবতার ও মোক্ষলাভের বিষয় রয়েছে এসবই হিন্দুধর্মের সম্পদ। তবে ক্রমবিকাশের স্তরে স্তরে হিন্দুধর্মের আচার-আচরণে কিছু কিছু নতুনত্বও এসেছে। বৈদিক যুগের যজ্ঞক্রিয়া পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে আধুনিক হিন্দুধর্মে শুধু ঈশ্বরের নাম ও গুণকীর্তনের প্রচলন 'হয়েছে।
বৈদিক যুগের হিন্দুধর্ম ছিল সম্পূর্ণ যজ্ঞভিত্তিক।
যে যুগে দেবতাদের কিছু কিছু নাম থাকলেও আকৃতি ছিল না। তারা ছিলেন প্রাকৃতিক শক্তি মাত্র। সে যুগে যজ্ঞক্রিয়ার মাধ্যমে নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনাই প্রচলিত ছিল। কিন্তু পৌরাণিক যুগে এসে বেদের বর্ণনা অনুযায়ী তৈরি করা হয় বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা, তখন থেকেই প্রতিমা পূজার প্রচলন শুরু হয়। প্রত্যেক দেব-দেবীরই মূর্তি তৈরি করে সাকার উপাসনা চালু হয়। এ মূর্তিপূজায় দেব-দেবীদের স্তব-ভূতির মাধ্যমে তাদের প্রশংসা ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়। এবং প্রত্যেক পূজাতেই যজ্ঞ করার রীতি এখনও প্রচলিত আছে। প্রত্যেক দেব-দেবীর পূজাতে পুরোহিত অগ্নি প্রজ্বলিত করে বিভিন্ন দ্রব্য বা বস্তু আহুতির মাধ্যমে যজ্ঞ করে। তাই প্রতিমা পূজার উৎপত্তির সাথে ব্রাহ্মণের যজ্ঞকর্মের গভীর সম্পর্ক আছে, এ বিষয়ে আমি একমত।
সনাতন ধর্মের অপর নাম হিন্দুধর্ম।
হিন্দুধর্মের উৎপত্তির ইতিহাস সনাতন ধর্মের পরিচিতির মধ্যেই বর্তমান। সনাতন ধর্ম কোনো একজন মাত্র মুনি, ঋষি বা অবতারপুরুষের প্রতিষ্ঠিত ধর্ম নয়। আদিম মানুষের মনে যখন সত্য-মিথ্যা ন্যায়-অন্যায়বোধ জেগেছিল এক কথায়, ধর্মবোধ জেগেছিল, সেখান থেকে এ ধর্মের বিকাশ শুরু। আর সমাজের চিন্তাশীল ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের ধ্যান-ধারণার ফসল নিয়ে এ ধর্ম ক্রমশ বিকাশ লাভ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!