মসজিদকে বলা হয় পবিত্র মিলনকেন্দ্র।
সমাজে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের মিলেমিশে একত্রে বসবাস করাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলে। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলতে এক অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে সম্প্রীতিকে বোঝায়। অর্থাৎ ঝগড়া-বিবাদ না করে সকলের সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজ গঠিত হলেই তাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলা হয়।
শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান আশরাফকে বলেছেন, সে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করলে তার জীবনে পরিবর্তন আসবে। তার এ কথার যথার্থতা প্রমাণিত হয় ইসলামি সমাজে মসজিদের গুরুত্ব ও ভূমিকার প্রতি লক্ষ করলে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ইবাদত সম্পাদনের জন্য মসজিদকে সমাজের মানুষের জন্য প্রধান ও প্রথম স্থান নির্ধারণ করে বলেন "আর তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো"- [সুরা-বাকারা: ৪৩]।
আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে পরস্পরের ভাই নির্ধারণ করে একে অপরের সহযোগিতার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। বলাবাহুল্য, ইসলামি সমাজ মসজিদকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে ও বিকশিত হয় মানুষের জীবনে। মসজিদের এহেন কল্যাণকর ভূমিকার প্রেক্ষিতে অস্বীকারের উপায় থাকে না। আশরাফ মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করলে সে সময়ানুবর্তী হবে, পবিত্রতা অর্জন ও ইবাদত সম্পাদনে আন্তরিক হবে। সর্বোপরি তার মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের সাথে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের ফলে সকলের সাথে তার ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
মসজিদকে কেন্দ্র করে আশরাফ সমস্যাসংকুল সমাজের জন্য বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মসজিদকেন্দ্রিক সমাজে তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, ইহসান, ইবাদত ও আখলাকে হামিদাভিত্তিক হয়। এ ব্যবস্থায় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব' সর্বময় ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দ্বিধাহীন স্বীকৃতি থাকে। ফলে মানুষ কোনো ব্যক্তি, দল বা ব্যক্তিস্বার্থের কাছে মাথানত না করে বরং এক আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে রাসুলুল্লাহ (স)-এর দেখানো পথে আখিরাতের ভয় অন্তরে জাগরুক রেখে জীবনযাপন করে। শুধু তাই নয়, এ ব্যবস্থায় আল্লাহর ইবাদতই মানুষের মূল লক্ষ্য থাকে। উপরন্তু ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও নৈতিক গুণাবলির ভিত্তিতে ইসলামি সমাজ পরিচালিত হয় বলে এ সমাজে অপরাধ সংঘটিত হয় খুবই কম। এ ক্ষেত্রে মসজিদই মূল ভূমিকা পালন করে, উদাহরণস্বরূপ-সামষ্টিক মিলন- উৎসব, বিচার-ফায়সালা, বিবাদ-মীমাংসা, নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও নির্মূলের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সচেতনতা সৃষ্টি প্রভৃতি। উপরন্তু মসজিদে প্রতিদিন পাঁচবার দেখা-সাক্ষাৎ হওয়া মুসল্লিদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি ও অবস্থা বিশেষে যথাযথ সহযোগিতার সুযোগ তো রয়েছেই। এভাবে আশরাফ মসজিদকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমাজের মানুষের কল্যাণ সাধনে তথা সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
Related Question
View Allআল্লাহর একত্ববাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে ও পরিচালিত হয় বলে ইসলামি সমাজব্যবস্থাকে তাওহিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা বলা হয়। তাওহিদ ইসলামি সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা, আইনপ্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে অন্তরে বিশ্বাস ও মুখে স্বীকার করাকে তাওহিদ বলে। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। তাই ইসলামি সমাজের সব কর্মকাণ্ড এ মৌলিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা বিস্তারে মুসলমানদের অবদান অপরিসীম। আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা বিস্তারের মহৎ কাজটি রাসুল (স) তাঁর নিজ গৃহ থেকে সর্বপ্রথম শুরু করেন। তিনি হযরত আরকাম (রা) এর বাড়িতে 'দারুল আরকাম' নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। রাসুল (স) মদিনায় হিজরতের পর মসজিদে নববিকে উন্মুক্ত শিক্ষাকেন্দ্রে রূপ দেন। সাহাবিরাও শিক্ষা বিস্তারে বিরাট ভূমিকা রাখেন। আবু বকর (রা) কুরআন শরিফকে গ্রন্থাবদ্ধ করেন। উসমান (রা) কুরআন সংকলন করেন। উমর (রা) শিক্ষকদের সম্মানী নির্ধারণ করেন এবং শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে সাহাবিদের বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেছেন। উমর বিন আব্দুল আজিজ (রা)-এর সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে হাদিস সংকলন, বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন, ফিকহ সম্পাদনা পরিষদ গঠন করা হয়। আব্বাসীয় খলিফা আল মামুন শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে 'বায়তুল হিকমাহ' নামে একটি বিজ্ঞানাগার তৈরি করেন।
ইবনে সিনা, আল রাযি, ইবনে রুশদ, ইবনে আব্বাস, ইমাম গাযযালি (র) অসামান্য অবদান রাখেন। গণিতশাস্ত্রে মুসলমানদের অবদান অবিস্মরণীয়। বীজগণিতের জনক মুসা আল খারিযমি। পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষা-বিস্তার এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় মুসলমানগণ অবদান রেখে গেছেন। তাদের দেখানো পথে বর্তমান বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন গবেষণা ও অধ্যয়ন করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধন করছেন।
বর্তমানে ইমামগণ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা বিস্তারের কাজে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত হতে পারেন। মক্তবে পাঠদান, জুমার উদ্দীপকে শিক্ষক পাঠদানকালে শিক্ষার্জনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স) শিক্ষা অর্জনের যে তাগিদ দিয়েছেন তা উল্লেখ করেন এবং বর্তমান সময়ে এরই ধারবাহিকতায় মসজিদের ইমামগণও আল্লাহ ও রাসুল (স) এর মিশন বিভিন্নভাবে সমাজে পরিচালিত করতে পারে তার দিকেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
ইমামগণ শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মক্তব প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যা মসজিদে অথবা মসজিদের বাইরেও পরিচালিত হতে পারে। যেখানে ছোট ছোট শিশুরা কুরআন, হাদিস, আদব-আখলাক, হালাল-হারাম ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারে। তাছাড়া বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র বা গণবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যার দ্বারা সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ হোক ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই শিক্ষা অর্জন করবে এবং নিরক্ষরতা দূর করবে। ইমাম সাহেব প্রতি শুক্রবার সমকালীন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর খুতবায় আলোচনা করতে পারেন এবং কুরআন ও হাদিসের আলোকে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। ইমামগণ সেমিনার সিম্পোজিয়াম, পত্র-পত্রিকা, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমেও এই মহান কাজটি করতে পারেন। এভাবে তারা মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় কাজ থেকে যেমন বিরত রাখতে পারেন তেমনি শিক্ষা অর্জনে উৎসাহ প্রদান করে শিক্ষা বিস্তারে মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারেন।
মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসলামি সমাজের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ায় একে ইসলামি সমাজের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়। মসজিদকে কেন্দ্র করেই ইসলামি সমাজ গড়ে ওঠে ও পরিচালিত হয়। আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষকে ইমান-আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!