‘গ’ অংশ; যে-কোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর দিন; (১×১৫=১৫)

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ                                                                                                                                                                                                                              
বৈশিষ্ট্যমিথ্যা সাক্ষ্যদান (ধারা ১৯১)মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করা (ধারা ১৯২)
মূল ধারণাআইনত শপথবদ্ধ বা সত্য বলতে বাধ্য ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়া বা লিপিবদ্ধ করা।বিচারিক কার্যধারায় মিথ্যা সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে জেনে, কোনো ঘটনা বা তথ্য তৈরি করা বা বিকৃত করা।
প্রয়োজনীয় শর্তসাক্ষ্যদানকারীকে শপথবদ্ধ বা আইনত সত্য বলতে বাধ্য হতে হবে।সাক্ষ্য সৃষ্টি করার জন্য শপথের প্রয়োজন নেই, তবে এটি বিচারিক কার্যধারায় মিথ্যা সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে এমন উদ্দেশ্য থাকতে হবে।
কর্মের প্রকৃতিসরাসরি মিথ্যা মৌখিক বিবৃতি দেওয়া বা মিথ্যা নথি জমা দেওয়া।কোনো বস্তু, চিহ্ন বা নথি তৈরি বা পরিবর্তন করা, যা পরে আদালতে মিথ্যা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
প্রত্যক্ষতাসাক্ষ্যদানকারী নিজেই আদালতে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়।সাক্ষ্য সৃষ্টিকারী ব্যক্তি নিজেই আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য নাও দিতে পারে, কিন্তু সে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যাতে অন্য কেউ বা প্রমাণের মাধ্যমে মিথ্যা সাক্ষ্য উপস্থাপন করা যায়।
উদাহরণআদালতে মিথ্যা কসম কাটা, মিথ্যা হলফনামা দেওয়া, মিথ্যা বয়ান দেওয়া।জাল নথি তৈরি করা, কোনো অপরাধের দৃশ্য পরিবর্তন করা, মিথ্যা প্রমাণ লুকানো বা স্থাপন করা।

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর অধীনে মিথ্যা সাক্ষ্যদান এবং মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করা উভয়ই গুরুতর অপরাধ হলেও, তাদের মৌলিক প্রকৃতি এবং সংঘটিত হওয়ার পদ্ধতিতে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। মিথ্যা সাক্ষ্যদান সরাসরি শপথবদ্ধ ব্যক্তির মিথ্যা বক্তব্য বা তথ্যের সাথে জড়িত, যেখানে মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি পরোক্ষভাবে এমন প্রমাণাদি তৈরি বা বিকৃত করার সাথে জড়িত যা পরবর্তীতে বিচার প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আইন ও বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য এই দুটি অপরাধের স্বতন্ত্র ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

আলোচ্য ক্ষেত্রে, X তার প্রতিবেশী Y কে আঘাত করলে Y উত্তেজিত ও ক্রোধান্বিত হন। Z এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে X কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে Y এর হাতে একটি পিস্তল দেন, যা দিয়ে Y গুলি করে X কে হত্যা করেন। The Penal Code, 1860 এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী Y এবং Z উভয়ের দায়ভার নিম্নরূপ:

Y এর দায়:

Y এর প্রাথমিক আঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রোধে উন্মত্ত হওয়া সত্ত্বেও, Z এর প্ররোচনা এবং হত্যার উদ্দেশ্যে পিস্তল গ্রহণ করে X কে গুলি করে হত্যা করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। The Penal Code, 1860 এর ধারা ৩০০ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কাউকে আঘাত করার ইচ্ছায় এমন কাজ করে যার ফলে মৃত্যু ঘটে, তবে তা খুন বলে গণ্য হয়। এখানে Y ইচ্ছাকৃতভাবে পিস্তল দিয়ে গুলি করে X কে হত্যা করেছেন। যদিও প্রাথমিক প্ররোচনা ছিল, Z এর দ্বারা পিস্তল প্রাপ্তি এবং গুলি করার সিদ্ধান্ত হত্যার উদ্দেশ্যকে প্রতিষ্ঠা করে। অতএব, Y The Penal Code, 1860 এর ধারা ৩০২ অনুযায়ী খুনের অপরাধে দায়ী হবেন।

Z এর দায়:

Z একজন দর্শক হয়ে Y এর ক্রোধের সুযোগ গ্রহণ করে এবং Y এর হাতে X কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে পিস্তল দেন। The Penal Code, 1860 এর ধারা ১০৭ অনুযায়ী, কোনো কাজ করার জন্য প্ররোচনা দিলে, ওই কাজ করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে, বা কোনো কাজ করার জন্য সহায়তা করলে তা দুষ্কর্মের সহায়তা (Abetment) বলে গণ্য হয়। এখানে Z সরাসরি Y কে X কে হত্যা করার জন্য প্ররোচনা দিয়েছেন এবং পিস্তল দিয়ে সহায়তাও করেছেন। যেহেতু Y সেই পিস্তল ব্যবহার করে X কে হত্যা করেছেন, অর্থাৎ Z এর প্ররোচিত কাজটি সংঘটিত হয়েছে, তাই The Penal Code, 1860 এর ধারা ১০৯ অনুযায়ী Z খুনের দুষ্কর্মের সহায়তার জন্য দায়ী হবেন এবং ধারা ৩০২ এর অধীনে খুনের সমতুল্য শাস্তি পাবেন।

উপসংহার:

উপরিউক্ত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, Y তার প্রত্যক্ষ কর্মের জন্য The Penal Code, 1860 এর ধারা ৩০২ অনুযায়ী খুনের অপরাধে এবং Z উক্ত খুনের দুষ্কর্মের সহায়তার জন্য ধারা ১০৯ সহ ধারা ৩০২ অনুযায়ী দায়ী হবেন।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

A এর দায়: খুনের চেষ্টার জন্য A দায়ী।

উপরে বর্ণিত ঘটনায়, A এর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল B কে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা। A এর কার্যসমূহ, যেমন বিষ ক্রয় করা, তা খাবারে মেশানো এবং B এর কাছে পরিবেশনের জন্য ব্যবস্থা করা, সরাসরি খুনের অপরাধ সংঘটনের দিকে পরিচালিত হয়েছে। যদিও B সময় মতো চিকিৎসা পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়নি, তবুও খুনের চেষ্টার অপরাধ সংঘটিত হয় যখন অপরাধ সংঘটনের অভিপ্রায় (mens rea) এবং তার দিকে পরিচালিত সুস্পষ্ট কাজ (actus reus) বিদ্যমান থাকে, ফলাফলের উপর নির্ভর না করে।

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৩০৭ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এমন অভিপ্রায় বা জ্ঞান সহকারে এবং এমন পরিস্থিতিতে কোনো কাজ করে যে, যদি সে উক্ত কাজের দ্বারা মৃত্যু ঘটিয়ে দিত, তবে সে খুনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হত, তাকে দশ বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে। যদি উক্ত কাজের দ্বারা কোনো ব্যক্তির আঘাত (hurt) ঘটে, তবে অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে। যেহেতু B অসুস্থ হয়ে পড়েছিল (অর্থাৎ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল), A এই ধারার গুরুতর শাস্তির জন্য দায়ী হবেন।

C এর দায়: অপরাধ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কারণে C দায়ী নয়।

প্রদত্ত ঘটনায়, A বিষ মেশানো খাবারটি B এর কর্মচারী C কে B এর টেবিলে পরিবেশনের জন্য দেয়। ঘটনাটিতে এমন কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি যে C জানত যে খাবারটিতে বিষ মেশানো আছে অথবা A এর B কে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে C অবগত ছিল। জ্ঞানের অনুপস্থিতিতে, C শুধুমাত্র একজন নির্দোষ মাধ্যম (innocent agent) হিসেবে কাজ করেছে। কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধমূলক কাজের জন্য দায়ী হতে পারে না যদি তার মধ্যে সেই অপরাধ সংঘটনের জন্য প্রয়োজনীয় অপরাধমূলক অভিপ্রায় (mens rea) এবং তার কাজের অবৈধ প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে।

যদি C বিষ সম্পর্কে এবং A এর B কে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত থাকত এবং তা সত্ত্বেও খাবারটি পরিবেশন করত, তবে C দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১০৭ ধারা পাঠসহ ১০৯ ধারা অনুযায়ী অপরাধে প্ররোচনার জন্য দায়ী হত। তবে, প্রদত্ত তথ্য কঠোরভাবে বিবেচনা করে, C কে একজন নির্দোষ মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সে এই ঘটনায় কোনো ফৌজদারি দায় বহন করবে না।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

দুষ্কর্মে সহায়তা বলতে বোঝায় যখন কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে অপরাধ সংঘটনে প্ররোচিত করে, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কাজ বা অবৈধ বাদ দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে সাহায্য করে।


বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860)-এর পঞ্চম অধ্যায়ে 'দুষ্কর্মে সহায়তা' (Abetment) সংক্রান্ত বিধানাবলী আলোচনা করা হয়েছে। দুষ্কর্মে সহায়তা একটি গুরুতর অপরাধ, যা মূল অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রাখে এমন ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনে।

দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় দুষ্কর্মে সহায়তার তিনটি ধরন উল্লেখ করা হয়েছে:

        
  • প্ররোচনা (Instigation): কোনো কাজ করার জন্য কাউকে উসকানি দেওয়া বা প্ররোচিত করা। যেমন, কাউকে চুরি করতে উৎসাহিত করা।
  •     
  • ষড়যন্ত্র (Conspiracy): সেই কাজ করার জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে কোনো অবৈধ কাজ করতে বা অবৈধ উপায়ে বৈধ কাজ করতে সম্মত হওয়া। যেমন, ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা করা।
  •     
  • ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা (Intentionally aiding): ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কাজ বা অবৈধ বাদ দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে সাহায্য করা। যেমন, অপরাধীকে পালানোর জন্য গাড়ি সরবরাহ করা বা তথ্য গোপন করা।

দণ্ডবিধির ১০৮ ধারায় দুষ্কর্মের সহায়ক (abettor)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত, যদি সহায়তা প্রাপ্ত ব্যক্তিটি সহায়তা অনুযায়ী অপরাধটি সংঘটন করে, তবে সহায়তা প্রদানকারীর শাস্তি মূল অপরাধকারীর শাস্তির সমান হয় (ধারা ১০৯)। যদি সহায়তা অনুযায়ী অপরাধ সংঘটিত না হয় বা ভিন্ন কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়, তবে দণ্ডবিধির ১১৫ বা ১১৬ ধারায় ভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে। দুষ্কর্মে সহায়তার জন্য অপরাধীর মানসিকতা (mens rea) এবং কৃত কাজ (actus reus) উভয়ই আইনের চোখে গুরুত্বপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ চোরাই মাল বলতে এমন সম্পত্তিকে বোঝায় যা চুরি, জবরদস্তি, দস্যুতা, সম্পত্তি আত্মসাৎ বা বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে অন্যের অধিকার থেকে সরানো হয়েছে।

আইনের দৃষ্টিতে, চোরাই মাল (Stolen Property) হলো এমন কোনো সম্পত্তি যা কোনো অপরাধের মাধ্যমে অর্জন করা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধি (যা বাংলাদেশেও প্রযোজ্য ছিল এবং বর্তমানে নিজস্ব আইন দ্বারা প্রভাবিত) এর ৪১০ ধারায় চোরাই মালের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, চুরি, জবরদস্তি গ্রহণ (extortion), দস্যুতা (robbery), ফৌজদারি আত্মসাৎ (criminal misappropriation) বা ফৌজদারি বিশ্বাসভঙ্গ (criminal breach of trust) দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বলে গণ্য করা হয়।

কোনো ব্যক্তির চোরাই মাল সম্পর্কে জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও যদি সে তা নিজ দখলে রাখে, তাহলে তা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। দণ্ডবিধির ৪১১ ধারায় চোরাই মাল জেনেও তা দখলে রাখার শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে। এর জন্য তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। যদি চোরাই মাল কোনো ডাকাতির ঘটনা থেকে আসে, তবে এর শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তির লেনদেন রোধ করা এবং সমাজে সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

মিথ্যা পরিচয় দানের মাধ্যমে প্রতারণা একটি গুরুতর অপরাধ, যেখানে একজন ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তি সেজে অথবা কোনো কাল্পনিক পরিচয়ে নিজেকে উপস্থাপন করে অন্যকে প্রতারিত করে। এর মূল উদ্দেশ্য থাকে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিকে কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করতে প্ররোচিত করা অথবা এমন কোনো কাজ করানো বা না করানো যা তার শরীর, মন, খ্যাতি বা সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করতে পারে। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860)-এর ৪১৬ ধারায় 'ছদ্মবেশ ধারণপূর্বক প্রতারণা' (Cheating by Personation) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের প্রতারণায় অপরাধী মিথ্যা পরিচয়ের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রেখে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জন করে এবং তাকে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো কাজ করতে বাধ্য করে। উদাহরণস্বরূপ, অনলাইনে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায়, সরকারি কর্মকর্তা সেজে সাধারণ মানুষকে ঠকানো অথবা পরিচয় চুরি করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা ইত্যাদি মিথ্যা পরিচয় দানের মাধ্যমে প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে ভুক্তভোগীর আর্থিক, মানসিক বা সামাজিক ক্ষতি হতে পারে এবং এর জন্য আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে, যেমন দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারা অনুযায়ী ছদ্মবেশ ধারণপূর্বক প্রতারণার জন্য কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।


Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

আইনের পরিভাষায় অনিষ্টসাধন বলতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো ব্যক্তি বা সম্পত্তির ক্ষতি করাকে বোঝায়। দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860)-এর ৪২৫ ধারায় অনিষ্টসাধনের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের বা কোনো ব্যক্তির কোনো সম্পত্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা এমন ক্ষতির সম্ভাবনা জেনে কোনো কাজ করে, যার ফলস্বরূপ সম্পত্তির ধ্বংস হয়, বা এর মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাস পায়, অথবা কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন হয়, তবে সে অনিষ্টসাধন করেছে বলে গণ্য হবে।

অনিষ্টসাধনের মূল উপাদানগুলি হলো:

        
  • অভিপ্রায় (Intention): অনিষ্টসাধনকারীকে অবশ্যই ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা ক্ষতির সম্ভাবনা জেনে কাজটি করতে হবে।
  •     
  • ক্ষতিসাধন (Causing Damage): কাজটির ফলে সম্পত্তির ধ্বংস, মূল্য হ্রাস বা উপযোগিতা হারানো, বা অন্য কোনো প্রকার ক্ষতি অবশ্যই হতে হবে।
  •     
  • সম্পত্তি (Property): ক্ষতিসাধন কোনো ব্যক্তি বা জনসাধারণের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ওপর হতে পারে।

দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধারায় অনিষ্টসাধনের বিভিন্ন প্রকার ও তার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। যেমন, ৪২৬ ধারায় সাধারণ অনিষ্টসাধনের জন্য কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে। ক্ষতির পরিমাণ বা বস্তুর প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে শাস্তির তারতম্য হয়, যেমন জাহাজ বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বস্তুর অনিষ্টসাধনের জন্য কঠোরতর শাস্তির বিধান রয়েছে। এটি মূলত সম্পত্তির বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি অপরাধ।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

মিথ্যা দলিল প্রণয়ন হলো এমন একটি কাজ যেখানে কোনো ব্যক্তি প্রতারণা বা ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে কোনো জাল বা মিথ্যা নথি তৈরি, পরিবর্তন, বা স্বাক্ষর করে।


মিথ্যা দলিল প্রণয়ন (Forgery of documents) আইন অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ। এটি ভারতীয় দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (যা বাংলাদেশেও কার্যকর) এর ৪৬৩ ধারায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই ধারানুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণার উদ্দেশ্যে অথবা এই অভিপ্রায়ে যে, কোনো ব্যক্তি প্রতারণা করতে পারে, কোনো মিথ্যা দলিল বা তার অংশ বিশেষ তৈরি করে, তাহলে সে মিথ্যা দলিল প্রণয়ন করেছে বলে গণ্য হবে।

এই অপরাধের মূল উপাদানগুলি হলো:

        
  • মিথ্যা দলিল তৈরি: এখানে "মিথ্যা" বলতে এমন কিছু বোঝায় যা আসল নয় বা যার সত্যতা নেই। এটি হাতে লেখা, টাইপ করা বা ছাপানো যেকোনো ফরম্যাটে হতে পারে।
  •     
  • প্রতারণার উদ্দেশ্য: দলিলটি তৈরি করার পেছনে অবশ্যই কারো সাথে প্রতারণা করা বা কাউকে ক্ষতির মুখে ফেলার অভিপ্রায় থাকতে হবে।
  •     
  • ক্ষতিসাধন: এই মিথ্যা দলিলের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক, সামাজিক, বা আইনি ক্ষতি হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, অন্যের স্বাক্ষর নকল করে কোনো চুক্তিপত্র তৈরি করা, জমির দলিল বা ব্যাংক স্টেটমেন্টে পরিবর্তন আনা, বা ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করা ইত্যাদি মিথ্যা দলিল প্রণয়নের অন্তর্ভুক্ত। এর ফলস্বরূপ সম্পত্তিগত অধিকার, অর্থ সংক্রান্ত লেনদেন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। এই অপরাধের জন্য ৪৬৫ ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড (যা দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে) এবং/অথবা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

রাষ্ট্রদ্রোহীতা হলো রাষ্ট্রের প্রতি বিদ্বেষ, অবজ্ঞা বা অসন্তোষ সৃষ্টি করা কিংবা সৃষ্টির চেষ্টা করা অথবা আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি আনুগত্য অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা সহিংসতা উসকে দেওয়া বা এর মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার অপচেষ্টা চালানো। এটি একটি গুরুতর অপরাধ যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে।


আইনের দৃষ্টিতে, রাষ্ট্রদ্রোহীতা (Sedition) একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, যা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অপরিহার্য। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860)-এর ১২৪(ক) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহীতার সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান রয়েছে।

        
  • সংজ্ঞা ও উপাদান: রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধ সংঘটিত হয় যখন কোনো ব্যক্তি মৌখিক বা লিখিত শব্দ, চিহ্ন, দৃশ্যমান উপস্থাপনা বা অন্য কোনো উপায়ে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা, অবজ্ঞা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে অথবা তা করার চেষ্টা করে। এখানে 'বিদ্বেষ' বলতে কেবল শত্রুতার অনুভূতিই নয়, সরকারের প্রতি সমস্ত প্রকার অবিশ্বাস এবং আনুগত্যহীনতাকেও বোঝানো হয়েছে।
  •     
  • উদ্দেশ্য: এই অপরাধের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে অসন্তোষ তৈরি করা এবং এর ফলস্বরূপ জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়া।
  •     
  • দৃষ্টান্ত: সশস্ত্র বিদ্রোহ, সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক প্রচার, রাষ্ট্রের প্রতীক বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি চরম অবমাননা, বা সরকার পতনের জন্য অবৈধ পন্থায় মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা রাষ্ট্রদ্রোহীতার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
  •     
  • শাস্তি: বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অথবা শুধুমাত্র অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
  •     
  • গুরুত্ব ও বিতর্ক: রাষ্ট্রদ্রোহীতা আইন সরকারের স্থায়িত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, এর প্রয়োগ অনেক সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে সমালোচিত হয়। আইনের এই ধারাটি এমনভাবে প্রয়োগ করা উচিত যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকের বৈধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও সুরক্ষিত থাকে।
Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

উপরোক্ত ঘটনাটির আলোকে A, B, C, D ও E এর ফৌজদারি দায় আলোচনা করা হলো:

        
  •         A এর দায়:         

    A নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের জন্য দায়ী হবে:

            
                  
    • অবৈধ সমাবেশ ও গৃহ-অনধিকার প্রবেশ: A, B, C, D ও E লাঠি ও লোহার রডসহ X এর বাড়ির সামনে জড়ো হয় X কে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে, যা দণ্ডবিধির ১৪১ ধারা অনুযায়ী একটি অবৈধ সমাবেশ। এরপর তারা B এর মাধ্যমে মূল ফটক ভেঙ্গে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে, যা দণ্ডবিধির ৪৪৫/৪৪৭ ধারা অনুযায়ী গৃহ-অনধিকার প্রবেশ (House-trespass) বা গৃহ-ভঙ্গ (House-breaking)। A এই উভয় অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
    •             
    • খুন (Murder): বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে A উত্তেজনাবশত Y এর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে Y এর মৃত্যু হয়। দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার তৃতীয় শর্ত অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি এমন দৈহিক আঘাত করার উদ্দেশ্যে কাজ করে যা সাধারণ দৈহিক প্রক্রিয়ায় মৃত্যুর কারণ হতে পারে, তাহলে তা খুন হিসেবে গণ্য হবে। লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা এমন একটি কাজ যা Y এর মৃত্যুর কারণ হয়েছে এবং এটি খুনের পর্যায়ে পড়ে। তাই A দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী খুনের অপরাধে দায়ী হবে। "উত্তেজনাবশত" হলেও, Y এর পক্ষ থেকে এমন কোনো গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনা ছিল না যা খুনের অপরাধকে নরহত্যায় রূপান্তরিত করতে পারে (যেমন, দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম ১ প্রযোজ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই)।
    •         
        
  •     
  •         B এর দায়:         

    B নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের জন্য দায়ী হবে:

            
                  
    • অপকারীতা (Mischief): B, X এর বাড়ির মূল ফটক ভেঙ্গে ফেলে, যা দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারা অনুযায়ী অপকারীতা এবং এর শাস্তি ৪২৬ ধারায় বর্ণিত আছে।
    •             
    • অবৈধ সমাবেশ ও গৃহ-অনধিকার প্রবেশ: A এর মতো B ও ১৪১ ধারার অবৈধ সমাবেশ এবং ৪৪৫/৪৪৭ ধারার গৃহ-অনধিকার প্রবেশ/গৃহ-ভঙ্গের জন্য দায়ী হবে।
    •             
    • খুনের দায়: B, C, D ও E ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং তাদের "হতবাক হয়ে" যাওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে যে, Y এর মৃত্যু ঘটানোর কোনো সাধারণ অভিপ্রায় (Common Intention) তাদের ছিল না। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল X কে ভয় দেখানো। দণ্ডবিধির ১৪৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, অবৈধ সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সে সমাবেশের প্রত্যেক সদস্য দায়ী হবে। কিন্তু এখানে Y এর মৃত্যু ঘটানো তাদের সাধারণ উদ্দেশ্য ছিল না এবং এই কাজটি তাদের সাধারণ উদ্দেশ্যের একটি সম্ভাব্য পরিণতি হিসেবেও বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম, যেহেতু তারা হতবাক হয়ে যায়। তাই B, A কর্তৃক সংঘটিত খুনের জন্য সরাসরি দায়ী হবে না।
    •         
        
  •     
  •         C, D ও E এর দায়:         

    C, D ও E নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের জন্য দায়ী হবে:

            
                  
    • অবৈধ সমাবেশ ও গৃহ-অনধিকার প্রবেশ: C, D ও E, A ও B এর সাথে অবৈধ সমাবেশের সদস্য ছিল (ধারা ১৪১) এবং পরবর্তীতে গৃহ-অনধিকার প্রবেশে অংশ নেয় (ধারা ৪৪৫/৪৪৭)। অতএব, তারা এই অপরাধগুলোর জন্য দায়ী হবে।
    •             
    • খুনের দায়: B এর ক্ষেত্রে উল্লিখিত যুক্তির অনুরূপভাবে, C, D ও E এরও Y এর মৃত্যু ঘটানোর কোনো সাধারণ অভিপ্রায় ছিল না এবং এটি তাদের অবৈধ সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্যের সম্ভাব্য পরিণতি ছিল না। তাদের হতবাক হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করা এই ধারণাকে সমর্থন করে। তাই তারা A কর্তৃক সংঘটিত খুনের জন্য দায়ী হবে না।
    •         
        

সংক্ষেপে, A খুনের জন্য দায়ী হবে এবং বাকি অপরাধের জন্য A সহ B, C, D ও E সকলেই অবৈধ সমাবেশ, অপকারীতা (B এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত) এবং গৃহ-অনধিকার প্রবেশের জন্য দায়ী হবে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
218

Related Question

View All
110
122
131
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews