উত্তরী' শব্দের অর্থ চাদর বা উত্তরীয়।
প্রশ্নোক্ত পড়ত্তিটির মাধ্যমে বেদনার্ত কবির বসন্তবিমুখতা ও তাঁর জীবনে শীতের রিক্ততার প্রভাব প্রকাশ করেছেন।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি প্রিয়জন হারানোর বেদনায় বিমূঢ়। এজন্য তাঁর কাছে বসন্ত বিশেষ কোনো অর্থ বহন করে না। কবিচন্ত বসন্তের আগমনী বার্তা কবিকে জানালেও কবি তাতে আগ্রহী হন না। বরং কবি তাঁর ভক্তের কাছে শীত ঋতুর রিক্ততায় শূন্য হৃদয়ের বেদনা বোঝানোর চেষ্টা করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের কবি এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি দুজনই বিয়োগ ব্যথায় কাতর হওয়ায় তাঁদের অন্তর্বেদনাকে একই সূত্রে গাঁথা যায়।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে। সাধারণভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্য মানবমনের অফুরন্ত আনন্দের উৎস। কিন্তু কবিমন যদি কোনো কারণে শোকাচ্ছন্ন কিংবা বেদনাময় থাকে তবে বসন্ত তার সমন্ত সৌন্দর্য সত্ত্বেও কবির অন্তরকে স্পর্শ করতে পারে না। এই কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের ছায়াপাত ঘটেছে। কবির কাব্য সাধনার প্রেরণাদানকারীর বিয়োগব্যথায় কবি প্রচন্ড বেদনার্ত। তাই প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ততা। মূলত কবির প্রথম স্বামী ও কাব্য সাধনার প্রেরণাপুরুষের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির অন্তরে যে বিষণ্ণতা জাগে তারই সুস্পষ্ট প্রভাব ও ইঙ্গিত এ কবিতায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের কবিও বিরহ বেদনায় কাতর। কবি ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত ও বিষাদগ্রস্ত। গাছের ফুল যখন ঝরে পড়ে তখন সেই ফুলের মধ্যে থাকে করুণ চাহনি। কবিও ঝরা ফুলের মতো ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। তাই বসন্তের আগমনে তার হৃদয়ে কোনো প্রভাব পড়েনি। লতার বুকে মঞ্জরী আর নতুন করে ফুটবে না বলে কবির হৃদয়ে যে শূন্যতা তা কবিকে বিষাদগ্রস্ত করেছে, ক্লান্ত পরিশ্রান্ত করেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবি এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির অন্তর্বেদনা একই সূত্রে গাঁথা কারণ উভয়ই বিয়োগ ব্যথায় কাতর।
কণ্ঠে আমার নাই সে আগের কথার ভিড়' উক্তিটির' দ্বারা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির কাব্যসাধনার প্রেরণাপুরুষের আকস্মিক মৃতুতে কবির অন্তরে যে বিষণ্ণতা জাগে তারই সুস্পষ্ট প্রভাব বিদ্যমান।
প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ত ও বিষণ্ণ ছবি। কবির মন দুঃখ ভারাক্রান্ত। তার কণ্ঠ নীরব, শীতের করুণ বিদায়কে তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। তাই বসন্ত তার মনে কোনো সাড়া জাগাতে পারছে না। বসন্তের সৌন্দর্য তার কাছে অর্থহীন, মনে কোনো আবেদন জানাতে পারছে না। প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও কবির মন জুড়ে আছে শীতের রিক্ততার ছবি।
উদ্দীপকেও কবির কণ্ঠে ক্লান্তির ছাপ বিদ্যমান। উদ্দীপকের কবিও বিয়োগব্যথায় ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। উদ্দীপকের কবির গানের বুলবুলি ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে যাওয়ার কারণে আগের মতো কবির কণ্ঠেও গান নেই। কবির বিষাদ যন্ত্রণায় প্রকৃতি পরিবেশের নিশ্বাসও উত্তপ্ত। প্রকৃতিতে গানের পাখিও আর নেই, এই জন্য কবির কণ্ঠে আগের মতো কথার ফুলঝুরিও আর নেই।
উদ্দীপক ও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আলোকে বলা যায় যে, কবি হৃদয়ে শীতের রিক্ততা-শূন্যতা বিরাজ করার জন্য কবি উদাসীন। কবিমন শোকাচ্ছন্ন ও বেদনা ভারাতুর থাকার জন্য কবি হৃদয়ে আর কবিতার ছন্দ সৃষ্টি হচ্ছে না। কবিমন আচ্ছন্ন হয়ে আছে রিক্ততার হাহাকারে। তাই বসন্ত এলেও উদাসীন কবির অন্তরজুড়ে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা। তাই বলা যায়, হৃদয়ের ব্যথা, শূন্যতা ও করুণার জন্য কবির কণ্ঠে আর আগের মতো কথার ভিড় নেই।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!