দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?'-প্রশ্নটি কবির।
আলোচ্য পঙক্তিটিতে কবি শীতকে কুয়াশার চাদর পরিহিত মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন।
শীত প্রকৃতিকে দেয় রিস্ততার রূপ। আলোচ্য কবিতাটিতে শীতের এ নিঃস্ব ও রিস্ত রূপকে বসন্তের বিপরীতে স্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও বিরহকাতর কবির মনজুড়ে রয়েছে শীতের রিক্ততার ছবি। শীত যেন সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতোই কুয়াশার চাদর গায়ে পত্রপুষ্পহীন দিগন্তের পথে চলে গেছে। প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটিতে সর্বগ্রাসী শীতের এ নিষ্প্রাণ রূপটিই তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকের ভাববস্তু হিসেবে উঠে এসেছে স্বজন হারানোর বেদনাবিধুর অনুভূতি, যা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির অনুভূতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে কবির প্রিয়জন হারানোর কাতরতা এবং তাঁর ব্যক্তিমনের গভীর দুঃখবোধ। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে কবি এতটাই শোকাচ্ছন্ন হয়েছেন যে, প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবিমনে তা সাড়া জাগাতে পারছে না। কবির মনে প্রিয়জন হারানোর যে রিক্ততা বিরাজমান, তা শীতের রিক্ততার সঙ্গে তুলনীয়।
উদ্দীপকের কাজী ইকবাল সাহেব একজন চিত্রশিল্পী। সাধারণত ছবি আঁকা তাঁর নেশা ও পেশা হলেও এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন। স্ত্রী-পুত্র-কন্যার মৃত্যুশোকে তিনি কাতর। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা তাঁকে এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে, তিনি আর কখনোই ছবি আঁকার রংতুলি হাতে তুলে নেননি। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবিও একইরূপ হৃদয়যাতনার শিকার। প্রিয়জনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্থান তাঁকে বিষণ্ণ করে তুলেছে। আর তাই একদা বসন্ত-বন্দনায় নিমগ্ন কবি আজ বসন্তের আগমন বিষয়ে অবগত নন। অর্থাৎ 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি এবং উদ্দীপকের শিল্পীর মনোযাতনা একই। এদিক থেকে উদ্দীপকের ভাববস্তুর এবং 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার ভাববস্তু সাদৃশ্যপূর্ণ।
তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির মনোবেদনার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ এক বর্ণনা রয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
আলোচ্য কবিতাটিতে প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে। বসন্তের আগমন কবিমনকে শিহরিত করার কথা থাকলেও তাঁর শোক যেন তাঁকে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, প্রিয়জনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তার স্মৃতি কখনো ভোলা যায় না। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মন সর্বদাই কাতর হয়ে থাকে। আবার, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায়ও প্রিয়জন বিয়োগের দিকটি ফুটে উঠেছে। তবে এখানে কবির মনোবেদনা ও প্রকৃতির বিষণ্ণতা একসূত্রে গাঁথা।
বসন্ত-প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য যে, কবিমনে আনন্দের শিহরন জাগাবে এবং তিনি তাকে ভাবে-ছন্দে-সুরে ফুটিয়ে তুলবেন-সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় কবি স্বামীর মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন বলে বসন্ত তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হওয়া সত্ত্বেও কবির অন্তরকে তা স্পর্শ করতে পারেনি। তাই বসন্তের মাঝেও উদাসীন কবির অন্তর জুড়ে থাকে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা। কবির জীবনের দুঃসহ বিষন্নতা প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর মনের সংযোগকে ছিন্ন করেছে। এই যে কবির মনোবেদনার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ রূপ তা উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে রয়েছে বিরহ-বেদনার আবেগময় বহিঃপ্রকাশ, যেখানে প্রকৃতিঘনিষ্ঠতার দিকটি অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটির বিরহ-বেদনার বর্ণনার সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মনোবেদনার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ যে বর্ণনা, তার সাথে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!