ফেসবুক ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং ছবি, তথ্য শেয়ার করা যায়। (www.facebook.com)
ই-গভর্ন্যান্স একটি উত্তম পদ্ধতি হলেও এর নানাবিধ অসুবিধা রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি, আবার এজন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনবলও অপ্রতুল। এছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত হালনাগাদ করার বিদ্যুৎ সমস্যা, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং দুর্নীতিবাজদের প্রভাব এক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। যেখানে' দেশের সিংহভাগ জনগণের ন্যূনতম ICT জ্ঞান এবং ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, সেখানে এটি অপ্রয়োজনীয় অপচয়ও বটে
চিত্র ১-এ সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজসাধ্য কোনো ব্যাপার নয়। এ সময়কার সামগ্রিক চিত্র হলো জনগণ ও সরকার পরস্পর বিচ্ছিন্ন। সরকার জনমতকে আমলে নেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য সহজে পেত না। জনগণের দাবি আদায়ের একমাত্র উপায় ছিল সরকারের নিকট 'পদ্ধতিগত' আবেদন-নিবেদন এবং এতে ব্যর্থ হলে আন্দোলন। আর 'পদ্ধতিগত' এ আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিনির্ভর ও সেকেলে ব্যবস্থা- যা জনগণের দাবিকে যথাসময়ে সরকারের নজরে আনতে ব্যর্থ ছিল। এতে সরকারের সরাসরি জবাবদিহিতার সুযোগ ছিল না বললেই চলে। জনগণ যেহেতু সরকারের কর্মকাণ্ডের পর্যাপ্ত তথ্যথেকে বঞ্চিত ছিল, তাই এতে দুর্নীতির সুযোগ ছিল অনেক বেশি। কেননা রাষ্ট্রীয় কাজে যেখানে যত গোপনীয়তা, সেখানে দুর্নীতির সুযোগ তত বেশি থাকে। চিত্র ১-এ দেখানো প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে জনগণ ও সরকারের যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করছে। এরূপ জনবিচ্ছিন্ন সরকার তুলনামূলকভাবে কম সফলতা লাভ করে।
সুশাসন হলো জনগণের অংশগ্রহণমূলক, সরকারের জবাবদিহিতাভিত্তিক শাসনব্যবস্থা।
সরকার জনগণের সাথে যত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আবদ্ধ থাকবে, সুশাসন তত নিশ্চিত হবে। সরকারের তথ্যপ্রবাহ, জনগণের অবাধ তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং তথ্যের সহজলভ্যতা সুশাসনকে সহজ করে তোলে। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। চিত্র ২-এ দেখানো প্রশাসনিক কাঠামোয় দেখা যায়, এতে জনসাধারণের যাবতীয় দাবি চাহিদা সম্পর্কে সরকার মুহূর্তের মধ্যেই জানতে পারছে। সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জনগণের প্রাধান্য, যা এরূপ ব্যবস্থাতে জনগণ পাচ্ছে। সরকার ও জনগণের মধ্যকার এরূপ কার্যকরী ও ফলপ্রসূ যোগাযোগ ব্যবস্থা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এরূপ ব্যবস্থা জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে। কেননা তথ্যপ্রযুক্তিই বর্তমান বিশ্বের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডের মূল হাতিয়ার। যে জাতি তথ্যপ্রযুক্তিতে যত দক্ষ, সার্বিকভাবেই সে জাতি তত উন্নত। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন খাত যথা- ব্যাংকিং, বাণিজ্য, পরিবহন, যোগাযোগ, বিনোদন সবকিছুতেই এরূপ সরকার সহজেই সফলতা লাভ করতে পারে। আর এরূপ সামগ্রিক পরিবেশ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
Related Question
View All"ই-গভর্ন্যান্স হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার" - সংজ্ঞাটি জাতিসংঘ (২০০৬) প্রদত্ত।
ই-গভর্ন্যান্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণকে তথ্যসেবা দেওয়া। আর এর মাধ্যমে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি কাজের গতিশীলতা আনয়ন, ব্যয় হ্রাস করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ই-গভর্ন্যান্স বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ একটি পদ্ধতি।
সুমনের বাবা অবাক হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মনে হচ্ছে তিনি আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পর্যাপ্ত জানেন না। তিনি হয়তবা বয়োজ্যেষ্ঠ লোক যারা আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তিনি এমন এক ব্যবস্থায় অভ্যস্ত যেখানে সরকারি-বেসরকারি যোগাযোগ সবসময় সাধারণভাবে সম্পন্ন হয়। চিঠি, সরাসরি খবর সরবরাহ কিংবা বড়জোর টেলিফোনের মাধ্যমে তথ্য যোগাযোগে যারা পারদর্শী ছিলেন, তাদের নিকট ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আশ্চর্য হওয়ার মতোই ব্যাপার। আধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জনমত গঠনের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমেই ঘরে বসেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যায়। সুমন এভাবেই সন্ত্রাসীকে ধরে দিতে সহায়তা করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে যার কোনো ধারণা নেই, তিনি এতে আশ্চান্বিত হতেই পারেন। এজন্যই সুমনের বাবা অবাক হয়েছিলেন।
সুমন রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশিক্ষিত ও সচেতন জনগণের কথা উল্লেখ করেছে, যারা বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আধুনিককালে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সরকার ও জনগণের সহঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কিন্তু গণতন্ত্রের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমাজে শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজের সচেতন নাগরিকেরা সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে পত্রপত্রিকা এবং অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নানাবিধ আলোচনা সমালোচনায় অংশ নেয়। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদিকে এখন বলা হয় নাগরিক সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম। এ প্লাটফর্মে জনগণ একত্রিত হয়ে সরকারের প্রশংসা বা সমালোচনা করে সরকারকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়। এরূপ আন্দোলনের দাবি অনেক সময়ই সরকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানতে বাধ্য হয়। আর এ কাজটি করে মূলত দেশের সচেতন ও শিক্ষিত জনসাধারণ। গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ পক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনসাধারণের এ অংশ যত সক্রিয় ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে, গণতন্ত্র তত সংহত হবে। শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতা তত বৃদ্ধি পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত বিচারে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এভাবেই জনসাধারণের সচেতন ও সুশিক্ষিত অংশ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।
ফেসবুক ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং ছবি, তথ্য শেয়ার করা যায়। (www.facebook.com)
ই-গভর্ন্যান্স একটি উত্তম পদ্ধতি হলেও এর নানাবিধ অসুবিধা রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি, আবার এজন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনবলও অপ্রতুল। এছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত হালনাগাদ করার বিদ্যুৎ সমস্যা, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং দুর্নীতিবাজদের প্রভাব এক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। যেখানে' দেশের সিংহভাগ জনগণের ন্যূনতম ICT জ্ঞান এবং ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, সেখানে এটি অপ্রয়োজনীয় অপচয়ও বটে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!