উত্তরঃ
ছকের নিশ্চিত ও অনিশ্চিত ঘটনাকে গাণিতিক যেসব প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
নিশ্চিত ও অনিশ্চিত ঘটনার মধ্যবর্তী স্তর হলো সম্ভাবনা। ফলে সম্ভাবনাকে গাণিতিক কতগুলো প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। আমরা জানি, কোনো ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ নিয়ম আবিষ্কৃত ও প্রমাণিত হলে সে ঘটনা নিশ্চিতভাবেই ঘটে। যেমন- বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরের পাখা বন্ধ থাকবে, বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরবে না- এটি একটি নিশ্চিত ঘটনা। কিন্তু এমন কিছু ঘটনা, আছে যেগুলো ঘটা একেবারে অসম্ভব নয়। আবার অনিশ্চিতও নয়- এ ধরনের ঘটনাই হলো সম্ভাব্য ঘটনা। যেমন- করিম আকাশে মেঘ দেখে বলে, আজ বৃষ্টি হতে পারে। আবার ছন্দা বলে- মেঘ থাকলেও বৃষ্টি নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে এটি একটি সম্ভাব্য ঘটনা। কিন্তু মেঘ হলেই যে বৃষ্টি হবে এটি নিশ্চিত নয়। কাজেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করলে আমরা দেখি সম্ভাবনা একটি মাত্রার ব্যাপার। সুতরাং সম্ভাবনা হলো অসম্ভবের চেয়ে উন্নততর এবং নিশ্চয়তার চেয়ে নিম্নতর।
'সম্ভাবনা তত্ত্বের' ব্যাখ্যা অনুসারে 'সম্ভাবনা' কে সংজ্ঞায়িত করা হয় আংশিক জ্ঞান বা অপূর্ণ জ্ঞান এবং আংশিক অজ্ঞতার ফল হিসেবে। এজন্য গণিতে 'সম্ভাবনা'-র ধারণাকে ব্যক্ত করা হয় এই বলে যে, সম্ভাবনা হলো নিশ্চয়তা ও অসম্ভাবনার মধ্যবর্তী অবস্থা। বিশুদ্ধ গণিত শাস্ত্রে '১'-কে ধরা হয় নিশ্চয়তার প্রতীক এবং '০'-কে ধরা হয় অনিশ্চয়তার প্রতীক। অর্থাৎ কোনো ঘটনার ১০০% হলো নিশ্চিতমূলক অবস্থা এবং ০% হলো অনিশ্চিতমূলক অবস্থা। নিশ্চিত এবং অনিশ্চয়তার মাঝামাঝি বা মধ্যবর্তী অবস্থাকে বলা হয় 'সম্ভাবনা'। এজন্য সম্ভাবনার মাত্রা গণিতে নির্ণীত হয় '১' ও '০' এর ছোট-বড় ভগ্নাংশ দিয়ে। এজন্য খেলার মাঠে টুস করার সময় মুদ্রার সোজা ও উল্টো দিকে ওঠার সম্ভাবনা লটারিতে কারও পুরস্কার বা টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা তাস খেলায় ১৩টি তাসের সম্ভাবনা অর্থাৎ সম্ভাবনার ধারণাগত ব্যাখ্যা থেকে দেখা যায় যে, '১'-কে নিশ্চয়তার প্রতীক হিসেবে স্বীকার করা হয়, তখন '১' হলো 'সম্ভাবনা'-র ঊর্ধ্বসীমা বা উচ্চসীমা; আবার '০'-কে যখন অসম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে স্বীকার করা হয় তখন '০' হলো 'সম্ভাবনা'-র নিম্নসীমা। সম্ভাবনার ঊর্ধ্বসীমার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে সম্ভাবনার প্রাকসিদ্ধ বা গাণিতিক তত্ত্ব এবং নিম্নসীমার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে সম্ভাবনার আপেক্ষিক পৌনঃপুনিকতার তত্ত্ব।
'সম্ভাবনার ধারণা' সম্পর্কে সার্বিক আলোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, সম্ভাবনার লৌকিক ও বৈজ্ঞানিক অর্থের ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে 'সম্ভাবনা'-কে দ্ব্যর্থক করে তোলা হয়েছে। কোনো একটি বিষয় অকল্পনীয় না হলে লোকে তাকে সম্ভাব্য বা সম্ভাবনামূলক ঘটনা বলে মনে করে। এ থেকে বলা যায়, যা কিছু অসম্ভম্ব তাই সম্ভাবনামূলক ঘটনা। অন্যদিকে যখন বলা হয়, একটি বিষয় অসম্ভব নয়, আবার নিশ্চিতও নয়, এক্ষেত্রে 'সম্ভাবনা' অসম্ভব্ধ ও নিশ্চিত অবস্থার মধ্যবর্তী অবস্থা নির্দেশ করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, সম্ভাবনার মাত্রাকে ভগ্নাংশ দ্বারা, সম্ভাবনার প্রকৃতিকে আনুপাতিক হারে, গাণিতিক তত্ত্ব দ্বারা, আপেক্ষিক পৌণঃপুনিকতা দিয়ে প্রকাশ করা হয়। সুতরাং সম্ভাবনা হলো কোনো বিষয় বা ঘটনার মাত্রা বা পরিমাণিগত দিক। সম্ভাবনার মধ্যে আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার প্রকাশ ঘটে বলে সম্ভাবনাকে গাণিতিক প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।