যে সকল দ্রব্যসামগ্রী মানুষের শ্রম দ্বারা উৎপাদিত এবং যা বর্তমানে ভোগের জন্য ব্যবহৃত না হয়ে অধিকতর উৎপাদনের জন্য পুনরায় উৎপাদনকার্যে ব্যবহৃত হয় তাকেই অর্থনীতিতে মূলধন বলে।
মাটি, মাটির উর্বরাশক্তি, আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, জলবায়ু, তাপ, পানি, বাতাস, সূর্যের আলো, খনিজ সম্পদ, বনজ সম্পদ, মৎস্যক্ষেত্র, নদনদী ইত্যাদি যা প্রকৃতি অকাতরে দান করেছে তাই হলো ভূমি। ভূমি প্রকৃতির দান, আদিম ও অক্ষয়। ভূমি চিরন্তন অস্তিত্বসম্পন্ন। অবশ্য আবাদি জমির উর্বরতাশক্তি হ্রাস পেতে পারে। যাকে ভূমি ক্ষয় বলা হলেও তা ধ্বংস হয় না। প্রকৃতির অন্যান্য দান যেমন- চন্দ্র, সূর্য, বাতাস ইত্যাদির ন্যায় ভূমি অবিনশ্বর। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় এগুলো একদিন ধ্বংস হলেও আপাতদৃষ্টিতে আমরা বলতে পারি ভূমি অবিনশ্বর
উদ্দীপকে জনাব জামিল আনুভূমিক শ্রম গতিশীলতা সৃষ্টি করেছেন। একজন কর্মী যখন একই পেশা ও পদবিতে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজে যোগদান করে, তখন তাকে শ্রমের আনুভূমিক গতিশীলতা বলে।
উদ্দীপকে জনাব জামিল 'জেক্স-ফ্যাশন' নামক একটি গার্মেন্টসে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত আছেন। দীর্ঘ তিন বছর চাকরি করার পর গার্মেন্টস শিল্পে সুপরিচিত 'হক ফ্যাশন' এ একই পদে যোগদান করেন। এখানে লক্ষণীয়, জনাব জামিল একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সমজাতীয় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে একই পেশা ও পদে যোগদান করেন যা শ্রমের আনুভূমিক গতিশীলতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং, জনাব জামিল আনুভূমিক শ্রম গতিশীলতা সৃষ্টি করেছেন।
উদ্দীপকে 'হক ফ্যাশন' শ্রম দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণকে প্রাধান্য দিয়েছে, যা শ্রম দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে হাতে-কলমে শিক্ষা বা ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধির ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ বলে। প্রশিক্ষণ মানুষকে কর্মদক্ষতার শীর্ষে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। বিভিন্ন উপায়ে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। তার মধ্যে হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান অন্যতম একটি উপায়।
উদ্দীপকের 'হক ফ্যাশন' গার্মেন্টস শিল্পে সুপরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটি বিদেশে তাদের পোশাক রপ্তানি করে অত্যন্ত সুনাম অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের দক্ষতার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন এবং কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সময় কর্মীদের হাতে-কলমে শিক্ষার উদ্যোগ নিয়ে থাকে। হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মীদের ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধি করা হয়; যাকে প্রশিক্ষণ বলে গণ্য করা যায়। এ জ্ঞানের মাধ্যমে কর্মীরা তাদের কাজ সম্পর্কে জানতে পারে এবং সে অনুযায়ী নির্ভুলভাবে কাজ করার ফলে শ্রমিক-
কর্মীদের দক্ষতাও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত 'হক ফ্যাশন' তাদের শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে যে উপাদানটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন তা প্রশিক্ষণ নামে বিবেচিত। শ্রম দক্ষতা বৃদ্ধিতে এ প্রশিক্ষণ যথেষ্ট বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allকদ্রব্যের গুণগতমান অক্ষুণ্ণ রেখে কোনো সময়ে একজন শ্রমিকের অধিক উৎপাদন করার সক্ষমতাকে শ্রমের দক্ষতা বলে।
না, সকল অর্থই মূলধন নয়।
যে বস্তু লেনদেন সম্পাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে অর্থ বলে।
অপরদিকে যে সম্পদ কোনো আয় সৃষ্টি করে অথবা উপার্জনে সহায়তা করে তাকে মূলধন বলে। অর্থ মূলধন কিনা তা নির্ভর করে এর ব্যবহারের ওপর। অর্থকে যদি আয় উপার্জনের কাজে ব্যবহার করা হয় তবে অর্থকে মূলধন বলা যায়। কিন্তু অর্থকে যদি আয় উপার্জন ছাড়া অন্য কোনো কাজে যেমন- পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করা, কাউকে দান করা ইত্যাদি কাজে ব্যয় করা হয় তবে অর্থকে মূলধন বলা যাবে না।
আলম সাহেবের কাজটি উৎপাদনের সংগঠন উপকরণের অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য উৎপাদনের উপকরণগুলোকে (যেমন- ভূমি, শ্রম ও মূলধন) একত্রিত করে এদের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করার কার্যকে সংগঠন বলে। সংগঠন কাঠামো, এমন হতে হবে যাতে প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন হয়।
উদ্দীপকে জনাব আলমের একটি ডালের মিল আছে। তিনি দেশের | বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহকারীর মাধ্যমে ডাল সংগ্রহ করে নিজের । মিলে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদন ও বিক্রয় করেন। কয়েক ! বছরের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও বিক্রয় বৃদ্ধি পায়। ফলে তিনি উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অধিক উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মেশিন ক্রয় করেন। এর পাশাপাশি তিনি কিছু শ্রমিকও তার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেন। তার এ কাজ উৎপাদনের উপকরণ সংগঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, আলম সাহেবের কাজটি উৎপাদনের সংগঠন উপকরণের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে জনাব আলমের শ্রম হলো মানসিক এবং কর্মীদের শ্রম হলো শারীরিক শ্রম। তাই শ্রম দিলেও আলমের কাজ ও কর্মীদের কাজ এক নয়- উক্তিটি যৌক্তিক।
অর্থ উপার্জন অথবা কোনো সুবিধা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি তার মানসিক প্রচেষ্টাকে কোনো কাজে নিয়োজিত করলে তাকে মানসিক শ্রম বলে। যেমন, একজন ব্যবস্থাপকের কাজ মানসিক শ্রম অর্থ উপার্জন অথবা কোনো সুবিধাপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি যে দৈহিক বা কায়িক শ্রম প্রদান করে তাকে শারীরিক শ্রম বলে। যেমন, একজন কুলির কাজ শারীরিক শ্রম।
উদ্দীপকে জনাব আলমের একটি ডালের মিল আছে। তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহকারীর মাধ্যমে ডাল সংগ্রহ করে নিজের | মিলে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উৎপাদন ও বিক্রয় করেন। কয়েক বছরের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও বিক্রয় বৃদ্ধি পায় ফলে তিনি • উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অধিক উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মেশিন ক্রয় করেন। এর পাশাপাশি তিনি কিছু শ্রমিকও তার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেন
শ্রম দুই প্রকার যথা: শারীরিক শ্রম এবং মানসিক শ্রম। প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের কাজগুলো মানসিক শ্রমের অন্তর্ভুক্ত। কারণ তারা
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিন্তা-ভাবনা করে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আর এই চিন্তার বিষয়টি মানসিক শ্রম। অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মীদের কাজ শারীরিক শ্রমের অন্তর্ভুক্ত। কারণ শ্রমিক-কর্মীরাই প্রতিষ্ঠানের কাজ বাস্তবায়নের সাথে জড়িত। আর এই কাজ বাস্তবায়ন - সম্পর্কিত বিষয়টি হচ্ছে শারীরিক শ্রম। তাই উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব
ভূমি হলো প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ যা উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়।
উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের কায়িক ও মানসিক পরিশ্রমকে শ্রম বলে।
শ্রম একটি পচনশীল উপাদান। একে জমিয়ে বা সঞ্চয় করে রাখা যায় না। কোনো শ্রমিক যদি কোনো একদিন কাজ না করে তবে উক্ত সময়ের শ্রমকে সে সঞ্চয় করে পরে তা ব্যবহার করতে পারবে না; বরং তার শ্রম সময়ের সাথে সাথেই নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাই বলা যায়, শ্রম একটি পচনশীল পণ্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!