নির্দিষ্ট বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয় তাকে পানির স্ফুটনাঙ্ক বলে।
জলজ উদ্ভিদসমূহ সারা দেহের মাধ্যমে পানিসহ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান, বিশেষ করে খনিজ লবণ সংগ্রহ করে। এভাবে জলজ উদ্ভিদের সমগ্র দেহ পানির সংস্পর্শে থাকায় কান্ড এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়, যা পানির স্রোত ও জলজ প্রাণীর চলাচলের সঙ্গে মানানসই। আর এ কারণেই জলজ উদ্ভিদ পানির স্রোতে ভেঙ্গে যায় না।
জমিলা খাতুন পুকুরের পানিকে পরিস্রাবণ ও স্ফুটন প্রক্রিয়ায় রান্নার উপযোগী করেন।
পরিস্রাবণ হলো তরল ও কঠিন পদার্থের মিশ্রণ হতে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানিতে বিদ্যমান
অদ্রবণীয় ধূলা-বালির কণা হতে শুরু করে নানা রকম ময়লা আবর্জনার কণা দূর করা হয়। এক্ষেত্রে তিনি বালির স্তর বা ক্ষুদ্রভাবে তৈরি কাপড়ের মধ্যে দিয়ে পানিকে প্রবাহিত করে। এতে করে পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলো বালির স্তরে আটকে যায়। এভাবে প্রাপ্ত ধূলাবালি মুক্ত পানিকে আরও বিশুদ্ধকরণের জন্য তিনি স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ধরে পানিকে ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করেন। এভাবেই জমিলা খাতুন পুকুরের পানিকে রান্নার জন্য উপযোগী করেন।
রতন সাহেব তার দুই কারখানার কাজে ব্যবহার করা পানি একইভাবে জীবাণুমুক্ত ও বিশুদ্ধ করবেন না।
রতন সাহেবের বোতলজাত কারখানার ও ঔষধ তৈরির কারখানায় প্রয়োজনীয় ও ব্যবহৃত পানির গুণগত মান একই না হওয়ায়, দুই কারখানায় ভিন্ন গুণগত মানের পানির প্রয়োজন। তাই তিনি তার
বোতলজাত পানির কারখানায় পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য ক্লোরিনেশন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এই প্রক্রিয়ায় পানিকে জীবাণুমুক্ত ও বিশুদ্ধ করতে ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ওজোন গ্যাস বা অতিবেগুনি রশ্মি প্রয়োগ করে রোগজীবাণু ধ্বংস করা হয়। আবার ঔষধ তৈরির কারখানায় অতিরিক্ত বিশুদ্ধ পানি প্রয়োজন হয়। তাই তিনি এক্ষেত্রে পাতন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এই প্রক্রিয়ায় পানিকে বাষ্পে পরিণত করে প্রাপ্ত বাষ্পকে ঘনীভূত করে অতি বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করেন, যা ঔষধ তৈরির কারখানায় বিভিন্ন ঔষধ প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধকৃত পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
উপরিউক্ত আলোচনা হতে এটা স্পষ্ট যে, রতন সাহেব তার দুই কারখানার ব্যবহার করা পানি একইভাবে জীবাণুমুক্ত ও বিশুদ্ধ করেননি।
Related Question
View Allপৃথিবীতে পানি একই প্রক্রিয়ায় ঘুরে ফিরে ব্যবহার হয়। এটি সূর্যের তাপে বাষ্পীভবন, মেঘে রূপান্তর ও বৃষ্টির মাধ্যমে আবার ভূমি ও সমুদ্রে ফিরে আসে। একে পানির পুনরাবর্তন বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!