গৌতম বুদ্ধের অতীত জন্মের কাহিনিগুলো জাতক নামে পরিচিত। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে জাতকের গল্প ও উপদেশগুলোর প্রভাব অপরিসীম। জাতকের গল্পের শেষে যে উপদেশ থাকে, তা থেকে আমরা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জন করতে পারি। এছাড়া জাতক পাঠে প্রাচীন ভারতের মানুষের জীবনযাত্রা, ধর্ম, সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, ভূগোল, পরিবেশ, পুরাতত্ত্ব প্রভৃতি সম্পর্কেও জানা যায়। তাই জাতক পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। এ অধ্যায়ে আমরা জাতক সম্পর্কে পড়ব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- জাতক সম্পর্কে বর্ণনা দিতে পারব;
- জাতক কাহিনী বর্ণনা করতে পারব;
- জাতকের উপদেশ ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allএকদা হিমালয়ের পাদদেশে অনাবৃষ্টিতে সব জল শুকিয়ে যায়। তৃষ্ণায় পশুপাখি সব কাতর হয়ে পড়লে ভিক্ষুর মায়া হলো। তিনি গাছের ডাল দিয়ে ডোঙ্গা তৈরি করে তা জলপূর্ণ করে দিলেন। বনের পশুপাখিরা সেই ডোঙ্গার জল খেয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। এভাবে তিনি তৃষ্ণার্ত প্রাণীদের জন্য জলপানের ব্যবস্থা করেন।
শশক তার বন্ধুদের 'দান করা উচিত', 'উপোসথ পালন করা উচিত', 'শীল রক্ষা করা উচিত' এরূপ ধর্মোপদেশ দিতেন।
মশকটি বৃদ্ধের মাথায় হুল ফুটিয়ে রক্ত পান করছিল।
জাতক শব্দটি 'জাত' শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। 'জাত' শব্দের 'অর্থ হলো উৎপন্ন, উদ্ভূত, জন্ম ইত্যাদি। সুতরাং জাতক শব্দের অর্থ যিনি উৎপন্ন বা জন্ম লাভ করেনে। বৃদ্ধ যে বিভিন্ন জন্ম অতিক্রান্তে মাধ্যমে বুদ্ধ হয়ে ওঠেন সেই কাহিনিগুলোকে বলা হয় জাতক।
জন্ম-জন্মান্তরে গৌতম বুদ্ধ নানা কূলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মানবকুলে রাজা, মন্ত্রী, ব্রাহ্মণ, বণিক, দেবকুলসহ পশুপাখি হয়ে জন্ম নিয়েছিলেন এবং প্রতিটি জন্মে বোধিসত্ত্ব নামে অভিহিত হন। আর এই বোধিসত্ত্বরূপে গৌতম বুদ্ধের জীবনবৃত্তান্ত ও ঘটনাবলিকে 'জাতক কাহিনি' বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!