যুক্তিবিদ্যার জনক গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল।
কলা শব্দটি দক্ষতা, পারদর্শিতা ও কর্মপটুতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন : নৃত্যের জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও অনেকে এ পেশায় দক্ষ হতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা বা প্রয়োগ কুশলতাকে কলা বলা হয়। কলা বলতে বস্তু সম্পর্কিত জ্ঞানের বিধিবদ্ধ ব্যবহার বা প্রয়োগসম্পর্কিত ধারাবাহিক জ্ঞানকেও বোঝানো হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত যথার্থ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমটি হলো যুক্তিবিদ্যা। কেননা যুক্তিবিদ্যা হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান। চিন্তা সাধারণত তিন ধরনের হয়- ১. স্মৃতিমূলক, ২. কল্পনামূলক, ৩. অনুমানমূলক। স্মৃতিমূলক চিন্তা অতীতের সাথে সম্পর্কিত, আর কল্পনামূলক চিন্তা ভবিষ্যতের সাথে সম্পর্কিত। অন্যদিকে অনুমানমূলক চিন্তা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এ তিনটি কালকেই সম্পর্কিত করে। যেমন: ধোঁয়া দেখে। আমরা সেখানে আগুনের অস্তিত্ত্ব অনুমান করি। এ অনুসারে যৌক্তিকতা হচ্ছে আগুন ও ধোঁয়ার সর্বদা একই স্থানে থাকার পূর্বজ্ঞান, যা আমরা সংগ্রহ করেছি অতীত থেকে। বর্তমানে এর একটি দেখে অপরটির অস্তিত্ব অনুমান করছি এবং ভবিষ্যতেও এরূপ অনুমান কার্যকর হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ জন্যই অনুমানকে বলা হয় জ্ঞাত বিষয়ের ভিত্তিতে অজ্ঞাত বিষয়ে উত্তরণের মানসিক প্রক্রিয়া, যেখানে অতীতের জানা বিষয় থেকে ভষ্যিতের অজানা বিষয় সম্পর্কে আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারি। বস্তুত চিন্তার বিজ্ঞান হিসাবে যুক্তিবিদ্যায় এ অনুমানমূলক চিন্তাই ব্যবহৃত হয়। আর অনুমানের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে জ্ঞান অর্জন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জামানের পছন্দের বিষয়টি হলো যুক্তিবিদ্যা এবং যুক্তিবিদ্যার জনক হচ্ছেন মহান গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল। কেননা একটি পৃথক শাস্ত্র হিসাবে যুক্তিবিদ্যাকে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা করেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলই। তিনিই মূলত যুক্তিবিদ্যার একটি সুস্পষ্ট, সুসংহত ও পরিপূর্ণ রূপরেখা নির্দেশ করেন। আর এ কারণে তাকে যুক্তিবিদ্যার জনক হিসাবে অভিহিত করা হয়। এরিস্টটলের যুক্তিবিষয়ক গ্রন্থাবলির সংকলনের নাম Organon, যার অর্থ উপায় বা যন্ত্র। আর এই উপায় বা যন্ত্র অর্থেই যুক্তিবিদ্যাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। অর্থাৎ এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যাকে জ্ঞানের যেকোনো ক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপায় বা যন্ত্র বলে মনে করতেন। তার মতে, জ্ঞানের পদ্ধতি নির্দেশই যুক্তিবিদ্যার কাজ। এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যাকে প্রকৃত জ্ঞান আহরণের গুরুত্বপূর্ণ বাহন বলে বর্ণনা করেন। কারণ তার মতে, যৌক্তিক রীতি-নীতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকলে প্রাথমিক দর্শনচর্চা সম্ভব নয়। এদিক থেকে যুক্তিবিদ্যাকে বলা যায় প্রারম্ভিক বিজ্ঞান। যেকোনো জ্ঞানের অনুশীলনে ব্যবহৃত পদ্ধতির সম্প্রসারণই এ শাস্ত্রের কাজ। সুতরাং একে যেকোনো জ্ঞানানুসন্ধানের পূর্বাবস্থা বলাই সংগত। এরিস্টটলের মতে, যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে চিন্তার বিজ্ঞান। কাজেই এটি অন্যান্য প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অনুরূপ নয় বরং তা সকল বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অপরিহার্য প্রাথমিক স্তর।
Related Question
View Allভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে যুক্তিবিদ্যা বলে।
অনুমান হলো জানা বিষয় থেকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অজানা বিষয়কে জানা। সুশৃঙ্খল চিন্তার মাধ্যমে অজানাকে জানা যায়। আর যুক্তিবিদ্যা হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান। সুতরাং যুক্তিবিদ্যা অনুমাননির্ভর।
উদ্দীপকের ১ নং দৃশ্যকল্পে যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান এই কথাটি ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিকটি এখানে লক্ষণীয়। বস্তুগত বা আকারগতভাবে গবেষণাযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধ জ্ঞানার্জন হলো বিজ্ঞান। আর ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান হলো যুক্তিবিদ্যা। বিজ্ঞান যেমন সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে তেমনি যুক্তিবিদ্যা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বিজ্ঞানের মতো বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করতে না পারলেও যুক্তিবিদ্যা আকারগতভাবে বিষয়বস্তুর আলোচনা যথার্থভাবে করে থাকে। সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধভাবে আলোচনা করে নিয়মনীতি পণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের সূত্র প্রবর্তনের মতো। সুতরাং বলা যায় যে আফতাব উন্নতজাতের ধান উৎপাদনের জন্য বিদেশে যান এবং এসম্পর্কীয় পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হন। তেমনি যুক্তিবিদ্যা অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি লাভের জন্য বিভিন্ন নীতি প্রণয়নের চেষ্টা করে যা বিজ্ঞানের মতোই সুশৃঙ্খল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প ১ ও ২ এর সমন্বয়ে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করতে পারি। দৃশ্যকল্প-১ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যাকে একটি বিজ্ঞান বলা যায়। কারণ চিন্তা সম্পর্কিত কতকগুলো নীতি ও নিয়মের নির্দেশ প্রদান করাই হলো যুক্তিবিদ্যার কাজ। এটাকে তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বলা যায়। অর্থাৎ বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যা নিজস্ব বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করার জন্য কিছু নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে। এই নিয়মনীতি অনুসরণ করে যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞানদান করে। উদ্দীপকে আফতাব উচ্চফলনশীল ধান উৎপাদনের পদ্ধতি জানার জন্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তেমনি যুক্তিবিদগণ অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি পৃথক করার বিভিন্ন নিয়ম প্রণয়ন করেন। আবার দৃশ্যকল্প-২ অনুযায়ী বলতে পারি যে, যুক্তিবিদ্যা কলার সাথে সম্পর্কযুক্ত। কলাবিদ্যা বিভিন্ন পদ্ধতি ও নিয়মকে বাস্তবে প্রয়োগ করার কথা বলে। আক্কাস যেমন তার চিকিৎসা শিক্ষাকে বাস্তবে প্রয়োগ করে সফলভাবে অস্ত্রোপচার করেন, তেমনি যুক্তিবিদ্যা বাস্তবক্ষেত্রে তার নিয়মাবলিকে প্রয়োগ করে সত্যকে অর্জন করে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, দৃশ্যকল্প-১ ও ২ অনুযায়ী যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় করা যায়।
চিন্তার ভাষায় প্রকাশিত রূপকে যুক্তি বলে।
আদিকাল থেকেই যুক্তির ধারণাটি বিদ্যমান। ভাষায় প্রকাশিত চিন্তাই হলো যুক্তি। মানুষ সামাজিক জীব হিসাবে আদিকাল থেকেই নিজের মতের পক্ষে যুক্তি দেখায়। যেমন-
সকল মানুষ মরণশীল
সক্রেটিস একজন মানুষ
সুতরাং সক্রেটিস মরণশীল।
এটি একটি যুক্তি। এই যুক্তিটি বৈধ কিনা তা নির্ধারণ করাই মূলত যুক্তিবিদ্যার কাজ। যুক্তি হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!