ডাক্তার দীপক তার ছেলেকে বলেন, মানুষের আয়ু, কর্মশক্তি, দৈহিক ও মানসিক স্পৃহা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে খাদ্য ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের কারণে।
খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্যের অপব্যবহার আমাদের নিত্য ব্যবহার্য খাদ্যদ্রব্যকে অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক করছে। এসব রাসায়নিক দ্রব্য মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রমে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি করে ও বিভিন্ন অঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলে।
রোগে আক্রান্ত হয়। আমরা যেসব শাকসবজি ও ফলমূল খাচ্ছি সেগুলো সতেজ রাখতে ও পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড মেশানো হয়। এটি গ্রহণে স্মরণশক্তি কমে যায়, লিভার, কিডনি নষ্ট হয়ে যায়, চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ছাড়াও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেরূপ ফরমালিনও এমন একটি ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য যা চোখ, নাক, গলা ও শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়ার জন্য দায়ী। দীর্ঘদিন ফরমালিন গ্রহণ করার ফলে মানুষের অকালমৃত্যু ঘটতে পারে। হাইড্রোসালফাইড মানবদেহের রক্তের শ্বেতকণিকা ও হিমোগ্লোবিনের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। রেস্টুরেন্টে ব্যবহৃত মনোসোডিয়াম প্লুটামেট বা টেস্টিং সল্ট স্নায়ুতন্ত্রের রোগও বিষণ্ণতা সৃষ্টি করে। এসব ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্য খেয়ে হাজার হাজার মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের আয়ু কমে যাচ্ছে, কর্মশক্তি হ্রাস পাচ্ছে।
তাই ডাঃ দীপকের মন্তব্যটি আমি যথার্থ বলে মনে করি।
Related Question
View Allসিগেলা ব্যাকটেরিয়া ব্যাসিলারি ডিসেন্ট্রি নামক রোগের সৃষ্টি করে।
কাঁচা মাংস, ডিম, দুধ, মাছ ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্যগুলো দ্বারা তৈরি খাদ্যে স্যালমোনেলোসিস রোগের জীবাণু বিস্তার লাভ করে। স্যালমোনেলোসিস প্রতিরোধের উপায় হলো-
i. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে খাদ্যদ্রব্য নাড়াচাড়া করা।
ii. যথাযথ পদ্ধতিতে খাদ্যদ্রব্য রান্না ও সংরক্ষণ করা।
সেমিনারে অংশগ্রহণ করে শরিফ খাদ্যে ভেজালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছিল।
খাদ্যে ভেজাল আমাদের জাতীয় সমস্যা। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। বর্তমানে আমাদের দেশে ভেজাল খাদ্যের ব্যাপকতা মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং জনগণের স্বাস্থ্য সমস্যাও প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।
বেশি দামের খাদ্যপণ্যের সাথে কম দামের খাদ্যপণ্য অথবা খাবারের সাথে খাবার অযোগ্য বস্তুর মিশ্রণই হলো খাদ্যে ভেজাল। বিভিন্ন গুঁড়া মসলায় ব্যবহৃত ভেজালের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ডায়রিয়া, পেপটিক আলসার, লিভারের ক্ষতি, কিডনির অসুখ ইত্যাদি। দুধ ও ভোজ্য তেলের ভেজাল শিশুদের কিডনি, লিভার, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে, গর্ভস্থ শিশুর বিকলাঙ্গতা ঘটায়। মেয়াদোত্তীর্ণ, পচা ও কৃত্রিম উপাদান সমৃদ্ধ বেকারি পণ্য পেটের পীড়া, বদহজম, কিডনি, পাকস্থলি ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা, চর্মরোগ ও অ্যালার্জির কারণ। এছাড়াও দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়া, জন্ডিস ও লিভারের অসুখ। এভাবে ভেজাল খাবার সাধারণ লোকের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে, কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
সেমিনারের আলোচিত বিষয় ছিল খাদ্যে ভেজালের ক্ষতিকর দিক। ভেজাল খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাবে সৃষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা আমাদের জাতীয় সমস্যার অন্যতম। উদ্দেশ্যমূলকভাবে উৎকৃষ্ট খাদ্যসামগ্রীর সাথে নিম্নমানের সস্তা, খাওয়ার অযোগ্য অথবা বিষাক্ত পদার্থের মিশ্রণকে ভেজাল বলে।
এই সমস্যা সমাধানে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতীব জরুরি। যেমন-
i. খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে পত্রপত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশনে প্রচারণা চালাতে হবে।
ii. দেশের সকল পর্যায়ে সকল খাদ্য বিপণিবিতানে ও বাজারে ভেজাল শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করা, যাতে ক্রেতা পণ্য যাচাই করে নিতে পারে।
iii. খাদ্যপণ্য ক্রয়ে সচেতন হতে হবে। যেমন- বেশি সাদা চিনি, সেমাই, মুড়ি কেনা পরিহার করা উচিত।
iv. খাদ্যে ভেজাল ও ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও ভেজাল প্রদানকারীর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
v. এছাড়া ফল খাওয়ার পূর্বে ৩০ মিনিট লবণ মিশ্রিত বিশুদ্ধ পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে অথবা লেবুর রস ও গরম পানিতে ফল ধৌত করতে হবে।
এসকল পদক্ষেপ ভেজাল সমস্যা দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
দুর্বল স্যানিটেশনের জন্য প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার শিশু ডায়রিয়ায় মারা যায়।
ইউনিয়ন পরিষদ হতে প্রাপ্ত স্যানিটেশন সেবাগুলো হলো- স্যানিটারি পায়খানা তৈরি ও ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহ প্রদান ও স্থাপনে সহায়তা প্রদান। খাবারের পানির উৎসগুলো দূষণমুক্ত করা, দূষিত পানি ব্যবহার না করার জন্য জনগণকে সচেতন করা। খাবার পানির জন্য সংরক্ষিত স্থানে গোসল, কাপড় কাচা, গবাদি পশুর গোসল ও পাট পচানো নিষিদ্ধ করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!