ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া সাধিত হলে 'ই-গভর্ন্যান্স'-এর উদ্ভব ঘটে। এ মিথস্ক্রিয়া ঘটে সরকার ও জনগণের মধ্যে, সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে, সরকার ও চাকরিজীবীদের মধ্যে এবং এক সরকারের সাথে অন্য সরকারের মধ্যে। 

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

ইলেকট্রনিক গভর্ন্যান্সের সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে ই-গভর্ন্যান্স। ই-গভর্ন্যান্স বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যার মাধ্যমে সরকারি সেবা ও প্রশাসনিক তথ্যসমূহ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

উত্তরঃ

ডিজিটাল পদ্ধতি বলতে এমন পদ্ধতিকে বোঝায় যেখানে বিভিন্ন কাজকর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক কম্পিউটারাইজড পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্যসমূহকে বাইনারি পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।

উত্তরঃ

বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার যতগুলো পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে তার মধ্য সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হচ্ছে ই-গভর্ন্যান্স। ই-গভর্ন্যান্সে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। কেননা ই-গভর্ন্যান্সে জনগণ, সুশীল সমাজ, সেবা এবং রাষ্ট্রের সেবা, প্রশাসন ও গণতন্ত্রের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তিগত যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। ই-গভর্ন্যান্সে প্রশাসনিক কাজকর্মগুলো হয় মূলত প্রযুক্তিনির্ভর। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি অনলাইনে ও কম্পিউটারে সংরক্ষিত থাকে। ই-গভর্ন্যান্সে জনগণ রাষ্ট্রীয় আইন ও নিয়মনীতিগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই জানতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি ও পরিচালনা পদ্ধতিও ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। ই-গভর্ন্যান্সে সেবাসমূহ জনগণের কাছে পৌঁছায় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে। এতে সময় ও শ্রম হ্রাস পায়। ফলে কর্মকর্তা বা কর্মচারিগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারেএবং অনেক উন্নয়নমূলক কাজে মনোনিবেশ করতে পারে। ই-গভর্ন্যান্সে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।

উত্তরঃ

ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। 

সবসময় অফিসগুলোতে ই-মেইলকে ইলেকট্রনিক বিশ্বের ক্রমবর্ধমান চাহিদা অনুযায়ী তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও একে বিবেচনা করা হয় না। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের জন্য এবং ইলেকট্রনিক ক্ষেত্রে বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকরী আইনের অভাব রয়েছে। ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল দরকার। কিন্তু সবসময় দক্ষ জনবল পাওয়া যায় না। তাছাড়া যারা প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞ তারা ই-গভর্ন্যান্সের সুবিধা পায় না। ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে লোডশেডিং। লোডশেডিংয়ের কারণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করা সম্ভব হয় না এবং কম খরচে কম্পিউটার ব্যবহারের বিকল্প উৎসগুলোও। সহজলভ্য নয়। ই-গভর্ন্যান্সে সেবা ও তথ্যসমূহ জনপণের কাছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বহন করা স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া দেশের স্থানীয় সফ্টওয়্যার কোম্পানি এখন পর্যন্ত তেমন উন্নত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি এবং সরকারের বড় ধরনের প্রকল্পে তারা দক্ষতা প্রয়োগ করতে পারে না। এসব কারণে ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়ন করা এবং ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।

113

Related Question

View All
উত্তরঃ

"ই-গভর্ন্যান্স হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার" - সংজ্ঞাটি জাতিসংঘ (২০০৬) প্রদত্ত।

334
উত্তরঃ

ই-গভর্ন্যান্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণকে তথ্যসেবা দেওয়া। আর এর মাধ্যমে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি কাজের গতিশীলতা আনয়ন, ব্যয় হ্রাস করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ই-গভর্ন্যান্স বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ একটি পদ্ধতি।

257
উত্তরঃ

সুমনের বাবা অবাক হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মনে হচ্ছে তিনি আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পর্যাপ্ত জানেন না। তিনি হয়তবা বয়োজ্যেষ্ঠ লোক যারা আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তিনি এমন এক ব্যবস্থায় অভ্যস্ত যেখানে সরকারি-বেসরকারি যোগাযোগ সবসময় সাধারণভাবে সম্পন্ন হয়। চিঠি, সরাসরি খবর সরবরাহ কিংবা বড়জোর টেলিফোনের মাধ্যমে তথ্য যোগাযোগে যারা পারদর্শী ছিলেন, তাদের নিকট ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আশ্চর্য হওয়ার মতোই ব্যাপার। আধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জনমত গঠনের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমেই ঘরে বসেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যায়। সুমন এভাবেই সন্ত্রাসীকে ধরে দিতে সহায়তা করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে যার কোনো ধারণা নেই, তিনি এতে আশ্চান্বিত হতেই পারেন। এজন্যই সুমনের বাবা অবাক হয়েছিলেন।

228
উত্তরঃ

সুমন রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশিক্ষিত ও সচেতন জনগণের কথা উল্লেখ করেছে, যারা বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আধুনিককালে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সরকার ও জনগণের সহঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কিন্তু গণতন্ত্রের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমাজে শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজের সচেতন নাগরিকেরা সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে পত্রপত্রিকা এবং অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নানাবিধ আলোচনা সমালোচনায় অংশ নেয়। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদিকে এখন বলা হয় নাগরিক সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম। এ প্লাটফর্মে জনগণ একত্রিত হয়ে সরকারের প্রশংসা বা সমালোচনা করে সরকারকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়। এরূপ আন্দোলনের দাবি অনেক সময়ই সরকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানতে বাধ্য হয়। আর এ কাজটি করে মূলত দেশের সচেতন ও শিক্ষিত জনসাধারণ। গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ পক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনসাধারণের এ অংশ যত সক্রিয় ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে, গণতন্ত্র তত সংহত হবে। শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতা তত বৃদ্ধি পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত বিচারে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এভাবেই জনসাধারণের সচেতন ও সুশিক্ষিত অংশ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।

190
উত্তরঃ

ফেসবুক ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং ছবি, তথ্য শেয়ার করা যায়। (www.facebook.com)

354
উত্তরঃ

ই-গভর্ন্যান্স একটি উত্তম পদ্ধতি হলেও এর নানাবিধ অসুবিধা রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি, আবার এজন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনবলও অপ্রতুল। এছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত হালনাগাদ করার বিদ্যুৎ সমস্যা, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং দুর্নীতিবাজদের প্রভাব এক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। যেখানে' দেশের সিংহভাগ জনগণের ন্যূনতম ICT জ্ঞান এবং ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, সেখানে এটি অপ্রয়োজনীয় অপচয়ও বটে

424
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews