বাঙালি নারীর আত্ম জাগরণে যে নারীর অবদান বেশি, তিনি হলেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। বিবাহের পর উদার মানসিকতার অধিকারী স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের পরম মমতায় ও সহযোগিতায় এবং নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তিনি স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠেন। আত্মশুদ্ধি ও নিজের জানার জগৎকে পরিশুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে তিনি সাহিত্যচর্চায় আহানিয়োগ করেন। তার সাহিত্য সাধনায় বাঙালি মুসলিম নারী সমাজই মুখ্য হয়ে ওঠেন। সাহিত্য সাধনায় যখন তিনি নিয়োজিত তখন হঠাৎ করে তাঁর প্রাণপ্রিয় স্বামী পরপারে যাত্রা করেন। এতে তিনি মর্মাহত হন। বিষাদপূর্ণ অন্তরে আপন কর্ম সম্পাদনের জন্য কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গালর্স স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে আজ বাঙালি নারী সমাজ মুক্ত-স্বাধীনভাবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করছেন।

তুমি কি মনে কর যে উদ্দীপকের স্বামী বিয়োগের হাহাকার এবং 'তাহারেই পড়ে মনো কবিতায় কবির অন্তরের হাহাকার একই সূত্রে গাঁথা? পক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তি দেখাও।

(উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 11 months ago
Add Explanation
551

“হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”

কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-

“দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?

বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?

দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”

“এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম, “কেন কবি আজ

এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?”

কহিল সে সুদূরে চাহিয়া-

“অলখের পাথার বাহিয়া

তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান? ডেকেছে কি সে আমারে? শুনি নাই, রাখি নি সন্ধান।”

কহিলাম, “ওগো কবি! রচিয়া লহ না আজও গীতি, বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি- এ মোর মিনতি ।”

কহিল সে মৃদু মধু-স্বরে-

“নাই হলো, না হোক এবারে-

আমারে গাহিতে গান, বসন্তেরে আনিতে বরিয়া-

রহেনি, সে ভুলেনি তো, এসেছে তা ফাগুনে স্মরিয়া।”

কহিলাম : “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই? যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।” 

কহিল সে পরম হেলায়- 

"বৃথা কেন? ফাগুন বেলায় 

ফুল কি ফোটেনি শাখে? পুষ্পারতি লভেনি কি ঋতুর রাজন?

মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নাই অর্ঘ্য বিরচন?” 

“হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?” 

কহিলাম, “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”

কহিল সে কাছে সরে আসি -

“কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-

গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে

রিক্ত হস্তে! তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোনো মতে ।”

Related Question

View All
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘একরাত্রি’ গল্পের সুরবালার কথা বলা হয়েছে।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
1.7k
উত্তরঃ

‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটিতে কবির অনুরাগী বা কল্পিত বসন্ত-দূত এবং স্বয়ং কবির মধ্যে কথোপকথনের মধ্য দিয়ে কাব্যিক অনুভব প্রকাশিত হয়েছে। এই সংলাপধর্মী উপস্থাপনা কবিতাটিকে একটি নাটকীয় গুণসম্পন্ন করে তুলেছে।

বসন্তের আগমন ও তার রূপ-রস-গন্ধের প্রতি কবির উদাসীনতা এবং বসন্ত-দূতের তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা—এই পরস্পরবিরোধী আবেগ ও তাদের বাচনিক আদান-প্রদান কবিতাটিতে এক ধরনের নাট্যিক আবহ সৃষ্টি করেছে। একজন দর্শক যেমন মঞ্চে দুই চরিত্রের কথোপকথন প্রত্যক্ষ করে, তেমনি পাঠক এখানে কবির ভেতরের দ্বন্দ্বকে সংলাপের মাধ্যমে অনুভব করে, যা একে নাটকীয় করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
813
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বসন্তের রূপে মুগ্ধতা প্রকাশ পেলেও তার গভীরে একটি অব্যক্ত বিষাদের সুর ধ্বনিত হয়েছে, যা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল সুরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে যে আনন্দ আর উৎসবের আবহ তৈরি হয়, তা উদ্দীপকের বক্তার মনে অনাবিল আনন্দ জাগাতে পারেনি; বরং তার মনে এক অজানা বিষণ্ণতা বা উদাসীনতা খেলা করে, যা তাকে বসন্তের কোলাহল থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে।

উদ্দীপকের প্রথম স্তবকে বসন্তের চিরন্তন রূপ বর্ণনা করা হয়েছে—কোকিলের ডাক, বকুল ফুলের ঝরে পড়া, সুগন্ধে মন বিলীন হওয়া। দ্বিতীয় স্তবকে আম্রবীথির পুলকিত রূপ এবং মধুকরের গুঞ্জরণের কথা বলা হলেও, শেষ চরণে প্রশ্ন করা হয়েছে, "কেন আলি অকারণে সারা বেলা আনমনে পরানে বাজায় বীণা কে গো উদাসীন।" এই পঙক্তিটি বসন্তের আনন্দময় পরিবেশের মধ্যে বক্তার আত্মগত বিষাদ বা উদাসীনতাকে স্পষ্ট করে তোলে। বাহ্যিক প্রকৃতির উৎসবমুখরতার মাঝেও বক্তার অন্তর এক নিভৃত দুঃখবোধে আচ্ছন্ন, যা তাকে প্রকৃতির আনন্দের সঙ্গে একাত্ম হতে বাধা দিচ্ছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল একইভাবে বসন্তের প্রকৃতির আনন্দ উৎসবে নিজেকে সমর্পিত করতে পারেননি। কবির এক ভক্ত যখন বসন্ত বন্দনা করার অনুরোধ করেন, তখন কবি জানান যে, তার মন প্রিয়জনের শোকে আচ্ছন্ন থাকায় তিনি বসন্তের রূপ, রস, গন্ধ উপলব্ধি করতে পারছেন না। বসন্তের আগমন তার মনে কোনো চাঞ্চল্য তৈরি করতে পারেনি, কারণ তার মন প্রিয়জনের স্মৃতির গভীরে নিমজ্জিত। উদ্দীপকের বক্তার মনেও বসন্তের আনন্দ বাহ্যিক রূপে ধরা দিলেও, তার হৃদয়ের গহীনে কোনো এক বিষাদ বা উদাসীনতা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, যা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল ভাবনারই প্রতিফলন।

সুতরাং, উদ্দীপকের মূলসুর হলো বসন্তের কোলাহলময় সৌন্দর্যের মাঝেও এক অন্তরীণ বিষাদ বা উদাসীনতার অনুভব, যা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের শোকের কারণে বসন্তকে বরণ করতে না পারার অভিব্যক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই বাহ্যিক বসন্তের আবাহন সত্ত্বেও মনের গভীরে প্রোথিত দুঃখ বা স্মৃতির ভার আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
391
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews