বৌদ্ধধর্ম মতে, যা দেওয়া হয় তাই দান। তবে দানের সাথে নিঃস্বার্থতা ও স্বত্বত্যাগ বিষয়টি নিবিড়ভাবে জড়িত। এর সাথে মনে রাখতে হবে যে, সব বস্তুই দানযোগ্য নয়। পালি গাথায় দশ রকম দানীয় বস্তুর কথা উল্লেখ আছে। যেমন-
অনুবাদ:
অন্ন, জল, বস্ত্র, যান, মাল্য, গন্ধ আর
বিলেপন, শয্যা, গৃহ, দীপদান সার।
এই দশ দান বস্তু শাস্ত্রের বচন,
প্রদানিবে দাতাগণ সুখের কারণ।
অর্থাৎ অন্ন বা খাদ, জল বা পানীয়, বস্ত্র, যান বা গাড়ি, মাল্য সুগন্ধ এবং বিলেপন, শয্যা, গৃহ, প্রদীপ ইত্যাদি হলো উত্তম দানীয় বস্তু।
বৌদ্ধধর্মে দানের ওপর খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কথায় আছে, দানে দুর্গতি খণ্ডিত হয়। তবে দান হতে হবে নিঃস্বার্থ। মনের মধ্যে কোনো রকম দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব রেখে দান করলে তা দান হয় না। অন্যদিকে, দান করার সময় তার ফল আশা করলেও দান হয় না। ফলের বা পরিণামের প্রত্যাশা করে যে দান তা দান নয়। মনের মধ্যে কোনো রকম দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, অহং, ফলের আশা, প্রত্যাশা ইত্যাদির স্থান না দিয়ে নিঃস্বার্থ ও স্বত্বহীন যে দান করে তাই প্রকৃত দান। দানের দ্বারা মানুষের চিত্ত বিশুদ্ধ হয় এবং মোহমুক্তি ঘটে। দান, চিত্তে প্রসন্নতার সূচনা করে। ফলে মানুষের মনে সৎ কাজ করার উৎসাহ জাগে। তাই দান একটি মহৎ কাজ।
Related Question
View Allযিনি দান করেন তাঁকে দাতা বলা হয়। অর্থাৎ দাতা বলতে যিনি শর্তহীন ও নিঃস্বার্থভাবে দান করেন তাকেই বোঝায়।
অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ওষুধ, টাকা ইত্যাদি নিজ প্রয়োজনীয় সম্পদ থেকে শুরু করে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, কিডনি, রক্ত এমনকি চোখও দান করা হয়।
যে দাতা নিজে যা খান তার চেয়ে খারাপ খাবার দান করেন, তাকে দানদাস বলা হয়।
যা দেওয়া হয় তা-ই দান। তবে তা নিঃস্বার্থ হতে হয়। অর্থাৎ শর্তহীনভাবে কাউকে কোনো কিছু দেওয়াকে বলা হয় দান। মানুষ যেসব ভালো কাজ করে তার মধ্যে দান অন্যতম। যেমন- ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য কিংবা শীতার্ত ব্যক্তিকে বস্ত্র দান করা, যেগুলো নিঃস্বার্থভাবে দান করা হয়ে থাকে।
দান করার সময় মৈত্রীপূর্ণ কুশল চেতনা নিয়ে দান করতে হয়। বুদ্ধ বলেছেন, চেতনা থেকে উৎপন্ন সৎ কাজই উত্তম কর্ম। লোভ, হিংসা, ঈর্ষা, মোহ ও সংকীর্ণতামুক্ত হয়ে দান করার ইচ্ছাই হচ্ছে চিত্ত সম্পত্তি। আর এরূপ দানই হচ্ছে উত্তম দান।
শীলবান গ্রহীতাকে প্রতিগ্রাহক সম্পত্তি বলা হয়। শীলবান দান গ্রহীতা হচ্ছেন দান গ্রহণের উপযুক্ত পাত্র। অর্থাৎ দান করার সময় দানের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচিত করা উচিত। নৈতিক চারিত্রিক গুণসম্পন্ন শীলবান ব্যক্তিকে দান করলে তা উত্তম দান হিসেবে বিবেচিত হয়। আর শীল পালন দানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
