মানুষ যেসব ভালো কাজ করে, তার মধ্যে 'দান' অন্যতম। দান বলতে সাধারণত শর্তহীনভাবে অন্যকে কিছু দেওয়া বোঝায়। যেমন, শীতের সময়ে যাদের ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য গরম কাপড় নেই, তাদেরকে গরম কাপড় বিনামূল্যে দেওয়া। কোনো অসুস্থ মানুষকে প্রয়োজনে রক্ত দেওয়া একটি শর্তহীন দানের উদাহরণ। অর্থাৎ আমরা যখন কোনো কিছু দেওয়ার সময় বিনিময়ে অন্য কিছু আশা করি না, এ রকম দেওয়া বা প্রদান করাকে দান বলা হয়। যিনি দান করেন বা দেন তাঁকে দাতা বলা হয়। আমরা আমাদের চারপাশে অনেককে দান করতে দেখি। দান একটি সেবামূলক কাজ। কারণ, দানের উদ্দেশ্য অন্যের উপকার করা। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, টাকা ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, কিডনি, রক্ত, চোখ এমনকি জীবনও দান বা উৎসর্গ করা যায়। এজন্য 'দান' একটি মহৎ কর্ম। বৌদ্ধধর্মে 'দান' অন্যতম কুশলকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। বৌদ্ধশাস্ত্রে দানের বিশেষ ব্যাখ্যা আছে। এই অধ্যায়ে আমরা বৌদ্ধ দান সম্পর্কে পডব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- বৌদ্ধধর্মে দানের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব;
- বিভিন্ন প্রকার দানীয় বস্তুর বিবরণ দিতে পারব;
- দানের সুফল ব্যাখ্যা করতে পারব।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দীপা বড়ুয়া একজন গৃহবধূ। তিনি বৌদ্ধধর্মের দান সম্পর্কে অবগত হয়ে বিভিন্ন ধরনের দান করেন।
দান করার সময় বিবেচনা করে দান করা উচিত। শ্যামল বড়ুয়া দানশীল ও ধার্মিক। তিনি বলেন, জ্ঞানীরা প্রাচীনকালেও বিবেচনা করে দান করতেন।
যা দেওয়া হয় তা-ই দান। তবে 'দান' নিঃস্বার্থ ও শর্তহীন। যিনি দান করবেন তিনি নিঃস্বার্থভাবে দেবেন। ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য কিংবা শীতার্ত ব্যক্তিকে বস্ত্রদান করে বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা করা হয় না। এখানে দাতার কোনো স্বার্থ নেই। আমরা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অথবা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দান করে থাকি। এরূপ দান নিঃস্বার্থ। আমরা অসুস্থ ব্যক্তিকে ঔষধ, সেবা, রক্ত, আর্থিক সহায়তা দান করি। এখানেও দাতার স্বার্থ থাকে না। বৌদ্ধধর্মে শুধু মানুষের দান নয়, পশু-পাখির দানের কাহিনিও আছে যা বুদ্ধের জীবনী ও জাতক পড়ে জানা যায়। যেমন, বুদ্ধ যখন পারলেয়া বনে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁকে বানর ও হাতি মধু ও ফল দান করত। দানকর্মের জন্য তারা বৌদ্ধ সাহিত্যে অমর হয়ে আছে। আমরা যদি প্রকৃতির দিকে তাকাই, তবে দেখি যে, গাছ আমাদের ছায়া দান করে; ফুল অকাতরে সুরভি ও সৌন্দর্য দান করে; নদী তার সুমিষ্ট জল অকৃপণভাবে ।

দান করে। পরের জন্য এই অকাতর দান থেকে আমরা দানের মহত্ব উপলব্ধি করতে পারি। বৌদ্ধধর্মে 'দান' -এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। বৌদ্ধধর্মের অনুসারীরা শুধু মানুষকে দান করেন না, পশু-পাখি এবং অদৃশ্য প্রাণীদেরও দান করেন। এ ধর্মে মৈত্রী দান করা যায়। 'মৈত্রী' হচ্ছে সকলের ভালো হোক এরূপ বন্দনা করা। সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রী দান বৌদ্ধধর্মে দানের অনন্য বৈশিষ্ট্য। দান শুধু সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। ধনী ব্যক্তি যদিঅনেক কিছু দান করেন কিন্তু চিত্তের পবিত্রতা বা মৈত্রীপূর্ণ দানের চেতনা না থাকে, সে দানও যথার্থ হয় না। বিশেষত বৌদ্ধদের দান দেওয়ার সময় দানীয় বস্তু, দাতা ও দান গ্রহীতার গুণাগুণ সম্পর্কে বিবেচনা করতে হয়। দানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়সমূহ: ১। বস্তু সম্পত্তি ২। চিত্ত সম্পত্তি ৩। প্রতিগ্রাহক সম্পত্তি।
বস্তু সম্পত্তি: সৎ উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি দান করা উচিত। এতে বেশি ফল লাভ করা যায়। সৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ বা বস্তু দান করলে তাকে উত্তম দান বলা হয়। তাই সৎ উপায়ে অর্জিত দানীয় বস্তুকে বস্তু সম্পত্তি বলা হয়।
চিত্ত সম্পত্তি: দান করার সময় মৈত্রীপূর্ণ কুশল চেতনা নিয়ে দান করতে হয়। বুদ্ধ বলেছেন, চেতনা থেকে উৎপন্ন সৎ কাজই উত্তম কর্ম। লোভ, ঈর্ষা, হিংসা, মোহ ও সংকীর্ণতামুক্ত হয়ে দান করার ইচ্ছাই চিত্ত সম্পত্তি। এরূপ দানই উত্তম দান।
প্রতিগ্রাহক সম্পত্তি: শীল পালন দানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শীলে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির দান ও শীলে প্রতিষ্ঠিত দান গ্রহীতার ওপর দানের সুফল নির্ভর করে। শীলবান দান গ্রহীতা হচ্ছেন দান গ্রহণের উপযুক্ত পাত্র। অর্থাৎ দান করার সময় দানের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচিত করা উচিত। নৈতিক চারিত্রিক গুণসম্পন্ন শীলবান ব্যক্তিকে দান করলে তা উত্তম দান বলে বিবেচিত হয়। শীলবান গ্রহীতাকে প্রতিগ্রাহক সম্পত্তি বলা হয়।
দাতার বৈশিষ্ট্য:
১। দান ও দানফলে প্রগাঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে।
২। দানীয় বস্তু ও গ্রহীতার প্রতি অবহেলা করা উচিত নয়। দাতার নিজের হাতে দান করা উচিত।
৩। কৃপণতা ও অনুরাগ বর্জন করে উদার চিত্তে দান করা উচিত।
৪। সঠিক সময়ে উপযুক্ত পাত্রে দান করা উচিত।
৫। দানের সময় নিজেকে উত্তম ভেবে গ্রহীতাকে অধম মনে করা উচিত নয়।
দাতার উল্লিখিত বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে দাতাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এঁরা হচ্ছেন:
১। দানদাস
২। দানসহায়
৩। দানপতি
দানদাস: যে দাতা নিজে যা খান তার চেয়ে খারাপ খাবার দান করেন তাকে দানদাস বলা হয়।
দানসহায়: যে দাতা নিজে যেরূপ খান অপরকে সেরূপ দান করেন তাকে দানসহায় বলা হয়।
দানপতি: যে দাতা নিজে সংযম পালন করে উৎকৃষ্ট বস্তু দান করেন তিনি দানপতি।
অনুশীলনমূলক কাজ |
ছোট-বড় বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৌদ্ধরা দান করে থাকেন। এসব অনুষ্ঠান একক বা যৌথভাবে পালন করা যায়। তবে পরিকল্পিত অনুষ্ঠান ছাড়াও দান করা যায়। যা দান করা হয়, তাকে বলা হয় দানীয় বস্তু। কী কী দান করা যায় এ বিষয়ে পালি গাথায় দশ রকমের বস্তুর বর্ণনা আছে।
যেমন:
অন্নং পানং বন্ধুং যানং
মালাগন্ধ বিলেপনং
সেয্যা বসথ পদীপেয্যং
দানবন্ধু ইসে দসা।
বাংলা অনুবাদ: অন্ন, জল, বস্ত্র, যানবাহন, মালা বা পুষ্প, সুগন্ধ বা সুরভি, বিলেপন বা শরীর পরিষ্কার করার জিনিস, গৃহ, শয্যাসামগ্রী, প্রদীপ ইত্যাদি উত্তম দানীয় বস্তু। এছাড়া বুদ্ধের জীবনী, জাতক ও নীতিগাথায় দানের কাহিনি বর্ণিত আছে, যা থেকে আমরা দানীয় বস্তু সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারি।
'বেসান্তর' জাতকে উল্লেখ আছে যে, রাজা বেসান্তর নিজের রাজ্য, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা সব দান করে অবশেষে নিজেকেও দান করেছিলেন। এভাবেই তিনি দান পারমী পূর্ণ করেন। শিবি জাতকে শরীর ও চক্ষু দানের উল্লেখ আছে। দাসী পূর্ণা নিজের খাদ্য পোড়া রুটিখানা শ্রদ্ধাভরে এক শ্রমণকে দান করেছিলেন। 'কুনাল' জাতকে পঞ্চপাপা এক শ্রমণকে একতাল মাটিও দান করেছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। অর্থাৎ শ্রদ্ধাপূর্ণ চিত্তে অন্যের উপকার হয়, এরূপ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দান করা যায়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভিক্ষুসঙ্ঘকে প্রয়োজনীয় বস্তুসমূহ দান করা হয়। বিপদে, দুর্যোগে বিপন্ন ও দুস্থ মানুষকে এমনকি অন্যান্য প্রাণীকেও প্রয়োজনীয় বস্তু দান করা যায়। ঔষধসহ সাধারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও দানীয় বস্তু হতে পারে। তবে দানীয় বস্তু সৎভাবে উপার্জিত হতে হবে। পূর্ববর্তী পাঠে জেনেছি অর্জিত পুণ্যরাশিও বৌদ্ধরা দান করেন।
বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দেশনা করার সময় উপাসক ও উপাসিকাদের পুণ্য দান করেন। বৌদ্ধ নর-নারীগণ অর্জিত পুণ্যরাশি জীবিত, মৃত আত্মীয়-অনাত্মীয়, বন্ধু, জানা-অজানা জ্ঞাতিবর্গ, দেবতা ও প্রেতগণ এমনকি শত্রুর উদ্দেশ্যেও দান করেন। বৌদ্ধরা সকল প্রাণির প্রতি 'সব্বে সত্তা সুখীতা ভবন্তু' বলে মৈত্রী দান করেন। আমরা জানি বিদ্যা অমূল্য 'ধন, বিদ্যা দান করলে তা আরও বাড়ে। বিদ্যার মতো পুণ্যফলও দান করলে ক্ষয় হয় না, আরও বৃদ্ধি পায়।
অনুশীলনমূলক কাজ |
এখন আমরা বোধিসত্ত্বের একটি দান কাহিনি পড়ব। অনেক অনেক দিন আগে ভরত নামে একজন রাজা রাজত্ব করতেন। তিনি যথাযথভাবে রাজধর্ম পালন করতেন। প্রজাদের সন্তানস্নেহে প্রতিপালন করতেন। দরিদ্র, পথিক, ভিখারি ও যাচকদের মহাদানে সন্তুষ্ট করতেন। সমুদ্র বিজয়া নামে তাঁর এক পণ্ডিত ও জ্ঞানী রানি ছিলেন। একদিন রাজা তাঁর দানশালা পরিদর্শনের সময় ভাবলেন, 'আমি যে দান করি, তা অনেক সময় দুঃশীল ও লোভী লোকেরা ভোগ করে থাকে। এতে আমার তৃপ্তি হয় না। আমি শীলবান, উত্তম দানের পাত্র প্রত্যেকবুদ্ধগণকে দান করতে চাই। কিন্তু তাঁরা তো হিমবন্ত প্রদেশে থাকেন। কীভাবে তাদের নিমন্ত্রণ করি?' তিনি বিষয়টি রানির সঙ্গে আলোচনা করলেন। রানি বললেন, 'মহারাজ, কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা দান, শীল ও সত্য বলে পুষ্প পাঠিয়ে প্রত্যেকবুদ্ধগণকে নিমন্ত্রণ করব এবং তাঁরা আগমন করলে অষ্টপরিষ্কার যুক্ত দান দেব।' রাজা প্রস্তাবটি অনুমোদন করলেন এবং সমস্ত নগরবাসীকে শীল পালনের নির্দেশ দিলেন। তিনিও পরিবার পরিজনসহ শীল পালন এবং মহাদান করতে থাকলেন। সোনার পাত্রে ফুল নিয়ে তিনি প্রাসাদ প্রাঙ্গণে নেমে এলেন। এরপর ভূমিতে পূর্বমুখী হয়ে পঞ্চাঙ্গে প্রণাম করে পূর্ব দিকে যে সকল অর্হৎ আছেন সকলকে প্রণাম করলেন। পূর্বদিকে কোনো প্রত্যেকবুদ্ধ থাকলে তাঁদেরকে ভিক্ষা গ্রহণের অনুরোধ করলেন। এরপর সাতমুষ্টি ফুল নিক্ষেপ করলেন। পূর্বদিকে কোনো প্রত্যেকবুদ্ধ ছিলেন না বলে পরদিন কেউ এলেন না ।
এভাবে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিনেও তিনি দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের প্রত্যেকবুদ্ধদের প্রতি পুষ্প নিক্ষেপ করলেন।
নমস্কার করে প্রত্যেকবুদ্ধগণকে আমন্ত্রণ জানালেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া গেল না। চতুর্থ দিনে উত্তর দিকে একইভাবে আমন্ত্রণ জানালেন। উত্তর-হিমালয়ে বসবাসকারী প্রত্যেকবুদ্ধগণের গুহায় রাজা প্রেরিত পুষ্প পৌঁছে গেল। তাঁদের শরীরে সেই ফুলগুলো পতিত হলো। তাঁরা চিন্তা করে জানতে পারলেন রাজা ভরত তাঁদের নিমন্ত্রণ করছেন। তখন তাঁরা সাতজন প্রত্যেকবুদ্ধকে রাজার নিমন্ত্রণ গ্রহণের জন্য প্রেরণ করলেন। এই সাতজন প্রত্যেকবুদ্ধ আকাশপথে রাজদ্বারে এসে পৌঁছালেন। রাজা প্রত্যেকবুদ্ধগণকে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। অতি সমাদরে তাঁদের রাজগৃহে নিয়ে গেলেন। অনেক আপ্যায়ন করালেন। অনেক দান করলেন। পরদিনের জন্য আবারও নিমন্ত্রণ করলেন। এভাবে ছয় দিন পর্যন্ত এঁদের ভোজন ও মহাদান পর্ব শেষে সপ্তম দিনে অষ্টপরিষ্কার দানের আয়োজন করলেন। অনন্তর প্রত্যেকবুদ্ধগণের মধ্যে যিনি প্রধান স্থবির, তিনি দান অনুমোদন করে এরূপ উপদেশ প্রদান করলেন, 'দানফলই কেবল আমাদের কাজে আসে। গৃহ, অর্থ সম্পদ,
দেহ, বল সবই ক্ষয়যোগ্য। 'অতঃপর 'অপ্রমত্ত' হতে উপদেশ দিয়ে তিনি চলে গেলেন।
অবশিষ্ট ভিক্ষুরাও নিম্নোক্ত উপদেশ প্রদান করে চলে গেলেন:
'যিনি ধার্মিক এবং শীলবান তাঁর দানফল মরণের পরও তাঁকে অনুসরণ করে। অল্প দানেও মহাফল হয়, যদি তা শ্রদ্ধাযুক্ত হয়। উর্বর ভূমিতে চারা রোপণ করলে যেমন উত্তম ফসল পাওয়া যায়, সেরূপ শীলবান ও উত্তম ব্যক্তিকে দান করলে মহাফল অর্জিত হয়। দান প্রশংসনীয় কাজ। দান ও প্রজ্ঞাবলে নির্বাণ লাভ সম্ভব।'
অতঃপর, রাজা ও রানি আজীবন দানব্রতে রত থেকে স্বর্গ লাভ করেন। ঐ রাজা ভরত ছিলেন বোধিসত্ত্ব এবং রানি সমুদ্র বিজয়া ছিলেন গোপাদেবী। এই কাহিনী শেষে গৌতম বুদ্ধ বলেন, 'জ্ঞানীরা প্রাচীনকালেও বিবেচনা করে দান করতেন।'
'দান' মানবজীবনের অন্যতম মহৎ গুণ। ছোট-বড় সকল প্রকার দানেরই সুফল আছে। দানের সুফল অনেক। ধর্মগ্রন্থে সেসব সুফলের কথা বর্ণিত আছে। বৌদ্ধরা ধর্মীয়ভাবে যে দান অনুষ্ঠান করে তার মধ্যে সংখদান, অষ্টপরিষ্কার দান ও কঠিন চীবরদান উল্লেখযোগ্য। এসব দানের মাধ্যমে অনেক সুফল অর্জিত হয়। দানের মাধ্যমে দাতা অনেক পুণ্যফল অর্জন করেন। ধন ও যশ-খ্যাতি লাভ করেন। সুন্দর ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন। দীর্ঘজীবী হন। সর্বত্র প্রশংসিত হন। সকলের প্রিয় হন। অভাব ও দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেন না। সুখে জীবন যাপন করেন। চিত্ত লোভ, দ্বেষ ও মোহমুক্ত হয়। মৃত্যুর পর স্বর্গ লাভ করেন। তিনি দুর্গতি হতে মুক্তি লাভ করেন এবং সুগতিপ্রাপ্ত হন। এছাড়া, দান পারমী পূর্ণ করার মাধ্যমে দাতা স্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী, অনাগামী ও অর্হত্ব ফলে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। তাই মহাকারুণিক বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের যথাসাধ্য দান করার উপদেশ দিয়েছেন। বৌদ্ধধর্মে একক দান অপেক্ষা সমবেত দানকে বেশি ফলদায়ক বলা হয়েছে। এ সমবেত দানসমূহ হলো যেমন, সঙ্ঘ দান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবরদান ইত্যাদি। এগুলো সম্মিলিতভাবে উদ্যাপিত হয়।
অনুশীলনমূলক কাজ |