ধর্মীয়গুরু ধর্ম আলোচনায় ভক্তদের দান সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, 'দীয়তীতি দানং'। অর্থাৎ যা দেওয়া হয় তাই দান। কিন্তু দানের সাথে স্বত্বত্যাগ বিষয়টি জড়িত। কেননা সব বস্তুই দান করা যায় না।

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

নিঃস্বার্থভাবে যেসব জিনিস অন্যকে প্রদান করা হয় তাকেই দান বলে।

উত্তরঃ

যা দেওয়া হয় তাই দান। দান করতে হবে স্বার্থহীনভাবে- তবেই সেটি দান হবে। পালি গাথার দশ রকম উত্তম দানীয় বস্তুর কথা উল্লেখ আছে। সেগুলো হচ্ছে অন্ন বা খাদ্য, জল বা পানীয়, বস্ত্র, মালা (ফুল বা মালা), সুগন্ধি দ্রব্য (ধূপ ইত্যাদি), বিলেপন (শরীর পরিষ্কার করার জিনিস), শয্যা, গৃহ, প্রদীপ বা বাতি ইত্যাদি। এগুলো সম্পর্কে শাস্ত্রে ব্যাখ্যা থাকলেও আরও অনেক প্রয়োজনীয় বস্তুই দান করা যায়।

উত্তরঃ

বৌদ্ধধর্মে দানের ওপর খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। 'দান একটি মহৎ কাজ। কথায় আছে, দানে দুর্গতি খণ্ডিত হয়। তবে সে দান হবে নিঃস্বার্থ। মনের মধ্যে কোনো রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রেখে দান করলে তা দান হয় না। অন্যদিকে দান করার সময় তার ফল আশা করলে তাও দান হয় না। ফলে বা পরিণামের প্রত্যাশা করে যে দান তা দান নয়। দান করার সময় গরিমা বা অহংকার থাকতে নেই। আমার অনেক আছে, তাই আমি দান করব, গরিবদের বিলিয়ে দেব। নামের জন্য দান- এ ধরনের দানও প্রকৃত দান হয় না। দানের দ্বারা মানুষের চিত্ত বিশুদ্ধ হয় এবং মোহমুক্তি ঘটে। দান চিত্তে প্রসন্নতার সূচনা করে। ফলে মানুষের মনে সৎ কাজ করার উৎসাহ জাগে। প্রেরণা যোগায়, আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে। এমনকি অদৃশ্য সব প্রাণীর প্রতি মৈত্রী পোষণেও উজ্জীবিত করে। প্রত্যেক, সামর্থ্যবান মানুষেরই দান করা উচিত। কেননা দান একটি মহৎ কাজ। এজন্য বৌদ্ধধর্মে দানের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উত্তরঃ

বৌদ্ধধর্ম মতে, যা দেওয়া হয় তাই দান। তবে দানের সাথে নিঃস্বার্থতা ও স্বত্বত্যাগ বিষয়টি নিবিড়ভাবে জড়িত। এর সাথে মনে রাখতে হবে যে, সব বস্তুই দানযোগ্য নয়। পালি গাথায় দশ রকম দানীয় বস্তুর কথা উল্লেখ আছে। যেমন-

অনুবাদ:

অন্ন, জল, বস্ত্র, যান, মাল্য, গন্ধ আর

বিলেপন, শয্যা, গৃহ, দীপদান সার।

এই দশ দান বস্তু শাস্ত্রের বচন,

প্রদানিবে দাতাগণ সুখের কারণ।

অর্থাৎ অন্ন বা খাদ, জল বা পানীয়, বস্ত্র, যান বা গাড়ি, মাল্য সুগন্ধ এবং বিলেপন, শয্যা, গৃহ, প্রদীপ ইত্যাদি হলো উত্তম দানীয় বস্তু।

বৌদ্ধধর্মে দানের ওপর খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কথায় আছে, দানে দুর্গতি খণ্ডিত হয়। তবে দান হতে হবে নিঃস্বার্থ। মনের মধ্যে কোনো রকম দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব রেখে দান করলে তা দান হয় না। অন্যদিকে, দান করার সময় তার ফল আশা করলেও দান হয় না। ফলের বা পরিণামের প্রত্যাশা করে যে দান তা দান নয়। মনের মধ্যে কোনো রকম দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, অহং, ফলের আশা, প্রত্যাশা ইত্যাদির স্থান না দিয়ে নিঃস্বার্থ ও স্বত্বহীন যে দান করে তাই প্রকৃত দান। দানের দ্বারা মানুষের চিত্ত বিশুদ্ধ হয় এবং মোহমুক্তি ঘটে। দান, চিত্তে প্রসন্নতার সূচনা করে। ফলে মানুষের মনে সৎ কাজ করার উৎসাহ জাগে। তাই দান একটি মহৎ কাজ।

34

মানুষ যেসব ভালো কাজ করে, তার মধ্যে 'দান' অন্যতম। দান বলতে সাধারণত শর্তহীনভাবে অন্যকে কিছু দেওয়া বোঝায়। যেমন, শীতের সময়ে যাদের ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য গরম কাপড় নেই, তাদেরকে গরম কাপড় বিনামূল্যে দেওয়া। কোনো অসুস্থ মানুষকে প্রয়োজনে রক্ত দেওয়া একটি শর্তহীন দানের উদাহরণ। অর্থাৎ আমরা যখন কোনো কিছু দেওয়ার সময় বিনিময়ে অন্য কিছু আশা করি না, এ রকম দেওয়া বা প্রদান করাকে দান বলা হয়। যিনি দান করেন বা দেন তাঁকে দাতা বলা হয়। আমরা আমাদের চারপাশে অনেককে দান করতে দেখি। দান একটি সেবামূলক কাজ। কারণ, দানের উদ্দেশ্য অন্যের উপকার করা। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, টাকা ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, কিডনি, রক্ত, চোখ এমনকি জীবনও দান বা উৎসর্গ করা যায়। এজন্য 'দান' একটি মহৎ কর্ম। বৌদ্ধধর্মে 'দান' অন্যতম কুশলকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। বৌদ্ধশাস্ত্রে দানের বিশেষ ব্যাখ্যা আছে। এই অধ্যায়ে আমরা বৌদ্ধ দান সম্পর্কে পডব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • বৌদ্ধধর্মে দানের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব;
  • বিভিন্ন প্রকার দানীয় বস্তুর বিবরণ দিতে পারব;
  • দানের সুফল ব্যাখ্যা করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

যিনি দান করেন তাঁকে দাতা বলা হয়। অর্থাৎ দাতা বলতে যিনি শর্তহীন ও নিঃস্বার্থভাবে দান করেন তাকেই বোঝায়।

141
উত্তরঃ

অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ওষুধ, টাকা ইত্যাদি নিজ প্রয়োজনীয় সম্পদ থেকে শুরু করে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, কিডনি, রক্ত এমনকি চোখও দান করা হয়।

74
উত্তরঃ

যে দাতা নিজে যা খান তার চেয়ে খারাপ খাবার দান করেন, তাকে দানদাস বলা হয়।

62
উত্তরঃ

যা দেওয়া হয় তা-ই দান। তবে তা নিঃস্বার্থ হতে হয়। অর্থাৎ শর্তহীনভাবে কাউকে কোনো কিছু দেওয়াকে বলা হয় দান। মানুষ যেসব ভালো কাজ করে তার মধ্যে দান অন্যতম। যেমন- ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য কিংবা শীতার্ত ব্যক্তিকে বস্ত্র দান করা, যেগুলো নিঃস্বার্থভাবে দান করা হয়ে থাকে।

94
উত্তরঃ

দান করার সময় মৈত্রীপূর্ণ কুশল চেতনা নিয়ে দান করতে হয়। বুদ্ধ বলেছেন, চেতনা থেকে উৎপন্ন সৎ কাজই উত্তম কর্ম। লোভ, হিংসা, ঈর্ষা, মোহ ও সংকীর্ণতামুক্ত হয়ে দান করার ইচ্ছাই হচ্ছে চিত্ত সম্পত্তি। আর এরূপ দানই হচ্ছে উত্তম দান।

78
উত্তরঃ

শীলবান গ্রহীতাকে প্রতিগ্রাহক সম্পত্তি বলা হয়। শীলবান দান গ্রহীতা হচ্ছেন দান গ্রহণের উপযুক্ত পাত্র। অর্থাৎ দান করার সময় দানের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচিত করা উচিত। নৈতিক চারিত্রিক গুণসম্পন্ন শীলবান ব্যক্তিকে দান করলে তা উত্তম দান হিসেবে বিবেচিত হয়। আর শীল পালন দানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

68
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews