যে সকল জৈব উপাদান জীবের দেহ গঠন, ক্ষয়পূরণ ও শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে খাদ্য বলে।
সুষম খাবার যেসব শর্ত পালন করে সেগুলো নিম্নরূপ-
১. প্রতি বেলার খাবারে আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ এ তিনটি শ্রেণির খাবার অন্তর্ভুক্ত করে খাদ্যের ছয়টি উপাদানের অন্তর্ভুক্তিকরণ নিশ্চিত করা।
২. প্রত্যেক শ্রেণির খাদ্য বয়স, লিঙ্গ ও জীবিকা অনুযায়ী সরবরাহ করা।
৩. দৈহিক ক্যালরি ৬০ ৭০% শর্করা, ১০% আমিষ ও ৩০ ৪০% স্নেহ জাতীয় পদার্থ থেকে গ্রহণ করা।
উদ্দীপকের চিত্র-A জাতীয় খাদ্য হলো মাছ, যা আমিষ বা প্রোটিনকে নির্দেশ করে। আমিষ জাতীয় খাদ্যের অভাবে শিশুদের যেসব রোগ দেখা দেয় সেগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
খাদ্যে পরিমিত প্রয়োজনীয় জৈব আমিষ বা মিশ্র আমিষ না থাকলে শিশুর দেহে আমিষের অভাবজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগলে দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশুদের কোয়াশিয়রকর ও মেরাসমাস রোগ দেখা দেয়।
কোয়াশিয়রকর রোগ হলে-
১. শিশুদের খাওয়ায় অরুচি হয়।
২. পেশি শীর্ণ ও দুর্বল হতে থাকে, চামড়া এবং চুলের মসৃণতা ও রং নষ্ট হয়ে যায়।
৩. ডায়রিয়া রোগ হয়, শরীরে পানি আসে।
৪. পেট বড় হয়।
মেরাসমাস রোগ হলে-
১. দেহের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।
২. শরীর ক্ষীণ হয়ে অস্থিচর্মসার হয়।
৩. চামড়া বা ত্বক খসখসে হয়ে ঝুলে পড়ে।
৪. শরীরের ওজন হ্রাস পায়।
শিশুদের জন্য এরূপ অবস্থা বিপজ্জনক। এছাড়া আমিষের অভাবে বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে চিত্র-B হলো মিষ্টি কুমড়া যা ভিটামিন-এ নির্দেশ করে এবং চিত্র-C হলো ঘি যা স্নেহ জাতীয় পদার্থকে নির্দেশ করে। ভিটামিন-এ ও স্নেহ পদার্থ এর অভাবে শিশু ও বৃদ্ধ উভয়েই রোগাক্রান্ত হয়; তবে বৃদ্ধদের চেয়ে শিশুরাই বেশি রোগাক্রান্ত হয়। নিচে যুক্তিসহকারে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ভিটামিন-এ এর অভাবে শিশুদের রাতকানা রোগ হয়ে থাকে। এ রোগে স্বল্প আলোতে বিশেষ করে রাতের আলোতে দেখতে পায় না। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে চোখ সম্পূর্ণরূপে অন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া ভিটামিন-এ এর অভাবে শিশুদের জেরপথালমিয়া রোগ হয়ে থাকে। ভিটামিন এ-এর অভাব ঘটলে চোখের কর্নিয়ার আচ্ছাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। সর্দি, কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি রোগ হতে পারে। অপরদিকে খাদ্যে স্নেহ পদার্থের অভাব ঘটলে দেহের চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের অভাব পরিলক্ষিত হয় যার ফলে ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ দেখা দেয়।
যেমন- ত্বক শুদ্ধ ও খসখসে হয়ে দেহের সৌন্দর্য নষ্ট করে। চর্বি জাতীয় খাদ্যের অভাবে শিশুদের একজিমা রোগ হয়ে থাকে এবং বয়স্কদের চর্মরোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
