গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদির মাঝখানে যে খালি জায়গা রয়েছে তাকে মহাকাশ বলে।
অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু। অতীতে মহাকাশের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই বলে ধরে নেওয়া হতো এবং যত দূর পর্যন্ত সবচেয়ে দূরের বস্তুটি দেখতে পাওয়া যায়, সে পর্যন্তই মহাকাশ বিস্তৃত এবং মহাকাশ বক্রাকৃতির বলে ধারণা করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর দৃষ্টিসীমার বাইরের অনেক গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু ও গ্যালাক্সি দেখতে পাওয়া যায়। যার ফলে বুঝা যায়, প্রকৃতপক্ষে মহাকাশের কোনো শেষ নেই। তাই বলা যায়, মহাকাশের শুরু আছে, শেষ নেই।
উদ্দীপকে P হলো কৃত্রিম যোগাযোগ উপগ্রহ। নিচে কৃত্রিম উপগ্রহকে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরানোর জন্য যেভাবে সক্রিয় করা হয়, তা ব্যাখ্যা করা হলো-
পৃথিবীর চারদিকে ঘুরার জন্য কৃত্রিম উপগ্রহের কেন্দ্রমুখী বল বা টানের প্রয়োজন হয়। কৃত্রিম উপগ্রহের উপর পৃথিবীর আকর্ষণ বল বা অভিকর্ষ বলই এই কেন্দ্রমুখী বল যোগায়। কৃত্রিম উপগ্রহের নিজস্ব কোনো গতি না থাকায় হিসাব করে দেখা গেছে যে, যদি কৃত্রিম উপগ্রহকে পৃথিবীর প্রায় ২৫০ কিলোমিটার উপরে তুলে পৃথিবী পৃষ্ঠের সমান্তরালভাবে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮ কিলোমিটার বেগ দেওয়া যায় তবে কৃত্রিম উপগ্রহটি পৃথিবীর চারদিকে ঘুরবে। কিন্তু এত উপরে তুলে কোনো বস্তুকে এত বেশি বেগ দেওয়া সহজসাধ্য নয়। কারণ বায়ুস্তরের সাথে তীব্র সংঘর্ষে তাপ উৎপন্ন হয়ে বস্তুটি পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। আর এ কারণেই তিনটি রকেটের সাহায্যে কৃত্রিম উপগ্রহকে নির্দিষ্ট উচ্চতায় তুলে পরে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বেগ দেওয়া হয়। এভাবেই কৃত্রিম উপগ্রহকে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরানোর জন্য সক্রিয় করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত P, Q, R, S কৃত্রিম উপগ্রহগুলো হলো যথাক্রমে যোগাযোগ উপগ্রহ, পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ, আবহাওয়া উপগ্রহ ও জ্যোতির্বিদ্যাবিষয়ক উপগ্রহ। এগুলোর মধ্যে P. Q. R উপগ্রহগুলো মানবজীবনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-P বা যোগাযোগ উপগ্রহের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারি। মোবাইল টেলিফোনের ডিশ এরিয়েল থেকে তৈরিকৃত বেতার সংকেতকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম উপগ্রহ আমাদের যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেয়। Q বা পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ কোন মাঠ ফসল ভালো হচ্ছে, বে । ফসলে রোগবালাই বা পোকামাকড় আক্রমণ করছে কি-না, তার তথ্য ও ছবি
সংগ্রহ করতে পারে। যা আমাদেরকে ফসলের রোগবালাই দমন করে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া এই উপগ্রহটি মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ নির্ণয়েও ব্যবহার করা হয়। R বা আবহাওয়া উপগ্রহ ঝড়বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ, সাইক্লোন সৃষ্টি হওয়া বা কোথায় ঘনীভূত হচ্ছে, কোন দিকে আঘাত হানতে পারে তার সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে পূর্বাভাস দিতে পারে। যাতে আমরা প্রয়োজনীয় সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের জানমাল রক্ষা করতে পারি। অপরদিকে S বা জ্যোতির্বিদ্যাবিষয়ক উপগ্রহ মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিভিন্ন অজানা তথ্য সংগ্রহ করলেও প্রত্যক্ষভাবে মানবকল্যাণে অংশগ্রহণ করে না।
অতএব উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, কৃত্রিম উপগ্রহগুলোর মধ্যে P, Q, R মানবজীবনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!