উত্তরঃ

চর্যাপদের ভাষা মূলত প্রাচীন বাংলা (আদি বাংলা), যা 'সন্ধ্যা ভাষা' বা 'সান্ধ্য ভাষা' নামে পরিচিত।


      
  • সন্ধ্যা ভাষা (সান্ধ্য ভাষা): মহামোহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের ভাষাকে 'আলো-আঁধারি ভাষা' বা 'সন্ধ্যা ভাষা' বলে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ, এ ভাষার কিয়দংশ বোঝা যায় এবং কিয়দংশ অস্পষ্ট বা গূঢ় অর্থ বহন করে।
  •   
  • ভাষাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ: ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত ODBL (The Origin and Development of the Bengali Language) গ্রন্থে ব্যাকরণগত ও ধ্বনিতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বাংলা।
  •   
  • উৎপত্তিগত মতভেদ:     
            
    • ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, চর্যাপদের ভাষা 'মাগধী অপভ্রংশ' থেকে উদ্ভূত।
    •       
    • ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা 'গৌড়ীয় অপভ্রংশ' থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
    •     
      
  •   
  • অন্যান্য বৈশিষ্ট্য: ড. সুকুমার সেন এ ভাষাকে 'আবহট্‌ঠ' প্রভাবিত বাংলা বলেছেন। যদিও হিন্দি, মৈথিলী, অসমীয়া ও ওড়িয়া ভাষার গবেষকগণ চর্যাপদকে তাঁদের ভাষার প্রাচীন রূপ বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের বিচারে এটি বাংলা ভাষারই সর্বপ্রাচীন লিখিত রূপ।
Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ (তুর্কি বিজয়ের পরবর্তী সার্ধশতাব্দী) পর্যন্ত সময়কালকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘অন্ধকার যুগ’ বলা হলেও আধুনিক সাহিত্য গবেষক ও পণ্ডিতদের মতে এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা; মূলত এটি ছিল সাহিত্য চর্চার ‘সংক্রান্তিকাল’ বা ‘প্রস্তুতিকাল’।

বাংলা সাহিত্যের ‘অন্ধকার যুগ’ সম্পর্কিত সামাজিক ও সাহিত্যিক যৌক্তিক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

        
  • রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজীর বাংলা জয়ের ফলে বিদ্যমান সামন্ততান্ত্রিক রাজশাসনের পতন ঘটে এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সূচনা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের এই অস্থিরতায় রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সাহিত্য সৃষ্টি কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল।
  •     
  • সাহিত্যিক নিদর্শনের উপস্থিতি: এই ১৫০ বছরে কোনো বিখ্যাত বাংলা মহাকাব্য রচিত না হলেও সাহিত্যচর্চা একেবারে বন্ধ ছিল না। রামাই পণ্ডিতের ‘শূন্যপুরাণ’, হলাযুধ মিশ্রের ‘সেকশুভোদয়া’ এবং লোকসাহিত্যের বিভিন্ন উপাদান এই সময়কালেই বিকাশ লাভ করে।
  •     
  • অন্যান্য ভাষার চর্চা: এ সময় দেশি বাংলা সাহিত্যের সাময়িক মন্দা থাকলেও সংস্কৃত, অপভ্রংশ ও প্রাকৃত ভাষায় সাহিত্য চর্চা অব্যাহত ছিল। পণ্ডিতদের মতে, এ সময় রচিত ‘প্রাকৃত পৈঙ্গল’ গ্রন্থটি তৎকালীন ভাষা ও সমাজচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
  •     
  • শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের ভিত্তি: ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দের পরপরই মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন বরু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য আত্মপ্রকাশ করে। একটি ভাষার সাহিত্য হঠাৎ করেই রাতারাতি পরিপক্ব রূপ লাভ করতে পারে না; এর নেপথ্যে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়েই ভাষার ব্যাকরণ ও রূপ গড়ে উঠেছিল।
  •     
  • আধুনিক গবেষকদের মতবাদ: ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, সুকুমার সেন এবং ড. আহমদ শরীফের মতো শীর্ষস্থানীয় সাহিত্য গবেষকগণ এই সময়কালকে সম্পূর্ণ 'অন্ধকার যুগ' হিসেবে মেনে নেননি। তাঁদের মতে, এটি ছিল বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির 'বন্ধ্যা কাল' বা 'পুনর্গঠনের সময়'।

সুতরাং, ১২০১-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ সময়কালকে সম্পূর্ণ ‘অন্ধকার যুগ’ না বলে বাংলা সাহিত্যের ‘সংক্রান্তিকাল’, ‘অবক্ষয় যুগ’ বা ‘প্রস্তুতিকাল’ হিসেবে অভিহিত করাই অধিক যুক্তিযুক্ত।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতী রচিত 'রামায়ণ' হলো নারীদৃষ্টিকোণ থেকে রচিত একটি ব্যতিক্রমী ও করুণরসাত্মক লোককাব্য।

চন্দ্রাবতী রচিত 'রামায়ণ' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এ কাব্যটি সম্পর্কিত প্রধান তথ্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:

      
  • কবি পরিচয়: কবি চন্দ্রাবতী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি নারী কবি। তিনি ষোড়শ শতাব্দীতে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম রচয়িতা দ্বিজ বংশীদাস।
  •   
  • সীতা-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি: প্রথাগত রামায়ণে রামের বীরত্ব ও গুণগান প্রাধান্য পেলেও চন্দ্রাবতীর রামায়ণে সীতার জীবনের করুণ কাহিনী, বিরহ ও দুঃখ-কষ্টকে প্রধান বিষয়বস্তু করা হয়েছে। এটি মূলত সীতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রচিত।
  •   
  • কাব্যের গঠন ও বিষয়বস্তু: কাব্যটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত— সীতার জন্ম বৃত্তান্ত, রাম-সীতার বিবাহ ও বনবাস এবং সীতার নির্বাসন ও পাতাল প্রবেশ।
  •   
  • অসমাপ্ত রূপ: রামায়ণ রচনার কাজ অসম্পূর্ণ থাকাকালেই চন্দ্রাবতীর মৃত্যু হয়। ফলে এটি একটি অসমাপ্ত কাব্য।
  •   
  • সংগ্রহ ও আবিষ্কার: সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে ময়মনসিংহ অঞ্চলের গ্রামীণ মহিলাদের কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন কর্তৃক 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা'য় এটি অন্তর্ভুক্ত ও প্রকাশিত হয়।
  •   
  • লোকজ সাহিত্য রূপ: এতে পৌরাণিক জটিলতা বা দেবত্ব আরোপের চেয়ে তৎকালীন বাঙালি গ্রামীণ নারীর মনের আবেগ, সমাজচিত্র ও লোকজ গানের সুর প্রাধান্য পেয়েছে।
Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ কলকাতা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ছিল ১৯ শতকের সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও বঙ্গীয় নবজাগরণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু, যা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বমঞ্চে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির প্রধান কবি ও লেখকদের অবদান নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

        
  • দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০–১৯২৬): মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, দার্শনিক ও স্বপ্নদর্শী সাহিত্যিক। তাঁর বিখ্যাত রূপক কাব্যগ্রন্থ 'স্বপ্নপ্রয়াণ'। তিনি 'তত্ত্ববোধিনী' ও 'ভারতী' পত্রিকার সম্পাদনা করেন এবং বাংলা স্বরলিপি তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
  •     
  • সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪২–১৯২৩):** প্রথম ভারতীয় আইসিএস অফিসার, প্রাবন্ধিক ও সুরকার। তাঁর রচিত 'মিলে সব ভারত সন্তান, একতান মনপ্রাণ' গানটি বাংলা দেশাত্মবোধক গানের ইতিহাসে অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ 'বোম্বাই চিত্র' ও 'নবরত্নমালা'।
  •     
  • জ্যোতিরীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪৯–১৯২৫): একাধারে প্রখ্যাত নাট্যকার, অনুবাদক, সঙ্গীতসাধক ও চিত্রশিল্পী। তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটকগুলোর মধ্যে 'পুরুবিক্রম', 'সরোজিনী', 'অশ্রুমতী' ও 'স্বপ্নময়ী' উল্লেখযোগ্য। তিনি কালিদাসের সংস্কৃত নাটক এবং শেকসপীয়রের নাটকের সফল অনুবাদক ছিলেন।
  •     
  • স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫–১৯৩২): বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নারী ঔপন্যাসিক ও আধুনিক সাহিত্যিক। তাঁর প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ' (১৮৭৬)। তিনি দীর্ঘ সময় জনপ্রিয় 'ভারতী' পত্রিকা সম্পাদনা করেন এবং বাংলা সাহিত্যে নারী লেখকদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত।
  •     
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১): ঠাকুরবাড়ির শ্রেষ্ঠতম প্রতিভা এবং বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম অমূল্য রত্ন। ১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে এশিয়ার প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও সঙ্গীতে তাঁর অবদান বাংলা সাহিত্যকে আধুনিক যুগে উন্নীত করে।
  •     
  • বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭০–১৮৯৯): রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র, একজন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় প্রাবন্ধিক ও শিল্প-সমালোচক ছিলেন। সংবেদনশীল গদ্যশৈলীর জন্য তিনি সুপরিচিত।
  •     
  • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭১–১৯৫১): প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীর পাশাপাশি বাংলা শিশুসাহিত্যে তাঁর স্থান অনন্য। তাঁর রচিত 'ক্ষীরের পুতুল', 'রাজকাহিনী', 'শকুন্তলা' ও 'বুড়ো আংলা' বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী শিশুসাহিত্য।
Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ একুশ শতকের বাংলাদেশে বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গঠনে এবং তরুণ সমাজকে প্রগতিশীল চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও দর্শনের পাঠ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

একুশ শতকের জটিল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য পাঠের প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী:

        
  • অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি: বর্তমান যুগে ধর্মীয় মেরুকরণ ও অসংহিষ্ণুতা নিরসনে নজরুলের 'মানুষ' ও 'কান্ডারী হুশিয়ার' কবিতার অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী দর্শন অত্যন্ত জরুরি।
  •     
  • বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে সাম্যবাদ: আধুনিক পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য নিরসনে এবং বঞ্চিতদের অধিকার রক্ষায় নজরুলের 'সাম্যবাদী' মতাদর্শ প্রাসঙ্গিক।
  •     
  • অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: অন্যায়, অপশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতা তরুণ সমাজকে সাহস ও তাগিদ জোগায়।
  •     
  • নারীর অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠা: 'নারী' কবিতায় নজরুল নর-নারীর যে সমানাধিকারের জয়গান গেয়েছেন, তা একুশ শতকের নারী ক্ষমতায়ন ও অধিকার আদায়ের অন্যতম মূলভিত্তি।
  •     
  • তরুণদের বিপ্লব ও আত্মজাগরণ: সামাজিক অবক্ষয় দূর করে নতুন সমাজ গঠনে তরুণদের উদ্দীপিত করতে নজরুলের 'তরুণের গান' ও প্রলয়োল্লাস চেতনা চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস।
Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ ৩০-এর দশকের আধুনিক বাংলা কবিতার পাঁচজন বিশিষ্ট কবি— জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, বিষ্ণু দে এবং সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

‘পঞ্চপান্ডব’ অভিধার কারণ:

বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবাবেগ, দর্শন ও কাব্যরীতির প্রভাব ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। ৩০-এর দশকে এই পাঁচজন কবি বাংলা কবিতাকে রবীন্দ্রনাথের একক ও অতিপ্রাকৃত প্রভাববলয় থেকে মুক্ত করে আধুনিকতা, বৈচিত্র্যমণ্ডিত শৈলী, ইউরোপীয় কাব্যরীতির সংমিশ্রণ এবং তীব্র ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধের সূচনা করেন। মহাভারতের পাঁচ ভাই (পাণ্ডব) যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেছিলেন, তেমনি এই পাঁচ কবিও সাহিত্যক্ষেত্রে নিজস্ব স্বকীয়তা ও আধুনিক ভাবধারায় এক নতুন যুগের সৃষ্টি করেন। বাংলা সাহিত্যকে রবীন্দ্র-উত্তর আধুনিক ধারায় উন্নীত করার এই ঐতিহাসিক ও সাহসী ভূমিকার কারণেই তাঁদের একত্রে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ বলা হয়।

পঞ্চপাণ্ডব কবিদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়:

      
  • জীবনানন্দ দাশ: রূপসী বাংলার কবি, নির্জনতার কবি এবং চিত্ররূপময় কবি হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।
  •   
  • বুদ্ধদেব বসু: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সংগঠক, প্রাবন্ধিক ও বিখ্যাত 'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক।
  •   
  • অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত: 'কল্লোল' সাহিত্য গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান কবি ও ঔপন্যাসিক।
  •   
  • বিষ্ণু দে: মার্ক্সবাদী ভাবধারা ও আধুনিক মননশীল কাব্যরীতির অনুসারী কবি।
  •   
  • সুধীন্দ্রনাথ দত্ত: ক্লাসিকাল বা ধ্রুপদী ভাবধারার আধুনিক কবি, যিনি 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ বাংলাদেশের সাহিত্য বলতে বর্তমান ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে রচিত এবং এই অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাহিত্যকে বোঝায়।

বাংলাদেশের সাহিত্য বৃহত্তর বাংলা সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং বিশেষত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এর নিজস্ব স্বকীয়তা ও পরিচিতি লাভ করে। এটি সেইসব সাহিত্যকর্মকে ধারণ করে যা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সৃষ্টি হয়েছে এবং এখানকার মানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম, এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে মূর্ত করে তোলে।

এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

        
  • ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের নদনদী, নিসর্গ, গ্রামীণ জীবন, লোকসংস্কৃতি এবং বহুজাতিসত্তার বৈচিত্র্য এই সাহিত্যের প্রধান উপাদান।
  •     
  • ঐতিহাসিক পটভূমি: ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সাহিত্য বারবার স্বাধীনতার চেতনা, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধের কথা তুলে ধরেছে।
  •     
  • জাতীয় পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য: ১৯৪৭ সালের পর পূর্ববঙ্গের লেখক-সাহিত্যিকরা যে স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছিলেন, তা স্বাধীন বাংলাদেশে এসে আরও পূর্ণতা লাভ করে। জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলো এর সাহিত্যে গুরুত্ব পায়।
  •     
  • বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য: প্রেম, প্রকৃতি, মানবতা, সামাজিক বৈষম্য, গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা, শহুরে জীবনের জটিলতা, এবং আধুনিক মানুষের মনস্তত্ত্ব এই সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় স্থান পেয়েছে।

কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, গবেষণা ও ভ্রমণকাহিনি ইত্যাদি বিভিন্ন শাখায় বাংলাদেশের সাহিত্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

'বং থেকে বাংলা' হলো ভাষাবিদ ও সাহিত্য গবেষক ড. সুকুমার সেন রচিত বাংলা ভাষার উৎপত্তি, নামকরণ এবং ভাষাতাত্ত্বিক বিবর্তনের ইতিহাস বিষয়ক একটি খ্যাতনামা গবেষণাগ্রন্থ।


'বং থেকে বাংলা' গ্রন্থটি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি:

        
  • রচয়িতা: প্রখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার ড. সুকুমার সেন।
  •     
  • মূল বিষয়বস্তু: এই গ্রন্থে প্রাচীন 'বং' বা 'বঙ্গ' শব্দ থেকে শুরু করে 'বাংলা' শব্দের উৎপত্তি, ঐতিহাসিক পরিচিতি এবং কালানুক্রমিক ভাষাতাত্ত্বিক পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
  •     
  • ভাষাতাত্ত্বিক গুরুত্ব: গ্রন্থটিতে বাংলা ভাষার ইন্দো-ইউরোপীয় মূলধারা থেকে শুরু করে বিভিন্ন যুগে ধ্বনি ও রূপতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ইতিহাস বিস্তর তথ্যাদিসহ আলোচিত হয়েছে।
  •     
  • প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য গুরুত্ব: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিবর্তন সম্পর্কিত প্রশ্নের জন্য এবং চাকরির পরীক্ষা (যেমন- বিসিএস, ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি) প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গ্রন্থটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ শাহ আবদুল করিমের গান মূলত আধ্যাত্মিকতা, বৈষ্ণব ও বাউল দর্শন, লোকজীবনের সুখ-দুঃখ, সমাজচেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভাবধারায় রচিত।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কালজয়ী বাউলসাধক ও লোকসংগীতশিল্পী শাহ আবদুল করিমের (১৯১৬-২০১৬) গান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

      
  • মূল ভাবধারা: তাঁর গানে বাউল ও মরমিবাদের পাশাপাশি গ্রামবাংলার খেটে খাওয়া মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রেম, বিরহ, বৈষম্যহীন সমাজভাবনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।
  •   
  • জনপ্রিয় কালজয়ী গান: ‘গাড়ি চলে না চলে না’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’, ‘আমি কুলহারা কলঙ্কিনী’, ‘গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান’ ইত্যাদি।
  •   
  • প্রকাশিত সংগীতগ্রন্থ: ‘আফতাব সঙ্গীত’ (১৯৪৮), ‘গণসংগীত’ (১৯৫৭), ‘কালনীর কূলে’ (১৯৭৭), ‘ধলমেলা’ (১৯৯০), ‘ভাটির চিঠি’ (১৯৯৮) এবং ‘শাহ আবদুল করিমের গান’ (২০০৯)।
  •   
  • স্বীকৃতি ও সম্মাননা: লোকসংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০০১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। এছাড়া তিনি ২০০৩ সালে ‘বাংলা একাডেমি সম্মাননা’ লাভ করেন।
Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত তিনটি গ্রন্থ হলো— ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ (২০১২), ‘কারাগারের রোজনামচা’ (২০১৭) এবং ‘আমার দেখা নয়াচীন’ (২০২০)।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত তিনটি ঐতিহাসিক গ্রন্থের প্রকাশনা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিচে প্রদান করা হলো:

১. অসমাপ্ত আত্মজীবনী:

      
  • প্রকাশকাল: ১৮ জুন, ২০১২।
  •   
  • প্রকাশক: দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (UPL)।
  •   
  • ভূমিকা লেখক: শেখ হাসিনা।
  •   
  • প্রচ্ছদশিল্পী: সমর মন্ডল।
  •   
  • ইংরেজি অনুবাদ: ‘The Unfinished Memoirs’ (অনুবাদক: অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম)।
  •   
  • বিষয়বস্তু: ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাবলী।

২. কারাগারের রোজনামচা:

      
  • প্রকাশকাল: ১৭ মার্চ, ২০১৭ (বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মবার্ষিকীতে)।
  •   
  • প্রকাশক: বাংলা একাডেমি।
  •   
  • নামকরণকর্তা: শেখ রেহানা।
  •   
  • প্রচ্ছদশিল্পী: তারিক সুজাত।
  •   
  • ইংরেজি অনুবাদ: ‘Prison Diaries’ (অনুবাদক: অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম)।
  •   
  • বিষয়বস্তু: ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের স্মৃতিচারণ।

৩. আমার দেখা নয়াচীন:

      
  • প্রকাশকাল: ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ (অমর একুশে গ্রন্থমেলা)।
  •   
  • প্রকাশক: বাংলা একাডেমি।
  •   
  • সম্পাদনা: শামসুজ্জামান খান।
  •   
  • প্রচ্ছদশিল্পী: সব্যসাচী হাজরা।
  •   
  • ইংরেজি অনুবাদ: ‘New China 1952’ (অনুবাদক: অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম)।
  •   
  • বিষয়বস্তু: ১৯৫২ সালে পিস কনফারেন্সে গণচীন সফরের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষ বিবরণ।
Satt AI
Satt AI
1 day ago
186

Related Question

View All
উত্তরঃ উপন্যাস, কাজী নজরুল ইসলাম।

'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যা ১৯৩১ সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে প্রেম, বিদ্রোহ, আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে উপজীব্য করা হয়েছে। এটি নজরুলের বিপ্লবী চেতনা ও রোমান্টিক ভাবধারার এক অনবদ্য মিশ্রণ।

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ এবং দার্শনিক। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে তার লেখনী ছিল এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, যে কারণে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে সমধিক পরিচিত। তার সাহিত্যে সাম্য, মানবতা এবং বিদ্রোহের বাণী প্রবলভাবে উচ্চারিত হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
502
উত্তরঃ চর্যাপদ

চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন এবং প্রাচীনতম বাংলা কাব্য। এটি খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের এক ধরণের গান ও কবিতা সংকলন। বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস জানতে এবং প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে এটি মূল্যবান তথ্য প্রদান করে।

১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজকীয় গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়। চর্যাপদের ভাষা 'সন্ধ্যা ভাষা' নামে পরিচিত, যার অর্থ আংশিক আলো ও আংশিক অন্ধকারময় বা দ্ব্যর্থবোধক ভাষা।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
461
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভানুসিংহের পদাবলী

ভানুসিংহ ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছদ্মনাম। তিনি এই ছদ্মনামে "ভানুসিংহের পদাবলী" নামক একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। এই কাব্যগ্রন্থটি মূলত বৈষ্ণব পদাবলীর ঢঙে লেখা একগুচ্ছ কবিতা নিয়ে গঠিত। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কৈশোরকালে বৈষ্ণব সাহিত্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই কবিতাগুলো লেখেন, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা, বিরহ ও মিলনকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে। এটি বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রাথমিক কাব্যপ্রতিভার এক অনন্য নিদর্শন এবং একটি স্বতন্ত্র সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
394
উত্তরঃ চর্যাপদ

প্রাচীন যুগে রচিত বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নিশ্চিত নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজকীয় গ্রন্থশালা থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন, যা ১৯১৬ সালে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে প্রকাশিত হয়।

চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের রচিত কিছু গান বা কবিতা, যা তাদের ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তাভাবনা প্রকাশ করে। এর ভাষা প্রাচীন বাংলা ভাষারূপের একটি উদাহরণ এবং এটি আধুনিক বাংলা ভাষার উদ্ভবের প্রথম ধাপ নির্দেশ করে। চর্যাপদের রচয়িতাদের মধ্যে লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা, শবরীপা, সরহপা প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। চর্যাপদ শুধুমাত্র বাংলা সাহিত্যেরই নয়, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
368
উত্তরঃ

কাজী নজরুল ইসলামের 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসের মূলবক্তব্য তৎকালীন গ্রাম বাংলার মুসলিম সমাজের অবহেলিত মানুষের জীবনসংগ্রাম, দারিদ্র্য ও কুসংস্কারের চিত্র তুলে ধরা। এটি মূলত শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, সামাজিক অবিচার এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এক সাহসী প্রতিবাদ। উপন্যাসে প্রেম, আত্মত্যাগ এবং মানবিক সম্পর্কের জটিলতার পাশাপাশি সাম্যবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে, যেখানে নারীর সংগ্রাম বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।


'মৃত্যুক্ষুধা' (১৯৩০) কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় উপন্যাস এবং এটি তাঁর সাম্যবাদী ভাবধারা ও গণমানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই উপন্যাসের পটভূমি হলো হুগলি জেলার মুসলিম অধ্যুষিত একটি গ্রামীণ জনপদ, যেখানে অভাবী ও শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবন, তাদের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সামাজিক শোষণ ও বঞ্চনা নিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আনসার ও মেজোবৌয়ের প্রেম, তাদের চারপাশের মানুষের জীবনযুদ্ধ, এবং তৎকালীন সমাজে প্রচলিত ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদী মনোভাব মূল উপজীব্য। নজরুল দেখিয়েছেন কীভাবে ক্ষুধা মানুষের নীতি-নৈতিকতাকে প্রভাবিত করে এবং কীভাবে মানুষ চরম সংকটের মুখেও মানবিকতা ও প্রেমকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে।

বিশেষ করে, উপন্যাসে নারীর অর্থনৈতিক বঞ্চনা, সামাজিক নির্যাতন এবং তাদের আত্মমর্যাদা রক্ষার সংগ্রামকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র একটি প্রেমকাহিনী নয়, বরং এটি শ্রেণি-সংগ্রাম, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং শোষিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার এক শক্তিশালী সাহিত্যিক দলিল।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
503
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews