আসনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আসনের ফলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সবল হয়। মাংসপেশির পুষ্টি, সাধন হয়। শরীর সুস্থ থাকে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে। যার ফলে সঠিকভাবে কাজকর্ম পরিচালনার পাশাপাশি ধর্ম সাধনায় মনোনিবেশ করা যায়।
বজ্রাসনের প্রণালি হচ্ছে- এ আসনে দুই হাঁটু ভেঙে বসতে হয়। পায়ের পাতার উপরের পিঠ নরম কম্বলের উপর রাখতে হয়। শরীরের পশ্চাৎভাগ দুই গোড়ালির উপর রেখে সোজা হয়ে বসতে হয়। হাত দুটি রাখতে হয় সোজা করে দুই হাঁটুর উপর। এই অবস্থায় গুহ্যদ্বার যাতে দুই গোড়ালির মাঝখানে থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রথম প্রথম এই আসন ৩০ সেকেন্ড করে ৪ বার অভ্যাস করতে হবে।
বজ্রাসনের ফলে আমাদের অনেক উপকার হয়। যেমন-দেহের নিম্নভাগের স্নায়ু ও-পেশি বজ্রের মতো কঠিন ও মজবুত হয়। বজ্রাসন করলে সায়টিকা, পায়ের বাত ইত্যাদি হয় না। ভুক্তদ্রব্য সহজে পরিপাক হয়। অজীর্ণ রোগীদের আহারের পর এই অভ্যাস করা অত্যন্ত ফলপ্রদ।
পদহস্তাসনের প্রণালি হচ্ছে- এই আসনে প্রথমে পা দুটি জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এবার দম নিতে নিতে কোমড় থেকে শরীরের উপরের অংশ সামনে বাঁকাতে হবে। এ অবস্থায় দুহাতের তালু দু-পায়ের দু-পাশে মাটিতে থাকবে। আর কপাল হাঁটুতে ঠেকিয়ে রাখতে হবে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে দম নিতে হবে এবং ছাড়তে হবে। এই আসন করার সময় হাঁটু সোজা রাখতে হবে। ৫-১০ সেকেন্ড এভাবে থাকতে হবে।
পদহস্তাসন আমাদের অনেক উপকার করে। এ আসন পদ ও হস্তের পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। এই আসনে তলপেটের সংকোচন হয়। ফলে পাকস্থলি, যকৃৎ, পাচনতন্ত্র, মূত্রাশয় পুষ্ট হয়। এতে কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, বহুমূত্র প্রভৃতি রোগ দূর হয়। এছাড়া ক্ষুধা বৃদ্ধি, মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ে এবং রক্তস্বল্পতা নিরাময় হয়। এজন্য আমরা পদহস্তাসন অনুশীলন করব।
আসন হলো যোগব্যায়ামের বিভিন্ন পতি। যোগব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকে ও কর্মক্ষমতা বাড়ে।
আমরা যে কারণে পদহস্তাসন অনুশীলন করব তা নিম্নরূপ-
১. এ আসনে পদ ও হস্তের পেশি ও স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ থাকে।
২. এ আসনে তলপেটের সংকোচন হয়।
৩. এ আসনে কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, বহুমূত্র প্রভৃতি রোগ দূর হয়।
৪. এ আসনে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় এবং মেরুদন্ডের নমনীয়তা বাড়ে।
৫. এ আসনে রক্তস্বল্পতা নিরাময় হয়।
আসন অনুশীলনে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সরল হয়। মাংসপেশির পুষ্টি সাধন হয়। শরীর সুস্থ থাকে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে। যার ফলে সঠিকভাবে কাজকর্ম করার পাশাপাশি ধর্মসাধনায় মনোনিবেশ করা যায়।
প্রাচীনকালের মুনি-ঋষিরা যে কারণে যোগব্যায়াম অনুশীলন করতেন তা হলো-
১. যোগব্যায়াম শরীরের জন্যই খুবই উপকারী।
২. যোগব্যায়ামে শরীর সুস্থ থাকে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে।
৩. ধর্মচর্চা করতে গেলেও এ দুটি বিষয়ের নিতান্ত প্রয়োজন।
৪. একথা প্রাচীনকালের মুনি-ঋষিরাও বুঝতে পেরেছিলেন বলে তাঁরা যোগব্যায়ামের বিভিন্ন আসন ও মুদ্রা অভ্যাস করতে আরম্ভ করেন।
৫. যোগব্যায়াম করে তাঁরা শারীরিক সুস্থতা অর্জনের পাশাপাশি ধর্মসাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন।
Related Question
View Allআসনে শরীর সুস্থ থাকে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে।
শীর্ষাসন মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।
বজ্রাসনে হাঁটু দুইটি ভেঙে বসতে হয়।
পা দুইটি জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
পদহস্তাসনে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।
আসন হলো যোগব্যায়ামের বিভিন্ন পদ্ধতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!