উত্তরঃ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

বড়ু চণ্ডীদাস ছিলেন মধ্যযুগের আদি নিদর্শন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, যা রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা এবং বিরহ নিয়ে রচিত। কাব্যটি ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়ার কাকিল্যা গ্রামের জনৈক দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে আবিষ্কার করেন। কাব্যটি আবিষ্কারের পর এর নাম রাখা হয় "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন"।

এই কাব্য মধ্যযুগের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিবর্তনে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। এতে তৎকালীন সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। এর ভাষা প্রাচীন বাংলা এবং এতে তৎসম, অর্ধ-তৎসম ও দেশি শব্দের ব্যবহার লক্ষণীয়, যা মধ্যযুগের বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ যুগবাণী, বিষের বাঁশী, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা, চন্দ্রবিন্দু, রুদ্রমঙ্গল, দুর্দিনের যাত্রী।

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক কণ্ঠস্বর। তাঁর সাহিত্যকর্ম, বিশেষ করে কবিতা ও গানে, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান এবং বিদ্রোহের সুর স্পষ্টভাবে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার নজরুলের বিপ্লবী চেতনার এই প্রকাশকে নিজেদের শাসনের জন্য হুমকি মনে করত। ফলস্বরূপ, তাঁর বেশ কয়েকটি গ্রন্থ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯২২ সালে প্রকাশিত প্রবন্ধ সংকলন 'যুগবাণী', যা রাজনৈতিক প্রবন্ধের জন্য নিষিদ্ধ হয়। ১৯২৪ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'বিষের বাঁশী' ও 'ভাঙার গান' ব্রিটিশবিরোধী পরাধীনতার তীব্র প্রতিবাদ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করায় নিষিদ্ধ হয়। এছাড়া, ১৯২৯ সালে প্রকাশিত 'চন্দ্রবিন্দু' এবং ১৯৩০ সালে প্রকাশিত 'প্রলয় শিখা' কাব্যগ্রন্থও একই কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। নজরুলের এই গ্রন্থগুলো পরাধীন ভারতে মুক্তিকামী মানুষের মনে দারুণ প্রভাব ফেলেছিল এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ সতী ময়না ও লোরামতি

দৌলত কাজী সপ্তদশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি। তিনি আরাকানের (রোসাং) অমাত্য আশরাফ খানের সভাকবি ছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো "সতী ময়না ও লোরামতি"

এটি মূলত হিন্দি কবি সাধনের "ময়নামত" বা "মৈনা ও লোরা" কাব্যের বঙ্গানুবাদ বা আংশিক ছায়া অবলম্বনে রচিত একটি প্রণয় কাব্য। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, কারণ এটি প্রথম দিকের মুসলমান প্রণয় কাব্যগুলির মধ্যে অন্যতম। দৌলত কাজী কাব্যটি সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি; তাঁর মৃত্যুর পর মহাকবি আলাওল কাব্যটির অসমাপ্ত অংশ সমাপ্ত করেন। এই কাব্যটিতে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণ দেখা যায় এবং এর ভাষা ও বর্ণনাশৈলী অনন্য।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

বনলতা সেন, ধূসর পাণ্ডুলিপি, মহাপৃথিবী


জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি। তিনি বাংলা কবিতায় এক নতুন দিক উন্মোচন করেন এবং তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, নিঃসঙ্গতা ও মৃত্যুচেতনা বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাঁকে "রূপসী বাংলার কবি" নামেও অভিহিত করা হয়। তাঁর স্বতন্ত্র কাব্যভাষা ও চিত্রকল্প বাংলা কবিতায় এক নতুন দিগন্ত এনে দেয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:

        
  • ঝরা পালক (১৯২৭)
  •     
  • ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬)
  •     
  • বনলতা সেন (১৯৪২)
  •     
  • মহাপৃথিবী (১৯৪৪)
  •     
  • সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
  •     
  • রূপসী বাংলা (১৯৫৭, মরণোত্তর)
  •     
  • বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১, মরণোত্তর)
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনা করেন। এটি ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয় এবং তাঁর প্রধান উপন্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই উপন্যাসের মাধ্যমে শরৎচন্দ্র বাঙালি সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ, সামাজিক রীতিনীতি এবং মানব মনের জটিল সম্পর্কগুলোকে অত্যন্ত গভীর ও সংবেদনশীলভাবে চিত্রিত করেছেন।

উপন্যাসটি সতীশ, সাবিত্রী, কিরণময়ী এবং সরোজিনীর মতো চরিত্রগুলোর জীবন, প্রেম, বিরহ, ত্যাগ ও সামাজিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে। শরৎচন্দ্র তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তৎকালীন সমাজের নারীর অবস্থান, তাদের আত্মসম্মান এবং প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রামের বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেছেন, যা তাঁকে বাংলা সাহিত্যে এক স্বতন্ত্র স্থান এনে দিয়েছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম 'প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে', যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬০ সালে। এই কাব্যগ্রন্থটি তার কাব্যপ্রতিভার উন্মোচন করে এবং তাকে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার ধারার একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিভূ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই সংকলনের কবিতাগুলোতে রোমান্টিক সংবেদনশীলতা, নাগরিক জীবনের বিচ্ছিন্নতা এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীর প্রকাশ দেখা যায়, যা পরবর্তীকালে তার কাব্যের মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উপন্যাস: আগুনের পরশমণি
নাটক: পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
স্মৃতিকথা: একাত্তরের দিনগুলি


বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য সাহিত্যকর্ম রচিত হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় জীবনে এই ঐতিহাসিক ঘটনার তাৎপর্য ফুটিয়ে তোলে। নিচে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিছু উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের নাম উল্লেখ করা হলো:

        
  • উপন্যাস:         
                  
    • আগুনের পরশমণি (হুমায়ূন আহমেদ)
    •             
    • হাঙর নদী গ্রেনেড (সেলিনা হোসেন)
    •             
    • দেয়াল (হুমায়ূন আহমেদ)
    •             
    • আমার আছে জল (হুমায়ূন আহমেদ)
    •             
    • রাইফেল রোটি আওরাত (আনোয়ার পাশা)
    •             
    • নেকড়ে অরণ্য (শওকত ওসমান)
    •             
    • জাহান্নাম হইতে বিদায় (শওকত ওসমান)
    •             
    • দুই সৈনিক (শওকত ওসমান)
    •         
        
  •     
  • নাটক:         
                  
    • পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (সৈয়দ শামসুল হক)
    •             
    • কোকিলারা (মামুনুর রশীদ)
    •             
    • বধ্যভূমির সর্বশেষ চিঠি (আরণ্যক নাট্যদল)
    •             
    • বর্ণচোরা (এস.এম. সোলায়মান)
    •         
        
  •     
  • স্মৃতিকথা:         
                  
    • একাত্তরের দিনগুলি (জাহানারা ইমাম)
    •             
    • আমি বীরাঙ্গনা বলছি (নীলিমা ইব্রাহিম)
    •             
    • যুদ্ধদিনের কথা (সুফিয়া কামাল)
    •             
    • একাত্তরের ডায়েরি (বেগম সুফিয়া কামাল)
    •             
    • আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো (জহির রায়হান, মরণোত্তর প্রকাশিত)
    •             
    • ১৯৭১: ভেতরের চোখে দেখা (লুৎফর রহমান রিটন)
    •         
        

এই সাহিত্যকর্মগুলো মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যত প্রজন্মকে এই ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ও উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ মুহম্মদ আকরাম খাঁ, মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন ও নূরজাহান বেগম

প্রদত্ত পত্রিকাগুলোর সম্পাদকের নাম নিচে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হলো:

        
  • মাসিক মোহাম্মদী: এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মুহম্মদ আকরাম খাঁ। এটি ১৯২৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং তৎকালীন মুসলিম সমাজের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  •     
  • সওগাত: মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন ছিলেন 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক। ১৯১৮ সালে মাসিক হিসেবে এটি আত্মপ্রকাশ করে এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের মুসলিম লেখকদের জন্য একটি শক্তিশালী মঞ্চ তৈরি করে। এর মাধ্যমে বহু প্রতিভাবান লেখক পরিচিতি লাভ করেন।
  •     
  • পাক্ষিক বেগম: এই নারীবিষয়ক পত্রিকার সম্পাদিকা ছিলেন নূরজাহান বেগম। ১৯৪৭ সালে এর প্রথম প্রকাশ হয় এবং ১৯৪৯ সাল থেকে নূরজাহান বেগম এর সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 'বেগম' পত্রিকা বাংলাদেশের নারী জাগরণ ও নারী লেখকদের বিকাশে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে।
Satt AI
Satt AI
4 weeks ago
উত্তরঃ গিরিশচন্দ্র সেন

পবিত্র কুরআন শরীফের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা গদ্যানুবাদ করেন গিরিশচন্দ্র সেন। তাঁর এই অনুবাদ ১৮৮১ থেকে ১৮৮৬ সালের মধ্যে প্রকাশিত হয়। এটি ছিল বাংলা সাহিত্যের একটি মাইলফলক, যা বাংলাভাষী মুসলমানদের জন্য কুরআনের অর্থ অনুধাবনের পথ সুগম করে। গিরিশচন্দ্র সেন মূলত একজন ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী ছিলেন, কিন্তু ইসলাম ধর্ম ও নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন। তাঁর এই কাজের জন্য তিনি 'ভাই গিরিশচন্দ্র' নামেও পরিচিত।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
233

পৃথিবীর প্রথম সংবাদপত্র ১৫৬০ সালে জার্মান থেকে প্রকাশিত হয়। ১৭০২ সালে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয় বিশ্বের প্রথম দৈনিক পত্রিকা। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ সরকার ১৭৯৫ সালে পত্র-পত্রিকায় প্রথম সেন্সর প্রথা চালু করে।

Key Notes:

  • ভারতবর্ষের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্রের নামঃ জেমস্ অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট' (১৭৮০)। এটি ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়।
  • বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত 'দিগদর্শন' (১৮১৮)।
  • বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত 'সমাচার দর্পণ' (১৮১৮)। এটি সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হয়।
  • বাঙালি কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত 'বাঙ্গাল গেজেট' (১৮১৮)।
  • বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত 'সংবাদ প্রভাকর'। সাপ্তাহিক হিসেরে ১৮৩১ সালে এবং দৈনিক হিসেবে ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।
  • মুসলমান কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা শেখ আলিমুল্লাহ সম্পাদিত 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' (১৮৩১)
  • বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র গুরুচরণ রায় সম্পাদিত 'রংপুর বার্তাবহ' (১৮৪৭)।
  • ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত 'ঢাকা প্রকাশ' (১৮৬১)।

সাময়িকী/সংবাদপত্র

প্রকাশকাল

সম্পাদক

টীকাভাষ্য

বেঙ্গল গেজেট১৭৮০জেমস অগাস্টাস হিকিভারতবর্ষের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র (ইংরেজিতে)।
দিগদর্শন১৮১৮জন ক্লার্ক মার্শম্যানবাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র।
সমাচার দর্পণ১৮১৮জন ক্লার্ক মার্শম্যানবাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র (সাপ্তাহিক)।
বাঙ্গাল গেজেট১৮১৮গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যবাঙালি কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
সম্বাদ কৌমুদী১৮২১রাজা রামমোহন রায়সামাজিক কুসংস্কার অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশিত হত।
ব্রাহ্মণসেবধি১৮২১
পশ্বাবলী১৮২২বেভারেন্ড লঙ-
সমাচার চন্দ্রিকা১৮২২ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়-
বঙ্গদূত১৮২৯নীলমণি হালদার-
সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক)১৮৩১ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তবাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র।
সংবাদ প্রভাকর (দৈনিক)১৮৩৯
সমাচার সভারাজেন্দ্র১৮৩১শেখ আলিমুল্লাহমুসলমান কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
জ্ঞানান্বেষণ১৮৩১দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়'ইয়ংবেঙ্গল' গোষ্ঠীর মুখপত্র।
তত্ত্ববোধিনী১৮৪৩অক্ষয়কুমার দত্ততত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
রংপুর বার্তাবহ১৮৪৭গুরুচরণ রায়বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
ঢাকা প্রকাশ১৮৬১কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা১৮৬৩কাঙাল হরিনাথকুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র।
বঙ্গদর্শন১৮৭২বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়বাংলা গদ্যের বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
ভারতী১৮৭৭দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর-
সুধাকর১৮৮৯শেখ আব্দুর রহিমমুসলমানদের মহিমা, তত্ত্ব, জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয় এতে আলোচিত হতো
মিহির১৮৯২
হাফেজ১৮৯৭
কোহিনুর১৮৯৮মো: ইয়াকুব আলী চৌধুরীকুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র।
সবুজপত্র১৯১৪প্রমথ চৌধুরীবাংলা সাহিত্যে চলিত রীতি প্রচলনে অবদান রাখে।
সওগাত১৯১৮মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন

১৯২৬ সালে এটি সওগাত নবপর্যায় নামে প্রকাশিত হতে থাকে।

১৯৫২ সাল থেকে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।

মোসলেম ভারত১৯২০মোজাম্মেল হককাজী নজরুলের কাব্য খ্যাতিতে এটি অবদান রাখে।
আঙ্গুর১৯২০ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকিশোর পত্রিকা।
ধূমকেতু১৯২২কাজী নজরুল ইসলামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ পত্রিকায় অভিনন্দন বাণী পাঠিয়েছেন।
লাঙল১৯২৫-
নবযুগ১৯৪১১৯২০ সালে মুজাফফর আহমদ সহযোগে প্রথম প্রকাশিত।
কল্লোল১৯২৩দীনেশরঞ্জন দাশএ পত্রিকাকে ঘিরে একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরি হয়েছিল।
কালিকলম১৯২৬প্রেমেন্দ্র মিত্রকলকাতা থেকে প্রকাশিত সচিত্র মাসিক পত্রিকা।
মাসিক মোহাম্মদী১৯২৭মো: আকরম খাঁ-
শিখা১৯২৭আবুল হোসেন'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের মুখপত্র রূপে প্রকাশিত।
পূর্বাশা১৯৩২সঞ্জয় ভট্টাচার্য-
কবিতা১৯৩৫বুদ্ধদেব বসুত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
দৈনিক আজাদ১৯৩৬মো: আকরম খাঁকলকাতা থেকে প্রকাশিত।
চতুরঙ্গ১৯৩৯হুমায়ুন কবিরঢাকা থেকে প্রকাশিত।
ক্রান্তি১৯৪০রণেশ দাশগুপ্তঢাকা থেকে প্রকাশিত।
বেগম (সাপ্তাহিক)১৯৪৭সুফিয়া কামাল (প্রথম), নুরজাহান বেগমমহিলা সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা।
সমকাল১৯৫৭সিকান্দার আবু জাফরতৎকালীন সময়ের ঢাকার প্রভাবশালী পত্রিকা।
কন্ঠস্বর১৯৬৫আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ-
কালবেলা১৯৬৫জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত-
স্বদেশ১৯৬৯আহমদ ছফা-
শিলালিপি১৯৬৯সেলিনা পারভীন-
শিল্পকলা১৯৭০আবদুল মান্নান সৈয়দ-
কণ্ঠস্বর-আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-
উত্তরাধিকার১৯৭৩এটি বাংলা একাডেমি'র সৃষ্টিশীল সাহিত্যপত্র। ১৯৭৩ সালে মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু হলেও ১৯৮৩ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকায় রূপান্তরিত হয়। ২০০৯ সালে আবার মাসিক পত্রিকা হিসেবে নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। পরে আবারও ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয়।
ধানশালিকের দেশ১৯৭৩এটি কিশোরদের জন্য প্রকাশিত বাংলা একাডেমি'র ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
লোকায়ত১৯৯০১৯৯০ সালে হুগলি জেলার শ্রীরামপুর স্টেশনের ডাউন প্লাটফর্মের হাতে লেখা দেয়াল পত্রিকা 'লোকায়ত'র শুরু। ১৯৯২ সালে মুদ্রিত আকারে আত্মপ্রকাশ।
নারীশক্তি-ডা. লুৎফর রহমাননারী সমাজের প্রগতির লক্ষ্যে প্রকাশিত।
ইত্তেফাক-তফাজ্জল হোসেন (মানিক মিয়া)-
সাহিত্য পত্রিকাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা বিভাগ)।
ভাষা সাহিত্যপত্রজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা বিভাগ)।
সাহিত্যিকীরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা বিভাগ)।
আধুনিক যুগের সূচনায় পত্র-পত্রিকার ভূমিকা:

বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনার অন্যতম অনুষঙ্গ ছিলো পত্র-পত্রিকা। আধুনিক যুগের প্রতিভূ হলো গদ্য সাহিত্য। প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিষয় ছিল ধর্ম অথবা রাজবন্দনা আর আঙ্গিকে ছিল কেবলই কবিতা। আর গদ্যের বিকাশের সাথে সাথে বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা ঘটে। শ্রীরামপুরের খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকগণ ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ বাংলা গদ্যের উন্নতিকল্পে প্রভূত পরিশ্রম করে ভূমিকর্ষণ করেছিলেন। সেই কর্ষিত ভূমিতে ফসল ফলানোর উপযোগী আলো-হাওয়া ও জলসিঞ্চনের ব্যবস্থা করেছিল পত্র-পত্রিকাগুলো। এসব সাময়িকপত্র যদি যথাসময়ে গদ্যভাষার বাহন না হয়ে উঠতো, তাহলে বাংলা গদ্য সাহিত্য এতো দ্রুত সমৃদ্ধি লাভ করতো না এবং আধুনিক যুগের সূচনা আরও প্রলম্বিত হতো। তাই গদ্যরীতি গঠনে ও গদ্যসাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনে পত্র-পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য। বিভিন্ন পত্রিকাগোষ্ঠীকে অবলম্বন করেই সেকালে প্রতিভাবান সাহিত্যিকেরা জাতীয় সাহিত্যের ভান্ডার সমৃদ্ধ করে বাংলা সাহিত্যে নতুন রাগিণীর সূচনা ঘটান, যা আধুনিক যুগের সূচনাকে ত্বরান্বিত করে। ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে বাংলা মাসিকপত্র হিসেবে মিশনারিদের পক্ষ থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় 'দিকদর্শন' প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় ব্যবহৃত গদ্যভাষা খুব স্বচ্ছন্দ না হলেও সহজবোধ্য ছিলো, যা গদ্য সাহিত্য বিকাশে ভূমিকা রাখে। ১৮১৮ সালের মে মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় 'সমাচার দর্পণ' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার লেখার ভাষায় সারল্য, তথ্যবোধ ও মাত্রাজ্ঞান বিদ্যমান ছিল। ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নববাবু বিলাস' ও 'নববিবি বিলাস', প্যারীচাঁদ মিত্র ও কালীপ্রসন্ন সিংহের লেখা 'বাবু-বৃত্তান্ত' এর সূচনা এ পত্রিকাতেই। ড. সুকুমার সেন বলেন, 'সাধারণ বাঙ্গালী পাঠক খবরের কাগজের রস এই প্রথম আস্বাদন করিল এবং তাহাতে বাঙ্গালা গদ্যের ঘরোয়া পরিচয়ের সুযোগ লাভ করিল। ………. এই সাময়িকপত্রের মধ্যে অনুশীলিত হইয়াই বাংলা গদ্যের জড়তামুক্তি ঘটিয়াছিল।' রাজা রামমোহন রায়ের সম্পাদনায় ১৮২১ সালে প্রকাশিত হয় 'সম্বাদ কৌমুদী' ও 'ব্রাহ্মণসেবধি' পত্রিকা। এ পত্রিকায় রামমোহন রায় ও অন্যান্য পণ্ডিতগণ লেখালেখি করতেন, যা বাংলা গদ্যসাহিত্য বিকাশের পথ খানিকটা অগ্রসর হয়। বাংলা গদ্য সাহিত্যকে শিশু থেকে যৌবনপ্রাপ্ত করার বিশেষ সহযোগী হিসেবে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা ১৮৩১ সালে প্রথমে সাপ্তাহিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ১৮৩৯ সালে দৈনিকরূপে প্রকাশিত হয়। দীনবন্ধু মিত্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ মূলত এ পত্রিকার মাধ্যমে শুরু হয়। এ পত্রিকা দীর্ঘকাল পাঠকের কাছে নানা ধরনের সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সাহিত্যরস পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করে এসেছিল, যা গদ্যসাহিত্য পরিপূর্ণ বিকাশের পথে সবেগে ধাবিত হয়। এছাড়াও ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর 'জ্ঞানান্বেষণ', অক্ষয়কুমার দত্ত সম্পাদিত 'তত্ত্ববোধিনী', প্যারীচাঁদ মিত্রের 'মাসিক পত্রিকা', রাজেন্দ্রলাল মিত্রের 'বিবিধার্থ সংগ্রহ' প্রভৃতি পত্রিকা বাংলা গদ্যের বিকাশের পথকে মসৃণ করে এবং এর ফলে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনাপর্বের সগৌরবে উন্মেষ ঘটে। পরবর্তীতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'বঙ্গদর্শন', দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত 'ভারতী' এবং সর্বশেষ প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকা বাংলা গদ্যরীতির বিকাশের মাধ্যমে আধুনিক যুগের পূর্ণতা দানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Related Question

View All
উত্তরঃ চণ্ডীদাস

“সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” এই বিখ্যাত উক্তিটি মধ্যযুগের বিখ্যাত বাঙালি কবি চণ্ডীদাসের বাণী হিসেবে পরিচিত। এই উক্তিটির মাধ্যমে মানবধর্মকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে, যেখানে মানুষ এবং মানবতাই সবকিছুর ঊর্ধ্বে বলে বিবেচিত। এটি তৎকালীন সমাজের ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং ভেদাভেদের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ ছিল এবং মানবতাবাদী চিন্তাধারার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। চণ্ডীদাস মূলত বৈষ্ণব পদাবলী রচনার জন্য বিখ্যাত, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার মাধ্যমে মানবপ্রেম ও ঈশ্বরপ্রেমের গভীর সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
565
উত্তরঃ

দৌলত উজির বাহরাম খান। এটি অনুবাদকাব্য।


বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় রোমান্টিক কাব্য 'লাইলী-মজনু'-এর রচয়িতা হলেন দৌলত উজির বাহরাম খান। তিনি ১৫শ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে ১৬শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আবির্ভূত একজন কবি ছিলেন।

এই কাব্যটি মৌলিক নয়, বরং ফারসি কবি نظامی গঞ্জভীর (Nizami Ganjavi) বিখ্যাত 'লাইলী ও মজনু' মহাকাব্যের বঙ্গানুবাদ। যদিও এটি একটি অনুবাদকর্ম, তবে বাহরাম খান মূল ফারসি কাহিনীকে অনুসরণ করলেও, তিনি এতে বাঙালি সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন উপাদান যুক্ত করে এটিকে নিজস্ব ঢঙে উপস্থাপন করেছেন, যা এটিকে বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বতন্ত্র স্থান দিয়েছে। এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক কাব্য হিসেবে পরিচিত।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
612
উত্তরঃ

আটচল্লিশ থেকে বায়ান্ন সালের বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের এক স্বতঃস্ফূর্ত এবং ঐতিহাসিক আন্দোলন, যা মাতৃভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে গড়ে ওঠে। এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটাতে এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বপন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।


ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস (১৯৪৮-১৯৫২)

পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই ভাষার প্রশ্নটি জোরালো হয়ে ওঠে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধেই গড়ে ওঠে মহান ভাষা আন্দোলন।

        
  • ১৯৪৮ সালের সূচনা:         
                  
    • ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮: পাকিস্তান গণপরিষদে কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়।
    •             
    • ২ মার্চ ১৯৪৮: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
    •             
    • ১১ মার্চ ১৯৪৮: রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সমাবেশ পালন করে। এদিন শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
    •             
    • ২১ মার্চ ১৯৪৮: ঢাকার কার্জন হলে এক জনসভায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন, "উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।" উপস্থিত ছাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ করে 'না, না' ধ্বনি তোলেন।
    •         
        
  •     
  • ১৯৪৯-১৯৫১ সালের স্থবিরতা ও প্রস্তুতি:         
                  
    • ১৯৪৮ সালের পর আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হলেও বাঙালি বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক ও ছাত্ররা গোপনে এবং প্রকাশ্যে বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গঠন অব্যাহত রাখেন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
    •         
        
  •     
  • ১৯৫২ সালের চূড়ান্ত পর্যায়:         
                  
    • ২৭ জানুয়ারি ১৯৫২: তৎকালীন পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ঘোষণা করেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এই ঘোষণা নতুন করে আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ প্রজ্বলিত করে তোলে।
    •             
    • ৩০ জানুয়ারি ১৯৫২: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট পালিত হয় এবং 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ' গঠিত হয়।
    •             
    • ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২: ছাত্ররা ঢাকায় ধর্মঘট ও প্রতিবাদ মিছিল করে। কর্মপরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ধর্মঘট এবং রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের ঘোষণা দেয়।
    •             
    • ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২: সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে যেকোনো ধরনের সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে।
    •             
    • ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২: ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আবুল বরকত, আব্দুল জব্বার এবং শফিউর রহমানসহ (পরবর্তীকালে আহত হয়ে মারা যান) আরও অনেকে শহীদ হন। এই ঘটনা পুরো পূর্ব পাকিস্তানকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে।
    •             
    • ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২: সারাদেশে হরতাল ও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে। সেদিনও পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হন। শহীদদের স্মৃতিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
    •         
        
  •     
  • ফলাফল: ভাষা আন্দোলনের তীব্রতা ও জনমতের চাপে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ভাষা আন্দোলনের রচয়িতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

ভাষা আন্দোলনের "রচয়িতা" বলতে শুধু সাহিত্যিকদের বোঝায় না, বরং আন্দোলনকে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সংগঠিত করেছেন এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির মাধ্যমে আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ ও প্রসারিত করেছেন, তাদেরও বোঝায়।

        
  • আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ও সংগঠকগণ:         
                  
    • ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত: ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলেন।
    •             
    • শেখ মুজিবুর রহমান: ১৯৪৮ সালের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সংগঠক ও নেতৃত্বদানকারী।
    •             
    • আবুল কাশেম: তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা এবং ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক সংগঠকদের অন্যতম।
    •             
    • শামসুল হক: ১৯৪৮ সালের 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'-এর আহ্বায়ক।
    •             
    • অলি আহাদ, গাজীউল হক, আবদুল মতিন: ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতা ও সংগঠক।
    •             
    • অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, আহমদ রফিক: ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও গবেষক।
    •         
        
  •     
  • ভাষা শহীদগণ:         
                  
    • আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আবুল বরকত, আব্দুল জব্বার, শফিউর রহমান: ১৯৫২ সালের ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি শাহাদাতবরণকারী।
    •         
        
  •     
  • সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব (আন্দোলনের চেতনা ধারণকারী):         
                  
    • আবদুল গাফফার চৌধুরী: অমর একুশের গান "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" এর রচয়িতা।
    •             
    • মুনীর চৌধুরী: ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক "কবর" এর রচয়িতা।
    •             
    • জহির রায়হান: ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস "আরেক ফাল্গুন" এর রচয়িতা এবং চলচ্চিত্র "জীবন থেকে নেয়া" এর নির্মাতা।
    •             
    • আলাউদ্দিন আল আজাদ: ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কালজয়ী কবিতা "স্মৃতির মিনার" এবং উপন্যাস "তেইশ নম্বর তৈলচিত্র"-এ আন্দোলনের প্রভাব ছিল।
    •             
    • আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ: "কোনো এক মাকে" কবিতায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
    •             
    • সৈয়দ শামসুল হক: তাঁর অনেক রচনায় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিদ্যমান।
    •         
        
Satt AI
Satt AI
1 month ago
521
উত্তরঃ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য

বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান কবি। তাঁর রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়ার কাকিল্যা গ্রাম থেকে একটি গোয়ালঘর থেকে আবিষ্কার করেন।

এই কাব্যের মূল বিষয়বস্তু হলো রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলা। বৈষ্ণব পদাবলির পূর্বসূরী হিসেবে এই কাব্যটির ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক গুরুত্ব অপরিসীম। চণ্ডীদাস মূলত তিনজন — বড়ু চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস এবং দ্বিজ চণ্ডীদাস— যাদের মধ্যে বড়ু চণ্ডীদাসকেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি প্রাক-চৈতন্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং বাংলা ভাষার বিবর্তন অধ্যয়নের জন্য এটি অত্যন্ত মূল্যবান উপাদান।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
411
উত্তরঃ বনলতা সেন, রূপসী বাংলা, ধূসর পাণ্ডুলিপি

জীবনানন্দ দাস (১৮৯৯-১৯৫৪) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান আধুনিক কবি। তাঁকে 'রূপসী বাংলার কবি' বা 'নির্জনতার কবি' নামেও অভিহিত করা হয়। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, মৃত্যুচেতনা এবং ঐতিহাসিকতা এক বিশেষ শৈলীতে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬), বনলতা সেন (১৯৪২), মহাপৃথিবী (১৯৪৪), সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮), রূপসী বাংলা (১৯৫৭, মরণোত্তর প্রকাশিত) এবং বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১, মরণোত্তর প্রকাশিত)। বাংলা কাব্যে তাঁর অবদান অপরিসীম, যা তাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
391
উত্তরঃ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

বড়ু চণ্ডীদাস ছিলেন মধ্যযুগের আদি নিদর্শন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, যা রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা এবং বিরহ নিয়ে রচিত। কাব্যটি ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়ার কাকিল্যা গ্রামের জনৈক দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে আবিষ্কার করেন। কাব্যটি আবিষ্কারের পর এর নাম রাখা হয় "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন"।

এই কাব্য মধ্যযুগের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিবর্তনে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। এতে তৎকালীন সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। এর ভাষা প্রাচীন বাংলা এবং এতে তৎসম, অর্ধ-তৎসম ও দেশি শব্দের ব্যবহার লক্ষণীয়, যা মধ্যযুগের বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
329
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews