গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের। মোল পরমাণুর প্রতিটি বিচ্ছিন্ন পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ স্তরে অসীম দূরত্ব থেকে একটি করে । মোল ইলেকট্রন সংযোগ করে একে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করলে যে পরিমাণ শক্তি বিমুক্ত হয় তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে।
ক্রিপ্টন (Kr) এর ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ:
ইলেকট্রন বিন্যাস হতে দেখা যায়, ক্রিপ্টনের সর্বশেষ শক্তিস্তর এ ৮টি অর্থাৎ ৪র্থ শক্তিস্তর ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ এবং এটি এই শক্তিস্তরের জন্য অত্যন্ত স্থিতিশীল ইলেকট্রনীয় কাঠামো। ফলে ইলেকট্রন আদান-প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে যৌগ গঠনে আগ্রহ প্রকাশ করে না। তাই ক্রিপ্টন একটি নিস্ক্রিয় গ্যাস।
উদ্দীপকের A ও C হলো যথাক্রমে পটাসিয়াম (K) ও ক্লোরিন (CI)। পটাশিয়াম ক্ষার ধাতু এবং ক্লোরিন অত্যন্ত সক্রিয় অধাতু।
ধাতুসমূহ ইলেকট্রন ত্যাগ এবং অধাতুসমূহ ধাতু কর্তৃক বর্জনকৃত ইলেকট্রন গ্রহণ করে যথাক্রমে ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন গঠন করে। অর্থাৎ এখানে আয়নিক বন্ধন গঠিত হবে।
পটাশিয়াম ও ক্লোরিনের সংযোগে পটাসিয়াম ক্লোরাইডের গঠন:
নিকটতম আর্গন পরমাণুর (18Ar) ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের চেষ্টায় K পরমাণু তার সর্ববহিঃস্থ কক্ষের 4s অরবিটালের ইলেকট্রনটি ত্যাগ করে আয়নে পরিণত হয়। অন্যদিকে, ক্লোরিন তার নিকটতম নিস্ক্রিয় গ্যাস, আর্গন পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের চেষ্টায় ঐ বর্জিত ইলেকট্রনটি গ্রহণ করে CI- আয়নে পরিণত হয়। এভাবে উৎপন্ন দুটি বিপরীত তড়িৎগ্রস্থ আয়ন পরস্পরের সঙ্গে স্থির তড়িৎ আকর্ষণে যুক্ত হয়ে পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI) যৌগ গঠন করে।

চিত্র: KCI যৌগ গঠন
উদ্দীপকের বর্ণিত D মৌলটি যেহেতু ৩য় পর্যায়ে এবং এর সর্বশেষ কক্ষপথে 6 টি ইলেকট্রন বিদ্যমান সেহেতু মৌলটি S ও মৌলটির ইলেকট্রন বিন্যাস হবে

উপরিউক্ত ইলেকট্রন বিন্যাস হতে দেখা যায় যে 3p অরবিটালে 4টি ইলেকট্রন রয়েছে এখানে অযুগ্ম ইলেকট্রন সংখ্যা ২টি। আমরা জানি, পরমাণুর শেষ কক্ষপথে অযুগ্ন ইলেকট্রন সংখ্যাই তার যোজনী নির্দেশ করে। শেষ অরবিটালে অযুগ্ম ২টি ইলেকট্রন থাকায় এর যোজনী হয় 2 । যদি S কে উত্তেজিত করা হয় তবে 3p অরবিটালের যুগ্ম ইলেকট্রন ভেঙে 4s অরবিটালে প্রবেশ করবে। সেক্ষেত্রে এর ইলেকট্রন বিন্যাস হবে নিম্নরূপ:

উপরিউক্ত ইলেকট্রন বিন্যাস হতে দেখা যায় যে উত্তেজিত S এ অযুগ্ম ইলেকট্রন সংখ্যা হলো 4। অর্থাৎ এক্ষেত্রে, S এর যোজনী হবে 4।
S কে যদি আরও উত্তেজিত করা হয়, তখন 3s অরবিটালের যুগ্ম ইলেকট্রন ভেঙে যায় এবং 3d অরবিটালে প্রবেশ করে। তখন এর ইলেকট্রন বিন্যাস হয়:
এখানে, চটি অযুগ্ম ইলেকট্রন রয়েছে। সুতরাং, যোজনী 6।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, S এর যোজনী 2, 4 ও 6। অর্থাৎ S একাধিক যোজনী প্রদর্শন করতে পারে।
অপরদিকে উদ্দীপকের B মৌলটি পর্যায় সারণির ২য় পর্যায় ও গ্রুপ-16 তে অবস্থিত। তাই B মৌলটি O । অক্সিজেনের ইলেকট্রন বিন্যাস হলো-

ইলেকট্রন বিন্যাস হতে দেখা যায় যে, অক্সিজেনের 2p অরবিটালে 4টি ইলেকট্রন বিদ্যমান। এখানে অযুগ্ম ইলেকট্রন সংখ্যা দুইটি। আমরা জানি, পরমাণুর শেষ কক্ষপথে অযুগ্ম ইলেকট্রন সংখ্যাই তার যোজনী নির্দেশ করে। আবার ২য় কক্ষপথে d অরবিটাল না থাকায় ইলেকট্রন উত্তেজিত হয়ে 2s থেকে d তে প্রবেশ করতে পারে না ফলে এটি পরিবর্তনশীল যোজনী প্রদর্শন, করতে পারে না। ফলে অক্সিজেনের যোজনী 2।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, সালফার একাধিক যোজনী প্রদর্শন করলেও অক্সিজেন একাধিক যোজনী প্রদর্শন করে না।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!