ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে ২ সপ্তাহ বা ১৪ দিন সময় পর্যন্ত শিশুকে নবজাতক বলে।
বর্ধন ও বিকাশ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ও নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। বর্ধন হচ্ছে দৈহিক কাঠামোগত পরিবর্তন যা দৃশ্যমান এবং পরিমাপ করা যায়। বিকাশ হচ্ছে শিশুর গুণগত পরিবর্তন যা আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এক্ষেত্রে পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিকাশ শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, আবেগিক ও ভাষাগত দিক নিয়ে আবর্তিত হয়।
ফাহিম বিকাশের প্রারম্ভিক শৈশব স্তরে আছে। প্রারম্ভিক শৈশবকালের সময়সীমা ২ বছর থেকে ৬ বছর। এই বয়সী শিশুদের মানসিক ও ভাষার বিকাশ পরিবেশের ওপর নির্ভর করে।
প্রাথমিক শৈশবে শিশু সামাজিক চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুসারে আচরণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। তখন বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পায়। তারা নিজের খেলনা দিয়ে অন্য শিশুর সাথে খেলে। তবে আত্মকেন্দ্রিক স্বভাবের জন্য বেশি সময় ধরে একসাথে খেলতে পারে না। ফাহিমের বয়সী শিশুদের মধ্যে কেড়ে নেওয়া, ধাক্কা দেওয়া, মারামারি করা ইত্যাদি নেতিবাচক আচরণ দেখা যায়। এছাড়া এ সময় শিশুদের পরনির্ভরশীলতা হ্রাস পায়, খেলার সাথীর সাথে অসহযোগিতা করে। ফাহিম খুব চঞ্চল যা প্রাকশৈশব স্তরের শিশুদের একটি বৈশিষ্ট্য। সমবয়সীদের সাথে খেলতে পছন্দ করা আবার প্রায়ই মারামারি বেঁধে যাওয়া এ বয়সের অন্যতম সামাজিক বিকাশ।
নবজাতকের সুস্থতার বৈশিষ্ট্যসমূহ লক্ষ করে স্বাস্থ্যকর্মী ফাহিমের ভাইকে সুস্থ বলে অভিহিত করেন।
মাতৃগর্ভে ২৭০/২৮০ দিন অতিবাহিত করার পর শিশু জন্মগ্রহণ করে। শিশুর দৈহিক বিকাশধারায় স্বাতন্ত্র্য লক্ষ করা যায়। কতকগুলো বিকাশমূলক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করে শিশুকে সুস্থ বলা যায়।
জন্মের সময় নবজাতকের ওজন ২.৫ থেকে ৩.৫ কেজি থাকে। জন্মের পর দৈহিক বিকাশের হার পরবর্তী সময়ের তুলনায় দ্রুত হয়। জন্মের পর প্রথম দুই সপ্তাহে ওজন কিছুটা হ্রাস পেলেও দুই সপ্তাহ পর থেকে আবার বাড়তে থাকে।
স্বাস্থ্যকর্মী নবাজতকের ওজন পরীক্ষা করে দেখেন তা সঠিক আছে। জন্মের সময় নবজাতকের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ সে.মি. বা ১৯ ইঞ্জি হয়। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের ওজন ও উচ্চতা অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে। স্বাস্থ্যকর্মী নবজাতকটির উচ্চতা পরিমাপ করে দেখেন তা সঠিক আছে। নবজাতকের স্নায়ুতন্ত্র অপরিণত থাকে। ফলে তার নড়াচড়া অর্থবোধক নিয়ন্ত্রনাধীন হয় না। কোনো উদ্দীপকের প্রতি সাড়া দিতে শিশু সম্পূর্ণ শরীর সঞ্চালন করে। চোখের পাতা খোলা-বন্ধ করা, হাই তোলা, চোষা, গিলে ফেলা ইত্যাদি প্রতিবর্তী ক্রিয়া ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়। উদ্দীপকের স্বাস্থ্যকর্মী নবজাতকের প্রতিবর্তী ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে দেখলেন তা সঠিক আছে। তাই তিনি শিশুকে সুস্থ বলেন। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, নবজাতকের ওজন, উচ্চতা ও প্রতিবর্তী ক্রিয়া ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য দেখে সে সুস্থ কিনা তা বলা যায়। স্বাস্থ্যকর্মী উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ পর্যবেক্ষণ করেই শিশুটিকে সুস্থ বলেন।
Related Question
View Allবর্ধন হচ্ছে দৈহিক কাঠামোগত পরিবর্তন, যা দৃশ্যমান এবং পরিমাপ করা যায়।
শিক্ষণ হচ্ছে আচরণের পরিবর্তন। পরিপক্বতা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এলেও এর সুষ্ঠু বিকাশের জন্য দরকার শিক্ষণ। তিনটি পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুরা শিক্ষণ গ্রহণ করে। যথা- অনুকরণ, সনাক্তকরণ ও প্রশিক্ষণ।
বর্ধন বলতে দৈহিক আকার-আয়তনের পরিবর্তনকে বোঝায়। বিকাশ হলো দৈহিক আকার-আয়তনসহ পরিবর্তনশীল আচরণ, দক্ষতা, কার্যক্ষমতার পরিবর্তন। পরিমাণগত পরিবর্তন হলো বর্ধন আর গুণগত পরিবর্তন হলো বিকাশ। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বর্ধন চলে, আর বিকাশ জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান।
বর্ধনের পর্যায় ঊর্ধ্বমুখী। বিকাশ জীবনের এক এক পর্যায়ে এক এক রকমের হয়ে থাকে। বর্ধনের সীমারেখা থাকলেও বিকাশের নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। এ সকল আলোচনা হতে ছাত্ররা বুঝতে পারে যে বিকাশ ও বর্ধন একই ধরনের পরিবর্তন নয়। ক্লাসের শিক্ষকের আলোচনার পূর্বে ছাত্রদের ধারণা ছিল বর্ধন ও বিকাশ দুটি একই বিষয়। কিন্তু শিক্ষকের আলোচনা থেকে তারা বুঝতে পেরেছে দুটি ভিন্ন ধরনের পরিবর্তন।
বিকাশ একটি চলমান প্রক্রিয়া যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান। নবজাতকের বয়স বাড়ার সাথে সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি হলো তার গুণগত পরিবর্তন। বিকাশ একটি জটিল প্রক্রিয়া। পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার ফলে বিকাশজনিত পরিবর্তন হয়।
বর্ধন ও বিকাশ পরস্পর সম্পর্কিত। জন্মের পর শিশু হাত-পা নিয়ে খেলে। পাঁচ বছরে সেই হাত দিয়ে ছবি আঁকে। দশ বছরে দক্ষতার সাথে হাত দিয়ে ক্রিকেট খেলে। এ গুণগত পরিবর্তন শিশুর বয়সের সাথে সাথে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
জীবনের প্রতিটি স্তরে বিকাশের ধারা নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট বয়সে কিছু নির্দিষ্ট বিকাশমূলক কার্যক্রম থাকে। যা কোনো মানুষের আচরণের স্বাভাবিকতা নির্দেশ করে। জীবনের শুরুতে বর্ধনের পাশাপাশি শারীরিক বিকাশ, বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ, সামাজিক ও সঞ্চালনমূলক বিকাশ, নৈতিক ও আবেগীয় বিকাশ চলতে থাকে। এই বিকাশগুলো জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের মধ্যে চলমান। যার কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে না। তাই শিক্ষকের উক্তিটি আমি যথার্থ বলে মনে করি।
শিশুদের মধ্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের কারণ বংশগতি ও পরিবেশ।
ব্যাবলিং বলতে অর্থহীন শব্দের পুনরাবৃত্তিকে বোঝায়। ২/৩ মাস বয়সে ব্যাবলিং জাতীয় শব্দের উৎপত্তি হয়। ৭/৮ মাস বয়সে শিশু কলকূজন, উদ্দেশ্যহীনভাবে শব্দ উচ্চারণ করে ও তা পুনরাবৃত্তি করে। যেমন- বা-বা, না-না ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!