উত্তরঃ

বাংলা ভাষায় শব্দ মূলত সন্ধি, সমাস, উপসর্গ, প্রত্যয়, দ্বিরুক্তি এবং বিদেশি শব্দ গ্রহণের মাধ্যমে গঠিত হয়।


বাংলা ভাষায় শব্দ গঠনের প্রধান উপায়গুলো নিচে উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো:

        
  •         সন্ধি: পরস্পর সংযুক্ত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। এর মাধ্যমে দুটি শব্দের মিলন ঘটে এবং একটি নতুন শব্দ তৈরি হয়, যা উচ্চারণকে সহজ ও শ্রুতিমধুর করে তোলে।         
    উদাহরণ: হিম + আলয় = হিমালয়, বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়, দেব + ইন্দ্র = দেবেন্দ্র।     
  •     
  •         সমাস: দুই বা ততোধিক পদকে এক পদে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। এর মাধ্যমে বাক্য সংক্ষিপ্ত হয় এবং একটি নতুন যৌগিক শব্দ গঠিত হয়।         
    উদাহরণ: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, হাতে কড়ি = হাতকড়ি, মা ও বাবা = মা-বাবা।     
  •     
  •         উপসর্গ: কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ যা ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে অথবা শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায়, তাদের উপসর্গ বলে। বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ দেখা যায়—সংস্কৃত, বাংলা ও বিদেশি উপসর্গ।         
    উদাহরণ: প্র + হার = প্রহার, উপ + কার = উপকার, বি + জয় = বিজয়, অনা + বৃষ্টি = অনাবৃষ্টি।     
  •     
  •         প্রত্যয়: শব্দ বা ধাতুর পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে প্রত্যয় বলে। প্রত্যয় মূলত দুই প্রকার—কৃৎ প্রত্যয় (ধাতুর পরে যুক্ত হয়) এবং তদ্ধিত প্রত্যয় (শব্দমূলের পরে যুক্ত হয়)।         
    উদাহরণ: কৃৎ প্রত্যয়: চল + অন্ত = চলন্ত, √হাস + ই = হাসি।         
    তদ্ধিত প্রত্যয়: বড় + আই = বড়াই, ঢাকা + আই = ঢাকাই।     
  •     
  •         দ্বিরুক্তি/শব্দ দ্বৈত: একটি শব্দকে দুইবার প্রয়োগ করে অথবা সামান্য পরিবর্তন করে ব্যবহার করে যখন নতুন অর্থ বা ভাব প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে দ্বিরুক্তি বা শব্দ দ্বৈত বলে। এর মাধ্যমে শব্দের তীব্রতা, আধিক্য, পৌনঃপুনিকতা বা বিশেষ অর্থ বোঝানো হয়।         
    উদাহরণ: ভালো ভালো বই, ঝম ঝম বৃষ্টি, বারবার।     
  •     
  •         বিদেশি শব্দ গ্রহণ: বাংলা ভাষা বিভিন্ন বিদেশি ভাষা যেমন—ইংরেজি, ফারসি, আরবি, পর্তুগিজ ইত্যাদি থেকে অসংখ্য শব্দ গ্রহণ করে তার শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। এই শব্দগুলো বাংলা ভাষার নিজস্ব রূপ লাভ করে ব্যবহৃত হয় এবং নতুন শব্দ হিসেবে পরিগণিত হয়।         
    উদাহরণ: চেয়ার (ইংরেজি), টেবিল (ইংরেজি), নামাজ (ফারসি), রোজা (ফারসি), চাবি (পর্তুগিজ)।     
Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

গীতাঞ্জলি

কারণ: শব্দের শেষে অঞ্জলি লিখতে সবসময়ই ই-কার (ি) হবে।

উত্তরঃ

প্রতিযোগিতা

কারণ: কোনো বিশেষ্য শব্দের শেষে যদি -ী থাকে এবং তার পরে যদি ত্ব/তা/ণী/নী/ সভা / পরিষদ / ভাব / ভাবে / তত্ত্ব / বিদ্যা /জগৎ/ বাচক ইত্যাদি শব্দ যোগ করা হয় বা থাকে, তাহলে ঐ শব্দের শেষের দীর্ঘ ঈ-কার হ্রস্ব ই-কার হয়ে যাবে।

উত্তরঃ

সূচিপত্র

কারণ: যেসব শব্দে ই, ঈ বা উ, ঊ উভয় শুদ্ধ কেবল সেসব শব্দে ই বা উ এবং তার কার চিহ্ন  ি বা ু হবে।

উত্তরঃ

শৃঙ্খলা

যেসব সংস্কৃত শব্দে (ঙ্‌) + খ থাকে, সেগুলো বাংলায় রূপান্তরিত হলে 'ঙখ' হিসেবে লেখা হয়।

উত্তরঃ

পোস্টমাস্টার

কারণ: বিদেশি শব্দে 'স' হয়।

উত্তরঃ

ঐকতান

কারণ: প্রত্যয়ঘটিত।

উত্তরঃ

তার দুচোখ অশ্রুজলে ভেসে গেল। = তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।

উত্তরঃ

শামীমের চিঠি দেখে তিনি অবাক হইলেন। = শামীমের চিঠি দেখে তিনি অবাক হলেন।

উত্তরঃ

ইদানিংকালে সমাজে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। = ইদানিং সমাজে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে।

উত্তরঃ

এমন লজ্জাস্কর ব্যাপার কখনো দেখি নাই। = এমন লজ্জাকর ব্যাপার কখনো দেখিনি।

উত্তরঃ

সকল সদস্যবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। = সকল/সব সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উত্তরঃ

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ছেলেটি আরোগ্য হয়েছে। = দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ছেলেটি আরোগ্য লাভ করেছে।

উত্তরঃ

এক যাত্রায় পৃথক ফল = একই কাজের ভিন্ন প্রাপ্তি। 

বাক্যরচনা: একই পরীক্ষা দিয়ে রাহুল পাস করল, আর শুভ অকৃতকার্য হলো- এক যাত্রায় পৃথক ফল।

উত্তরঃ

সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড় = সময় থাকতে সাবধান হলে বিপদকালে রেহাই পাওয়া যায়। 

বাক্যরচনা: ঠান্ডা লাগার পরও সময়মতো ওষুধ খায়নি, এখন নিউমোনিয়া এ যেন সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।

উত্তরঃ

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ = ক্ষমতা লাভ করলে সব লোকের স্বভাব এক রকমই হয়। 

বাক্যরচনা: রতনের মতো ভদ্রলোকও চেয়ারম্যান হবার পর দুর্ব্যবহার শুরু করেছে এ বুঝি, যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ।

উত্তরঃ

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা = তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে অপরাধ গোপনের চেষ্টা। 

বাক্যরচনা: দুর্নীতির তদন্তে তিনি নানান অজুহাত দেন আসলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা মাত্র।

উত্তরঃ

খালি কলসি বাজে বেশি = যার জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা কম সে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করে। 

বাক্যরচনা: পরীক্ষায় ফেল করার পরও ওর বড়াই থামে না, একেবারে খালি কলসি বাজে বেশি।

উত্তরঃ

পর্বতের মূষিক প্রসব = বিপুল উদ্যোগে তুচ্ছ অর্জন। 

বাক্যরচনা: এত আয়োজন, সভা-সেমিনার শেষে একটা পুরোনো সিদ্ধান্ত - পুরো ব্যাপারটা পর্বতের মূষিক প্রসব!

উত্তরঃ

সকাল থেকে আমি বসে আছি। (প্রশ্নবাচক) = সকাল থেকে কি আমি বসে আছি?

উত্তরঃ

রাতে আমার ঘুম আসে না। (যৌগিক) = রাত হয়, কিন্তু আমার ঘুম আসে না।

উত্তরঃ

এখান থেকে চলে যাও। (নেতিবাচক) = এখানে বসে থেকো না।

উত্তরঃ

এই মাঠে একসময় আমিও অনুশীলন করতাম। (জটিল) = যখন সময় ছিল, তখন আমি এই মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করতাম।

উত্তরঃ

তাকে ভোলা ঠিক হবে না। (অস্তিবাচক) = তাকে মনে রাখলেই ভালো হয়।

উত্তরঃ

যখনই তুমি এলে, ছেলেটি দৌড় দিল। (সরল) = তুমি এসেছ বলেই ছেলেটি দৌড় দিল।

উত্তরঃ

মানুষের বৃদ্ধি বলতে আমরা সাধারণত দৈহিক বৃদ্ধিকেই বুঝি। জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিপুষ্টি ইত্যাদি বাহ্যিক পরিবর্তনই দৈহিক বৃদ্ধি। জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই বৃদ্ধি ঘটে এবং এরপর তা থেমে যায়। কিন্তু মানুষের অস্তিত্ব কেবল দেহসর্বস্ব নয়, তার একটি মন ও আত্মা আছে। এই মন ও আত্মার যে বিকাশ, তাকেই আত্মিক বৃদ্ধি বলে।

আত্মিক বৃদ্ধি হলো জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, মূল্যবোধ, মানবিকতা, সহমর্মিতা, ধৈর্য, উদারতা, নীতিবোধ ইত্যাদির ক্রমবিকাশ। একজন মানুষ যত বেশি জ্ঞান অর্জন করে, যত বেশি অভিজ্ঞতা লাভ করে, যত বেশি অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় এবং নিজের ভেতরে মানবিক গুণাবলি ধারণ করে, ততই তার আত্মিক বৃদ্ধি ঘটে। এই আত্মিক বৃদ্ধি চলমান প্রক্রিয়া, যা মানুষের সারা জীবন ধরে চলতে থাকে এবং এর কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। দৈহিক বৃদ্ধি যেমন জীবনের এক পর্যায়ে থেমে যায়, আত্মিক বৃদ্ধির কোনো শেষ নেই।

প্রকৃত মানুষ হতে হলে কেবল দৈহিক বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়, আত্মিক বৃদ্ধি অপরিহার্য। দৈহিক শক্তি সাময়িক ও বাহ্যিক, কিন্তু আত্মিক শক্তি চিরন্তন ও অভ্যন্তরীণ। আত্মিকভাবে সমৃদ্ধ মানুষ কেবল নিজের নয়, সমাজ ও জাতির কল্যাণেও অবদান রাখে। তাই প্রকৃত মানবসত্তা বিকাশের জন্য দৈহিক বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মিক উন্নতির প্রতিও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যে মানুষ আত্মিক দিক থেকে উন্নত, সেই প্রকৃত অর্থে আলোকিত ও পূর্ণাঙ্গ মানুষ।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদের যথার্থ মর্যাদা কাব্যসৃষ্টি হিসেবে। তবে তার মধ্যে একটি ধর্মমত চমৎকারভাবে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ তাদের ধর্মীয় রীতিনীতির নিগূঢ় রহস্য চর্যাপদের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। চর্যাপদের মাধ্যমে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যের গোপন তত্ত্বদর্শন ও ধর্মচর্চাকে বাহ্যিক প্রতীকের সাহায্যে ব্যক্ত করেছেন। বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখা কালক্রমে যেসব উপশাখায় বিভক্ত হয়েছিল, তারই বজ্রযানের সাধারণ প্রণালী ও তত্ত্ব চর্যাপদে বিধৃত। মহাসুখরূপ নির্বাণলাভ-ই হলো চর্যার প্রধান তত্ত্ব বা ধর্মমত।

উত্তরঃ

কাব্য

কবিগণ

প্রধান চরিত্র

মনসামঙ্গলকানাহরিদত্ত নারায়ণদেব ক্ষেমানন্দ কেতকাদাস বিজয়গুপ্ত দ্বিজ বংশীদাস বিপ্রদাস পিপিলাইচাঁদ সওদাগার বেহুলা লখিন্দর মনসা
উত্তরঃ

শ্রীচৈতন্যের প্রভাবে বাংলা সাহিত্য যখন একান্তভাবে দেবদেবীর লীলাভূমি হয়ে উঠেছিল, ঠিক সে সময় বাংলার সুদূর সীমান্তে রোসাঙ্গ রাজসভায় মুসলিম কবিদের কাব্য সাধনার আসরে শোনা গিয়েছিল আরেক নবসুরের আলাপন, ফুটে উঠেছিল দেবদেবীহীন বলিষ্ঠ লৌকিক প্রেমকাহিনী। এ চিত্র একান্তভাবেই মৃত্তিকা ঘনিষ্ঠ মানবজীবনের প্রতীক। এখানে দেবদেবীর বিলাস লীলার কোনো স্থান ছিল না। এ সময়ের বিখ্যাত সাহিত্যিকদের মধ্যে শাহ মুহম্মদ সগীর, দৌলত কাজী, মরদন, কোরেশী মাগন ঠাকুর, আলাওল প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। মধ্যযুগের এ সময়টিতে রোমান্টিক প্রণয়সমৃদ্ধ কাব্য বেশি সৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ের সাহিত্যিকগণ আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় অনুবাদ করে বিখ্যাত সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। উদাহরণস্বরূপ শাহ মুহম্মদ সগীরের 'ইউসুফ-জোলেখা' এবং দৌলত উজির বাহরাম খানের 'লায়লী-মজনু' কাব্যের নাম উল্লেখ করার মতো।

উত্তরঃ

দোভাষী পুথি

দোভাষী পুথি হলো কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুথি। কেউ কেউ আরবি-ফারসি এই দুটি শব্দের প্রাচুর্যপূর্ণ ব্যবহারের জন্য এই পুথিকে 'দোভাষী পুথি' নামে অভিহিত করেছেন। মনে রাখতে হবে দোভাষী পুথি শুধু দুটি ভাষায় রচিত পুথি নয়; বাংলা, হিন্দি, ফারসি, আরবি, তুর্কি ইত্যাদি ভাষার সংমিশ্রণে রচিত পুথিই হলো দোভাষী পুথি।

উত্তরঃ

সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশেষ উমরী উল্লেখযোগ্য চৌধুরী বীরবলী রীতি' নামে বাংলা ভাষার যে চলিত ভাষারীতি চালু করেছিলেন তা প্রচারের মাধ্যম ছিল সবুজপত্র পত্রিকা। তাই বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তনে এ পত্রিকার ভূমিকা ছিল সর্বাধিক। সবুজপত্র পত্রিকাকে কেন্দ্র করে একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল। লেখকদের মধ্যে 'ছিলেন ইন্দিরা দেবী, অতুলচন্দ্রগুপ্ত, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, সতীশচন্দ্র ঘোটক, বিশ্বপতি চৌধুরী প্রমুখ।

উত্তরঃ

কীত্তনখোলা (১৯৮৬): নাটকের কাহিনীভাষ্য রচিত স্থানীয় কীত্তনখোলা নদীতীরে মেলা কেন্দ্র করেই। এই মেলা যেন গোটা বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। হকার থেকে শুরু করে নানা বর্ণ, শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের মানুষের সম্মিলন ঘটে মেলায়। মানুষের এই মিলিত সমাবেশ উন্মোচিত করে আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ মানুষের মধ্যকার নর-নারীর অবস্থানের ভেদজ্ঞান। মেলায় আসা যাত্রাদলের অভ্যন্তরীণ প্রেম, ভালোবাসা, বিরহের সমান্তরালে নাটকে আছে মানুষের বিভিন্ন পর্যায়ে রূপান্তরের গল্প।

এ নাটকের উপজীব্য: লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি। এটি নিয়ে ২০০০ সালে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। ছবিটি পরিচালনা করেছেন খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার আবু সাইয়ীদ। চলচ্চিত্রটি ২০০২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

উত্তরঃ

সূর্য দীঘল বাড়ী (১৯৫৫): এটি প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। তিনি ১৯৪৬ সালে, মাত্র একুশ বছর বয়সে এটি রচনা করেন কিন্তু প্রকাশ করা হয় ১৯৫৫ সালে। পঞ্চাশের মন্বন্তর, দেশ বিভাগ, স্বাধীনতার আনন্দ ও বেদনাসহ বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এ উপন্যাস। 

বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ (পঞ্চাশের মন্বন্তর), সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল সূর্য দীঘল বাড়ী। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু। দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে। এ উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপদান করেন শেখ নিয়ামত আলী ও মসীহউদ্দিন শাকের (১৯৭৯) সালে।

গ্রামে সাধারণত বাড়ি বানানো হয় উত্তর-দক্ষিণ করে। কিন্তু এই বাড়িটি পূর্ব-পশ্চিমে। এ কারণে বাড়িটি পরিচিতি লাভ করে সূর্যদীঘল বাড়ি রূপে। অন্যভাবে, সূর্যদীঘল বাড়ি বলতে ঐ বাড়িকে বোঝায়, যে বাড়িতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটানা সূর্য রশ্মি পতিত হয়। উপন্যাসে সূর্যদীঘল বাড়ি বলতে এমন একশ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছে, যাদের জীবনের টানাপোড়েন বারোমাস একইরকম।

উত্তরঃ

ছোটগল্পের সার্থক সূচনা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) হাতে। রবীন্দ্র পূর্ববর্তী যুগে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প ছিল না। দক্ষ লেখনীর সাহায্যে শিল্পের অপরূপ শোভায় বিকাশ সাধিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে। তাঁর ছোটগল্প আনন্দময় বৈচিত্র্যে ভরা। বাংলার অপরূপ প্রকৃতি, যেমন-নির্জন প্রান্ত, নদী তীর, উন্মুক্ত আকাশ, বালুচর, অবারিত মাঠ, ছায়া-সুনিবিড় গ্রাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাঙালির তুচ্ছ ও অকিঞ্চিকর জীবনকেও তিনি তাঁর গাঙ্গের ক্যানভাসে চিহিত করেছেন। অতি প্রাকৃতের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন, কঙ্কাল, ক্ষুধিত পাষাণ, নিশীথ গল্পে। মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে আমরা মানব মনের অন্তঃগূঢ় রহস্যসংবলিত একটি নতুন পৃথিবীর সন্ধান পাই।

উত্তরঃ

প্রতিবাদী গান কোনো সমাজে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এই গান মানুষের অন্তরকে নাড়া দেয়, চেতনা জাগিয়ে তোলে এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সাহস ও ঐক্য গড়ে তোলে। ইতিহাসজুড়ে দেখা গেছে, স্বাধীনতা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণজাগরণ-এসব ক্ষেত্রে প্রতিবাদী গান মানুষকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। যেমন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" গানটি ভাষার অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এ ধরনের গান একদিকে যেমন বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা দেয়, তেমনি মানুষের হৃদয়ে আশা, স্বপ্ন ও সাহসের সঞ্চার করে। এভাবেই প্রতিবাদী গান কেবল বিনোদনের উপকরণ নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

উত্তরঃ

বিষয়: ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি, চিত্র ও লেখা নিয়ে পিতা ও কন্যার সংলাপ।

স্থান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন একটি রাস্তা, যার দুপাশের দেয়ালগুলো নানা রঙের গ্রাফিতি ও চিত্রায়নে সাজানো।
চরিত্র: রফিকুল ইসলাম (বাবা) ও অনন্যা (কন্যা)।


অনন্যা: বাবা, একটু দাঁড়িয়ে এই দেয়ালটার দিকে তাকাও তো! লাল, হলুদ আর কালো রঙের এই চিত্রটাতে কী অদ্ভুত এক প্রতিবাদ আর সংকল্প ফুটে উঠেছে, তাই না?

বাবা: হ্যাঁ রে মা! সত্যিই অসাধারণ। ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তরুণ প্রজন্ম যেভাবে রঙের তুলিতে তাদের ক্ষোভ, দাবি আর স্বপ্নকে এই ইট-পাথরের দেয়ালে ফুটিয়ে তুলেছে, তা কেবল শিল্প নয়—ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।

অনন্যা: এই দেখো বাবা, এখানে লেখা—'বিকল্প কে? আমি, তুমি, আমরা!' আবার অন্য এক জায়গায় লেখা, 'দেশটা কারো বাপের নয়'। এসব স্লোগান আর চিত্রকর্মগুলো কি কেবল ছাত্র-জনতার আন্দোলনকেই নির্দেশ করে?

বাবা: না মা, এগুলো শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের আন্দোলন নয়; এগুলো আমাদের বাকস্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। স্বৈরাচার আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ কীভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল, এই গ্রাফিতিগুলো সেটাই প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

অনন্যা: ঠিক বলেছ বাবা। বিশেষ করে শহীদদের স্মৃতি নিয়ে আঁকা চিত্রগুলো দেখে সত্যি চোখ ভিজে আসে। ঐ যে দেখো, 'পানি লাগবে পানি?' লেখাটির পাশে মুগ্ধর আঁকা ছবি কিংবা আবু সাঈদের দুহাত প্রসারিত বীরত্বগাথার চিত্রায়ণ—এগুলো তো শুধু দেয়ালচিত্র নয়, এক একটি রক্তের আখরে লেখা ইতিহাস।

বাবা: একদম ঠিক বলেছিস। দেয়ালগুলো এতদিন চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীরা সেগুলোকে কথা বলার শক্তি দিয়েছে। রাজনৈতিক চেতনা, সামাজিক সংস্কার, এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের বার্তাগুলো চিত্রকলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে গেছে।

অনন্যা: আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগছে এই দেয়ালগুলোর নান্দনিক রূপ। আগে যেখানে অপরিচ্ছন্নতা আর নানা ধরনের বিজ্ঞাপন থাকত, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা আর স্বাধীনতার বার্তা। তরুণদের এই সৃজনশীলতা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বাবা: এটাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল শক্তি অনন্যা। রঙ আর তুলির এই আন্দোলন প্রমাণ করে যে, বুলেট বা ভয় দেখিয়ে কোনো জাতির চেতনাকে দাবিয়ে রাখা যায় না। এই গ্রাফিতিগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে অনুপ্রাণিত করবে।

অনন্যা: সত্যিই বাবা, এই গ্রাফিতিগুলো দেখে মনে হয়—আমরা যেন এক নতুন বাংলাদেশের রাজপথে হেঁটে বেড়াচ্ছি। আমাদের দায়িত্ব এই চেতনাকে রক্ষা করা।

বাবা: যথার্থই বলেছিস মা। চল, আরো কয়েকটি দেয়ালচিত্র ঘুরে দেখি এবং এগুলোর বার্তা নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করি।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ ১০ অক্টোবর, ২০২৪
সম্পাদক
দৈনিক স্টার
কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

বিষয়: সংযুক্ত পত্রটি আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশের জন্য আবেদন।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত ও জনপ্রিয় ‘দৈনিক স্টার’ পত্রিকায় নিম্নোক্ত চিঠিটি প্রকাশ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অনাকাঙ্ক্ষিত ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারলে বিশেষভাবে বাধিত হব।

নিবেদক,
সচেতন নাগরিকদের পক্ষে—
আব্দুর রহমান
মিরপুর, ঢাকা।


দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করার আকুল আবেদন

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ও নিম্ন-আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, শাক-সবজি থেকে শুরু করে প্রতিটি অতিপ্রয়োজনীয় উপাদানের দাম প্রতিদিন হু-হু করে বাড়ছে। আয় না বাড়লেও ব্যয়ের এই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, পণ্যের সরবরাহ ঘাটতির চেয়ে অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কৃত্রিম সংকট তৈরিই এই মূল বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এছাড়া পরিবহনে চাঁদাবাজি, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং যথাযথ বাজার মনিটরিংয়ের অভাব এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মক হুমকিতে পড়বে।

এ অবস্থায় বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনিবার জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে আমরা মনে করি:

        
  • কঠোর বাজার মনিটরিং: নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পাইকারি ও খুচরা বাজারে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা।
  •     
  • সিন্ডিকেট ভাঙা ও শাস্তির ব্যবস্থা: কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী অসাধু মজুদদার ও অসৎ ব্যবসায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।
  •     
  • পণ্য সরবরাহ সহজ করা: কৃষকের মাঠ থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত পণ্যের পরিবহন নির্বিঘ্ন করা এবং পথিমধ্যে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করা।
  •     
  • টিসিবি ও ওএমএস কার্যক্রম জোরদার: নিম্ন-আয়ের মানুষের স্বস্তির জন্য টিসিবি ও ওএমএস (OMS)-এর মাধ্যমে সুলভ মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রির আওতা বাড়াতে হবে।
  •     
  • তথ্য প্রকাশ ও স্বচ্ছতা: প্রতিদিনের জন্য নিত্যপণ্যের যৌক্তিক মূল্য তালিকা টাঙানো বাধ্যতামূলক করা এবং তা না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরে সাধারণ মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও সরকারের প্রতি আশু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিনীত,
ভোক্তাসাধারণের পক্ষে—
আব্দুর রহমান
মিরপুর, ঢাকা।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

গ্রন্থ সমালোচনা: ‘আগুনপাখি’

গ্রন্থের বিবরণ:
গ্রন্থের নাম: আগুনপাখি
গ্রন্থকার: হাসান আজিজুল হক
প্রকাশক: ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ
প্রথম প্রকাশ: ২০০৬
প্রচ্ছদ: কাইয়ুম চৌধুরী
বিষয়বস্তু: রাঢ় অঞ্চলের গ্রামীণ সমাজ, দেশভাগ এবং স্বভূমি আঁকড়ে থাকার মানবিক ইতিহাস


১. ভূমিকা

বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যে হাসান আজিজুল হক এক অনন্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘আগুনপাখি’ আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সংযোজন। দেশভাগজনিত সামাজিক ও মানস মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় নিয়ে রচিত অসংখ্য সাহিত্যের ভিড়ে ‘আগুনপাখি’ এক সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিক ও জীবনদর্শনের বার্তা বহন করে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র এক সাধারণ গ্রামীণ নারীর বয়ানে পুরো ভারতবর্ষের ভাগ-বাটোয়ারা এবং তার সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সংকটকে লেখক অত্যন্ত স্পর্শকাতরভাবে তুলে ধরেছেন।

২. মূল বিষয়বস্তু ও বিষয়বিন্যাস

‘আগুনপাখি’ উপন্যাসের মূল প্রেক্ষাপট বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের অবিভক্ত রাঢ় বাংলা (বর্ধমান-বীরভূম অঞ্চলের গ্রামীণ সমাজ)। রাঢ় অঞ্চলের এক সাধারণ, অশিক্ষিত কিন্তু জীবনঅভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ মুসলিম গৃহবধূর আত্মকথনের মধ্য দিয়ে উপন্যাসের কাহিনী সামনে এগিয়ে যায়। শৈশব, বিবাহ, সন্তান লালন-পালন, সংসারজীবনের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যখন তার জীবন অতিবাহিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই নেমে আসে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ। ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়ে যায়, যার জেরে গ্রাম্য জীবনের চিরাচরিত সৌহার্দ্য ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে। স্বজনরা একে একে নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানে পাড়ি জমাতে থাকে। কিন্তু সমস্ত প্রতিকূলতা ও পরিবারের প্রবল চাপ সত্ত্বেও ঐ বৃদ্ধা নারী নিজ ভিটেমাটি ত্যাগ করতে অস্বীকার করে।

৩. চরিত্র চিত্রণ ও মানস মনস্তত্ত্ব

উপন্যাসের প্রধান শক্তি এর কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র—যিনি নামহীন, কিন্তু সর্বজনীন। লেখক কোনো প্রকার আরোপিত মহত্ত্ব না দিয়ে অত্যন্ত সহজ-সরলভাবে তাকে গড়ে তুলেছেন। তার যুক্তিটি ছিল খুবই মৌলিক—‘যে দেশে আমার জন্ম, যে মাটিতে আমার পূর্বপুরুষের রক্ত মিশে আছে, কেবল ধর্মের দোহাই দিয়ে সে মাটি ছেড়ে অন্য অচেনা দেশে আমি কেন যাব?’ এই নামহীন নারী চরিত্রটির মধ্য দিয়ে আবহমান বাংলার স্বভূমিপ্রেমিক আত্মমর্যাদাবোধের চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে। অন্যান্য চরিত্র যেমন—সোয়ামী, বড় ছেলে, ছোট ছেলে, বউমারা—সবাই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবতায় আত্মসমর্পণ করলেও মূল চরিত্রটি অনড় ও অটল থেকে যায়।

৪. ভাষা, শৈলী ও বর্ণনাভঙ্গি

‘আগুনপাখি’ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর ভাষা ও কথনশৈলী। হাসান আজিজুল হক পুরো উপন্যাসটি রচনা করেছেন রাঢ় অঞ্চলের খাঁটি আঞ্চলিক উপভাষায় এবং উত্তম পুরুষের (First Person) বয়ানে। একজন সাধারণ গ্রামীণ নারীর মুখের ভাষাকে যেভাবে তিনি সাহিত্যিক রূপ দিয়েছেন, তা এক কথায় অসাধারণ। বর্ণনার সহজিয়া ভঙ্গি, গ্রামীণ প্রবাদ-প্রবচনের সুষম ব্যবহার এবং নিখুঁত বাস্তবতার রূপায়ণ পাঠককে সরাসরি সেই ঐতিহাসিক সময়ে পৌঁছে দেয়।

৫. গ্রন্থ সমালোচনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা

রাজনীতি সচেতন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক এই গ্রন্থে ক্ষমতার রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনের মধ্যে যে দূরত্ব, তা সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। দেশভাগ কেবল ভূমির সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেনি, বরং তা বহু পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, মানবেতিহাসে এনেছে চরম ট্র্যাজেডি। রাজনৈতিক নেতারা টেবিল চাপড়ে মানচিত্র কাটাকুটি করলেও প্রান্তিক মানুষের মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণা এবং মাটির টানের গভীরতাকে যে উপলব্ধি করতে পারেনি, উপন্যাসটি সেই চরম সত্যকে উন্মোচিত করে।

৬. উপন্যাসের শক্তি ও সার্থকতা

        
  • অনন্য প্রেক্ষাপট: দেশভাগের ইতিহাসকে কোনো পুরুষ বা রাজনৈতিক নেতার দৃষ্টিতে না দেখে এক সাধারণ নারীর চোখ দিয়ে দেখা।
  •     
  • ভাষাগত বিশিষ্টতা: রাঢ় অঞ্চলের আঞ্চলিক উপভাষার সার্থক ও কাব্যিক প্রয়োগ।
  •     
  • মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা: রুটলেস বা শিকড়হীন হওয়ার আশঙ্কার বিপরীতে মাটির প্রতি নিখাদ ভালোবাসার উপস্থাপন।

৭. উপসংহার

সংক্ষেপে, হাসান আজিজুল হকের ‘আগুনপাখি’ কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি দেশভাগের করুণ ইতিহাসের এক অমর দলিল। সাধারণ মানুষের টিকে থাকার লড়াই এবং নিজ জন্মভূমির প্রতি চিরন্তন মমত্ববোধকে লেখক যেভাবে দরদ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা সাহিত্যপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল দাগ কেটে থাকবে। আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যে একটি সার্থক সৃজনশীল ও মননশীল কাজ হিসেবে ‘আগুনপাখি’ চিরকাল উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত থাকবে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

একুশ শতকের পৃথিবী: আমাদের প্রত্যাশা

ভূমিকা

একুশ শতক হলো বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং অসাধারণ সম্ভাবনার এক নতুন যুগ। নতুন শতকের সূচনালগ্নে মানবজাতি যেমন এক অভূতপূর্ব অগ্রগতির মুখে দাঁড়িয়েছে, তেমনি মুখোমুখি হয়েছে নানা জটিল বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সূচনা এবং বিশ্বায়নের বিস্তৃত প্রভাবের ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই প্রেক্ষাপটে একুশ শতকের পৃথিবীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা—একটি ভারসাম্যপূর্ণ, শান্তিপূর্ণ, বাসযোগ্য ও বৈষম্যহীন নতুন বিশ্ব প্রতিষ্ঠা।

একুশ শতকের রূপরেখা ও বৈশিষ্ট্য

একুশ শতক তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ন্যানোটেকনোলজি এবং বায়োটেকনোলজির বিপ্লবের সময়। এটি এমন এক সময়, যখন বিশ্ব আজ একটি 'গ্লোবাল ভিলেজ' বা বিশ্বগ্রামে পরিণত হয়েছে। ভূ-রাজনীতি থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও সংস্কৃতি—সবকিছুতেই আন্তর্জাতিক আন্তঃনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অগ্রগতির পাশাপাশি এই শতকে জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারী, যুদ্ধের ঝুঁকি এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো বড় সমস্যাগুলোও তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

প্রযুক্তি ও বিকাশ: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব

একুশ শতকের মূল চালিকাশক্তি হলো ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। প্রযুক্তির প্রসার মানবজীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে। আমাদের প্রত্যাশা—প্রযুক্তির এই অভূতপূর্ব উদ্ভাবন যেন মানুষের কল্যাণে এবং নৈতিক সীমার মধ্যে ব্যবহৃত হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের উন্নয়ন যেন কর্মসংস্থান ধ্বংসের কারণ না হয়ে মানুষের শ্রমকে আরও সুসংহত ও উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।

পরিবেশ সংকট ও টেকসই উন্নয়ন

বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম বড় হুমকি হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণ। একুশ শতকে আমাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করা এবং ধরিত্রীকে বাসযোগ্য রাখা। এর জন্য প্রয়োজন—

  • জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
  • পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) নিশ্চিত করা।
  • বনভূমি রক্ষা ও প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

শান্তি, মানবতা ও বৈষম্যহীন বিশ্ব

যুদ্ধ, শরণার্থী সংকট এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা একুশ শতকের বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রত্যাশা হলো পরাশক্তিগুলোর মধ্যে শক্তির প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে পারস্পরিক কূটনৈতিক সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতিষ্ঠা। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, জাতিগত সংঘাত ও সামাজিক অসাম্য দূর করে একটি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই শতকের মানুষের মূল দাবি।

বাংলাদেশের অবস্থান ও নতুন স্বপ্ন

একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশও নিজেকে নতুনভাবে প্রস্তুত করছে। একটি উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা—দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিশ্ব অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে একটি দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

উপসংহার

একুশ শতক হলো সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের এক যুগসন্ধিক্ষণ। মানুষ যদি তার মেধা, প্রযুক্তি ও নৈতিকতার সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারে, তবে এই শতাব্দী হবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ যুগ। পারস্পরিক সহানুভূতি, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈশ্বিক ঐক্যের মাধ্যমেই কেবল একটি সুন্দর, সবুজ ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব—যা একুশ শতকে সমগ্র মানবজাতির মূল প্রত্যাশা।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শ্রম অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় প্রধান উৎস। এ খাত কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব হ্রাসে অবদান রাখছে। ২০১৬ সালে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে অভিবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের জিডিপি'র প্রায় ৭.৮৩%। অভিবাসীরা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে। বাংলাদেশ থেকে সংঘটিত শ্রম অভিবাসনের সবচেয়ে বড় অংশই (প্রায় ৯৯%) ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও রিক্রুটিং এজেন্টের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে অবৈধভাবে শ্রমের অভিবাসন ও মানবপাচার বিদ্যমান।

টিআইবি'র সার্বিক পর্যবেক্ষণ হচ্ছে:

আইনি কাঠামোতে কিছু ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান;

শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়া তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি;

তথ্যের উন্মুক্ততার ক্ষেত্রে ঘাটতি বিদ্যমান কর্ম পরিবেশ, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তথ্য, ভিসার মূল্য/ অভিবাসন ব্যয়ের খাত;

উচ্চ অভিবাসন ব্যয় অনিয়ন্ত্রিত ভিসা বাণিজ্য প্রত্যাশিত পর্যায়ে অভিবাসনের সুফল না পাওয়া;

বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়া

দীর্ঘ, জটিল, অনিশ্চিত, প্রায় ঢাকা-কেন্দ্রিক

অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তি ও প্রক্রিয়া নির্ভর, প্রতারিত ও বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি;

প্রাপ্য ও প্রকৃত ক্ষতিপূরণ না পাওয়া; এবং

শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বিদ্যমান

ভিসা প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়ম-বহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ;

কাজের জন্য অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি; ও

বিদেশে অবৈধ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি।

 

টিআইবি বেশকিছু সুপারিশ প্রদান করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

'বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন ২০১৩' এর সংস্কার সাধন;

বিদেশে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রম উইং-এর সক্ষমতা (বাজেট, জনবল) ও দক্ষতা বাড়ানো;

দালালদেরকে রিক্রুটিং এজেন্টদের সাব এজেন্ট বা নিবন্ধিত প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান প্রণয়ন;

ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত একক ভিসার জন্য বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএমইটি কর্তৃক ওয়ান স্টপ সেবা কার্যকর করা;

সরকার-নির্ধারিত ব্যয়ের ন্যূনতম পাঁচগুণ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ;

সব দেশের জন্য অনলাইনে ভিসা যাচাই নিশ্চিত করার জন্য গন্তব্য দেশের সাথে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ;

দলীয় ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম বাতিলকরণ;

অভিবাসী কর্মীর ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে তথ্য বিনিময়ে কার্যকর সমন্বয় সাধন; এবং

সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি।

Toimun Naher Moli
Toimun Naher Moli
10 months ago
985

বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের শুরু প্রায় সুনিশ্চিতভাবেই ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ধরা হয়। এ যুগ নানা দিক থেকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ, সমৃদ্ধি হওয়ার যুগ; বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সুবিখ্যাত ও সমাদৃত হওয়ার যুগ।

আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের শুরুতে রাষ্ট্রিক, আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া সাহিত্যে দৃশ্যমান হয় এবং বাংলা সাহিত্যে নতুন রাগিণীর সূচনা ঘটে। পাশ্চাত্য শিক্ষা, সভ্যতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রভৃতির সংস্পর্শে এসে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হল আধুনিক যুগে। এ যুগের প্রতিভূ হলো গদ্য সাহিত্য। প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিষয় ছিল ধর্ম অথবা রাজবন্দনা আর আঙ্গিকে ছিল কেবলই কবিতা। কিন্তু আধুনিক যুগে গদ্যের বিকাশের সাথে সাথে বাংলা সাহিত্যের নব নব শাখা বিস্তৃত হলো। এ সময়ে মানবতাবোধ, যুক্তিবাদ, সমাজসচেতনতা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, গদ্যের প্রতিষ্ঠা স্বদেশপ্রেম, রোমান্টিক দৃষ্টি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য সাহিত্যে মূর্ত হয়ে উঠে।

আধুনিক যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য আত্মত্মচেতনা, জাতীয়তাবোধ ও মানবতার জয়জয়কার।

সাহিত্যে আধুনিক যুগ শুরু হয় ১৮০১- বর্তমান। প্রকৃতপক্ষে আধুনিক যুগ শুরু হয় ১৮৬০ সালের দিকে মাইকেল মধুসূদনের আবির্ভাবের মাধ্যমে।

Related Question

View All
উত্তরঃ

একজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।

একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।

একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।

সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।

একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।

একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।

অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।

সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।

লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।

3.8k
উত্তরঃ

সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।

আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।

সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।

3.2k
উত্তরঃ

আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।

শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।

বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।

আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।

arif
arif
3 years ago
3.8k
উত্তরঃ

আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ

 

বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।

অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র

য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

2.5k
উত্তরঃ

"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ: 

সাম্যবাদের পতন:

১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।

গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:

সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ: 

অর্থনৈতিক সংকট:

সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।

জাতীয়তাবাদের উত্থান:

অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা:

নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।

সামাজিক পরিবর্তন:

পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক: 

  • এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
  • যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল। 

Satt Team 10
Satt Team 10
11 months ago
2.3k
উত্তরঃ

পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।

১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে  দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান  বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-

১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।

২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ  পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:

সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়  একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।

অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন  বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।

অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা  জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে,  ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।

২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।  [ঊর্মি হোসেন]

Md. Aminul Islam
Md. Aminul Islam
3 years ago
4.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews