বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শ্রম অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় প্রধান উৎস। এ খাত কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব হ্রাসে অবদান রাখছে। ২০১৬ সালে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে অভিবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের জিডিপি'র প্রায় ৭.৮৩%। অভিবাসীরা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে। বাংলাদেশ থেকে সংঘটিত শ্রম অভিবাসনের সবচেয়ে বড় অংশই (প্রায় ৯৯%) ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও রিক্রুটিং এজেন্টের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে অবৈধভাবে শ্রমের অভিবাসন ও মানবপাচার বিদ্যমান।
টিআইবি'র সার্বিক পর্যবেক্ষণ হচ্ছে:
আইনি কাঠামোতে কিছু ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান;
শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়া তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি;
তথ্যের উন্মুক্ততার ক্ষেত্রে ঘাটতি বিদ্যমান কর্ম পরিবেশ, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তথ্য, ভিসার মূল্য/ অভিবাসন ব্যয়ের খাত;
উচ্চ অভিবাসন ব্যয় অনিয়ন্ত্রিত ভিসা বাণিজ্য প্রত্যাশিত পর্যায়ে অভিবাসনের সুফল না পাওয়া;
বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়া
দীর্ঘ, জটিল, অনিশ্চিত, প্রায় ঢাকা-কেন্দ্রিক
অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তি ও প্রক্রিয়া নির্ভর, প্রতারিত ও বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি;
প্রাপ্য ও প্রকৃত ক্ষতিপূরণ না পাওয়া; এবং
শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বিদ্যমান
ভিসা প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়ম-বহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ;
কাজের জন্য অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি; ও
বিদেশে অবৈধ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি।
টিআইবি বেশকিছু সুপারিশ প্রদান করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
'বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন ২০১৩' এর সংস্কার সাধন;
বিদেশে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রম উইং-এর সক্ষমতা (বাজেট, জনবল) ও দক্ষতা বাড়ানো;
দালালদেরকে রিক্রুটিং এজেন্টদের সাব এজেন্ট বা নিবন্ধিত প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান প্রণয়ন;
ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত একক ভিসার জন্য বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএমইটি কর্তৃক ওয়ান স্টপ সেবা কার্যকর করা;
সরকার-নির্ধারিত ব্যয়ের ন্যূনতম পাঁচগুণ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ;
সব দেশের জন্য অনলাইনে ভিসা যাচাই নিশ্চিত করার জন্য গন্তব্য দেশের সাথে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ;
দলীয় ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম বাতিলকরণ;
অভিবাসী কর্মীর ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে তথ্য বিনিময়ে কার্যকর সমন্বয় সাধন; এবং
সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি।
Related Question
View Allগীতাঞ্জলি
কারণ: শব্দের শেষে অঞ্জলি লিখতে সবসময়ই ই-কার (ি) হবে।
প্রতিযোগিতা
কারণ: কোনো বিশেষ্য শব্দের শেষে যদি -ী থাকে এবং তার পরে যদি ত্ব/তা/ণী/নী/ সভা / পরিষদ / ভাব / ভাবে / তত্ত্ব / বিদ্যা /জগৎ/ বাচক ইত্যাদি শব্দ যোগ করা হয় বা থাকে, তাহলে ঐ শব্দের শেষের দীর্ঘ ঈ-কার হ্রস্ব ই-কার হয়ে যাবে।
সূচিপত্র
কারণ: যেসব শব্দে ই, ঈ বা উ, ঊ উভয় শুদ্ধ কেবল সেসব শব্দে ই বা উ এবং তার কার চিহ্ন ি বা ু হবে।
শৃঙ্খলা
যেসব সংস্কৃত শব্দে (ঙ্) + খ থাকে, সেগুলো বাংলায় রূপান্তরিত হলে 'ঙখ' হিসেবে লেখা হয়।
পোস্টমাস্টার
কারণ: বিদেশি শব্দে 'স' হয়।
ঐকতান
কারণ: প্রত্যয়ঘটিত।
তার দুচোখ অশ্রুজলে ভেসে গেল। = তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
শামীমের চিঠি দেখে তিনি অবাক হইলেন। = শামীমের চিঠি দেখে তিনি অবাক হলেন।
ইদানিংকালে সমাজে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। = ইদানিং সমাজে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে।
এমন লজ্জাস্কর ব্যাপার কখনো দেখি নাই। = এমন লজ্জাকর ব্যাপার কখনো দেখিনি।
সকল সদস্যবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। = সকল/সব সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ছেলেটি আরোগ্য হয়েছে। = দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ছেলেটি আরোগ্য লাভ করেছে।
এক যাত্রায় পৃথক ফল = একই কাজের ভিন্ন প্রাপ্তি।
বাক্যরচনা: একই পরীক্ষা দিয়ে রাহুল পাস করল, আর শুভ অকৃতকার্য হলো- এক যাত্রায় পৃথক ফল।
সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড় = সময় থাকতে সাবধান হলে বিপদকালে রেহাই পাওয়া যায়।
বাক্যরচনা: ঠান্ডা লাগার পরও সময়মতো ওষুধ খায়নি, এখন নিউমোনিয়া এ যেন সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ = ক্ষমতা লাভ করলে সব লোকের স্বভাব এক রকমই হয়।
বাক্যরচনা: রতনের মতো ভদ্রলোকও চেয়ারম্যান হবার পর দুর্ব্যবহার শুরু করেছে এ বুঝি, যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ।
শাক দিয়ে মাছ ঢাকা = তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে অপরাধ গোপনের চেষ্টা।
বাক্যরচনা: দুর্নীতির তদন্তে তিনি নানান অজুহাত দেন আসলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা মাত্র।
খালি কলসি বাজে বেশি = যার জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা কম সে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করে।
বাক্যরচনা: পরীক্ষায় ফেল করার পরও ওর বড়াই থামে না, একেবারে খালি কলসি বাজে বেশি।
পর্বতের মূষিক প্রসব = বিপুল উদ্যোগে তুচ্ছ অর্জন।
বাক্যরচনা: এত আয়োজন, সভা-সেমিনার শেষে একটা পুরোনো সিদ্ধান্ত - পুরো ব্যাপারটা পর্বতের মূষিক প্রসব!
সকাল থেকে আমি বসে আছি। (প্রশ্নবাচক) = সকাল থেকে কি আমি বসে আছি?
রাতে আমার ঘুম আসে না। (যৌগিক) = রাত হয়, কিন্তু আমার ঘুম আসে না।
এখান থেকে চলে যাও। (নেতিবাচক) = এখানে বসে থেকো না।
এই মাঠে একসময় আমিও অনুশীলন করতাম। (জটিল) = যখন সময় ছিল, তখন আমি এই মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করতাম।
তাকে ভোলা ঠিক হবে না। (অস্তিবাচক) = তাকে মনে রাখলেই ভালো হয়।
যখনই তুমি এলে, ছেলেটি দৌড় দিল। (সরল) = তুমি এসেছ বলেই ছেলেটি দৌড় দিল।
সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদের যথার্থ মর্যাদা কাব্যসৃষ্টি হিসেবে। তবে তার মধ্যে একটি ধর্মমত চমৎকারভাবে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ তাদের ধর্মীয় রীতিনীতির নিগূঢ় রহস্য চর্যাপদের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। চর্যাপদের মাধ্যমে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যের গোপন তত্ত্বদর্শন ও ধর্মচর্চাকে বাহ্যিক প্রতীকের সাহায্যে ব্যক্ত করেছেন। বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখা কালক্রমে যেসব উপশাখায় বিভক্ত হয়েছিল, তারই বজ্রযানের সাধারণ প্রণালী ও তত্ত্ব চর্যাপদে বিধৃত। মহাসুখরূপ নির্বাণলাভ-ই হলো চর্যার প্রধান তত্ত্ব বা ধর্মমত।
কাব্য | কবিগণ | প্রধান চরিত্র |
| মনসামঙ্গল | কানাহরিদত্ত নারায়ণদেব ক্ষেমানন্দ কেতকাদাস বিজয়গুপ্ত দ্বিজ বংশীদাস বিপ্রদাস পিপিলাই | চাঁদ সওদাগার বেহুলা লখিন্দর মনসা |
শ্রীচৈতন্যের প্রভাবে বাংলা সাহিত্য যখন একান্তভাবে দেবদেবীর লীলাভূমি হয়ে উঠেছিল, ঠিক সে সময় বাংলার সুদূর সীমান্তে রোসাঙ্গ রাজসভায় মুসলিম কবিদের কাব্য সাধনার আসরে শোনা গিয়েছিল আরেক নবসুরের আলাপন, ফুটে উঠেছিল দেবদেবীহীন বলিষ্ঠ লৌকিক প্রেমকাহিনী। এ চিত্র একান্তভাবেই মৃত্তিকা ঘনিষ্ঠ মানবজীবনের প্রতীক। এখানে দেবদেবীর বিলাস লীলার কোনো স্থান ছিল না। এ সময়ের বিখ্যাত সাহিত্যিকদের মধ্যে শাহ মুহম্মদ সগীর, দৌলত কাজী, মরদন, কোরেশী মাগন ঠাকুর, আলাওল প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। মধ্যযুগের এ সময়টিতে রোমান্টিক প্রণয়সমৃদ্ধ কাব্য বেশি সৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ের সাহিত্যিকগণ আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় অনুবাদ করে বিখ্যাত সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। উদাহরণস্বরূপ শাহ মুহম্মদ সগীরের 'ইউসুফ-জোলেখা' এবং দৌলত উজির বাহরাম খানের 'লায়লী-মজনু' কাব্যের নাম উল্লেখ করার মতো।
দোভাষী পুথি
দোভাষী পুথি হলো কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুথি। কেউ কেউ আরবি-ফারসি এই দুটি শব্দের প্রাচুর্যপূর্ণ ব্যবহারের জন্য এই পুথিকে 'দোভাষী পুথি' নামে অভিহিত করেছেন। মনে রাখতে হবে দোভাষী পুথি শুধু দুটি ভাষায় রচিত পুথি নয়; বাংলা, হিন্দি, ফারসি, আরবি, তুর্কি ইত্যাদি ভাষার সংমিশ্রণে রচিত পুথিই হলো দোভাষী পুথি।
সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশেষ উমরী উল্লেখযোগ্য চৌধুরী বীরবলী রীতি' নামে বাংলা ভাষার যে চলিত ভাষারীতি চালু করেছিলেন তা প্রচারের মাধ্যম ছিল সবুজপত্র পত্রিকা। তাই বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তনে এ পত্রিকার ভূমিকা ছিল সর্বাধিক। সবুজপত্র পত্রিকাকে কেন্দ্র করে একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল। লেখকদের মধ্যে 'ছিলেন ইন্দিরা দেবী, অতুলচন্দ্রগুপ্ত, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, সতীশচন্দ্র ঘোটক, বিশ্বপতি চৌধুরী প্রমুখ।
কীত্তনখোলা (১৯৮৬): নাটকের কাহিনীভাষ্য রচিত স্থানীয় কীত্তনখোলা নদীতীরে মেলা কেন্দ্র করেই। এই মেলা যেন গোটা বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। হকার থেকে শুরু করে নানা বর্ণ, শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের মানুষের সম্মিলন ঘটে মেলায়। মানুষের এই মিলিত সমাবেশ উন্মোচিত করে আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ মানুষের মধ্যকার নর-নারীর অবস্থানের ভেদজ্ঞান। মেলায় আসা যাত্রাদলের অভ্যন্তরীণ প্রেম, ভালোবাসা, বিরহের সমান্তরালে নাটকে আছে মানুষের বিভিন্ন পর্যায়ে রূপান্তরের গল্প।
এ নাটকের উপজীব্য: লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি। এটি নিয়ে ২০০০ সালে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। ছবিটি পরিচালনা করেছেন খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার আবু সাইয়ীদ। চলচ্চিত্রটি ২০০২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
সূর্য দীঘল বাড়ী (১৯৫৫): এটি প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। তিনি ১৯৪৬ সালে, মাত্র একুশ বছর বয়সে এটি রচনা করেন কিন্তু প্রকাশ করা হয় ১৯৫৫ সালে। পঞ্চাশের মন্বন্তর, দেশ বিভাগ, স্বাধীনতার আনন্দ ও বেদনাসহ বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এ উপন্যাস।
বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ (পঞ্চাশের মন্বন্তর), সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল সূর্য দীঘল বাড়ী। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু। দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে। এ উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপদান করেন শেখ নিয়ামত আলী ও মসীহউদ্দিন শাকের (১৯৭৯) সালে।
গ্রামে সাধারণত বাড়ি বানানো হয় উত্তর-দক্ষিণ করে। কিন্তু এই বাড়িটি পূর্ব-পশ্চিমে। এ কারণে বাড়িটি পরিচিতি লাভ করে সূর্যদীঘল বাড়ি রূপে। অন্যভাবে, সূর্যদীঘল বাড়ি বলতে ঐ বাড়িকে বোঝায়, যে বাড়িতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটানা সূর্য রশ্মি পতিত হয়। উপন্যাসে সূর্যদীঘল বাড়ি বলতে এমন একশ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছে, যাদের জীবনের টানাপোড়েন বারোমাস একইরকম।
ছোটগল্পের সার্থক সূচনা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) হাতে। রবীন্দ্র পূর্ববর্তী যুগে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প ছিল না। দক্ষ লেখনীর সাহায্যে শিল্পের অপরূপ শোভায় বিকাশ সাধিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে। তাঁর ছোটগল্প আনন্দময় বৈচিত্র্যে ভরা। বাংলার অপরূপ প্রকৃতি, যেমন-নির্জন প্রান্ত, নদী তীর, উন্মুক্ত আকাশ, বালুচর, অবারিত মাঠ, ছায়া-সুনিবিড় গ্রাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাঙালির তুচ্ছ ও অকিঞ্চিকর জীবনকেও তিনি তাঁর গাঙ্গের ক্যানভাসে চিহিত করেছেন। অতি প্রাকৃতের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন, কঙ্কাল, ক্ষুধিত পাষাণ, নিশীথ গল্পে। মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে আমরা মানব মনের অন্তঃগূঢ় রহস্যসংবলিত একটি নতুন পৃথিবীর সন্ধান পাই।
প্রতিবাদী গান কোনো সমাজে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এই গান মানুষের অন্তরকে নাড়া দেয়, চেতনা জাগিয়ে তোলে এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সাহস ও ঐক্য গড়ে তোলে। ইতিহাসজুড়ে দেখা গেছে, স্বাধীনতা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণজাগরণ-এসব ক্ষেত্রে প্রতিবাদী গান মানুষকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। যেমন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" গানটি ভাষার অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এ ধরনের গান একদিকে যেমন বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা দেয়, তেমনি মানুষের হৃদয়ে আশা, স্বপ্ন ও সাহসের সঞ্চার করে। এভাবেই প্রতিবাদী গান কেবল বিনোদনের উপকরণ নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!