রচনা লিখুন (যে কোন একটি):

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

একুশ শতকের পৃথিবী: আমাদের প্রত্যাশা

ভূমিকা

একুশ শতক হলো বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং অসাধারণ সম্ভাবনার এক নতুন যুগ। নতুন শতকের সূচনালগ্নে মানবজাতি যেমন এক অভূতপূর্ব অগ্রগতির মুখে দাঁড়িয়েছে, তেমনি মুখোমুখি হয়েছে নানা জটিল বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সূচনা এবং বিশ্বায়নের বিস্তৃত প্রভাবের ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই প্রেক্ষাপটে একুশ শতকের পৃথিবীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা—একটি ভারসাম্যপূর্ণ, শান্তিপূর্ণ, বাসযোগ্য ও বৈষম্যহীন নতুন বিশ্ব প্রতিষ্ঠা।

একুশ শতকের রূপরেখা ও বৈশিষ্ট্য

একুশ শতক তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ন্যানোটেকনোলজি এবং বায়োটেকনোলজির বিপ্লবের সময়। এটি এমন এক সময়, যখন বিশ্ব আজ একটি 'গ্লোবাল ভিলেজ' বা বিশ্বগ্রামে পরিণত হয়েছে। ভূ-রাজনীতি থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও সংস্কৃতি—সবকিছুতেই আন্তর্জাতিক আন্তঃনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অগ্রগতির পাশাপাশি এই শতকে জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারী, যুদ্ধের ঝুঁকি এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো বড় সমস্যাগুলোও তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

প্রযুক্তি ও বিকাশ: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব

একুশ শতকের মূল চালিকাশক্তি হলো ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। প্রযুক্তির প্রসার মানবজীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে। আমাদের প্রত্যাশা—প্রযুক্তির এই অভূতপূর্ব উদ্ভাবন যেন মানুষের কল্যাণে এবং নৈতিক সীমার মধ্যে ব্যবহৃত হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের উন্নয়ন যেন কর্মসংস্থান ধ্বংসের কারণ না হয়ে মানুষের শ্রমকে আরও সুসংহত ও উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।

পরিবেশ সংকট ও টেকসই উন্নয়ন

বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম বড় হুমকি হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণ। একুশ শতকে আমাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করা এবং ধরিত্রীকে বাসযোগ্য রাখা। এর জন্য প্রয়োজন—

  • জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
  • পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) নিশ্চিত করা।
  • বনভূমি রক্ষা ও প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

শান্তি, মানবতা ও বৈষম্যহীন বিশ্ব

যুদ্ধ, শরণার্থী সংকট এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা একুশ শতকের বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রত্যাশা হলো পরাশক্তিগুলোর মধ্যে শক্তির প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে পারস্পরিক কূটনৈতিক সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতিষ্ঠা। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, জাতিগত সংঘাত ও সামাজিক অসাম্য দূর করে একটি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই শতকের মানুষের মূল দাবি।

বাংলাদেশের অবস্থান ও নতুন স্বপ্ন

একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশও নিজেকে নতুনভাবে প্রস্তুত করছে। একটি উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা—দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিশ্ব অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে একটি দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

উপসংহার

একুশ শতক হলো সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের এক যুগসন্ধিক্ষণ। মানুষ যদি তার মেধা, প্রযুক্তি ও নৈতিকতার সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারে, তবে এই শতাব্দী হবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ যুগ। পারস্পরিক সহানুভূতি, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈশ্বিক ঐক্যের মাধ্যমেই কেবল একটি সুন্দর, সবুজ ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব—যা একুশ শতকে সমগ্র মানবজাতির মূল প্রত্যাশা।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শ্রম অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় প্রধান উৎস। এ খাত কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব হ্রাসে অবদান রাখছে। ২০১৬ সালে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে অভিবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের জিডিপি'র প্রায় ৭.৮৩%। অভিবাসীরা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে। বাংলাদেশ থেকে সংঘটিত শ্রম অভিবাসনের সবচেয়ে বড় অংশই (প্রায় ৯৯%) ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও রিক্রুটিং এজেন্টের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে অবৈধভাবে শ্রমের অভিবাসন ও মানবপাচার বিদ্যমান।

টিআইবি'র সার্বিক পর্যবেক্ষণ হচ্ছে:

আইনি কাঠামোতে কিছু ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান;

শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়া তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি;

তথ্যের উন্মুক্ততার ক্ষেত্রে ঘাটতি বিদ্যমান কর্ম পরিবেশ, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তথ্য, ভিসার মূল্য/ অভিবাসন ব্যয়ের খাত;

উচ্চ অভিবাসন ব্যয় অনিয়ন্ত্রিত ভিসা বাণিজ্য প্রত্যাশিত পর্যায়ে অভিবাসনের সুফল না পাওয়া;

বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়া

দীর্ঘ, জটিল, অনিশ্চিত, প্রায় ঢাকা-কেন্দ্রিক

অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তি ও প্রক্রিয়া নির্ভর, প্রতারিত ও বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি;

প্রাপ্য ও প্রকৃত ক্ষতিপূরণ না পাওয়া; এবং

শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বিদ্যমান

ভিসা প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়ম-বহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ;

কাজের জন্য অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি; ও

বিদেশে অবৈধ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি।

 

টিআইবি বেশকিছু সুপারিশ প্রদান করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

'বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন ২০১৩' এর সংস্কার সাধন;

বিদেশে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রম উইং-এর সক্ষমতা (বাজেট, জনবল) ও দক্ষতা বাড়ানো;

দালালদেরকে রিক্রুটিং এজেন্টদের সাব এজেন্ট বা নিবন্ধিত প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান প্রণয়ন;

ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত একক ভিসার জন্য বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএমইটি কর্তৃক ওয়ান স্টপ সেবা কার্যকর করা;

সরকার-নির্ধারিত ব্যয়ের ন্যূনতম পাঁচগুণ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ;

সব দেশের জন্য অনলাইনে ভিসা যাচাই নিশ্চিত করার জন্য গন্তব্য দেশের সাথে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ;

দলীয় ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম বাতিলকরণ;

অভিবাসী কর্মীর ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে তথ্য বিনিময়ে কার্যকর সমন্বয় সাধন; এবং

সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি।

Toimun Naher Moli
Toimun Naher Moli
10 months ago
99

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলা ভাষায় শব্দ মূলত সন্ধি, সমাস, উপসর্গ, প্রত্যয়, দ্বিরুক্তি এবং বিদেশি শব্দ গ্রহণের মাধ্যমে গঠিত হয়।


বাংলা ভাষায় শব্দ গঠনের প্রধান উপায়গুলো নিচে উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো:

        
  •         সন্ধি: পরস্পর সংযুক্ত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। এর মাধ্যমে দুটি শব্দের মিলন ঘটে এবং একটি নতুন শব্দ তৈরি হয়, যা উচ্চারণকে সহজ ও শ্রুতিমধুর করে তোলে।         
    উদাহরণ: হিম + আলয় = হিমালয়, বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়, দেব + ইন্দ্র = দেবেন্দ্র।     
  •     
  •         সমাস: দুই বা ততোধিক পদকে এক পদে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। এর মাধ্যমে বাক্য সংক্ষিপ্ত হয় এবং একটি নতুন যৌগিক শব্দ গঠিত হয়।         
    উদাহরণ: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, হাতে কড়ি = হাতকড়ি, মা ও বাবা = মা-বাবা।     
  •     
  •         উপসর্গ: কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ যা ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে অথবা শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায়, তাদের উপসর্গ বলে। বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ দেখা যায়—সংস্কৃত, বাংলা ও বিদেশি উপসর্গ।         
    উদাহরণ: প্র + হার = প্রহার, উপ + কার = উপকার, বি + জয় = বিজয়, অনা + বৃষ্টি = অনাবৃষ্টি।     
  •     
  •         প্রত্যয়: শব্দ বা ধাতুর পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে প্রত্যয় বলে। প্রত্যয় মূলত দুই প্রকার—কৃৎ প্রত্যয় (ধাতুর পরে যুক্ত হয়) এবং তদ্ধিত প্রত্যয় (শব্দমূলের পরে যুক্ত হয়)।         
    উদাহরণ: কৃৎ প্রত্যয়: চল + অন্ত = চলন্ত, √হাস + ই = হাসি।         
    তদ্ধিত প্রত্যয়: বড় + আই = বড়াই, ঢাকা + আই = ঢাকাই।     
  •     
  •         দ্বিরুক্তি/শব্দ দ্বৈত: একটি শব্দকে দুইবার প্রয়োগ করে অথবা সামান্য পরিবর্তন করে ব্যবহার করে যখন নতুন অর্থ বা ভাব প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে দ্বিরুক্তি বা শব্দ দ্বৈত বলে। এর মাধ্যমে শব্দের তীব্রতা, আধিক্য, পৌনঃপুনিকতা বা বিশেষ অর্থ বোঝানো হয়।         
    উদাহরণ: ভালো ভালো বই, ঝম ঝম বৃষ্টি, বারবার।     
  •     
  •         বিদেশি শব্দ গ্রহণ: বাংলা ভাষা বিভিন্ন বিদেশি ভাষা যেমন—ইংরেজি, ফারসি, আরবি, পর্তুগিজ ইত্যাদি থেকে অসংখ্য শব্দ গ্রহণ করে তার শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। এই শব্দগুলো বাংলা ভাষার নিজস্ব রূপ লাভ করে ব্যবহৃত হয় এবং নতুন শব্দ হিসেবে পরিগণিত হয়।         
    উদাহরণ: চেয়ার (ইংরেজি), টেবিল (ইংরেজি), নামাজ (ফারসি), রোজা (ফারসি), চাবি (পর্তুগিজ)।     
Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

গীতাঞ্জলি

কারণ: শব্দের শেষে অঞ্জলি লিখতে সবসময়ই ই-কার (ি) হবে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

প্রতিযোগিতা

কারণ: কোনো বিশেষ্য শব্দের শেষে যদি -ী থাকে এবং তার পরে যদি ত্ব/তা/ণী/নী/ সভা / পরিষদ / ভাব / ভাবে / তত্ত্ব / বিদ্যা /জগৎ/ বাচক ইত্যাদি শব্দ যোগ করা হয় বা থাকে, তাহলে ঐ শব্দের শেষের দীর্ঘ ঈ-কার হ্রস্ব ই-কার হয়ে যাবে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

সূচিপত্র

কারণ: যেসব শব্দে ই, ঈ বা উ, ঊ উভয় শুদ্ধ কেবল সেসব শব্দে ই বা উ এবং তার কার চিহ্ন  ি বা ু হবে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

শৃঙ্খলা

যেসব সংস্কৃত শব্দে (ঙ্‌) + খ থাকে, সেগুলো বাংলায় রূপান্তরিত হলে 'ঙখ' হিসেবে লেখা হয়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

পোস্টমাস্টার

কারণ: বিদেশি শব্দে 'স' হয়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

ঐকতান

কারণ: প্রত্যয়ঘটিত।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

তার দুচোখ অশ্রুজলে ভেসে গেল। = তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

শামীমের চিঠি দেখে তিনি অবাক হইলেন। = শামীমের চিঠি দেখে তিনি অবাক হলেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

ইদানিংকালে সমাজে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। = ইদানিং সমাজে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

এমন লজ্জাস্কর ব্যাপার কখনো দেখি নাই। = এমন লজ্জাকর ব্যাপার কখনো দেখিনি।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

সকল সদস্যবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। = সকল/সব সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ছেলেটি আরোগ্য হয়েছে। = দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ছেলেটি আরোগ্য লাভ করেছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

এক যাত্রায় পৃথক ফল = একই কাজের ভিন্ন প্রাপ্তি। 

বাক্যরচনা: একই পরীক্ষা দিয়ে রাহুল পাস করল, আর শুভ অকৃতকার্য হলো- এক যাত্রায় পৃথক ফল।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড় = সময় থাকতে সাবধান হলে বিপদকালে রেহাই পাওয়া যায়। 

বাক্যরচনা: ঠান্ডা লাগার পরও সময়মতো ওষুধ খায়নি, এখন নিউমোনিয়া এ যেন সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ = ক্ষমতা লাভ করলে সব লোকের স্বভাব এক রকমই হয়। 

বাক্যরচনা: রতনের মতো ভদ্রলোকও চেয়ারম্যান হবার পর দুর্ব্যবহার শুরু করেছে এ বুঝি, যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা = তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে অপরাধ গোপনের চেষ্টা। 

বাক্যরচনা: দুর্নীতির তদন্তে তিনি নানান অজুহাত দেন আসলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা মাত্র।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

খালি কলসি বাজে বেশি = যার জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা কম সে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করে। 

বাক্যরচনা: পরীক্ষায় ফেল করার পরও ওর বড়াই থামে না, একেবারে খালি কলসি বাজে বেশি।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

পর্বতের মূষিক প্রসব = বিপুল উদ্যোগে তুচ্ছ অর্জন। 

বাক্যরচনা: এত আয়োজন, সভা-সেমিনার শেষে একটা পুরোনো সিদ্ধান্ত - পুরো ব্যাপারটা পর্বতের মূষিক প্রসব!

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

সকাল থেকে আমি বসে আছি। (প্রশ্নবাচক) = সকাল থেকে কি আমি বসে আছি?

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

রাতে আমার ঘুম আসে না। (যৌগিক) = রাত হয়, কিন্তু আমার ঘুম আসে না।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

এখান থেকে চলে যাও। (নেতিবাচক) = এখানে বসে থেকো না।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

এই মাঠে একসময় আমিও অনুশীলন করতাম। (জটিল) = যখন সময় ছিল, তখন আমি এই মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করতাম।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

তাকে ভোলা ঠিক হবে না। (অস্তিবাচক) = তাকে মনে রাখলেই ভালো হয়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

যখনই তুমি এলে, ছেলেটি দৌড় দিল। (সরল) = তুমি এসেছ বলেই ছেলেটি দৌড় দিল।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
84
উত্তরঃ

মানুষের বৃদ্ধি বলতে আমরা সাধারণত দৈহিক বৃদ্ধিকেই বুঝি। জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিপুষ্টি ইত্যাদি বাহ্যিক পরিবর্তনই দৈহিক বৃদ্ধি। জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই বৃদ্ধি ঘটে এবং এরপর তা থেমে যায়। কিন্তু মানুষের অস্তিত্ব কেবল দেহসর্বস্ব নয়, তার একটি মন ও আত্মা আছে। এই মন ও আত্মার যে বিকাশ, তাকেই আত্মিক বৃদ্ধি বলে।

আত্মিক বৃদ্ধি হলো জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, মূল্যবোধ, মানবিকতা, সহমর্মিতা, ধৈর্য, উদারতা, নীতিবোধ ইত্যাদির ক্রমবিকাশ। একজন মানুষ যত বেশি জ্ঞান অর্জন করে, যত বেশি অভিজ্ঞতা লাভ করে, যত বেশি অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় এবং নিজের ভেতরে মানবিক গুণাবলি ধারণ করে, ততই তার আত্মিক বৃদ্ধি ঘটে। এই আত্মিক বৃদ্ধি চলমান প্রক্রিয়া, যা মানুষের সারা জীবন ধরে চলতে থাকে এবং এর কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। দৈহিক বৃদ্ধি যেমন জীবনের এক পর্যায়ে থেমে যায়, আত্মিক বৃদ্ধির কোনো শেষ নেই।

প্রকৃত মানুষ হতে হলে কেবল দৈহিক বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়, আত্মিক বৃদ্ধি অপরিহার্য। দৈহিক শক্তি সাময়িক ও বাহ্যিক, কিন্তু আত্মিক শক্তি চিরন্তন ও অভ্যন্তরীণ। আত্মিকভাবে সমৃদ্ধ মানুষ কেবল নিজের নয়, সমাজ ও জাতির কল্যাণেও অবদান রাখে। তাই প্রকৃত মানবসত্তা বিকাশের জন্য দৈহিক বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মিক উন্নতির প্রতিও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যে মানুষ আত্মিক দিক থেকে উন্নত, সেই প্রকৃত অর্থে আলোকিত ও পূর্ণাঙ্গ মানুষ।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
366
উত্তরঃ

সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদের যথার্থ মর্যাদা কাব্যসৃষ্টি হিসেবে। তবে তার মধ্যে একটি ধর্মমত চমৎকারভাবে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ তাদের ধর্মীয় রীতিনীতির নিগূঢ় রহস্য চর্যাপদের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। চর্যাপদের মাধ্যমে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যের গোপন তত্ত্বদর্শন ও ধর্মচর্চাকে বাহ্যিক প্রতীকের সাহায্যে ব্যক্ত করেছেন। বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখা কালক্রমে যেসব উপশাখায় বিভক্ত হয়েছিল, তারই বজ্রযানের সাধারণ প্রণালী ও তত্ত্ব চর্যাপদে বিধৃত। মহাসুখরূপ নির্বাণলাভ-ই হলো চর্যার প্রধান তত্ত্ব বা ধর্মমত।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

কাব্য

কবিগণ

প্রধান চরিত্র

মনসামঙ্গলকানাহরিদত্ত নারায়ণদেব ক্ষেমানন্দ কেতকাদাস বিজয়গুপ্ত দ্বিজ বংশীদাস বিপ্রদাস পিপিলাইচাঁদ সওদাগার বেহুলা লখিন্দর মনসা
Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

শ্রীচৈতন্যের প্রভাবে বাংলা সাহিত্য যখন একান্তভাবে দেবদেবীর লীলাভূমি হয়ে উঠেছিল, ঠিক সে সময় বাংলার সুদূর সীমান্তে রোসাঙ্গ রাজসভায় মুসলিম কবিদের কাব্য সাধনার আসরে শোনা গিয়েছিল আরেক নবসুরের আলাপন, ফুটে উঠেছিল দেবদেবীহীন বলিষ্ঠ লৌকিক প্রেমকাহিনী। এ চিত্র একান্তভাবেই মৃত্তিকা ঘনিষ্ঠ মানবজীবনের প্রতীক। এখানে দেবদেবীর বিলাস লীলার কোনো স্থান ছিল না। এ সময়ের বিখ্যাত সাহিত্যিকদের মধ্যে শাহ মুহম্মদ সগীর, দৌলত কাজী, মরদন, কোরেশী মাগন ঠাকুর, আলাওল প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। মধ্যযুগের এ সময়টিতে রোমান্টিক প্রণয়সমৃদ্ধ কাব্য বেশি সৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ের সাহিত্যিকগণ আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় অনুবাদ করে বিখ্যাত সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। উদাহরণস্বরূপ শাহ মুহম্মদ সগীরের 'ইউসুফ-জোলেখা' এবং দৌলত উজির বাহরাম খানের 'লায়লী-মজনু' কাব্যের নাম উল্লেখ করার মতো।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

দোভাষী পুথি

দোভাষী পুথি হলো কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুথি। কেউ কেউ আরবি-ফারসি এই দুটি শব্দের প্রাচুর্যপূর্ণ ব্যবহারের জন্য এই পুথিকে 'দোভাষী পুথি' নামে অভিহিত করেছেন। মনে রাখতে হবে দোভাষী পুথি শুধু দুটি ভাষায় রচিত পুথি নয়; বাংলা, হিন্দি, ফারসি, আরবি, তুর্কি ইত্যাদি ভাষার সংমিশ্রণে রচিত পুথিই হলো দোভাষী পুথি।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশেষ উমরী উল্লেখযোগ্য চৌধুরী বীরবলী রীতি' নামে বাংলা ভাষার যে চলিত ভাষারীতি চালু করেছিলেন তা প্রচারের মাধ্যম ছিল সবুজপত্র পত্রিকা। তাই বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তনে এ পত্রিকার ভূমিকা ছিল সর্বাধিক। সবুজপত্র পত্রিকাকে কেন্দ্র করে একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল। লেখকদের মধ্যে 'ছিলেন ইন্দিরা দেবী, অতুলচন্দ্রগুপ্ত, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, সতীশচন্দ্র ঘোটক, বিশ্বপতি চৌধুরী প্রমুখ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

কীত্তনখোলা (১৯৮৬): নাটকের কাহিনীভাষ্য রচিত স্থানীয় কীত্তনখোলা নদীতীরে মেলা কেন্দ্র করেই। এই মেলা যেন গোটা বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। হকার থেকে শুরু করে নানা বর্ণ, শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের মানুষের সম্মিলন ঘটে মেলায়। মানুষের এই মিলিত সমাবেশ উন্মোচিত করে আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ মানুষের মধ্যকার নর-নারীর অবস্থানের ভেদজ্ঞান। মেলায় আসা যাত্রাদলের অভ্যন্তরীণ প্রেম, ভালোবাসা, বিরহের সমান্তরালে নাটকে আছে মানুষের বিভিন্ন পর্যায়ে রূপান্তরের গল্প।

এ নাটকের উপজীব্য: লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি। এটি নিয়ে ২০০০ সালে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। ছবিটি পরিচালনা করেছেন খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার আবু সাইয়ীদ। চলচ্চিত্রটি ২০০২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

সূর্য দীঘল বাড়ী (১৯৫৫): এটি প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। তিনি ১৯৪৬ সালে, মাত্র একুশ বছর বয়সে এটি রচনা করেন কিন্তু প্রকাশ করা হয় ১৯৫৫ সালে। পঞ্চাশের মন্বন্তর, দেশ বিভাগ, স্বাধীনতার আনন্দ ও বেদনাসহ বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এ উপন্যাস। 

বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ (পঞ্চাশের মন্বন্তর), সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল সূর্য দীঘল বাড়ী। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু। দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে। এ উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপদান করেন শেখ নিয়ামত আলী ও মসীহউদ্দিন শাকের (১৯৭৯) সালে।

গ্রামে সাধারণত বাড়ি বানানো হয় উত্তর-দক্ষিণ করে। কিন্তু এই বাড়িটি পূর্ব-পশ্চিমে। এ কারণে বাড়িটি পরিচিতি লাভ করে সূর্যদীঘল বাড়ি রূপে। অন্যভাবে, সূর্যদীঘল বাড়ি বলতে ঐ বাড়িকে বোঝায়, যে বাড়িতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটানা সূর্য রশ্মি পতিত হয়। উপন্যাসে সূর্যদীঘল বাড়ি বলতে এমন একশ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছে, যাদের জীবনের টানাপোড়েন বারোমাস একইরকম।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

ছোটগল্পের সার্থক সূচনা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) হাতে। রবীন্দ্র পূর্ববর্তী যুগে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প ছিল না। দক্ষ লেখনীর সাহায্যে শিল্পের অপরূপ শোভায় বিকাশ সাধিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে। তাঁর ছোটগল্প আনন্দময় বৈচিত্র্যে ভরা। বাংলার অপরূপ প্রকৃতি, যেমন-নির্জন প্রান্ত, নদী তীর, উন্মুক্ত আকাশ, বালুচর, অবারিত মাঠ, ছায়া-সুনিবিড় গ্রাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাঙালির তুচ্ছ ও অকিঞ্চিকর জীবনকেও তিনি তাঁর গাঙ্গের ক্যানভাসে চিহিত করেছেন। অতি প্রাকৃতের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন, কঙ্কাল, ক্ষুধিত পাষাণ, নিশীথ গল্পে। মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে আমরা মানব মনের অন্তঃগূঢ় রহস্যসংবলিত একটি নতুন পৃথিবীর সন্ধান পাই।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

প্রতিবাদী গান কোনো সমাজে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এই গান মানুষের অন্তরকে নাড়া দেয়, চেতনা জাগিয়ে তোলে এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সাহস ও ঐক্য গড়ে তোলে। ইতিহাসজুড়ে দেখা গেছে, স্বাধীনতা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণজাগরণ-এসব ক্ষেত্রে প্রতিবাদী গান মানুষকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে। যেমন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" গানটি ভাষার অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এ ধরনের গান একদিকে যেমন বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা দেয়, তেমনি মানুষের হৃদয়ে আশা, স্বপ্ন ও সাহসের সঞ্চার করে। এভাবেই প্রতিবাদী গান কেবল বিনোদনের উপকরণ নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
70
উত্তরঃ

বিষয়: ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি, চিত্র ও লেখা নিয়ে পিতা ও কন্যার সংলাপ।

স্থান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন একটি রাস্তা, যার দুপাশের দেয়ালগুলো নানা রঙের গ্রাফিতি ও চিত্রায়নে সাজানো।
চরিত্র: রফিকুল ইসলাম (বাবা) ও অনন্যা (কন্যা)।


অনন্যা: বাবা, একটু দাঁড়িয়ে এই দেয়ালটার দিকে তাকাও তো! লাল, হলুদ আর কালো রঙের এই চিত্রটাতে কী অদ্ভুত এক প্রতিবাদ আর সংকল্প ফুটে উঠেছে, তাই না?

বাবা: হ্যাঁ রে মা! সত্যিই অসাধারণ। ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তরুণ প্রজন্ম যেভাবে রঙের তুলিতে তাদের ক্ষোভ, দাবি আর স্বপ্নকে এই ইট-পাথরের দেয়ালে ফুটিয়ে তুলেছে, তা কেবল শিল্প নয়—ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।

অনন্যা: এই দেখো বাবা, এখানে লেখা—'বিকল্প কে? আমি, তুমি, আমরা!' আবার অন্য এক জায়গায় লেখা, 'দেশটা কারো বাপের নয়'। এসব স্লোগান আর চিত্রকর্মগুলো কি কেবল ছাত্র-জনতার আন্দোলনকেই নির্দেশ করে?

বাবা: না মা, এগুলো শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের আন্দোলন নয়; এগুলো আমাদের বাকস্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। স্বৈরাচার আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ কীভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল, এই গ্রাফিতিগুলো সেটাই প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

অনন্যা: ঠিক বলেছ বাবা। বিশেষ করে শহীদদের স্মৃতি নিয়ে আঁকা চিত্রগুলো দেখে সত্যি চোখ ভিজে আসে। ঐ যে দেখো, 'পানি লাগবে পানি?' লেখাটির পাশে মুগ্ধর আঁকা ছবি কিংবা আবু সাঈদের দুহাত প্রসারিত বীরত্বগাথার চিত্রায়ণ—এগুলো তো শুধু দেয়ালচিত্র নয়, এক একটি রক্তের আখরে লেখা ইতিহাস।

বাবা: একদম ঠিক বলেছিস। দেয়ালগুলো এতদিন চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীরা সেগুলোকে কথা বলার শক্তি দিয়েছে। রাজনৈতিক চেতনা, সামাজিক সংস্কার, এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের বার্তাগুলো চিত্রকলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে গেছে।

অনন্যা: আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগছে এই দেয়ালগুলোর নান্দনিক রূপ। আগে যেখানে অপরিচ্ছন্নতা আর নানা ধরনের বিজ্ঞাপন থাকত, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা আর স্বাধীনতার বার্তা। তরুণদের এই সৃজনশীলতা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বাবা: এটাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল শক্তি অনন্যা। রঙ আর তুলির এই আন্দোলন প্রমাণ করে যে, বুলেট বা ভয় দেখিয়ে কোনো জাতির চেতনাকে দাবিয়ে রাখা যায় না। এই গ্রাফিতিগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে অনুপ্রাণিত করবে।

অনন্যা: সত্যিই বাবা, এই গ্রাফিতিগুলো দেখে মনে হয়—আমরা যেন এক নতুন বাংলাদেশের রাজপথে হেঁটে বেড়াচ্ছি। আমাদের দায়িত্ব এই চেতনাকে রক্ষা করা।

বাবা: যথার্থই বলেছিস মা। চল, আরো কয়েকটি দেয়ালচিত্র ঘুরে দেখি এবং এগুলোর বার্তা নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করি।

Satt AI
Satt AI
1 day ago
402
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews