ই-গভর্ন্যান্সের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে UNESCO উল্লেখ করে ই-গভর্ন্যান্স হলো ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সরকারি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডকে কার্যকর, দ্রুততর এবং স্বচ্ছতর করার একটি প্রক্রিয়া।
সরকার কর্তৃক নাগরিকদের প্রদত্ত সেবাকেই ই-সেবা বলা হয়। অর্থাৎ সরকার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মৌলিক সেবাগুলো জনগণের আরও কাছাকাছি ও সহজলভ্য করে তোলে। যেমন- মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটা, মোবাইল ব্যাংকিং, মোবাইলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, অনলাইনে বিভিন্ন চাকরির আবেদন ফরম পূরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকার নাগরিকদের জন্য যে সেবা দিচ্ছে সেটাই ই-সেবা।
পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোকে একটি দেশের সরকার সেদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সদা সচেষ্ট থাকে। আর এ দায়িত্ববোধ থেকেই সরকার রাষ্ট্রের নাগরিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে নানা ধরনের কৌশল বা পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকে যাতে করে নাগরিকরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে এবং নাগরিকগণ নিজেদের অধিকার ভোগ করতে পারে। তাই উদ্দীপকে উল্লিখিত কার্যক্রমকে পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোকে ব্যাখ্যা করতে গেলে বলতে হয় বর্তমান প্রযুক্তির ব্যাপক উৎকর্ষতার যুগে প্রযুক্তির উদ্ভবস্থল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সচেতন নাগরিকগণ তাদের সরকার কর্তৃক ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থার সেবার মাধ্যমে নাগরিক অধিকার যথাযথভাবে ভোগ করেন এবং সরকারের নাগরিক সেবাদানের সুবিধাস্বরূপ তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচন কেন্দ্রে না গিয়ে ঘরে বসেই ভোট দেন এবং ট্যাক্স প্রদানসহ পুলিশকে অভিযোগের কাজটিও ঘরে বসেই অনলাইনে করে থাকেন।
উক্ত ব্যবস্থা নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে কাজ করে। উত্তরের সপক্ষে যুক্তি নিম্নরূপ-
ই-সার্ভিসের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়। আর জনগণ হলো রাষ্ট্রের প্রাণ। তাই রাষ্ট্রের নাগরিকরা যদি এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবাসমূহ পায় তবে প্রশাসনিক দুর্নীতি হ্রাস পাবে, কাজকর্মের গতি বাড়বে, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং পাশাপাশি নাগরিকদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। এছাড়াও উক্ত ব্যবস্থার দ্বারা সেবা পাওয়ার জন্য নাগরিকদের প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না এবং নাগরিকগণ। ঘরে বসেই অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি নিজেদের বিভিন্ন প্রয়োজন, পূরণ যেমন- পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, চাকরির জন্য আবেদন ইত্যাদি করতে পারবে। তাছাড়াও উক্ত ব্যবস্থায় নাগরিকগণ সরকারের কার্যাবলি সম্পর্কে জানতে পারবে এবং নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারবে। যার ফলে উক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এসব বিষয় বিবেচনায় দেখা যায়, উক্ত বিষয়টি সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে ব্যাপক হারে কাজ করে।
Related Question
View All"ই-গভর্ন্যান্স হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার" - সংজ্ঞাটি জাতিসংঘ (২০০৬) প্রদত্ত।
ই-গভর্ন্যান্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণকে তথ্যসেবা দেওয়া। আর এর মাধ্যমে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি কাজের গতিশীলতা আনয়ন, ব্যয় হ্রাস করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ই-গভর্ন্যান্স বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ই-গভর্ন্যান্স পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ একটি পদ্ধতি।
সুমনের বাবা অবাক হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মনে হচ্ছে তিনি আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পর্যাপ্ত জানেন না। তিনি হয়তবা বয়োজ্যেষ্ঠ লোক যারা আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তিনি এমন এক ব্যবস্থায় অভ্যস্ত যেখানে সরকারি-বেসরকারি যোগাযোগ সবসময় সাধারণভাবে সম্পন্ন হয়। চিঠি, সরাসরি খবর সরবরাহ কিংবা বড়জোর টেলিফোনের মাধ্যমে তথ্য যোগাযোগে যারা পারদর্শী ছিলেন, তাদের নিকট ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আশ্চর্য হওয়ার মতোই ব্যাপার। আধুনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জনমত গঠনের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমেই ঘরে বসেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যায়। সুমন এভাবেই সন্ত্রাসীকে ধরে দিতে সহায়তা করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে যার কোনো ধারণা নেই, তিনি এতে আশ্চান্বিত হতেই পারেন। এজন্যই সুমনের বাবা অবাক হয়েছিলেন।
সুমন রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশিক্ষিত ও সচেতন জনগণের কথা উল্লেখ করেছে, যারা বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আধুনিককালে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সরকার ও জনগণের সহঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কিন্তু গণতন্ত্রের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমাজে শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজের সচেতন নাগরিকেরা সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে পত্রপত্রিকা এবং অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নানাবিধ আলোচনা সমালোচনায় অংশ নেয়। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদিকে এখন বলা হয় নাগরিক সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম। এ প্লাটফর্মে জনগণ একত্রিত হয়ে সরকারের প্রশংসা বা সমালোচনা করে সরকারকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়। এরূপ আন্দোলনের দাবি অনেক সময়ই সরকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানতে বাধ্য হয়। আর এ কাজটি করে মূলত দেশের সচেতন ও শিক্ষিত জনসাধারণ। গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ পক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনসাধারণের এ অংশ যত সক্রিয় ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে, গণতন্ত্র তত সংহত হবে। শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতা তত বৃদ্ধি পাবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত বিচারে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এভাবেই জনসাধারণের সচেতন ও সুশিক্ষিত অংশ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।
ফেসবুক ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং ছবি, তথ্য শেয়ার করা যায়। (www.facebook.com)
ই-গভর্ন্যান্স একটি উত্তম পদ্ধতি হলেও এর নানাবিধ অসুবিধা রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি, আবার এজন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন জনবলও অপ্রতুল। এছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত হালনাগাদ করার বিদ্যুৎ সমস্যা, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং দুর্নীতিবাজদের প্রভাব এক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। যেখানে' দেশের সিংহভাগ জনগণের ন্যূনতম ICT জ্ঞান এবং ইন্টারনেট অ্যাকসেস নেই, সেখানে এটি অপ্রয়োজনীয় অপচয়ও বটে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!