জ্বালানি হলো যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, তেল, গ্যাস) মজুদ ফুরিয়ে আসা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য যোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy) একটি অপরিহার্য বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৪০% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিসমূহ:
নবায়নযোগ্য জ্বালানি হলো সেই শক্তি যা প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যায় এবং যা কখনো নিঃশেষ হয় না। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিসমূহ হলো:
- সৌরশক্তি: এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে চয়ে সম্ভাবনাময় উৎস। বর্তমানে দেশে 'সোলার হোম সিস্টেম' (SHS)-এর সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষাধিক। এ ছাড়া গ্রিড-সংযুক্ত সোলার পার্কের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে।
- বায়ুশক্তি: বাংলাদেশের ৭১০ কিমি উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার ও ফেনীতে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু রয়েছে।
- জলবিদ্যুৎ: কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের একমাত্র বড় হাইড্রো-পাওয়ার প্ল্যান্ট। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ি এলাকায় ছোট ছোট 'মাইক্রো-হাইড্রো' প্ল্যান্টের সম্ভাবনা রয়েছে।
- বায়োগ্যাস ও বায়োম্যাস: গ্রামীণ এলাকায় গবাদি পশুর বর্জ্য ও কৃষি বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হয় যা রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ: বড় শহরগুলোর কঠিন বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে (যেমন- ঢাকার আমিনবাজার প্রকল্প)।
সম্ভাবনা:
ভৌগোলিক অবস্থান: বাংলাদেশ একটি ক্রান্তীয় দেশ হওয়ায় এখানে বছরে প্রায় ৩০০ দিন পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। গড় সৌর বিকিরণ প্রতি বর্গমিটারে ৪ থেকে ৬.৫ কিলোওয়াট ঘণ্টা, যা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
উপকূলীয় বায়ুপ্রবাহ: উপকূলীয় দ্বীপ ও উপকূল রেখা বরাবর বায়ুর গড় গতিবেগ ৫-৮ মি./সেকেন্ড। আধুনিক টারবাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বিপুল বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বড় আকারের অফ-শোর ও অন-শোর উইন্ড ফার্ম করা সম্ভব।
পরিবেশগত সুবিধা ও বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি: এটি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এসডিজি (SDG) লক্ষ্য-৭ অর্জনে এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থায়ন প্রাপ্তিতে সহায়ক হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়: আমদানিকৃত এলএনজি বা কয়লার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এটি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। এটি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিতিশীলতা থেকে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেবে।
অফ-গ্রিড ও দুর্গম এলাকার সুবিধা: চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় যেখানে গ্রিড বিদ্যুৎ পৌঁছানো কঠিন, সেখানে সৌরশক্তিই একমাত্র টেকসই সমাধান। সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রামীণ ও দুর্গম জনপদের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ: বড় শহরগুলোর বর্জ্য ব্যবহার করে 'Waste-to-Energy' প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং একই সাথে পরিবেশ দূষণ রোধ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
Related Question
View Allনবায়নযোগ্য শক্তি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি হলো এমন শক্তি, যা পুনরায় বা বারবার ব্যবহার করা যায়। ব্যবহারের ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসগুলো হলোঃ সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব শক্তি, সমুদ্র শক্তি, সমুদ্র তরঙ্গ শক্তি, সমুদ্র তাপ শক্তি, জোয়ার ভাটা শক্তি, ভূতাপ শক্তি, জলবিদ্যুৎ, শহুরে আবর্জনা, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, হাইড্রোজেন ফিউশন নিউক্লিয়ার পাওয়ার ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!