দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আঠারো বছরের কম বয়সী মেয়ে এবং একুশ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়েকে বাল্যবিবাহ বলে।
জনসংখ্যা বেশি হলে প্রত্যেকের জন্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা সরকারের জন্যে কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিরক্ষরতার প্রতিকার করা যায়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশে জনসংখ্যা অধিকহারে বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছর ২৪ লক্ষ নতুন শিশু স্কুলে পড়ার উপযোগী হচ্ছে। এ বিপুল সংখ্যক শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু শিশুর সংখ্যা কম হলে সরকারের পক্ষে শিক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো।
সুফিয়া নিরক্ষর হওয়ার পেছনে যে কারণগুলো বিদ্যমান তা হলো, দারিদ্র্য এবং কন্যাসন্তানের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব। দারিদ্র্যকে বাংলাদেশের নিরক্ষরতার প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। দারিদ্র্যের কারণেই বিদ্যালয়ে পড়াশুনার আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করতে পারে না বলে অনেক অভিভাবক সন্তানকে বিদ্যালয়ে দিতে পারেন না। সরকারি বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক হলেও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত অনেক পরিবার সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠানোর পরিবর্তে কাজ করার জন্য পাঠায়। যেমনটি সুফিয়ার ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়।
দেশে নিরক্ষরতার আরেকটি কারণ হলো কন্যা সন্তানের প্রতি পিতামাতার নেতিবাচক মনোভাব। গ্রাম বাংলায় সন্তান প্রতিপালনের প্রতিটি পর্যায়ে অর্থাৎ সন্তানের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্য বন্টন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ প্রাধান্য পায়। মূলত পরিবারের লোকজন কন্যা সন্তানকে সানন্দে গ্রহণ করতে পারে না। তাই ছেলের জন্য তারা যথাসাধ্য শিক্ষার ব্যবস্থা করলেও মেয়ের জন্য তা করে না। গ্রামের নিরক্ষর মেয়ে সুফিয়ার ঢাকায় একটি পরিবারে কাজ করতে আসার ক্ষেত্রে এ কারণটিও দায়ী বলে আমি মনে করি।
সুফিয়ার মতো মেয়েদের নিরক্ষরতা দূরীকরণে আমার করণীয় পদক্ষেপগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
সুফিয়ার মতো মেয়েদের নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। কেননা দারিদ্র্য মোচন করতে না পারলে নিরক্ষরতা দূর করা সম্ভব নয়। স্কুলে পাঠানো এবং পড়াশুনার ব্যয়ভার বহন করার মতো আর্থিক যোগ্যতা যাতে জনগণের হয়, তার নিশ্চয়তা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক শিক্ষার ক্ষেত্রে যে আইনের দুর্বলতা এবং প্রয়োগ ক্ষেত্রে শিথিলতা রয়েছে তা দূর করতে হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সুফিয়ার মতো মেয়েদের নিরক্ষরতা দূরীকরণে সহায়ক হবে। কেননা শিক্ষিত বেকার সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে জনসাধারনের মনে এ বিশ্বাস জন্ম নেবে যে, শিক্ষাগ্রহণের ফলে তাদের সন্তানরাও চাকরি পাবে। এতে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। সুফিয়ার মতো দরিদ্র পরিবারগুলোর শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির জন্য শিক্ষা সহায়ক বিভিন্ন উপকরণের সহজলভ্যতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন, পর্যাপ্ত শিক্ষা ঋণ ও শিক্ষা সহায়ক প্রকল্প চালু করা প্রয়োজন। এছাড়া জনসচেতনতার মাধ্যমে নিরক্ষরতা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। কেননা নিরক্ষরতা বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা হওয়ায় এটি দূরীকরণ সমাজের দায়িত্ব। তাই ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত উদ্যোগে সবাই যাতে নিরক্ষরতা দূরীকরণে এগিয়ে আসে সে জন্য সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। তদুপরি নিরক্ষরতা দূরীকরণে জাতীয়ভাবে ফলপ্রসূ গবেষণার মাধ্যমে কার্যকরী পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে সুফিয়ার মতো মেয়েদের নিরক্ষরতা দূরীকরণ সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allজ্ঞাতিসম্পর্ককে সামাজিক সংগঠনের মূল বিষয় বলা হয়।
নগর সমাজের মানুষেরা ধর্মকে একটি আনুষ্ঠানিক বিষয় বলে গণ্য করে।
বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের স্বর্ণস্বরূপ মন্তব্যটি করেছিলেন প্রখ্যাত ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি স্ট্রস।
পঞ্চাশের দশকে ক্লদ লেডি স্ট্রসের নেতৃত্বে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ মিশন বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃবিজ্ঞান পঠন- পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শন করেন। লেভি স্ট্রস সেখানকার বিভিন্ন উপজাতির আদিম স্বতন্ত্র জীবনধারা দেখে এতই বিস্মিত হন যে, তিনি বাংলাদেশকে সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের স্বর্ণস্বরূপ বলে মন্তব্য করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!