উত্তরঃ তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে। মায়া + বী = মায়াবী।

যে প্রত্যয় ধাতু বা ক্রিয়ামূলের পরে না বসে নামশব্দ (বিশেষ্য, বিশেষণ, অব্যয়) বা শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ সর্বদাই বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ হয়।

এখানে 'মায়া' একটি বিশেষ্য পদ। এর সাথে 'বী' (বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়) যুক্ত হয়ে 'মায়াবী' শব্দটি গঠিত হয়েছে। 'মায়াবী' একটি বিশেষণ পদ, যা 'মায়া' অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: মায়াবী রাত (enchanting night)।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস


বিশ্বাসযোগ্য শব্দটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত। এটি একটি সমাসবদ্ধ পদ, যেখানে পূর্বপদ এবং পরপদের মধ্যে অর্থগত সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।

এর গঠনরূপ নিম্নরূপ:

        
  • ব্যাস বাক্য: বিশ্বাসের যোগ্য
  •     
  • সমস্যমান পদ: বিশ্বাস (পূর্বপদ) + যোগ্য (পরপদ)

ব্যাখ্যা:

তৎপুরুষ সমাসে সাধারণত পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতিভাত হয়। যখন পূর্বপদের সঙ্গে ষষ্ঠী বিভক্তি (যেমন 'এর' বা 'র') যুক্ত থাকে এবং সমাস গঠনের সময় সেই বিভক্তি লোপ পায়, তখন তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে। এখানে, 'বিশ্বাসের' পদ থেকে 'এর' ষষ্ঠী বিভক্তিটি লোপ পেয়ে 'বিশ্বাসযোগ্য' শব্দটি গঠিত হয়েছে। এই পদটিতে 'যোগ্য' (অর্থাৎ, 'যোগ্যতা') অর্থটিই প্রধান।

উল্লেখ্য, 'যোগ্য' শব্দটি নিজেই একটি কৃত প্রত্যয়ান্ত পদ (যুজ্ ধাতু + ঘ্যণ প্রত্যয়)। তবে, 'বিশ্বাসযোগ্য' পদটিকে ব্যাকরণগতভাবে 'বিশ্বাসের যোগ্য' এই ব্যাসবাক্যের সাহায্যে একটি সমাসবদ্ধ পদ হিসেবেই বিশ্লেষণ করা হয়, যা শব্দের অর্থ ও গঠন উভয়েরই স্পষ্ট ধারণা দেয়।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

উদ্ধার শব্দটি একটি তৎসম শব্দ, যা উপসর্গকৃৎপ্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে।

এর গঠনরূপটি নিম্নরূপ:
উৎ (উপসর্গ) + √হৃ (ধাতু) + (কৃৎপ্রত্যয়) = উদ্ধার

এখানে, 'উৎ' একটি সংস্কৃত উপসর্গ, যা 'ওপর', 'ঊর্ধ্ব' বা 'শ্রেষ্ঠত্ব' বোঝায়। '√হৃ' হলো সংস্কৃত ধাতু, যার অর্থ 'হরণ করা' বা 'বহন করা'। এবং 'অ' হলো একটি কৃৎপ্রত্যয় (সংস্কৃতের ভাববাচ্যের নিষ্পন্ন বিশেষ্যপদ তৈরির প্রত্যয়)। এই উপাদানগুলো একত্রিত হয়ে 'উদ্ধার' শব্দটি গঠিত হয়েছে, যার অর্থ কোনো বিপদ থেকে মুক্তি দান বা ফিরিয়ে আনা।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

প্রত্যেক শব্দটি সন্ধির মাধ্যমে গঠিত। এটি যণ-সন্ধির একটি উদাহরণ।

গঠনরূপ:

প্রতি + এক = প্রত্যেক

ব্যাখ্যা:

দুটি সন্নিহিত ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধির ফলে উচ্চারণে শ্রুতিমধুরতা আসে এবং নতুন শব্দ গঠিত হতে পারে। 'প্রত্যেক' শব্দটি স্বরসন্ধির অন্তর্ভুক্ত যণ-সন্ধির নিয়মে গঠিত হয়েছে।

যণ-সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, ই-কার (ই) বা ঈ-কারের (ঈ) পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' হয় এবং পরবর্তী স্বরধ্বনি 'য'-এর সাথে যুক্ত হয়। একইভাবে, উ-কার (উ) বা ঊ-কারের (ঊ) পর উ বা ঊ ভিন্ন অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে উ বা ঊ স্থানে 'ব' হয়; ঋ-কারের পর ঋ ভিন্ন অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে ঋ স্থানে 'র' হয়।

'প্রত্যেক' শব্দটির ক্ষেত্রে:

        
  • 'প্রতি' শব্দের শেষের ই-কার ('তি'-এর 'ই')
  •     
  • 'এক' শব্দের শুরুর এ-কার ('এ')

এখানে ই-কারের পর ভিন্ন স্বরধ্বনি 'এ' এসেছে। তাই, ই + এ > য + এ = 'যে' (য-ফলা এবং এ-কার) হয়ে 'প্রত্যেক' শব্দটি গঠিত হয়েছে। এটি বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা প্রায়শই বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দেখা যায়।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

জলবায়ু শব্দটি দ্বন্দ্ব সমাস প্রক্রিয়ায় গঠিত।

এর গঠনরূপ ভেঙে দেখালে হয়: জল ও বায়ু।


বাংলা ব্যাকরণে, সমাস হলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদের একপদীকরণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বাক্যের সংক্ষেপণ ঘটে এবং অর্থগত গভীরতা বৃদ্ধি পায়। 'জলবায়ু' শব্দটি দ্বন্দ্ব সমাসের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

দ্বন্দ্ব সমাস-এর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

        
  • যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেকটি পদের অর্থ সমানভাবে প্রধান থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। এখানে কোনো পদ অন্য পদের অর্থকে গৌণ করে না।
  •     
  • এই সমাসে ব্যাসবাক্যে সাধারণত 'ও', 'এবং', 'আর' এই অব্যয় পদগুলো ব্যবহৃত হয় এবং সমাসবদ্ধ পদে সেগুলো লুপ্ত থাকে।
  •     
  • 'জলবায়ু' শব্দটিতে 'জল' এবং 'বায়ু' উভয় পদের অর্থই সমাসবদ্ধ পদে প্রধান রূপে বজায় থাকে এবং এদের সম্মিলিত অবস্থাই পৃথিবীর আবহাওয়া ও পরিবেশের মূল উপাদানকে নির্দেশ করে।

অন্যান্য দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ:

        
  • মা-বাবা (ব্যাসবাক্য: মা ও বাবা)
  •     
  • ভাই-বোন (ব্যাসবাক্য: ভাই ও বোন)
  •     
  • ভালো-মন্দ (ব্যাসবাক্য: ভালো ও মন্দ)
  •     
  • আয়-ব্যয় (ব্যাসবাক্য: আয় ও ব্যয়)

সুতরাং, 'জলবায়ু' শব্দটি 'জল' এবং 'বায়ু' নামক দুটি পদের 'ও' অব্যয় দ্বারা সংযুক্ত হয়ে এবং উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পেয়ে দ্বন্দ্ব সমাস গঠন করেছে, যা জল ও বায়ুর সম্মিলিত অবস্থাকে বোঝায়।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ প্রত্যয় সাধিত শব্দ (তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত)।

“মতলববাজ” শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত।

গঠনরূপ ভেঙে দেখালে: মতলব + বাজ = মতলববাজ।

        
  • এখানে, 'মতলব' হলো মূল শব্দ, যার অর্থ হলো উদ্দেশ্য বা অভিসন্ধি।
  •     
  • 'বাজ' হলো একটি ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়। এই প্রত্যয়টি যখন কোনো শব্দের সাথে যুক্ত হয়, তখন সেটি 'কোনো কিছুতে লিপ্ত বা পারদর্শী' অথবা 'সেই গুণের অধিকারী' বোঝায়। যেমন: ধোকাবাজ (ধোকা দিতে লিপ্ত), দাবাবাজ (দাবা খেলায় পারদর্শী)।

অতএব, 'মতলববাজ' বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা গোপন অভিসন্ধি থাকে এবং যে সেই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কাজ করে। এটি একটি বিশেষণের মতো ব্যবহৃত হয়, যা কোনো ব্যক্তির উদ্দেশ্যমূলক বা চতুর প্রকৃতির ইঙ্গিত দেয়।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ বাংলা বানানে তালব্য 'শ', মূর্ধন্য 'ষ' এবং দন্ত্য 'স'-এর ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাকরণগত নিয়ম ও ষত্ব বিধান অনুসৃত হয়।

বাংলা বানানে 'শ', 'ষ' ও 'স' ব্যবহারের প্রধান নিয়মাবলি নিচে আলোচনা করা হলো:

১. 'শ' (তালব্য-শ) ব্যবহারের নিয়ম:

      
  • 'চ' ও 'ছ'-এর পূর্বে: চ-বর্গীয় ধ্বনির (চ, ছ) সাথে যুক্তবর্ণ গঠনে তালব্য 'শ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: আশ্চর্য, নিশ্চিন্ত, শিরশ্চেদ।
  •   
  • বিদেশি শব্দে: ইংরেজি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি বিদেশি শব্দে যেসব স্থানে 'sh' বা তালব্য ধ্বনি থাকে, সেখানে 'শ' লেখা হয়। যেমন: শহর, শয়তান, শার্ট, শাল।
  •   
  • স্বাভাবিক ব্যবহার: কিছু শব্দে স্বভাবতই 'শ' হয়। যেমন: শশা, শিশির, অংশ, স্পর্শ।

২. 'ষ' (মূর্ধন্য-ষ) ব্যবহারের নিয়ম (ষত্ব বিধান):

      
  • 'ঋ' ও 'ঋ-কার'-এর পর: ঋ-বর্ণ বা ঋ-কারের পর মূর্ধন্য 'ষ' হয়। যেমন: ঋষি, কৃষি, বৃষ্টি, উৎকৃষ্ট।
  •   
  • 'ট' ও 'ঠ'-এর সাথে যুক্তবর্ণে: ট-বর্গীয় ধ্বনির (ট, ঠ) পূর্বে যুক্তবর্ণ গঠনে 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: কষ্ট, স্পষ্ট, শ্রেষ্ঠ, মিষ্টি।
  •   
  • ই/উ-কারান্ত উপসর্গের পর: ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতকগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়। যেমন: পরিষ্কার, অভিষেক, সুষমা, নিষেধ।
  •   
  • স্বভাবতই 'ষ': কিছু শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: আষাঢ়, পাষাণ, ষোড়শ, বিষ, ষাঁড়।

৩. 'স' (দন্ত্য-স) ব্যবহারের নিয়ম:

      
  • 'ত' ও 'থ'-এর পূর্বে: ত-বর্গীয় ধ্বনির (ত, থ) সাথে যুক্তবর্ণ গঠনে 'স' ব্যবহৃত হয়। যেমন: নিস্তার, সুস্থ, সস্তা, স্থান।
  •   
  • বিদেশি শব্দে 's'-এর উচ্চারণে: বিদেশি (বিশেষ করে ইংরেজি) শব্দে কেবল 's' ধ্বনির জন্য 'স' ব্যবহৃত হয়। যেমন: বাস, পাসপোর্ট, সিস্টেম, সিলেবাস, স্টেশন।
  •   
  • অ/আ-কারান্ত শব্দের পর: 'অ' বা 'আ' স্বরবর্ণের পর নমঃ, পুরঃ ইত্যাদি বিসর্গযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে 'স' হয়। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার।
  •   
  • খাঁটি বাংলা ও অতৎসম শব্দে: খাঁটি বাংলা, দেশি ও তদ্ভব শব্দে মূর্ধন্য 'ষ' ব্যবহারের সুযোগ নেই, সেখানে দন্ত্য 'স' হয়। যেমন: সাত, সোনা, সপ।
Satt AI
Satt AI
19 hours ago
উত্তরঃ

বাক্যে বিভিন্ন ধরনের ভুল হয়ে থাকে যা অর্থের বিকৃতি ঘটায়, যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করে এবং লেখার মান কমিয়ে দেয়। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সঠিক ও নির্ভুল বাক্য ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। প্রধানত নিম্নলিখিত ভুলগুলো দেখা যায়:

১. ব্যাকরণগত ভুল (Grammatical Errors):

        
  •         লিঙ্গঘটিত ভুল: বাংলা বাক্যে বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে লিঙ্গ পরিবর্তনের নিয়ম রয়েছে।         
    ভুল: বিদুসী মহিলা।         
    শুদ্ধ: বিদুষী মহিলা। (অথবা বিদু্যৎসাহী পুরুষ)।     
  •     
  •         বচনঘটিত ভুল: একবচন বা বহুবচন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভুল।         
    ভুল: সকল ছাত্ররা মাঠে আছে।         
    শুদ্ধ: সকল ছাত্র মাঠে আছে। (অথবা ছাত্ররা মাঠে আছে)।     
  •     
  •         পুরুষঘটিত ভুল: ক্রিয়াপদের সঙ্গে পুরুষ অনুযায়ী সঠিক রূপের ব্যবহার না করা।         
    ভুল: আমি কালকে যাবো। (যদি প্রথম পুরুষের ক্রিয়াপদ না হয়)         
    শুদ্ধ: আমি কালকে যাব। (যদি উত্তম পুরুষের ক্রিয়াপদ হয়)         
    ভুল: তুমি কোথায় গিয়েছিস?         
    শুদ্ধ: তুমি কোথায় গিয়েছ? (বা তুই কোথায় গিয়েছিস?)     
  •     
  •         কারক ও বিভক্তিঘটিত ভুল: কারক ও বিভক্তির ভুল প্রয়োগ।         
    ভুল: তাকে দিয়ে কাজটি করা কঠিন।         
    শুদ্ধ: তার দ্বারা কাজটি করা কঠিন।     
  •     
  •         ক্রিয়াপদঘটিত ভুল: ক্রিয়ার কাল, পুরুষ বা বাচ্যের ভুল প্রয়োগ।         
    ভুল: সে বই পড়েছিল। (যদি বর্তমান কাল বোঝায়)         
    শুদ্ধ: সে বই পড়ছে।     
  •     
  •         বিশেষণ ও বিশেষ্য পদঘটিত ভুল: বিশেষণ পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের সঠিক ব্যবহার না করা।         
    ভুল: দীর্ঘজীবী হও। (প্রাপ্যতা অনুযায়ী)         
    শুদ্ধ: দীর্ঘায়ু হও।     
  •     
  •         বাক্যগঠন রীতিঘটিত ভুল (Anacoluthon): বাক্যের এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের সঙ্গতি না থাকা।         
    ভুল: যেহেতু সে গরিব, তবুও সে সৎ।         
    শুদ্ধ: যেহেতু সে গরিব, সেহেতু সে সৎ। (অথবা, সে গরিব, তবুও সে সৎ।)     

২. শব্দপ্রয়োগঘটিত ভুল (Word Usage Errors):

        
  •         গুরুচণ্ডালী দোষ: সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ।         
    ভুল: সকল ছাত্রগণ বই হাতে নিয়া স্কুলে চলিল।         
    শুদ্ধ: সকল ছাত্রগণ বই হাতে নিয়ে স্কুলে চলল। (চলিত)         
    শুদ্ধ: সকল ছাত্রগণ পুস্তক হস্তে লইয়া বিদ্যালয়ে চলিল। (সাধু)     
  •     
  •         দ্বিরুক্তি দোষ: একই অর্থের একাধিক শব্দ পাশাপাশি ব্যবহার করা।         
    ভুল: কেবলমাত্র শুধুমাত্র তিনিই এ কাজ করতে পারেন।         
    শুদ্ধ: শুধুমাত্র তিনিই এ কাজ করতে পারেন। (অথবা কেবলমাত্র তিনিই এ কাজ করতে পারেন।)     
  •     
  •         বাগধারা/প্রবাদ প্রবচন ভুল প্রয়োগ: প্রচলিত বাগধারা বা প্রবাদের অর্থ বিকৃত করে ব্যবহার করা।         
    ভুল: সে কান পাতলে সব কথা শুনতে পায়।         
    শুদ্ধ: সে কান খাড়া করলে সব কথা শুনতে পায়।     
  •     
  •         বানান ভুল: শব্দের বানান ভুল লেখা।         
    ভুল: নদি, জাতিয়         
    শুদ্ধ: নদী, জাতীয়     
  •     
  •         পরিভাষা ভুল: ভুল পরিভাষা বা শব্দ ব্যবহার।         
    ভুল: তোমার পঠনটি ভালো হয়েছে।         
    শুদ্ধ: তোমার পাঠটি ভালো হয়েছে।     

৩. যতিচিহ্ন প্রয়োগঘটিত ভুল (Punctuation Errors):

        
  • বাক্যে কমা, সেমিকোলন, দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন ইত্যাদির ভুল বা অনুপস্থিত ব্যবহার।         
    ভুল: তুমি কি খাবে না যাবে?         
    শুদ্ধ: তুমি কি খাবে, না যাবে?     

৪. অর্থগত ভুল (Semantic Errors):

        
  •         অস্পষ্টতা (Ambiguity): বাক্যের একাধিক অর্থ হওয়ার কারণে অর্থ অস্পষ্ট থাকা।         
    ভুল: সে তার ভাইয়ের সাথে খেলছিল। (কার ভাই? নিজের না অন্য কারোর?)         
    শুদ্ধ: সে নিজের ভাইয়ের সাথে খেলছিল।     
  •     
  •         প্রয়োজনহীন শব্দ ব্যবহার (Redundancy): অপ্রয়োজনীয় শব্দ ব্যবহার করে বাক্যকে ভারাক্রান্ত করা।         
    ভুল: সকল দর্শকরাই উপস্থিত ছিলেন।         
    শুদ্ধ: সকল দর্শক উপস্থিত ছিলেন। (বা দর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।)     

এই ভুলগুলো পরিহার করে সঠিক ও কার্যকরী যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, যা পেশাগত জীবনে সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

অকর্মার ঢেঁকি


প্রদত্ত বাক্যটিতে "ওকে দিয়ে কোনো কাজই হবে না, ও একটা কলুর বলদ" – এখানে "কলুর বলদ" প্রবাদটির ব্যবহার অর্থগত দিক থেকে ভুল।

        
  • কলুর বলদ: এই প্রবাদটি এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে নিরলসভাবে, একঘেয়ে ও উদ্দেশ্যহীনভাবে পরিশ্রম করে, অনেকটা যন্ত্রের মতো, কিন্তু তার কাজের কোনো নিজস্ব ফল বা সার্থকতা থাকে না। এটি সাধারণত কঠোর পরিশ্রমী কিন্তু নির্বোধ বা পরাধীন কর্মীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন: "সে কলুর বলদের মতো খেটে সারা জীবন কাটিয়ে দিল।"
  •     
  • অকর্মার ঢেঁকি: প্রদত্ত বাক্যের প্রথম অংশ "ওকে দিয়ে কোনো কাজই হবে না" দ্বারা ব্যক্তির অকর্মণ্যতা, অযোগ্যতা বা সম্পূর্ণ অকেজো অবস্থা বোঝানো হয়েছে। এই অর্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সঠিক প্রবাদ হলো "অকর্মার ঢেঁকি"। এই প্রবাদটি এমন অলস ও অকেজো ব্যক্তিকে নির্দেশ করে, যে সমাজের বা পরিবারের বোঝা স্বরূপ।

অতএব, বাক্যটির অর্থগত শুদ্ধতার জন্য "কলুর বলদ" এর পরিবর্তে "অকর্মার ঢেঁকি" প্রবাদটি ব্যবহার করা উচিত।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

আঙুল ফুলে কলাগাছ


প্রদত্ত প্রবাদটি হলো আঙুল ফুলে কলাগাছ। এই প্রবাদটির অর্থ হলো অত্যন্ত দরিদ্র বা সাধারণ অবস্থা থেকে আকস্মিকভাবে বিত্তশালী বা ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠা। এটি সাধারণত অপ্রত্যাশিত বা অনায়াসলব্ধ সাফল্যের ক্ষেত্রে, কিংবা রাতারাতি ভাগ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এই প্রবাদটি সাধারণত ইতিবাচক অর্থে হঠাৎ করে বড়লোক হয়ে যাওয়াকে বোঝায়, যদিও এর মধ্যে শ্রমহীনতা বা অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তির ইঙ্গিত থাকে।

প্রশ্নোক্ত বাক্যে, "আমি জানতাম তার এই দুর্গতিই হবে, কথায় বলে না- আঙুল ফুলে কলাগাছ!" – এখানে "দুর্গতি" (খারাপ অবস্থা বা দুর্ভাগ্য) বোঝানোর জন্য প্রবাদটি ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। "আঙুল ফুলে কলাগাছ" কোনো দুর্গতি বা খারাপ পরিণতিকে নির্দেশ করে না, বরং আকস্মিক ভালো ভাগ্য বা উন্নতিকে বোঝায়। সুতরাং, প্রবাদটি গঠনগতভাবে শুদ্ধ হলেও, প্রদত্ত বাক্যে এর প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে। দুর্গতি বোঝাতে অন্য কোনো প্রবাদ বা বাগধারা (যেমন: 'কপালের ফের', 'ভাগ্য বিড়ম্বনা') ব্যবহার করা অধিকতর উপযুক্ত হতো।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

সময় থাকতে সাধো, সময় গেলে কাঁদো।


প্রদত্ত বাক্যটিতে "বসন্তের কোকিলের মতো ঘোরা" এই উক্তিটি প্রচলিত কোনো প্রবাদ বা বাগধারা নয় এবং এখানে এর প্রয়োগ প্রসঙ্গ-বহির্ভূত। বাংলায় "বসন্তের কোকিল" একটি প্রবাদ হিসেবে সুসময়ের বন্ধু বা সুবিধাবাদী ব্যক্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা শুধু ভালো সময়ে পাশে থাকে এবং খারাপ সময়ে থাকে না। এটি আলস্য বা অকর্মণ্যতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয় না।

পরীক্ষার পূর্বে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে সময় অপচয় না করে প্রস্তুতি নেওয়া এবং কর্তব্যে অবহেলা না করা অর্থে সবচেয়ে উপযুক্ত ও প্রচলিত প্রবাদ হলো: "সময় থাকতে সাধো, সময় গেলে কাঁদো।"

এই প্রবাদটির মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, উপযুক্ত সময়ে কোনো কাজ সম্পন্ন না করলে বা প্রস্তুতি গ্রহণ না করলে পরবর্তীতে অনুশোচনা করতে হয়। পরীক্ষার আগে পড়াশোনা না করে ঘুরে বেড়ানো বা আলস্যে সময় কাটানো এবং পরবর্তীতে ব্যর্থতার জন্য অনুতপ্ত হওয়ার পরিস্থিতি বোঝাতে এই প্রবাদটি যথাযথ ও শিক্ষণীয়।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ সাপের পাঁচ পা দেখা

প্রদত্ত বাক্যটিতে একটি বাগধারার ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও প্রশ্নে এটিকে 'প্রবাদ' বলা হয়েছে, এটি আসলে একটি প্রচলিত বাগধারা

সাপের পাঁচ পা দেখা বাগধারার অর্থ হলো: অসম্ভব বা অবিশ্বাস্য কিছু দেখা; অপ্রত্যাশিত ও গোপন তথ্য বা কোনো ব্যক্তির আসল, সাধারণত নেতিবাচক, রূপ প্রকাশ পেয়ে যাওয়া। যেহেতু সাপের পা থাকে না, সেহেতু তার পাঁচটি পা দেখা অসম্ভব ঘটনাকে বোঝায়, যা কোনো গুরুতর বা অপ্রত্যাশিত সত্যের উন্মোচনকে ইঙ্গিত করে।

প্রদত্ত বাক্যে, 'ছোট একটা তদন্তে হাত দিয়েছিলাম, এখন দেখছি সাপের পাঁচ পা বেরিয়ে গেল!'—এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে একটি ছোট তদন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো গুরুতর বা গোপন সত্য ফাঁস করে দিয়েছে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ ধরি মাছ, না ছুঁই পানি

প্রবাদটি হলো "ধরি মাছ, না ছুঁই পানি"। এটি একটি জনপ্রিয় বাংলা প্রবাদ যার অর্থ হলো, কৌশলে বা চতুরতার সাথে কোনো কাজ সম্পন্ন করা যাতে কোনো ঝুঁকি বা বিপদের সম্মুখীন হতে না হয় অথবা কোনো কাজের দায়ভার বা ঝক্কি এড়ানো যায়। অর্থাৎ, কাজটি থেকে সুবিধা গ্রহণ করা কিন্তু তার ফলস্বরূপ সম্ভাব্য জটিলতা, দায়বদ্ধতা বা ঝুঁকি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা। এই প্রবাদটি সাধারণত এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য পরোক্ষ কৌশল অবলম্বন করে এবং সরাসরি কোনো ঝুঁকি বা দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক থাকে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ যে মেঘ গর্জে বেশি, সে মেঘ বর্ষে না।

বাংলা ভাষায় প্রচলিত প্রবাদ-প্রবচনগুলো সুদীর্ঘকাল ধরে একই রূপে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সাধারণ কথাবার্তায় বা অসাবধানতাবশত অনেক সময় প্রবাদের মূল রূপ বিকৃত হয়ে যায়। সাহিত্য ও ব্যাকরণের নিয়মানুসারে প্রবাদের এই বিকৃত রূপ অশুদ্ধ এবং এর সঠিক ঐতিহ্যগত রূপ ব্যবহার করা আবশ্যক।

      
  • অশুদ্ধ বাক্য/প্রবাদ: যত গর্জে তত বর্ষে না।
  •   
  • শুদ্ধ প্রবাদ: যে মেঘ গর্জে বেশি, সে মেঘ বর্ষে না।
  •   
  • অর্থ ও ভাবার্থ: আড়ম্বর বা আস্ফালন বেশি থাকলেও কাজের বেলায় তা বাস্তবায়িত হয় না—এই অর্থ প্রকাশ করতে প্রবাদটি ব্যবহৃত হয় (ইংরেজি সমার্থক প্রবাদ: Barking dogs seldom bite)।
  •   
  • বাক্যে সঠিক প্রয়োগ: এমন সময়ে এই সংবাদ শুনব ভাবতেও পারছি না, ব্যাপারটা 'যে মেঘ গর্জে বেশি, সে মেঘ বর্ষে না'-এর মতো।
Satt AI
Satt AI
20 hours ago
উত্তরঃ এই সেই বাড়ি, যেখানে তিনি থাকতেন।

বাক্য রূপান্তরের ব্যাখ্যা:

যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য এবং তার ওপর নির্ভরশীল এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। জটিল বাক্যে খণ্ডবাক্যগুলোকে যুক্ত করার জন্য সাপেক্ষ সর্বনাম বা যোজক (যেমন: যে... সে, যেখানে... সেখানে, যা... তা, যিনি... তিনি ইত্যাদি) ব্যবহৃত হয়।

রূপান্তর প্রক্রিয়া:

        
  • সরল বাক্য: এই বাড়িতেই তিনি থাকতেন। (এখানে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া 'থাকতেন' রয়েছে এবং কোনো আশ্রিত খণ্ডবাক্য নেই।)
  •     
  • জটিল বাক্য: এই সেই বাড়ি, যেখানে তিনি থাকতেন।

জটিল বাক্যে পরিবর্তনের নিয়মাবলী:

        
  • সরল বাক্যের একপদী অংশ বা ভাবকে প্রসারণ করে একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য তৈরি করা হয়।
  •     
  • এখানে স্থানবাচক জোর প্রদানকারী শব্দ 'এই বাড়িতেই'-কে ভেঙে 'এই সেই বাড়ি' (প্রধান খণ্ডবাক্য) এবং 'যেখানে তিনি থাকতেন' (আশ্রিত খণ্ডবাক্য) গঠন করা হয়েছে।
  •     
  • 'যেখানে' সাপেক্ষ পদ ব্যবহার করে খণ্ডবাক্য দুটিকে পরস্পর নির্ভরশীল করা হয়েছে।
Satt AI
Satt AI
20 hours ago
উত্তরঃ প্রশ্ন শুনলাম কিন্তু কিছু বলতে পারছিলাম না।

যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম ও বিশ্লেষণ:

দুই বা তার বেশি সরল বা পরস্পর নিরপেক্ষ বাক্য যখন কোনো সংযোজক, বিয়োজক বা সংকোচক অব্যয় (যেমন: এবং, ও, আর, কিন্তু, অথচ, সুতরাং, তাই ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের মূল নিয়মসমূহ:

        
  • অসমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর: সরল বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়াকে (এখানে 'শুনে') সমাপিকা ক্রিয়ায় ('শুনলাম') রূপান্তর করতে হয়।
  •     
  • অব্যয় পদের ব্যবহার: বাক্য দুটির অর্থগত ভাব অনুযায়ী উপযুক্ত অব্যয় পদ (যেমন: 'কিন্তু', 'এবং', 'অথচ') দ্বারা বাক্য দুটিকে যুক্ত করতে হয়।
  •     
  • নিরপেক্ষ বাক্যাংশ গঠন: উভয় অংশের বাক্য যেন স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে তা নিশ্চিত করা হয়।

প্রদত্ত সরল বাক্য "প্রশ্ন শুনে কিছু বলতে পারছিলাম না।" বাক্যটিতে 'শুনে' অসমাপিকা ক্রিয়াটিকে সমাপিকা ক্রিয়া 'শুনলাম'-এ রূপান্তর করে 'কিন্তু' সংকোচক অব্যয় দ্বারা দুটি নিরপেক্ষ বাক্য যুক্ত করে যৌগিক বাক্য গঠন করা হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
20 hours ago
উত্তরঃ তাড়াতাড়ি করার সময় সাবধান হও।

বাক্য রূপান্তর হলো অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে বাক্যের গঠন পরিবর্তন করা। প্রদত্ত বাক্যটি একটি না-সূচক অনুজ্ঞাবাচক বাক্য (নেতিবাচক)। এটিকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তরের সময় মূল ভাব 'তাড়াহুড়োর কারণে ভুল না করা' অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। 'তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে ভুল কোরো না' বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ হবে এমন একটি বাক্য যা সরাসরি ভুল না করার নির্দেশনাকে ইতিবাচক ভঙ্গিতে প্রকাশ করে। এর একটি উপযুক্ত রূপান্তর হলো 'তাড়াতাড়ি করার সময় সাবধান হও'। এখানে 'সাবধান হওয়া' ক্রিয়াটি 'ভুল না করা'র ইতিবাচক দিককে নির্দেশ করে এবং বাক্যের মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ না দাঁড়ালে বিপদে পড়বে।

প্রদত্ত বাক্য "দাঁড়াও, নইলে বিপদে পড়বে" একটি যৌগিক বাক্য। এটিকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে বলা হয়েছে।

  • সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (finite verb) থাকে এবং একটি মাত্র উদ্দেশ্য (subject) ও একটি মাত্র বিধেয় (predicate) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
  • যৌগিক বাক্য: যে বাক্যে একাধিক স্বাধীন বা নিরপেক্ষ বাক্য সংযোজক অব্যয় (যেমন: ও, এবং, আর, কিন্তু, অথবা, নতুবা, নইলে, অথচ, তবু ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

প্রদত্ত যৌগিক বাক্যটিতে "দাঁড়াও" এবং "বিপদে পড়বে" দুটি স্বাধীন বাক্য "নইলে" সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়েছে, যা একটি শর্ত বা বিকল্প বোঝায়। যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়, একাধিক স্বাধীন খণ্ডবাক্যকে একটি খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হয়, যেখানে শুধুমাত্র একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে এবং অন্য ক্রিয়া(গুলি) অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়।

এক্ষেত্রে, "নইলে" দ্বারা সৃষ্ট শর্তমূলক অংশটিকে "না দাঁড়ালে" নামক অসমাপিকা ক্রিয়ার সাহায্যে একটি সরল বাক্যে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এখানে "পড়বে" ক্রিয়াটি সমাপিকা ক্রিয়া হিসাবে মূল ভাব প্রকাশ করছে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ অলস ব্যক্তিরা ছাড়া আর কেউ ঘুমাতে পছন্দ করে না।

বাক্য রূপান্তর বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে একটি বাক্যের অর্থ অক্ষুণ্ণ রেখে তার গঠন পরিবর্তন করা হয়। প্রদত্ত বাক্যটি একটি হ্যাঁ-সূচক বাক্য, যা 'অলস ব্যক্তিরাই' শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষের প্রতি এই গুণের একচেটিয়া অধিকার নির্দেশ করছে। এটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তরিত করার জন্য, অর্থের পরিবর্তন না করে বোঝাতে হবে যে অলস ব্যক্তি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ঘুমাতে পছন্দ করে না। এর জন্য 'ছাড়া' এবং 'না' ব্যবহার করে একটি নেতিবাচক বাক্য গঠন করা হয়েছে, যা মূল অর্থের যথার্থতা বজায় রেখেছে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

তিনি কি কোনোভাবেই এ কাজ করতে পারেন?


প্রশ্নবাচক বাক্য হলো সেই বাক্য, যা দ্বারা কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করা হয় বা কোনো বিষয়ে কৌতূহল প্রকাশ করা হয়। যখন একটি না-বোধক নির্দেশক বাক্যকে প্রশ্নবাচক বাক্যে রূপান্তর করা হয় এবং মূল অর্থ অক্ষুণ্ন রাখতে হয়, তখন সাধারণত 'না' পদটি বাদ দিয়ে 'কি' পদটি যোগ করে প্রশ্ন করা হয়। এই ধরনের প্রশ্ন দ্বারা একটি পরোক্ষ নেতিবাচক উত্তর বোঝানো হয়, অর্থাৎ বক্তা জানেন যে উত্তর 'না' হবে।

        
  • মূল বাক্য: "তিনি কোনোভাবেই এ কাজ করতে পারেন না।" এটি একটি না-বোধক নির্দেশক বাক্য যা দৃঢ়ভাবে কাজটি করার অসম্ভবতা প্রকাশ করছে। এখানে 'কোনোভাবেই' শব্দটি এই অসম্ভবতাকে আরও জোরদার করেছে।
  •     
  • রূপান্তরের নিয়ম: না-বোধক নির্দেশক বাক্যকে যখন প্রশ্নবাচক বাক্যে রূপান্তর করা হয়, তখন 'না' পদটি বাদ দেওয়া হয় এবং বাক্যের ক্রিয়াপদের পূর্বে 'কি' পদটি যোগ করে প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) ব্যবহার করা হয়। এতে মূল বাক্যের নেতিবাচক ভাবটি অক্ষুণ্ন থাকে, অর্থাৎ প্রশ্ন করা হলেও এর দ্বারা মূল বাক্যের নেতিবাচক ভাবটিই নিশ্চিত করা হয়।
  •     
  • উদাহরণ বিশ্লেষণ: প্রদত্ত বাক্যে 'না' বাদ দিয়ে 'কি' যোগ করে "তিনি কি কোনোভাবেই এ কাজ করতে পারেন?" প্রশ্নটি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এটিই বোঝানো হচ্ছে যে, তিনি কোনোভাবেই এই কাজটি করতে পারবেন না, অর্থাৎ এর উত্তর 'না' হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। এটি পরোক্ষভাবে মূল নেতিবাচক অর্থকেই প্রকাশ করে।
Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

মূলভাব: ফ্যাশন হলো কৃত্রিম অনুকরণ ও বাহ্যিক সাজগোজের সাময়িক আবরণ, আর স্টাইল হলো মানুষের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, স্বকীয়তা ও ভেতরের নান্দনিক সৌন্দর্যের চিরন্তন প্রকাশ।

সম্প্রসারিত ভাব: মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে নিজের রুচি ও ব্যক্তিত্বকে অন্যের সামনে উপস্থাপন করতে চায়। কিন্তু এই উপস্থাপনার ক্ষেত্রে দুটি রূপ পরিলক্ষিত হয়—একটি ফ্যাশন, অন্যটি স্টাইল। ফ্যাশন হলো বাহ্যিক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল। সমাজের চটকদার চলতি স্রোত বা অন্যকে অন্ধভাবে অনুকরণ করাই হলো ফ্যাশন। এটি মানুষের রূপকে সাময়িকভাবে চমকপ্রদ করে তুললেও তার আসল সত্তাকে আড়াল করে রাখে। তাই ফ্যাশনকে তুলনা করা হয়েছে ‘মুখোশ’-এর সঙ্গে, যা পরিধান করে মানুষ নিজের আসল পরিচয় ঢেকে কৃত্রিম রূপ ধারণ করে।

অন্যদিকে, স্টাইল বা শৈলী হলো মানুষের নিজস্ব চরিত্র, রুচি, শিক্ষা ও মেধার একটি স্বতঃস্ফূর্ত বহিপ্রকাশ। এটি মুখের প্রকৃত সৌন্দর্য বা ‘মুখশ্রী’-র মতো প্রাকৃতি ও স্থায়ী। স্টাইল অন্ধ অনুকরণের ফসল নয়, বরং তা অর্জন করতে হয় নিজস্ব স্বকীয়তা ও নান্দনিক বোধ দিয়ে। পোশাক-পরিচ্ছদ, চালচলন বা চিন্তা-ভাবনায় যে ব্যক্তি তার নিজস্ব স্টাইল ধরে রাখতে পারে, সে যেকোনো পরিবেশে কৃত্রিমতা ছাড়াই অনন্য হয়ে ওঠে। মুখোশ খুলে ফেললে যেমন তার কৃত্রিম রূপ মিলিয়ে যায়, তেমনি ফ্যাশনের স্রোতও দ্রুত স্তমিত হয়ে পড়ে। কিন্তু মুখশ্রী যেমন মানুষের স্থায়ী সৌন্দর্য, স্টাইলও তেমনি মানুষের ব্যক্তিত্বের স্থায়ী পরিচয়।

উপসংহার: বাহ্যিক আড়ম্বর ও অন্ধ অনুকরণপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে আমাদের উচিত নিজস্ব রুচিবোধ, ব্যক্তিত্ব ও স্বকীয়তা চর্চা করা। কারণ, কৃত্রিম মুখোশের চেয়ে সহজাত সুন্দর মুখশ্রী যেমন চিরকালের প্রশংসনীয়, তেমনি বাহ্যিক ফ্যাশনের চেয়ে স্বকীয় স্টাইলই মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্যের বিকাশ ঘটায়।

Satt AI
Satt AI
19 hours ago
উত্তরঃ

সারমর্ম: দুর্গম পথ ও সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কাণ্ডারী বা নেতাকে চরম ধৈর্য ও সততার পরিচয় দিতে হয়। বিপ্লব ও অগ্রযাত্রার এই কঠিন মুহূর্তে সকল ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে। বিশেষ করে যুগ যুগ ধরে শোষিত, লাঞ্ছিত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের প্রধান দায়িত্ব। শোষিত-বঞ্চিত জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারলেই সমাজ ও জাতীয় জীবনের সার্বিক মুক্তি সম্ভব।

Satt AI
Satt AI
19 hours ago
উত্তরঃ

প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে তৎকালীন সমাজের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। চর্যাপদের পদগুলিতে সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা, তাদের দারিদ্র্য, কুসংস্কার, পেশা (যেমন – জেলে, তাঁতি, শিকারি) এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রতিফলিত হয়েছে। এই সাহিত্য থেকে সে সময়কার বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের জীবনযাপন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

মঙ্গলকাব্যগুলিতে সমাজের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের জীবনযাত্রা, বণিকদের সমুদ্রযাত্রা, গ্রামবাংলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, লৌকিক দেব-দেবী কেন্দ্রিক বিশ্বাস, বিভিন্ন সামাজিক প্রথা, নারী সমাজের অবস্থা এবং ধর্মীয় সংঘাতের চিত্র উঠে এসেছে। মনসামঙ্গল কাব্যে সাবেকি আর্যধর্মের সঙ্গে লৌকিক ধর্মবিশ্বাসের সংঘাত এবং চণ্ডীমঙ্গলে ব্যবসায়ী শ্রেণীর উত্থান লক্ষণীয়।

এছাড়া, বৈষ্ণব পদাবলীতে মূলত ভক্তি ও প্রেমের উপর জোর দেওয়া হলেও, সেই সময়ের ধর্মীয় উদারতা, সামাজিক সাম্য এবং মানবিক সম্পর্কের চিত্র পরোক্ষভাবে বিদ্যমান। এইভাবে প্রাচীন বাংলা সাহিত্য কেবল শিল্পকর্ম ছিল না, এটি সমাজতাত্ত্বিক গবেষণারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে পৃষ্ঠপোষকদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৎকালীন রাজা, জমিদার এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিগণ সাহিত্যিকদের আর্থিক সহায়তা, আশ্রয় ও উৎসাহ প্রদান করতেন, যা কবি ও লেখকদের সাহিত্যকর্মে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করত এবং তাঁদের জীবন ধারণের পথ সুগম করত। এর ফলে তাঁরা নির্বিঘ্নে সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যেতে পারতেন।

এই পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া অনেক কবিই নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারতেন না এবং অসংখ্য মূল্যবান সাহিত্যকর্ম হয়তো সৃষ্টিই হতো না অথবা কালের গর্ভে হারিয়ে যেত। এভাবেই পৃষ্ঠপোষকরা বাংলা সাহিত্যের ধারাবাহিকতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করেছিলেন, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাপক প্রকাশনার ব্যবস্থা ছিল না। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতাই সাহিত্যকে জনমুখী করতে এবং নতুন ধারার সাহিত্য সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের ফলস্বরূপ বহু নতুন সাহিত্যধারার সূচনা হয়, যা বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে তোলে। নিচে সেগুলোর পরিচয় দেওয়া হলো:

        
  •         উপন্যাস:         

    উনিশ শতকেই বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তাঁর 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত। এরপর তিনি আরও অনেক ঐতিহাসিক ও সামাজিক উপন্যাস রচনা করে এই ধারাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। উপন্যাসে জীবনের বিভিন্ন দিক, সামাজিক বাস্তবতা ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ফুটে ওঠে।

        
  •     
  •         নাটক ও প্রহসন:         

    সংস্কৃত নাটকের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে মধুসূদন দত্তের হাত ধরে আধুনিক বাংলা নাটকের সূচনা হয়। তিনি প্রহসন (যেমন: 'একেই কি বলে সভ্যতা?', 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ') এবং ট্র্যাজেডি (যেমন: 'শর্মিষ্ঠা', 'পদ্মাবতী', 'কৃষ্ণকুমারী') রচনা করেন। দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' উনিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী সামাজিক নাটক।

        
  •     
  •         মহাকাব্য ও গীতিকাব্য:         

    মধুসূদন দত্ত মহাকাব্য রচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেন 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর মাধ্যমে, যেখানে তিনি পৌরাণিক কাহিনিকে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেন। একই শতকে বিহারীলাল চক্রবর্তীর হাতে আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার সূচনা হয়, যা কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি ও ভাবনার প্রকাশকে গুরুত্ব দেয়। পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ধারাকে সমৃদ্ধ করেন।

        
  •     
  •         ছোটগল্প:         

    উনিশ শতকের শেষ দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক বাংলা ছোটগল্পের জনক হিসেবে আবির্ভূত হন। মানব মনের গভীরতা, গ্রামীণ জীবন ও সামাজিক সম্পর্ক তাঁর ছোটগল্পে এক নতুন মাত্রা লাভ করে। 'দেনাপাওনা', ''পোস্টমাস্টার', 'ছুটি' ইত্যাদি তাঁর এই সময়ের উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প।

        
  •     
  •         প্রবন্ধ:         

    উনিশ শতকে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখের হাতে বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনা, সমাজচিন্তা, সাহিত্যতত্ত্ব ও সমালোচনা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে প্রবন্ধ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বঙ্কিমের 'কমলাকান্তের দপ্তর' বা 'বঙ্গদর্শন'-এ প্রকাশিত প্রবন্ধগুলো এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

        
  •     
  •         পত্রসাহিত্য:         

    ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছাড়াও সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক আলোচনা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে পত্রসাহিত্য বিশেষ স্থান অধিকার করে। এই ধারায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্রাবলী বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

        
Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

লোকসাহিত্য হলো একটি জাতির আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির দর্পণ। এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, বিশ্বাস, আবেগ, আনন্দ-বেদনা এবং চিন্তা-ভাবনার স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ। লিখিত সাহিত্যের বিপরীতে, লোকসাহিত্য মূলত মৌখিকভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত হয় এবং এর রচয়িতা সাধারণত অজ্ঞাত থাকেন। গ্রামবাংলার অনবদ্য জীবনের চিত্র এর বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, যেখানে প্রতিটি শাখারই নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

লোকসাহিত্যের প্রধান প্রধান শাখা এবং তাদের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

        
  • লোকগীতি: এটি লোকসাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শাখা। এতে গ্রামীণ মানুষের প্রেম, বিরহ, আনন্দ, দুঃখ, ধর্মবিশ্বাস, দৈনন্দিন কর্মজীবন ইত্যাদি নানা বিষয় সহজ-সরল ভাষায় সুরের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যেমন – পল্লীগীতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, জারি, সারি, মুর্শিদি, মারফতি ইত্যাদি। এগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সরল ভাষা, আঞ্চলিকতার প্রভাব, প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্ক এবং সমষ্টিগত আবেগ প্রকাশ।
  •     
  • লোককথা/রূপকথা: এগুলি মূলত কল্পিত কাহিনি যা মুখে মুখে প্রচলিত। নীতিশিক্ষা প্রদান, সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিনোদন এর প্রধান উদ্দেশ্য। এতে রাজা-রানি, রাজপুত্র-রাজকন্যা, দৈত্য-দানব, পশুপাখি ইত্যাদি চরিত্র দেখা যায়। এসব গল্পের মধ্যে সাধারণত অলৌকিকতা, বিস্ময় এবং কল্পনার অবাধ বিচরণ থাকে।
  •     
  • প্রবাদ-প্রবচন: এটি লোকসাহিত্যের এমন এক শাখা যেখানে মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ এবং জীবনবোধ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, বুদ্ধিদীপ্ত ও রসাত্মক বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যেমন – "যায় দিন ভালো, আসে দিন মন্দ", "কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে" ইত্যাদি। এর বৈশিষ্ট্য হলো সংক্ষিপ্ততা, চিরন্তন সত্যের প্রকাশ এবং গভীর অর্থবহতা।
  •     
  • ধাঁধা: এটি এমন এক ধরনের প্রশ্ন যা ছন্দের মাধ্যমে করা হয় এবং এর উত্তর অনুমান করে বের করতে হয়। সাধারণত প্রাকৃতিক বস্তু, প্রাণী বা দৈনন্দিন জীবনের কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে ধাঁধা তৈরি হয়। মেধার পরীক্ষা এবং বিনোদন এর মূল উদ্দেশ্য।
  •     
  • ছড়া: এটি ছোট ছোট ছন্দবদ্ধ পদ্য যা সাধারণত শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য বা দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়। এগুলো সহজবোধ্য, শ্রুতিমধুর এবং এতে সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষামূলক উদ্দেশ্য থাকে না, বরং আনন্দ ও বিনোদনই মুখ্য।
  •     
  • লোকনাট্য: এটি গ্রামীণ পরিবেশে মঞ্চায়িত নাটক, যেখানে অভিনয়, গান, নাচ ও সংলাপে জীবনের বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়। যাত্রা, পালাগান, গম্ভীরা ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো অনাড়ম্বর মঞ্চায়ন, সহজবোধ্য কাহিনি, সরাসরি দর্শকদের সাথে সংযোগ এবং সামাজিক বা ধর্মীয় বার্তা উপস্থাপন।

লোকসাহিত্যের এই বিভিন্ন শাখাগুলো একটি জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে। এদের বৈশিষ্ট্যগত ভিন্নতা থাকলেও, সব শাখারই মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আশা-নিরাশা এবং জীবনযাপনের গল্পকে সহজ ও সরলভাবে প্রকাশ করা। এগুলি সমাজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে কাজ করে এবং মৌখিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উল্লেখযোগ্য নাট্যকৃতি হলো বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ এবং সুড়ঙ্গ


সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ বাংলা সাহিত্যের একজন প্রভাবশালী লেখক, যিনি উপন্যাস ও ছোটগল্পের পাশাপাশি নাটকেও তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তার নাট্যকৃতি স্বল্প হলেও বিষয়বস্তু ও আঙ্গিকের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার প্রথম ও সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক হলো বহিপীর (১৯৬০)। এটি একটি সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক নাটক, যেখানে পীরতন্ত্রের ভণ্ডামি এবং ধর্মের নামে সামাজিক শোষণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীর তার শিষ্যদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে সমাজে প্রভাব বিস্তার করে। এক কিশোরী বালিকার সাথে জোরপূর্বক তার বিবাহ এবং সেই বালিকার প্রতিরোধ নাটকের মূল উপজীব্য। এটি মধ্যবিত্ত সমাজের মূল্যবোধের সংকট ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ।

তার দ্বিতীয় নাটক তরঙ্গভঙ্গ (১৯৬৪) একটি নিরীক্ষামূলক ও প্রতীকী নাটক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত এই নাটকে মানব মনের জটিলতা, অস্তিত্বের সংকট এবং যুদ্ধোত্তর সমাজের ভাঙন ও মূল্যবোধের অবক্ষয় চিত্রিত হয়েছে। নাটকের চরিত্রগুলো প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তাদের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে আধুনিক মানুষের বিচ্ছিন্নতা ও উদ্দেশ্যহীনতা ফুটে উঠেছে।

সুড়ঙ্গ (১৯৬৪) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। এটি মূলত একটি একাঙ্কিকা, যা মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিক, লোভ ও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষাকে ফুটিয়ে তোলে। প্রতীকী অর্থে সুড়ঙ্গ মানুষের মনের গহ্বরকে নির্দেশ করে, যেখানে তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নৈতিকতার সীমানা অতিক্রম করে। এই নাটকটিও তার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের গভীরতা প্রমাণ করে।

ওয়ালীউল্লাহর নাটকে আধুনিকতা, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং সমাজের গভীর সমস্যাগুলো উঠে এসেছে। তার নাটকগুলো বাংলা নাট্য সাহিত্যে এক নতুন ধারা তৈরি করেছে এবং তাকে একজন প্রগতিশীল নাট্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
উত্তরঃ

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ পরিবার, সম্প্রদায় এবং সরকারের সম্মিলিত দায়িত্ব। শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ক্ষতিকর মনোভাব ও আচরণ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত ও ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ আবশ্যক। একই সাথে, নিরাপদ আশ্রয়, কাউন্সেলিং সেবা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ প্রদান নারীদের ক্ষমতায়ন ঘটাতে এবং শিশুদের শোষণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

বিষয়: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে দুজন শিক্ষকের মধ্যে সংলাপ।

স্থান: একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তন।
পাত্র-পাত্রী:
১. জনাব রফিকুল ইসলাম (জ্যেষ্ঠ শিক্ষক)
২. জনাব আনিসুর রহমান (সহকারী শিক্ষক)


রফিকুল ইসলাম: শুভ অপরাহ্ন আনিস সাহেব! আপনাকে দেখে বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে। কী ভাবছেন?

আনিসুর রহমান: শুভ অপরাহ্ন স্যার। আসলে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষার উত্তরপত্রগুলো দেখছিলাম। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তাধারা ও মৌলিক বোঝার ক্ষমতার চেয়ে মুখস্থ করার প্রবণতাই বেশি চোখে পড়ছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটু ভাবছিলাম।

রফিকুল ইসলাম: একদম সঠিক পয়েন্ট ধরেছেন আনিস সাহেব। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো জিপিএ বা ভালো গ্রেড পাওয়ার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া। এতে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত জ্ঞান অর্জন না করে শুধু পরীক্ষায় পাসের জন্য পড়ছে।

আনিসুর রহমান: ঠিক বলেছেন স্যার। এছাড়া আরও একটি বড় সমস্যা হলো অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং মানসম্মত শিক্ষকের অভাব। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক গবেষণাগার, লাইব্রেরি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধা খুবই অপ্রতুল।

রফিকুল ইসলাম: তার সাথে যোগ হয়েছে ঘন ঘন কারিকুলাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন। নতুন কোনো পদ্ধতি বাস্তবায়নের পূর্বে শিক্ষকদের যে যথাযথ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, তার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ফলে শ্রেণিকক্ষে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।

আনিসুর রহমান: আর বাণিজ্যিকীকরণ তো রয়েছেই। বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার এবং বাণিজ্যিক নোট-গাইড বইয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের অতি-নির্ভরশীলতা তাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছে। সাধারণ পরিবারের জন্যও এটি একটি বড় আর্থিক বোঝা।

রফিকুল ইসলাম: সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিকটি হলো—কর্মসংস্থানের বাজারের সাথে আমাদের প্রচলিত শিক্ষার মেলবন্ধন না থাকা। প্রতি বছর লাখ লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কর্মমুখী বা কারিগরি দক্ষতার অভাব থাকায় বেকারত্ব বাড়ছে।

আনিসুর রহমান: তাহলে স্যার, এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ কী?

রফিকুল ইসলাম: সমাধান পেতে হলে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন ও যুগোপযোগী আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সাথে মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার পরিবর্তে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

আনিসুর রহমান: একদম যথার্থ বলেছেন স্যার। নীতিনির্ধারকেরা যদি এই মৌলিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেন, তবেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা টেকসই রূপ পাবে।

রফিকুল ইসলাম: অবশ্যই। আসুন, নীতিগত পরিবর্তন আসার আগ পর্যন্ত আমরা আমাদের নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক চিন্তা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে থাকি।

আনিসুর রহমান: ধন্যবাদ স্যার, আপনার অমূল্য ভাবনার জন্য।

রফিকুল ইসলাম: আপনাকেও ধন্যবাদ আনিস সাহেব। ভালো থাকবেন।

Satt AI
Satt AI
20 hours ago
উত্তরঃ তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০২৪
সম্পাদক
দৈনিক প্রথম আলো
কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

বিষয়: সংযুক্ত পত্রটি আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার জনমত কলামে প্রকাশের জন্য আবেদন।

মহোদয়,
আপনার বহুল প্রচারিত ও ঐতিহ্যবাহী ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ কলামে জনস্বার্থে নিচের সংক্ষিপ্ত বিষয়টি প্রকাশ করলে বিশেষভাবে বাধ্য থাকব।

নিবেদক—
মো. তানভীর আহমেদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি ও দেয়ালচিত্র ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা

সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এক অভূতপূর্ব আন্দোলন ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প প্রদর্শন করেছে। এই আন্দোলনের অন্যতম অনন্য ও আবেগঘন দিক ছিল দেশের নানা প্রান্তের দেয়ালে দেয়ালে আঁকা তরুণদের প্রতিবাদী গ্রাফিতি, ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকর্ম ও প্রদীপ্ত স্লোগান। স্বৈরাচার, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজের চেতনা, সংকল্প এবং বীরত্বগাথার জীবন্ত স্মারক হিসেবে এই গ্রাফিতিগুলো প্রতিটি পথ ও প্রাচীরকে এক একটি মুক্ত চিত্রশালায় পরিণত করেছিল।

তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোদ-বৃষ্টি, পরিবেশগত ক্ষয় এবং পরবর্তী সময়ে দেয়াল পুনর্নির্মাণ বা চুনকাম করার ফলে এই অমূল্য দেয়ালচিত্রগুলো দ্রুত মুছে যাচ্ছে ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো কেবল পথপাশের কোনো সাধারণ শিল্পকর্ম নয়; বরং এগুলো আমাদের জাতীয় ইতিহাস, নাগরিক অধিকার অর্জনের সংগ্রাম এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদের চাক্ষুষ প্রামাণ্য দলিল। এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের এক বিরাট অংশ প্রত্যক্ষ করা থেকে বঞ্চিত হবে।

এই পরিস্থিতিতে, সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং জাতীয় জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে সারা দেশের সকল দেয়ালচিত্রের উচ্চমানের ছবি, ভিডিও এবং জিপিএস লোকেশন সমন্বিত একটি সমন্বিত 'ডিজিটাল আর্কাইভ' বা 'ভার্চুয়াল মিউজিয়াম' গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক থ্রিডি স্ক্যানিং ও ডিজিটাল আর্কাভিংয়ের মাধ্যমে এগুলোকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব, যা দেশ-বিদেশের গবেষক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য দলিল হিসেবে কাজ করবে।

অতএব, ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এই চিরন্তন স্মারকসমূহ বিলুপ্ত হওয়ার পূর্বেই তা ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণে জরুরি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

Satt AI
Satt AI
19 hours ago
উত্তরঃ

গ্রন্থ-সমালোচনা: চিলেকোঠার সেপাই

গ্রন্থের প্রাথমিক পরিচিতি:

        
  • গ্রন্থের নাম: চিলেকোঠার সেপাই
  •     
  • গ্রন্থকার: আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  •     
  • প্রথম প্রকাশ: ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ
  •     
  • উপজীব্য: ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, রাজনৈতিক চেতনা এবং নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের শ্রেণিসংগ্রাম
  •     
  • প্রধান চরিত্রসমূহ: ওসমান, খিজির (হাড্ডি খিজির), আনোয়ার, আলাউদ্দিন, খিজিরের মা, রেনু প্রমুখ

ভূমিকা:
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) রচিত 'চিলেকোঠার সেপাই' একটি মহাকাব্যিক ও যুগান্তকারী উপন্যাস। ১৯৬৯ সালের তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের উত্তাল গণঅভ্যুত্থানের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি রচিত। উপন্যাসটি কেবল কোনো রাজনৈতিক ইতিহাসের বিবরণ নয়, বরং ঐতিহাসিক পটভূমিতে শোষিত ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার সচেতনতা, শ্রেণিচেতনা এবং মনস্তাত্ত্বিক ঘাত-প্রতিঘাতের এক বস্তুনিষ্ঠ দলিল।

বিষয়বস্তু ও কাহিনীসংক্ষেপ:
উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু পুরান ঢাকার একটি চিলেকোঠা, যেখানে বসবাস করে মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী ও মানসিকদ্বন্দ্বে ভোগা তরুণ ওসমান। তবে উপন্যাসের প্রকৃত প্রাণস্পন্দন সঞ্চারিত হয় খিজির ওরফে 'হাড্ডি খিজির'-এর মতো লুম্পেন প্রলেতারিয়েত বা সর্বহারা শ্রেণির চরিত্রের মাধ্যমে। ১৯৬৯-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যখন ছাত্র ও সাধারণ জনতা রাজপথে নেমে আসে, তখন ওসমানের নিষ্ক্রিয়তা ও খিজিরের স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে কাহিনী গতি লাভ করে। উপন্যাসে একদিকে যেমন শহরের গণঅভ্যুত্থান রূপ পেয়েছে, অন্যদিকে তেমনি গ্রামের আনোয়ার চরিত্রের মাধ্যমে গ্রামীণ জোতদার-জমিদারভিত্তিক শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক সমাজের ক্ষোভ ও সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।

চরিত্র চিত্রণ ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:
লেখক এই উপন্যাসে চরিত্র নির্মাণে অসামান্য মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। প্রধান চরিত্র ওসমানের মধ্যে দেখা যায় এক ধরনের মানসিক বিচ্ছিন্নতাবোধ ও সামাজিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব, যা তৎকালীন মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধি। অন্যদিকে, হাড্ডি খিজির চরিত্রটি শোষিত কিন্তু প্রতিবাদী চেতনার মূর্ত প্রতীক। রাজপথে পুলিশের গুলিতে খিজির শহীদ হলে ওসমানের মানসিক জগতে এক বিরাট রূপান্তর ঘটে; সে নিজের অস্তিত্বের ভেতরে খিজিরকে আবিষ্কার করে এবং নিজেকে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের 'চিলেকোঠার সেপাই' হিসেবে কল্পনা করতে থাকে।

সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শ্রেণিচেতনা:
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসে মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর শ্রেণিচেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। তৎকালীন শহুরে মধ্যবিত্তের সুবিধাবাদী চরিত্র এবং নিম্নবিত্তের আত্মত্যাগের বাস্তব চিত্র এখানে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে সামন্ততান্ত্রিক শোষণ ও বুর্জোয়া রাজনৈতিক স্বার্থের মাঝখানে পড়ে সাধারণ মেহনতি মানুষ তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে রক্ত দেয়।

ভাষাশৈলী ও শিল্পমূল্য:
উপন্যাসটির নির্মাণশৈলী ও ভাষা অত্যন্ত সংবেদনশীল, তীক্ষ্ণ এবং গভীর। পুরান ঢাকার আঞ্চলিক ভাষা ও নিম্নবিত্ত মানুষের কথ্যরীতির সঠিক প্রয়োগ এতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। এ ছাড়া চেতনার প্রবাহরীতি (Stream of Consciousness) ব্যবহারের মাধ্যমে ওসমানের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা প্রকাশের কৌশল উপন্যাসটির শিল্পমূল্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

উপসংহার:
সর্বোপরি, 'চিলেকোঠার সেপাই' বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে একটি কালজয়ী সৃষ্টি। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত হলেও এর সার্বিক আবেদন চিরন্তন। মহাকাব্যিক ব্যপ্তি, নিখুঁত সমাজ বিশ্লেষণ এবং গভীর মানবীয় অনুভূতির সংমিশ্রণে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এই উপন্যাসে যে কালজয়ী স্বাক্ষর রেখেছেন, তা বাংলা সাহিত্যকে চিরকাল সমৃদ্ধ করে রাখবে।

Satt AI
Satt AI
19 hours ago
উত্তরঃ

আধুনিক বাংলা সাহিত্যে তারুণ্য

সাহিত্য সমাজের দর্পণ। আর তারুণ্য সাহিত্যের এক অমলিন শক্তি, যা পরিবর্তন, বিদ্রোহ এবং নতুনত্বের প্রতীক। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে তারুণ্যের উপস্থিতি কেবল একটি বিষয়বস্তু নয়, বরং এটি একটি প্রাণবন্ত প্রবাহ যা সাহিত্যের ধারাকে বারবার নতুন দিকে মোড় ঘুরিয়েছে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের উন্মেষলগ্ন থেকেই তারুণ্য এর সৃজনশীলতাকে প্রভাবিত করেছে এবং এর বিষয়বস্তু, আঙ্গিক ও দর্শনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যে তারুণ্যের আবির্ভাবকে কেবল বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। এটি এক মানসিকতা, এক সাহসী দৃষ্টি যার মাধ্যমে চিরাচরিত ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং নতুন পথের সন্ধান করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের অনেক সাহিত্যিক তাদের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তারুণ্যের স্বপ্ন, সংগ্রাম, প্রেম, বিদ্রোহ ও আদর্শবাদকে তুলে ধরেছেন। কল্লোল যুগ-এর লেখকরা তারুণ্যের উন্মাদনা, ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য এবং প্রথা ভাঙার সাহস নিয়ে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। তাদের লেখায় উঠে এসেছিল প্রেম, হতাশা, সামাজিক অসঙ্গতি এবং নতুন এক বিশ্ববোধ।

তারুণ্য আধুনিক বাংলা সাহিত্যে বহুবিধ রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। কখনও তা সামাজিক অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ, কখনও তা প্রেম ও মানবতাবাদের জয়গান, আবার কখনও তা ব্যক্তিজীবনের গভীর মনোবিশ্লেষণ ও অস্তিত্বের সংকট। যুদ্ধোত্তর সময়ের সাহিত্যে, বিশেষত দেশভাগ ও ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে, তারুণ্যের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর নতুন আশা ও চেতনার জন্ম দিয়েছে। এই সময়ের যুবকরা শুধু নিজেদের ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, জাতিগত পরিচয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকেও তাদের সাহিত্যকর্মে ফুটিয়ে তুলেছে। তাদের লেখনীতে সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ এবং এক উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে।

বর্তমান সময়েও আধুনিক বাংলা সাহিত্যে তারুণ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মের লেখকরা নতুন প্রযুক্তি, বিশ্বায়ন এবং পরিবর্তিত সামাজিক মূল্যবোধের প্রেক্ষাপটে তারুণ্যের ভিন্নতর দিকগুলো তুলে ধরছেন। তাদের লেখায় পরিবেশ সচেতনতা, ডিজিটাল জীবনযাপন, বিশ্ব নাগরিকের ধারণা এবং আত্মপরিচয়ের সংকট গভীর সংবেদনশীলতার সাথে চিত্রিত হচ্ছে। আধুনিক বাংলা সাহিত্য তারুণ্যের হাত ধরে প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের পথ তৈরি করছে।

উপসংহারে বলা যায়, আধুনিক বাংলা সাহিত্যে তারুণ্য একটি অনবদ্য এবং অবিচ্ছিন্ন ধারা। এটি কেবল নতুন লেখকের আগমন নয়, বরং নতুন চিন্তা, নতুন আঙ্গিক এবং নতুন দৃষ্টিকোণের প্রতিচ্ছবি। তারুণ্যই আধুনিক বাংলা সাহিত্যকে গতিশীল রেখেছে, পুরোনোকে ভেঙে নতুনকে আহ্বান করেছে এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তাকে সজীব ও প্রাসঙ্গিক রেখেছে। বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ বিকাশে তারুণ্যের এই অবদান চিরকালই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
196

বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক ইতিহাসকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে। এর প্রথম যুগের নাম প্রাচীন যুগ। তবে কেউ কেউ আরও কয়টি নামে এ যুগকে অভিহিত করেছেন। সে নামগুলো হল : আদ্যকাল, গীতিকবিতার যুগ, হিন্দু-বৌদ্ধ যুগ, আদি যুগ, প্রাক-তুর্কি যুগ, গৌড় যুগ ইত্যাদি। তবে প্রাচীন যুগ নামটির ব্যবহার ব্যাপক ও যথার্থ যুক্তিসঙ্গত ।

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ। চর্যাপদের প্রায় সমসাময়িক কালে বাংলাদেশে যে সব সংস্কৃত-প্রাকৃত-অপভ্রংশ সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের প্রত্যক্ষ উপকরণ নয়। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল। না। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন

Related Question

View All
উত্তরঃ

একজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।

একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।

একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।

সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।

একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।

একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।

অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।

সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।

লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।

3.8k
উত্তরঃ

সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।

আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।

সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।

3.2k
উত্তরঃ

আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।

শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।

বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।

আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।

arif
arif
3 years ago
3.7k
উত্তরঃ

আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ

 

বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।

অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র

য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

2.4k
উত্তরঃ

"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ: 

সাম্যবাদের পতন:

১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।

গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:

সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ: 

অর্থনৈতিক সংকট:

সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।

জাতীয়তাবাদের উত্থান:

অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা:

নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।

সামাজিক পরিবর্তন:

পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক: 

  • এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
  • যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল। 

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
2.3k
উত্তরঃ

পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।

১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে  দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান  বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-

১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।

২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ  পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:

সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়  একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।

অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন  বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।

অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা  জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে,  ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।

২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।  [ঊর্মি হোসেন]

Md. Aminul Islam
Md. Aminul Islam
3 years ago
4.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews