১. তৎসম শব্দে ঋ, ও, ষ এর পরে মূর্ধণ্য-ণ হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ , বর্ণনা, কারণ, ব্যাকরণ, বিকিরণ, মরণ, সমীরণ, ভীষণ, ভাষণ ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ট, ঠ, ড, ঢ) ধ্বনির আগে দস্তা-ন ব্যবহৃত হয়ে যুক্ত ব্যঞ্জন গঠিত হলে, সব সময় মূর্ধণ্য হয়। যেমন: লন্ঠন, কান্ড, কণ্টক, দণ্ড ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ এর পরে স্বরধ্বনি য য়, ব, হ এবং ক বর্গীয় ও প-বর্গীয় পরর্তী - - কপণ ( কারের পরে প, তার পরে ণ), হরিণ (ও এর পরে ই এবং তার পরে গ) অর্পণ, , প্রণয়ন, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ।
৪. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র এর পরের 'য' প্রত্যয়ের 'স' থাকলে তা 'খ' হয়। যেমন: মুমূর্ষু, ভবিষ্যৎ, চিকীর্ষা, নিষুতি, চক্ষুষ্মান ইত্যাদি।
৫. ই-কারান্ত এ উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'য' হয়। যেমন: বিসম > বিষম, সুসমা > সুদমা, অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি ।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের রয়েছে হাজার বছরেরও বেশি দিনের গৌরবময় ইতিহাস; অথচ বাংলা বানানের ইতিহাস এখনো দুইশ বছরও হয়নি। উনিশ শতকের পূর্বে বাংলা বানানের নিয়ম বলতে তেমন কিছু ছিল না। উনিশ শতকের শুরুর দিকে যখন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত ঘটে এবং ঐ সাহিত্যের বাহন হিসেবে সাহিত্যিক গদ্যের উন্মেষ হয়, তখন বাংলা বানানের একটি নিয়ম নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখ্য যে, এই বানানের নিয়ম সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম মেনে রচনা করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিশ শতকের বিশের দশকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৩৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাংলা বানানের নিয়ম প্রবর্তিত হলেও বাংলা বানানের সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৮৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্মশালা করে ও বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে বাংলা বানানের নিয়মের একটি খসড়া প্রস্তুত করে। বিশ্বভারতী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের অনুসৃত বাংলা বানানের নিয়মের আলোকে ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমি 'প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' প্রণয়ন করে।
বাংলা একাডেমির 'প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' ভাবনা-কেন্দ্রে রেখে বাংলা বানানের প্রধান নিয়মগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
ই-কার যুক্ত শব্দ:
শব্দের শেষে জগৎ, বাচক, বিদ্যা, সভা, ত্ব, তা, নী, ণী, পরিষদ, তত্ত্ব ইত্যাদি থাকলে তার পূর্বে ঈ-কার না হয়ে সাধারণত ই-কার হয়। যেমন-