তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
আলোচ্য পঙক্তিটিতে কবি শীতকে কুয়াশার চাদর পরিহিত মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন।
শীত প্রকৃতিকে দেয় রিস্ততার রূপ। আলোচ্য কবিতাটিতে শীতের এ নিঃস্ব ও রিস্ত রূপকে বসন্তের বিপরীতে স্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতি বসন্তের আগমনে ফুলের সাজে সাজলেও বিরহকাতর কবির মনজুড়ে রয়েছে শীতের রিক্ততার ছবি। শীত যেন সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতোই কুয়াশার চাদর গায়ে পত্রপুষ্পহীন দিগন্তের পথে চলে গেছে। প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটিতে সর্বগ্রাসী শীতের এ নিষ্প্রাণ রূপটিই তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকের সেঁজুতি জামানের সন্তান হারানোর বেদনার সঙ্গে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার করির প্রিয়জন হারানোর বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। এ কবিতায় কবি ও তাঁর ভন্ত্রের প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়ে স্বামী হারানো, ভারাক্রান্ত কবির মনোযাতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। শুধু তাই নয়, আলোচ্য, কবিতায় কবিভক্ত চরিত্রটি কবির, শোকানুভূতি উপশমেরও চেষ্টা চালিয়েছে।
উদ্দীপকের সেঁজুতি জামান অকালে তার ছেলেকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে আছেন। বাইক্কা বিলের চমৎকার বর্ষার সৌন্দর্য, কাকের চোখের মতো টলটলে জল, রঙিন শাপলা-শালুক, কলমি লতা, নানা রকম পাখপাখালি কোনোকিছুই তার মনকে শান্ত করতে পারছে না। কেননা, কয়েক বছর আগে এই বিল পার হতে গিয়েই তিনি তার সন্তানকে হারিয়েছিলেন। একইভাবে, আলোচ্য কবিতাতেও শোকে মুহ্যমান কবির কাছে বসন্তের আবেদন উপেক্ষিত থেকেছে। ভক্তের বিনীত অনুরোধ সত্ত্বেও কবি তাই আর সাড়া দেন না। প্রিয় জীবনসঙ্গীর মৃত্যুতে কবির জীবনে নেমে আসে সীমাহীন শূন্যতা। বিরহ-যন্ত্রণায় দগ্ধ কবি যেন কোনোকিছুতেই আগ্রহ খুঁজে পান না আর। আলোচ্য কবিতার শোকানুভূতির এ দিকটিই উদ্দীপকের সেঁজুতি জামানের বেদনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সেঁজুতি জামানের মধ্যে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির প্রিয়জন হারানোর বেদনার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, যাতে আলোচ্য কবিতার সামগ্রিক ভাবনার সবটুকু ধরা পড়েছে বলেই আমি মনে করি।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবি সুফিয়া কামালের স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। ফলে কবির ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে নেমে আসে এক দুঃসহ বিষণ্ণতা। এ কারণে বসন্তের আবেদনও তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হয়। তাই ভক্তের শত অনুরোধেও তিনি কাব্য রচনায় মনোযোগী হতে পারেন না।
উদ্দীপকের ঘটনায় উঠে এসেছে সন্তান হারানো এক মায়ের বিষণ্ণতার কথা। যে বাইক্কা বিলের সৌন্দর্য একসময় তাকে মুগ্ধ করত সেই বিলই এখন তার মন খারাপের কারণ। কেননা কয়েক বছর আগে এই বিল পার হতে গিয়ে তার সন্তানের মৃত্যু হয়। ছেলের মৃত্যু তাকে শোকে হতবিহ্বল করে তোলে। আলোচ্য কবিতার কবি সুফিয়া কামালও একইরূপ বিরহ-যাতনায় দগ্ধ।
প্রিয়জনের মৃত্যু স্বভাবতই মানুষের হৃদয়কে শোকে কাতর করে তোলে। আলোচ্য কবিতায় কবির স্বামী ও উদ্দীপকের সেঁজুতি জামানের সন্তান দুজনেই তাদের জীবনের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। সংগত কারণেই তাঁদের হারিয়ে কবি ও সেঁজুতি জামান উভয়ের হৃদয়ই শোকে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তাঁদের স্বাভাবিক জীবনের ছন্দপতন ঘটেছে। বস্তুত, পরিবার-পরিজনরাই আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষ। আর তাই তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায়ে ব্যক্তিমাত্রই শোকাতুর হয়ে পড়ে। এরই প্রতিফলন ঘটেছে আলোচ্য কবিতায় এবং উদ্দীপকটিতে। অর্থাৎ আপনজন হারানোর প্রেক্ষাপট ও জীবনের স্বাভাবিক গতি থেমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতার সামগ্রিক ভাবনার সবটুকু ধরা পড়েছে।
Related Question
View Allকবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!