সাধারণ লোকে মাটির পাত্রে রান্নাবান্না করত।
ভাতের প্রতি বাঙালির আসক্তির কথা আলোচ্য অংশে ব্যক্ত হয়েছে।
'মাছে-ভাতে বাঙালি'- এটাই বাঙালির আসল পরিচয়। অন্য যা কিছুই খাওয়া হোক না কেন, ভাত ছাড়া বাঙালির চলেই না। যুগ যুগ ধরে এমনটিই চলে আসছে। বাঙালির এই ভাতপ্রীতির কথাই লেখক এখানে তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকে 'কত কাল ধরে' প্রবন্ধে বর্ণিত বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
পৃথিবীর অন্যান্য জাতির তুলনায় বাঙালি জাতির খাদ্যাভ্যাস একটু পৃথক। বাঙালির প্রধান খাদ্য ভাত। তাছাড়া মাছ, মিষ্টি, পিঠা প্রভৃতি তাদের প্রিয় খাদ্য।
'কত কাল ধরে' প্রবন্ধে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের বর্ণনা দিয়েছেন লেখক। ভাত বাঙালির প্রিয় খাদ্য। শাক, মাছ, মাংস, মিষ্টি খেতে তারা পছন্দ করে। আম-কাঁঠাল, তাল-নারকেল ছিল তাদের প্রিয় ফল। উদ্দীপকেও বাঙালির এই খাদ্যাভ্যাসের প্রতিই ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, বাঙালিরা চিরকাল ভেতো বাঙালি হিসেবে পরিচিত হলেও তাদের খাদ্যাভ্যাসে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বিদেশি খাবারের প্রতি তাদের আগ্রহ বেড়েছে। প্রবন্ধে বর্ণিত বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের দিকটি এখানে বর্ণিত হয়েছে।
"সাদৃশ্য থাকলেও 'কত কাল ধরে' রচনার উদ্দিষ্ট বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সেই আদিকাল থেকেই বাঙালি জাতি ভোজনরসিক। ভাতে-মাছেই চেনা যেত বাঙালিকে। তবে বিশ্বায়নের এই যুগে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে এসেছে পরিবর্তন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাঙালিরা 'ভেতো বাঙালি' বলে পরিচিত হলেও তাদের খাদ্যাভ্যাসে এখন পরিবর্তন এসেছে। দরিদ্ররা ভাতের পরিবর্তে রুটির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আর ধনীরা পশ্চিম দেশীয় সংস্কৃতির অনুসরণে তাদের খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে 'কত কাল ধরে' রচনায় বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের বিস্তৃত পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। বাঙালির জীবনযাত্রার সামগ্রিক পরিচয়ও এখানে বিধৃত হয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
'কত কাল ধরে' রচনায় বাংলাদেশের ইতিহাস, মানুষের জীবনযাত্রার পরিচয়, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, পোশাক-পরিচ্ছদ, সংস্কৃতি, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ইত্যাদি বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। উদ্দীপকে শুধু খাদ্যাভ্যাসের দিকটি ছাড়া প্রবন্ধের অন্যান্য বিষয় অনুপস্থিত। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allবাংলাদেশের ইতিহাস আড়াই হাজার বছর বা তারও বেশি পুরনো।
আলোচ্য বাক্যে বোঝানো হয়েছে, ইতিহাসে থাকে সব রকম মানুষের জীবনযাত্রার পরিচয়।
এককালে বাংলাদেশে রাজার শাসন ছিল না। লোকজন নিজেরাই মিলেমিশে 'যুক্তি-পরামর্শ করে দেশ চালাত। এটি ছিল ইতিহাসের পূর্ব যুগের ঘটনা। তেইশ-চব্বিশ-শ বছর আগে রাজা কর্তৃক শাসন পরিচালনা শুরু হলে মানুষের জীবনাচরণ, জীবনযাত্রার ধরন, রাজনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতি নিয়ে ইতিহাস লেখা শুরু হয়। প্রশ্নোক্ত বাক্যে এমন ভাবই বোঝানো হয়েছে।
দীপার দেখা গ্রামের লোকজনের পোশাক-পরিচ্ছদের সাথে হাজার বছর আগের পূর্বপুরুষদের পোশাকের মিল পাওয়া যায়।।
মানুষ যখন সভ্য হতে শুরু করে তখন থেকেই লজ্জা নিবারণ করতে শেখে। আর ধীরে ধীরে মানুষের বিভিন্ন রকম পোশাক-পরিচ্ছদ ও অলংকার ব্যবহারের প্রচলন দেখা যায়।
উদ্দীপকের দীপা গ্রামে তার বয়সী মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, ঠোঁটে লিপস্টিক, হাতে চুড়ি ও কানে স্বর্ণের দুল পরতে দেখে। গৃহিণীরা তাঁতের শাড়ি পরে এবং শাড়ির আঁচল টেনে ঘোমটা দেয়। তাদের হাতে-গলায় স্বর্ণালংকার শোভা পাচ্ছে। 'কত কাল ধরে' রচনায় লেখক বলেছেন, এক হাজার বছর আগে সব পুরুষই ধুতি পরত, সক মেয়েই শাড়ি পরত। এখনকার মতো তখনও মেয়েরা আঁচল টেনে ঘোমটা দিত। এক্ষেত্রেই উভয় বর্ণনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
"শত শত বছর চলে যায়, কিন্তু এদেশের মানুষের জীবনের অভাবগুলো চলে যায় না।” বিষয়টি উদ্দীপক ও 'কত কাল ধরে' প্রবন্ধের ক্ষেত্রে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
যখন এদেশে রাজ-রাজড়া ছিল না, তখন মানুষের মূল্যায়ন ছিল বেশি। লোকজন নিজেরাই যুক্তি-পরামর্শ করে কাজ করত, চাষ করত, ঘর বাঁধত, দেশ চালাত। মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল।
উদ্দীপকে দীপা দিনমজুরের জীবনযাত্রার যে চিত্র দেখতে পায় তা হলো এ রকম- দিনমজুরদের খড়ের তৈরি ঝুপড়ি ঘর। দিনমজুরের স্ত্রীর পরনে মলিন শাড়ি, সন্তানদের পরনে ছেঁড়া হাফপ্যান্ট এবং শরীরের রুগ্ণ দশা। 'কত কাল ধরে' রচনার লেখক দিনমজুরের দুরবস্থার জন্য রাজা-বাদশাদের আগমনকে কিছুটা দায়ী করেছেন। লেখকের মতে, রাজারা যখন এদেশে এলেন তাদের সঙ্গে মন্ত্রী, সামন্ত-মহাসামন্তের দল এলেন। তখন থেকেই ইতিহাসে রাজাদের নাম বড় বড় অক্ষরে লেখা হতে লাগল। আর প্রজারা পেছনে পড়ে রইল।
'কত কাল ধরে' প্রবন্ধে বাঙালি ও বাংলার অতীত ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনবোধের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে অতীতে বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় শাসন-শোষণের শিকার হয়ে এদেশের সাধারণ মানুষের জীবনে কষ্ট নেমে আসার দিকটিও প্রতিফলিত হয়েছে। আলোচ্য উদ্দীপকে বিষয়টি উপস্থিত। কারণ শত শত বছর গেলেও এসব মানুষের জীবনে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ করা যায় না। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
ইতিহাস বলতে শুধু রাজ-রাজড়াদের কথাই বোঝায় না।
আগেকার দিনে রাজ-রাজড়াদের অবস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় সাধারণ লোকজন কোনো সমস্যায় নিজেরাই যুক্তি-পরামর্শ করে কাজ করত।
বাঙালি জাতির আদিকালের ইতিহাস অনেক সম্মানের। সে সময় রাজা ও প্রজার এ পরিচয়টি ছিল না। তাদের মাঝে কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজেরাই একসঙ্গে বসে যুক্তি-পরামর্শের ভিত্তিতে সেই বিষয়ের সমাধান দিত। সুতরাং নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরা করতেই তারা এভাবে কাজ করত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
