ভাব-সম্প্রসারণ: বিদ্যা মানুষের জীবনকে উন্নত করে। তাই বিদ্যা অর্জন অত্যাবশ্যক। তবে যে বিদ্যার সঙ্গে বাস্তব জীবনের কোনো সংযোগ নেই, সে বিদ্যা অকার্যকর।
মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বিদ্যাচর্চা করতে হয়। প্রকৃত বিদ্বান ব্যক্তি জীবনকে মহীয়ান করে গড়ে তোলেন। তিনি নিজে যেমন আলোকিত হন, তেমনি আলোকিত করেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে। অপরদিকে বিদ্যাহীন মানুষ সমাজের বোঝাস্বরূপ। সে অজ্ঞানতার মধ্যে ডুবে থাকে। একমাত্র বিদ্যাই পারে সেই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে তাকে মুক্ত করতে। একজন প্রকৃত জ্ঞানী মানুষ জীবনের বাস্তবতাকে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারে। বিদ্যা তাকে জ্ঞানী করে, বিদ্যাই তার চিন্তা-ভাবনা ও আচার-ব্যবহারকে পরিশীলিত করে। এমনকি সংস্কৃতিবান ও উদার দৃষ্টির মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও বিদ্যার কোনো বিকল্প নেই। তবে কিছু বিদ্যা মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন এসব বিদ্যা অর্জন করা অর্থহীন। মুখস্থ বিদ্যা আর গ্রন্থগত বিদ্যা মানুষের ব্যবহারিক জীবনে কোনো কাজে আসে না। জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিদ্যা মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথ দেখায় না, কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে দৃষ্টিভঙ্গিকে উদার করে না, এমনকি জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে পিছিয়ে দেয়। এমন বিদ্যা অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত নয়।
প্রকৃত শিক্ষা জীবনের সব দিককে আলোকিত করে। সেই আলোয় উদ্ভাসিত হয় ব্যক্তি ও সমাজ। অন্যদিকে যে বিদ্যা জীবনকে ইতিবাচক পথে চালিত করতে পারে না, সে বিদ্যা মূল্যহীন।
Related Question
View Allমূলভাব: নদীর ধর্মই ধেয়ে চলা। কিন্তু এ প্রবহমানতায় ব্যাঘাত ঘটলে নদী তার স্বাভাবিকত্ব হারিয়ে ধীরে ধীরে মৃত নদীতে পরিণত হয়। তেমনি স্থবিরতা মানবজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
সম্প্রসারিত ভাব: নদী যেমন প্রবহমান, তেমনি মানুষের জীবনও আপন গতিতে প্রবাহিত হয়। কিন্তু জীবনের এ স্বাভাবিক গতিধারায় যখন ছন্দপতন ঘটে তখন জীবন হয় বিপর্যস্ত ও অসার। জীবনের স্বাভাবিক বিকাশধারা তখন ব্যাহত হয়। যেমন কোনো নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা যখন ব্যাহত হয়, তখন সেখানে সহস্র শৈবাল এসে বাসা বাঁধে। একসময় সেই নদী আর নদী থাকে না। তেমনি কোনো জাতির স্বাভাবিক জীবনাচার যদি বাধাপ্রাপ্ত হয়, তাহলে নানা রকম অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, অশিক্ষা-কুশিক্ষা সেখানে বাসা বাঁধে। ফলে জাতিসত্তা হুমকির সম্মুখীন হয়। এতে অনেক জাতির অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যায়। পৃথিবীর ইতিহাসে বহু জাতি এমন করে বিস্মৃতির অতল গর্ভে হারিয়ে গেছে। আর জাতিসত্তাকে এরকম বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন জাতীয় সংস্কৃতির চর্চা, বিকাশ, শিক্ষার প্রসার ও বুদ্ধির জাগরণ ঘটানো। কারণ জাতীয় সংস্কৃতিচর্চার ফলে মানুষ জাতীয় স্বকীয়তা উপলব্ধি করতে পারে এবং জাতিসত্তাকে অত্যুচ্চে তুলে ধরতে পারে। অন্যদিকে শিক্ষার প্রসার, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং বুদ্ধির জাগরণ ঘটানো সম্ভব হলে অশিক্ষা-কুশিক্ষা ও কুসংস্কাররূপী সামাজিক ব্যাধি ও লোকাচারের হাত থেকে জাতি রক্ষা পাবে। এতে জাতির স্বাভাবিক গতি ও বিকাশধারা বজায় থাকবে। অন্যদিকে, পরাধীনতা জাতিকে অনেক ক্ষেত্রে স্থবির করে তোলে। সে ক্ষেত্রে নিজস্ব সংস্কৃতিবোধ, শিক্ষা ও বুদ্ধি একদিকে যেমন মানুষকে অধিকার-সচেতন করে, অন্যদিকে তেমনি তাকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে।
মন্তব্য: জাতীয় জীবনে সব কুসংস্কার, জড়তা, হীনম্মন্যতা, অন্ধবিশ্বাস প্রভৃতিকে তুচ্ছজ্ঞান করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। অন্যথায়, জাতীয় জীবনধারা যেমন ব্যাহত হবে, তেমনি জীবন হবে স্থবির ও বিপর্যস্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!