যে কোনো একটি বিষয়ে ভাব-সম্প্রসারণ করো :

Updated: 2 months ago
উত্তরঃ

ভাব-সম্প্রসারণ: বিদ্যা মানুষের জীবনকে উন্নত করে। তাই বিদ্যা অর্জন অত্যাবশ্যক। তবে যে বিদ্যার সঙ্গে বাস্তব জীবনের কোনো সংযোগ নেই, সে বিদ্যা অকার্যকর।

মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বিদ্যাচর্চা করতে হয়। প্রকৃত বিদ্বান ব্যক্তি জীবনকে মহীয়ান করে গড়ে তোলেন। তিনি নিজে যেমন আলোকিত হন, তেমনি আলোকিত করেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে। অপরদিকে বিদ্যাহীন মানুষ সমাজের বোঝাস্বরূপ। সে অজ্ঞানতার মধ্যে ডুবে থাকে। একমাত্র বিদ্যাই পারে সেই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে তাকে মুক্ত করতে। একজন প্রকৃত জ্ঞানী মানুষ জীবনের বাস্তবতাকে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারে। বিদ্যা তাকে জ্ঞানী করে, বিদ্যাই তার চিন্তা-ভাবনা ও আচার-ব্যবহারকে পরিশীলিত করে। এমনকি সংস্কৃতিবান ও উদার দৃষ্টির মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও বিদ্যার কোনো বিকল্প নেই। তবে কিছু বিদ্যা মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন এসব বিদ্যা অর্জন করা অর্থহীন। মুখস্থ বিদ্যা আর গ্রন্থগত বিদ্যা মানুষের ব্যবহারিক জীবনে কোনো কাজে আসে না। জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিদ্যা মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথ দেখায় না, কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে দৃষ্টিভঙ্গিকে উদার করে না, এমনকি জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে পিছিয়ে দেয়। এমন বিদ্যা অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত নয়।

প্রকৃত শিক্ষা জীবনের সব দিককে আলোকিত করে। সেই আলোয় উদ্ভাসিত হয় ব্যক্তি ও সমাজ। অন্যদিকে যে বিদ্যা জীবনকে ইতিবাচক পথে চালিত করতে পারে না, সে বিদ্যা মূল্যহীন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 months ago
উত্তরঃ

মূলভাব: নদীর ধর্মই ধেয়ে চলা। কিন্তু এ প্রবহমানতায় ব্যাঘাত ঘটলে নদী তার স্বাভাবিকত্ব হারিয়ে ধীরে ধীরে মৃত নদীতে পরিণত হয়। তেমনি স্থবিরতা মানবজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

সম্প্রসারিত ভাব: নদী যেমন প্রবহমান, তেমনি মানুষের জীবনও আপন গতিতে প্রবাহিত হয়। কিন্তু জীবনের এ স্বাভাবিক গতিধারায় যখন ছন্দপতন ঘটে তখন জীবন হয় বিপর্যস্ত ও অসার। জীবনের স্বাভাবিক বিকাশধারা তখন ব্যাহত হয়। যেমন কোনো নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা যখন ব্যাহত হয়, তখন সেখানে সহস্র শৈবাল এসে বাসা বাঁধে। একসময় সেই নদী আর নদী থাকে না। তেমনি কোনো জাতির স্বাভাবিক জীবনাচার যদি বাধাপ্রাপ্ত হয়, তাহলে নানা রকম অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, অশিক্ষা-কুশিক্ষা সেখানে বাসা বাঁধে। ফলে জাতিসত্তা হুমকির সম্মুখীন হয়। এতে অনেক জাতির অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যায়। পৃথিবীর ইতিহাসে বহু জাতি এমন করে বিস্মৃতির অতল গর্ভে হারিয়ে গেছে। আর জাতিসত্তাকে এরকম বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন জাতীয় সংস্কৃতির চর্চা, বিকাশ, শিক্ষার প্রসার ও বুদ্ধির জাগরণ ঘটানো। কারণ জাতীয় সংস্কৃতিচর্চার ফলে মানুষ জাতীয় স্বকীয়তা উপলব্ধি করতে পারে এবং জাতিসত্তাকে অত্যুচ্চে তুলে ধরতে পারে। অন্যদিকে শিক্ষার প্রসার, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং বুদ্ধির জাগরণ ঘটানো সম্ভব হলে অশিক্ষা-কুশিক্ষা ও কুসংস্কাররূপী সামাজিক ব্যাধি ও লোকাচারের হাত থেকে জাতি রক্ষা পাবে। এতে জাতির স্বাভাবিক গতি ও বিকাশধারা বজায় থাকবে। অন্যদিকে, পরাধীনতা জাতিকে অনেক ক্ষেত্রে স্থবির করে তোলে। সে ক্ষেত্রে নিজস্ব সংস্কৃতিবোধ, শিক্ষা ও বুদ্ধি একদিকে যেমন মানুষকে অধিকার-সচেতন করে, অন্যদিকে তেমনি তাকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে।

মন্তব্য: জাতীয় জীবনে সব কুসংস্কার, জড়তা, হীনম্মন্যতা, অন্ধবিশ্বাস প্রভৃতিকে তুচ্ছজ্ঞান করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। অন্যথায়, জাতীয় জীবনধারা যেমন ব্যাহত হবে, তেমনি জীবন হবে স্থবির ও বিপর্যস্ত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 months ago
27

Related Question

View All
উত্তরঃ

বৈশাখী মেলা

বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ হলো বৈশাখী মেলা। প্রতি বছর বাংলা পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল, এই মেলার আয়োজন করা হয়। বৈশাখী মেলা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাংলার জীবনযাত্রার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান।

মেলার শুরু হয় সকালবেলায়, যেখানে গ্রামের মানুষ তাদের পোষাক ও সাজসজ্জায় মেতে ওঠে। বাজারে নানা ধরনের স্টল ও দোকান বসে, যা বিভিন্ন রকমের পণ্য ও সামগ্রী বিক্রি করে। এই মেলায় স্থানীয় হস্তশিল্প, জামদানি শাড়ি, মাটির পুতুল, কুটির শিল্পের নানা সামগ্রী পাওয়া যায়। মেলার এক দিকের গন্ধ আসে পিঠে-পুলি, মোয়া, চিড়েসুড়ির মত ঐতিহ্যবাহী খাবারের সুবাস।

বৈশাখী মেলা শুধু কেনাকাটার জন্যই নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দের মিলনমেলা। মেলা উপলক্ষে গীতিনাট্য, লোকনৃত্য, গান, কৌতুক পরিবেশিত হয়। এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গ্রামীণ জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করায়।

মেলা শেষ হওয়ার পর, সবাই একসাথে আনন্দের সাথে বাড়ি ফিরে আসে, মনে মনে ভরপুর আশা ও স্মৃতি নিয়ে। বৈশাখী মেলা একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে, অন্যদিকে এটি সামাজিক মেলবন্ধনও শক্তিশালী করে।

এভাবে, বৈশাখী মেলা বাংলার সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অংশ, যা সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।

66.3k
উত্তরঃ

যৌতুক প্রথা বাংলাদেশের সমাজজীবনে এক কলঙ্কজনক ব্যাধি। এটি এমন একটি কুপ্রথা যেখানে পাত্রপক্ষ বিয়ের সময় কনেপক্ষের কাছে অর্থ, অলংকার বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী দাবি করে। এই প্রথা শুধু বাংলাদেশের নয়, ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক দেশেই বিদ্যমান এবং এর কারণে অসংখ্য নারীর জীবন বিষিয়ে উঠেছে।

যৌতুক প্রথার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সামাজিক অজ্ঞতা, লোভ, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং আর্থিক অসচ্ছলতা। অনেক পরিবার মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়, এমনকি ঋণগ্রস্তও হয়ে পড়ে। যৌতুক দিতে না পারায় অনেক কনেকে অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়, কখনও কখনও তাদের জীবনও কেড়ে নেওয়া হয়। এটি নারীর মর্যাদা ও অধিকার ক্ষুণ্ন করে এবং সমাজে বৈষম্য তৈরি করে।

এই ঘৃণ্য প্রথা বন্ধে আইন প্রণীত হলেও শুধুমাত্র আইন দিয়ে এর নির্মূল সম্ভব নয়। প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিকতার পরিবর্তন। শিক্ষা বিস্তার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠনে অপরিহার্য। প্রতিটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এই প্রথার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে, তবেই একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব হবে।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
1k
উত্তরঃ

কাজলা, রাজশাহী।
১০ই নভেম্বর, ২০২৩

প্রিয় হাফিজ,

আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছো। অনেকদিন তোমার কোনো চিঠি পাই না, তাই ভাবলাম আমিই আজ তোমাকে চিঠি লিখি।

তুমি জানতে চেয়েছিলে আমার সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে। সম্প্রতি আমি পরিবারের সাথে রাজশাহীর অদূরে অবস্থিত পুঠিয়া রাজবাড়ী পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। এটি বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান এবং এখানকার প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিশাল বিশাল দালান, মন্দিরের সূক্ষ্ম কারুকার্য এবং বিশাল খেলার মাঠ সত্যিই অসাধারণ।

আমরা রাজবাড়ীর বিভিন্ন প্রাসাদ ও মন্দির ঘুরে দেখেছি। বিশেষ করে বড় আহ্নিক মন্দির, গোবিন্দ মন্দির এবং পঞ্চরত্ন শিবমন্দির ছিল দর্শনার্থীদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। প্রতিটি স্থাপত্যই অতীতের গৌরবময় ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাক্ষ্য বহন করে। আমাদের সাথে থাকা একজন গাইড এখানকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য দিলেন, যা আমার জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এমন একটি স্থানে ভ্রমণ করে আমি যেন ইতিহাসকে আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারলাম।

সব মিলিয়ে ভ্রমণটি ছিল অত্যন্ত শিক্ষামূলক এবং আনন্দদায়ক। তুমিও সুযোগ পেলে একবার ঘুরে আসতে পারো। তোমার পড়াশোনা কেমন চলছে জানিও। আর তোমার নতুন কোনো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকলে তা জানাতে ভুলো না।

আজ আর নয়। মা-বাবাকে আমার সালাম জানিও।

ইতি,
তোমার বন্ধু,
হাসিব

Satt AI
Satt AI
1 day ago
1.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews